টপিকঃ বেতন বৈশম্য!!

সরকারী কর্মচারীদের বেতন অনুপাতে জিনিসপত্রের দাম ঠিক করা হচ্ছে, সরকারী কর্মচারীদের বেতন ১২৮% পার্সেন্ট বেড়েছে সুতরাং জিনিস পত্রের দামও ১২৮% পার্সেন্ট বাড়বে, দেশে সরকারী কর্মচারীর সংখ্যা কত? আর দেশের জনগন কতজন?? ১৭ কোটি লোকের মধ্যে যদি ২০ লাখ লোকের যদি বেতন বাড়ে, সেই বাড়তি বেতনের খেসারত কেন বাকি লোকদেরকে দিতে হব?

একজন মেধাবী ছাত্র এমবিএ পাশ করলো , করে গার্মেন্টস কোম্পানীতে ২০০০০ টাকা বেতনে চাকুরী নিলো, আরেকজন মানুষ সারা জীবন লেখাপড়া করলো না, সরকারী চাকুরী নিলো ক্লিনারের, এমবিএপাশ করা চাকুরী জীবি মানুষটি সপ্তাহে প্রায় ৭দিন, প্রতিদিন ১৩/১৪ ঘন্টা ডিউটি করে - কোন ছুটি নেই, মাসের বেতন কবে পাবে ঠিক নেই................... ক্লিনার চাকুরী করে সপ্তাহে ৫ দিন, ৭/৮ ঘন্টা করে, মাসে বেতন ২০,০০০ টাকারও বেশী, সময় মত বেতন, বোনাস, ছুটি, বৎসরে প্রায় শতাধিক দিন সরকারী ছুটি, সমাজে তার স্থান অনেক উপরে সরকারী চাকুরী জীবি হিসাবে অনেক সম্মান, হাসপাতালে, সন্তানকে স্কুলে দিবে সরকারী চাকুরী জীবি কোটায় তার সন্তান ভর্তি হয়ে যায় কম টাকায় - বিনা বাধায়, স্কুলে সব স্থানে তার অনেক সুযোগ, আর এমবিএ ছেলেটির কোন সুযোগই নেই......তার উপরে চাকুরী চলে যাবার চিন্তা নেই, চাকুরী শেষে কোটি টাকার পেনশান..........কেন এই বৈশম্য?

এক আকাশ আক্ষেপে ভরা পোশাক কারখানায় গোলামীকরিদের জীবন-
সারা মাস, সারা বছর এমনকি আমৃত্যু হতাশাময় জীবন
বেতনটা যদি আর একটু বাড়তো অথবা মাসের বেতন যদি মাসে পেতাম
আগামি মাসে চাকুরি থাকবে কি থাকবে না
টুকরো টুকরো অসংখ্য হাহাকার নিয়েই- মৃত্যু হয় তাদের।
সরকারী কর্মচারিদের বেতন বাড়ার অজুহাতে জিনিসপত্রের দামে আগুন
বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যস বিল, গাড়ি ভাড়া, স্কুলের বেতন সবই বাড়ে , পোশাক কারখানায়
গোলামীকরিদের পকেট থাকে ফাঁকা, কারণে-অকারণে
তাদের ঘরে বাইরে অফিসে শুনতে হয় কথা
প্রতিনিয়ত বাস্তবতার সাথে তাদের হয় সংঘর্ষ
রাত জেগে পোশাক কারখানায় গোলামীকরিরা ভাবে পৃথিবীর সকল কষ্ট শুধু তাদের
চারপাশে শক্ত অদৃশ্য দেয়াল, এই দেয়াল যায় না ভাঙ্গা
কোনো খেলাতেই তারা জয়ী হতে পারে না পোশাক কারখানায়
গোলামীকরি মানেই শুধু পরাজয়- দিনের পর দিন।
দিনের শেষে  পোশাক কারখানায় গোলামীকরিদের সব রাগ গিয়ে পড়ে সৃস্টিকর্তার উপর
অনন্ত নক্ষত্রবীথিতে রাগ করার তাদের আর যে কেউ নেই
তারপরও  পোশাক কারখানায় গোলামীকরিরা বেঁচে থাকে,
এই সমাজে তাদের সংখ্যাই বেশি
তারা এক আকাশ স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকে-
একদিন যদি তাদের স্বপ্ন গুলো সত্যি হয়।
বোকা  পোশাক কারখানায় গোলামীকরিরা জানে না,
অভিশপ্ত জীবনের কোনো কিছুই কখনও সত্যি হয় না।
#অথচ এই পোশাক কারখানাই বয়ে আনছে সবচেয়ে বেশী মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা,

নিজে শিক্ষিত হলে হবে না- প্রথমে বিবেকটাকে শিক্ষিত করতে হবে