টপিকঃ Hats off Ronaldo, said Juventas

জুভেন্তাসের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে তুরিন স্টেডিয়ামে ৬৪ মিনিটে এমন কিছু ঘটলো যা ক্রিস্টিয়ানোর ক্ষেত্রে এর আগে কখনো ঘটেনি।রাইভাল সমর্থকদের কাছ থেকে ব্যু পেয়ে আসছেন ১২ বছর ধরে।এর শুরুটা হয়েছিলো ১ জুলাই ২০০৬ তে জার্মানি বিশ্বকাপে।রোনালদোর পর্তুগাল মুখোমুখি হয়েছিলো আরেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা ওয়েইন রুনির ইংল্যান্ডের।সেই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে ইংল্যান্ড হেরে যায়।ম্যাচের এক মুহুর্তে লাল কার্ড দেখেন ওয়েইন রুনি।ট্যাকল করেছিলেন কার্ভালহোকে।রোনালদো কার্ড দেখানোর জন্য রেফারিকে প্রভাবিত করেছেন এই অভিযোগ তুলেছিলো ইংলিশ মিডিয়া।ইংলিশ মিডিয়া লালকার্ডের পুরো দায়ভার চাপায় রোনালদোর উপরে।একের পর এক অভিযোগে তারা অতিষ্ঠ করে তুলেছিলো রোনালদোকে।শেষপর্যন্ত টুর্নামেন্টের তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান নির্ধারণী ম্যাচের পূর্বে রোনালদো সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ডে আর ফিরবেন না।পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তৎকালীন ইউনাইটেড কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ছুটে যান লিসবনে।তাকে বোঝানোর পর রাজি করেন সিদ্ধান্ত বদলাতে।এরপর থেকে ব্যু যেন তার নিত্যসঙ্গী হয়ে যায়।প্রতিপক্ষের মাঠে নামলে তার পায়ে বল গেলেই প্রতিপক্ষ সমর্থকরা তাকে ব্যু দিতে শুরু করে।নানানভাবে বিদ্রুপ করে তাকে নিয়ে।পরবর্তীতে ক্লাব চেঞ্জ করে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিলেন।সেখানেও প্রতিপক্ষ সমর্থকদের ব্যু হজম করতে হয়েছে।জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময়ও প্রতিপক্ষের সমর্থকরা তাকে রাগানোর জন্য 'মেসি' 'মেসি' চ্যান্ট করছিলো।

তবে ৩ এপ্রিল ২০১৮ তে এসে রোনালদো দেখলেন পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র।দেখলেন জুভেন্তাস ফ্যানরা দাঁড়িয়ে সম্মান জানাচ্ছে তাকে!ম্যাচের শুরুর ৩ মিনিট যেতে না যেতেই গোল করে বসেন ক্রিস্টিয়ানো।জুভেন্তাস ফ্যানরা ব্যু দেওয়া শুরু করে তাকে।
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে ডি বক্স থেকে পাস দিলেন ভাস্কুয়েজকে।ভাস্কুয়েজের দুর্দান্ত গতির শট ফিরিয়ে দিলেন বুফন,রিবাউন্ডে বল চলে আসলো কার্ভাহালের পায়ে।কার্ভাহাল বলটা নিয়ে একটু সামনে এগিয়েই ক্রস দিলেন রোনালদোর উদ্দেশ্যে।এরপর রোনালদো যা করলেন তাতে হা হয়ে থাকলো পুরো স্টেডিয়াম।জিদান সাধারণত খেলোয়াড়রা গোল করে অন্যান্য কোচদের মত রিঅ্যাক্ট কমই করেন তারপরেও মাথায় হাত দিয়ে বসলেন রোনালদোর গোল দেখে।পেরেজ উঠে দাঁড়ালেন রোনালদোর গোল উদযাপনের জন্য।এই নিয়ে পেরেজের ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছে দুইবার।এর মধ্যে একবার লা দেসিমার ফাইনালে রামোস গোল করার পর।ম্যাচের শুরুতে ব্যু দেওয়া জুভেন্তাস ফ্যানরাও তার এই গোলের পর দুই পায়ে দাঁড়িয়ে গেলো।হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানালো বিশ্বসেরা খেলোয়াড়টাকে তার অসাধারণ কীর্তির জন্য।এর আগেও প্রতিপক্ষের মাঠে দুর্দান্ত পারফর্ম করে দলকে জয় এনে দিয়েছেন কিন্তু জুভেন্তাস ফ্যানদের কাছ থেকে যেই সম্মানটা তিনি পেয়েছেন সেটা অন্য কোথাও পাননি।
কি করেছিলেন রোনালদো?কেনই বা ম্যাচের শুরুতে ব্যু দিতে থাকা সমর্থকরা স্ট্যান্ডিং অভেশন দিলো?
শরীরকে ১ মিটার ৪১ সে.মি. উঁচুতে ভাসিয়ে নিয়ে ২ মিটার ৩৮ সে.মি. উঁচুতে থাকা বলে কিক করলেন!প্রতিপক্ষ গোলকিপার বুফনের ঠাঁই দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিলো না।একটুও নড়ার সুযোগ পাননি।মুহুর্তের এই আকস্মিকতায় অবাক হয়ে যান গোটা স্টেডিয়ামের দর্শকরা।অবাক হয়ে যায় শুরুতে ব্যু দিতে থাকা জুভেন্তাস সমর্থকরা।তারা দাঁড়িয়ে প্রাপ্য সম্মান দেন ক্রিস্টিয়ানোকে।ক্রিস্টিয়ানো স্টেডিয়ামের দিকে নজর ফেরালে দেখতে পেলেন রাইভাল সমর্থকরা তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান দিচ্ছে।তিনি প্রতিপক্ষ সমর্থকদের কাছে তার প্রাপ্য সম্মানটা পেয়েছেন।
ক্রিস্টিয়ানো মাঠেই তাদের অভিবাদনের জবাব দিয়েছেন।

১২ বছর ধরে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের বিদ্রুপ,হাসিঠাট্টা সহ্য করে আসছেন।খারাপ খেললেও তাকে নিয়ে বিদ্রুপ করা হতো আবার ভালো পারফর্ম করলেও একই অবস্থা!এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরনের কোনো উপায় ছিলোনা।তাইতো রাইভালদের এসব বিদ্রুপ,হাসিঠাট্টা কে নিজের শক্তি বানালেন।রাইভালরা এসব সমালোচনার জবাব তিনি মাঠেই দিতেন।রাইভালরা যতই তাকে নিয়ে কাঁটাছেড়া করে তার জবাবটাও তেমনি শক্ত হয়।আপনার সীমাবদ্ধতা জানতে হলে অবশ্যই আপনার হেটার থাকতে হবে।তারাই এসব নিয়ে আপনার কাঁটাছেড়া করবে।রোনালদোর ক্ষেত্রেও এমনটা প্রায়ই হতো কিন্তু দিনশেষে লাভটা হতো রোনালদোরই।
বেশি দুরে যাওয়ার দরকার নেই।নিকটঅতীতে খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন ব্যাপারটা।যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় কিংবা কোচ তার সমালোচনা করলে সেটার জবাব মাইক্রোফোন হাতে গদির চেয়ারে বসে দেননি।বরং মাঠেই একেকটা ট্যাপইন বিষে দগ্ধ করেছেন ওইসব লোকদের।জুভেন্তাস ম্যাচের কিছুদিন আগে বুফন বলেছিলেন মেসি রোনালদোর চেয়েও পরিপূর্ণ খেলোয়াড়।রোনালদো তখন কিছুই বলেননি।সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করেছেন।এরপর যখন জুভেন্তাসের তুরিন স্টেডিয়ামে বুফনের মুখোমুখি হলেন তখন দুই গোল ও এক এসিস্ট করে বুফনকে তার জবাবটা দিয়ে দিলেন।ম্যাচশেষে বুফনকেও তার শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্বীকার করতে বাধ্য করলেন।থিয়াগো সিলভা বলেছিলেন রোনালদোকে আটকানোর চাইতে মেসিকে আটকানো কঠিন।এবারেও জবাবটাও সিলভাদের ঘরের মাঠ পার্ক দেস প্রিন্সেসে দিয়ে এসেছেন।সিলভাকে বিট করেই হেডে গোল করে দলকে অসাধারণ জয় এনে দিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো।অ্যাটেলেটিকো মাদ্রিদের কোচ সিমিওনে বলেছিলেন মেসি একাই বিবিসির (বেল,বেনজেমা,রোনালদো) সমান।পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বার্নাব্যুতে হ্যাট্রিক করে জবাবটা দিয়ে দিয়েছেন সিমিওনেকে।
রোনালদো এমনই।আপনি তার সমালোচনা করে কিছুই করতে পারবেন না।বরং এটা তাকে আরো তাতিয়ে তুলবে ভালো পারফর্ম করার জন্য।ভালো পারফর্ম করে আপনাকে জবাব দেওয়ার জন্য আরো উদ্বুদ্ধ করে তাকে।
তাইতো রোনালদো বলেছিলেন,
" তোমাদের ভালোবাসা আমাকে করে শক্তিশালী,
তোমাদের ঘৃনা আমাকে করে তোলে অপ্রতিরোধ্য "

-
২০০২ তে সিনিয়র ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু হয়েছিলো তার।বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে জিতেছেন অনেক শিরোপা।ব্যক্তিগত অর্জনের ঝুলিও কানায় কানায় পূর্ণ।অতিমানবীয় পারফর্ম করে দলকে জিতিয়েছেন অনেকবার।এরপরেও রাইভাল সমর্থকদের কাছ থেকে প্রশংসার বদলে জুটেছে বিদ্রুপ।তবে ৩ এপ্রিল ২০১৮ তে যে অভিবাদন তিনি পেলেন রাইভাল সমর্থকদের কাছে এটা তার জন্য স্পেশাল কিছু।প্রতিপক্ষের মন জয় করে করে তাদের কাছ থেকে সম্মান আদায় করে নেওয়া!এটা যেকোনো খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন।রোনালদোর সেই স্বপ্নটাও পূরন হয়েছে।
হয়তোবা দেরীতে কিন্তু এটা তার প্রাপ্য ছিলো।
অযাচিত

Re: Hats off Ronaldo, said Juventas

অভিন্দন ও শুভেচ্ছা ।