সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Ferdous Hasan Ratul (০১-০৪-২০১৮ ১৯:৩০)

টপিকঃ সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে কিছু কথা।

বিশ্ব সুপারপাওয়ার গুলোর একটা সাধারন বৈশিষ্ট হল অন্য দেশের সম্পদ গুলো ছলে, বলে, কৌশলে হাতিয়ে নেয়া । যখন এক বাঘের মুখের খাবার অন্য বাঘ কেড়ে নিতে চায় তখনি লেগে যায় দুই শক্তির মাঝে যুদ্ধ। একি এলাকায় একি খাবার নিয়ে। যেমন টা হয়েছিল

১৯৭৯ সালে, আফগানের তেল সহ আরো অনেক খনিজের দিকে নজর চলে যায় সেই সময়ের অন্যতম সুপার পাওয়ার রাশিয়ার। কিন্তু আমেরিকা কম কিসে, বাগ্রা বাধায়। ফলাফল ১০ বছরের যুদ্ধ, আর করুন বাস্তবতা ২০১৮ সালেও মাথা তুলে আর দাড়াতে পারে নি আফগানিস্তান। তবে তখন কিন্তু রাশিয়ার মুখ থেকে ঠিকি তার গ্রাস কেড়ে নিতে পেড়েছিল আমেরিকা। আফগানের তেল গ্যাস তাদের। এমন চপেটাঘাত তখন মুখ বুজে সহ্য করা ছাড়া কিই বা করার ছিল রাশিয়ার।


২৯ মার্চ ২০১৮ - রুশ প্রভাব ঠেকাতে পশ্চিমাদের কথায় ওয়াহাবিবাদের প্রচার: সৌদি প্রিন্স
যে ওয়াহাবিবাদকে সন্ত্রাসের আঁতুরঘর হিসেবে এখন পশ্চিমারা দেখছে, তারাই এক সময় সমাজতন্ত্র ঠেকাতে এর প্রচারে উৎসাহিত করেছিলেন বলে দাবি করেছেন সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেন, গত শতকের ’৭০ এর দশকে স্নায়ু যুদ্ধের সময় পশ্চিমারাই ওয়াহাবিবাদের প্রচারে অর্থ ঢালতে সৌদি আরবকে অনুরোধ করেছিল।
https://bangla.bdnews24.com/world/article1477017.bdnews

১৯৬০-২০১৯ অনেক নাটকই বিশ্ব দেখল। এই নাটকের অনেকগুলো পর্বের মাঝে একটা ইন্টারেস্টিং পার্ট তালেবান, যা ছিল আমেরিকার নিজের হাতে গড়া রাশিয়াকে সাইজ করার জন্য। অবশ্য পরে নাটকের আরো কিছু পার্ট বের হয়, সর্বশেষ পার্ট হল আই এস। যা সম্পূর্ণ ভাবে আমেরিকার সহযোগিতায় গড়া। যাতে এদের ইস্যু করে যেকোন দেশ ইজিলি দখল করতে পারে, সন্ত্রাসী বলে নিজেরা ঘাটি গড়তে পারে, নিয়ে নিতে পারে তেল, গ্যাস, সোনা, তামা।


প্রায় ৪০ বছরের
জলন্ত প্রতিশোধের আগুনে যখন রাশিয়া জ্বলছে সেই সময় আগুনে ঘি দেবার জন্য রাশিয়া গেল সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বছর দেরেক আগে। ওই আইএস ও আরো অনেক গুলো আমেরিকার হাতে গড়া পুতুল গুলোর জালায় অতিষ্ঠ হয়ে নিজের নিশ্চিত পতন থেকে বাঁচতে সাহায্য চাইল রাশিয়ার কাছে। আহত বাঘ কি আর এমন সুযোগ ছেড়ে দিবে? রাশিয়া লুফে নিল মধ্যপ্রাচ্যে তার আধিপত্য বিস্তারের সুবর্ণ সুযোগ। আমেরিকার সেনা থাকার পরেও তারা আবার সেনা পাঠাল সিরিয়াতে, পাঠাল পাউয়ারফুল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, এতে করে রাশিয়ার কাছ থেকে অনুমতি লাগবে আমারিকার, যদি তারা একটা ড্রোন ও উড়াতে চায় সিরিয়ার আকাশে। আর অন্যদিকে ইরান, উত্তর কোরিয়াকে তো নিয়মিত সাহায্য করেই যাচ্ছে পর্দার আড়ালে এমন অভিযোগ অনেক পুড়নো। 


আমেরিকা এক সময় রাশিয়াকে টুকরো করতে সব টুকু চেস্টাই চালিয়ে গিয়েছিল, আর তারা মুটামুটি সফল ও বলা যায়।
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ঐক্য ভেঙে যায় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হয়ে যায়। এসময় ভূতপূর্ব সোভিয়েত ঐক্যের ১৫টি প্রজাতন্ত্রের মধ্যে ১১টি নিজেরা একটি শিথিল সমামেল সৃষ্টি করে, যেটা স্বাধীন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রমণ্ডল নামে পরিচিত। তিনটি বাল্টিক রাষ্ট্র লিথুয়ানিয়া, লাতভিয়া ও এস্টোনিয়া এই সমামেলে যোগ দেয়নি। এই রাষ্ট্রমণ্ডলের মূল সদস্য থাকলেও তা থেকে তুর্কমেনিস্তানকে বর্তমানে সহযোগী সদস্য করা হয়েছে। তিনটি বাল্টিক রাষ্ট্র লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্টোনিয়া ২০০৪ সালে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়।
https://bn.wikipedia.org/wiki/সোভিয়েত_ইউনিয়ন

সেই আগের দিন আর নেই রাশিয়ার, অনেক গুলো বছর পেরিয়ে গেল। রাশিয়া এখন থেকে আমেরিকার সব মত গুলোর বিপরিতে অবস্থান নেয় নীতিগত কারনে। (যেমনঃ রোহিঙ্গা ইস্যু তে আমেরিকা বাংলাদেশ কে সাপোর্ট দিলেও, রাশিয়া কিন্তু মায়ানমার কে সাপোর্ট দিয়েছে। কারন আমেরিকার বিপরীতে থাকতে হবে।)এখন রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে বলা যায় অন্যতম শক্তিশালী বাহিনিদের মাঝে একটি। তাদের মাস্টার প্লান একটির পরে একটি বাস্তবায়ন শুরু হতে থাকে।


মাস্টার প্লান গুলো অনেকটা এমনঃ
১। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকাকে তাড়ানো।(কারন প্রতিশোধ এর থেকে ভাল হয় না।)
২। আমেরিকাতে নিজেদের পছন্দের প্রেসিডেন্ট বসানো (যাতে করে আমেরিকা রাশিয়ার পুতুল হয়ে থাকে)।
৩। চায়না কে শক্তিশালী করে আমেরিকার ইকোনমি ধসিয়ে দেয়া।
৪। বিশ্ব রাজনিতীতে নিজের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
আরো অনেক কিছু যা হয়তো রয়ে গেছে গোপন নথিগুলোতে, হয়তো আর কখনই জানা যাবে না। যাই হোক না কেন, আমেরিকা গত ২ বছর যত ভাল পদক্ষেপই নিক না কেন তারা এখন রাশিয়ার টোপ গিলে ফেলেছে। যার ফলাফল, সব কেন যেন রাশিয়ার পক্ষে চলে আসবে। এমন কি কিছুদিনে আগে তারা যে কিছু কূটনীতিক কে বহিস্কার করে তাও রাশিয়ার পক্ষে চলে আসে, শর্ট টার্মে এ আমেরিকা লাভবান হলেও, লং টার্মে এ কিন্তু বিশাল সমস্যা অপেক্ষা করছে আমেরিকার যা ট্রাম্প ভাল করেই বুঝতে পারছে।


ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮ ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করে যে রাশিয়ার কিছুটা হলেও হাত ছিল আমেরিকার নির্বাচনে।
http://www.banglatribune.com/foreign/ne … রভাব-পড়েনি
এখানে তিনি বলেন "যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ করে আসছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ ছিল, ট্রাম্পকে জেতানোর জন্য কাজ করেছে রাশিয়া । এতোদিন নির্বাচনে জয়ী হওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব অভিযোগকে কখনও ‘ভুয়া খবর’, কখনও ‘ধাপ্পাবাজি’ বা কখনও ‘ডাইনি খোঁজা’ বলে মন্তব্য করে এসেছেন। তবে রবার্ট মুলারের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি ১৩ রুশ নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর সুর পাল্টেছেন তিনি। এখন বলছেন, রাশিয়া হস্তক্ষেপ করলেও তা নির্বাচনে প্রভাব ফেলেনি।"


২২ মার্চ, ২০১৮ এনালিটিকার একটি অবদান তো অল্পকিছুদিন আগেই ফাঁস হল, এতে করে রাশিয়ার মাস্টার প্লান গুলো আরো পরিস্কার হচ্ছে আস্তে আস্তে।
http://www.ittefaq.com.bd/science-and-t … 51311.html
ক্যামব্রিজ এনালিটিকা ট্রাম্পের পক্ষে ডিজিটাল প্রচারণা চালানোর সুবিধার জন্য গ্রাহকদের তথ্য ফেসবুক থেকে কৌশলে হাতিয়ে নেয়, এই অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তুমুল আলোড়ন শুরু হয় এবং গত মঙ্গলবার ক্যামব্রিজ এনালিটিকার প্রধান নির্বাহীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। বিবিসি বাংলা।


৩১ মার্চ ২০১৮- একটু আগে তাদের মাস্টার প্লান এর আরেকটি প্লান বাস্তবায়ন হল
http://www.prothomalo.com/northamerica/ … নড়-ট্রাম্প


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়া থেকে দ্রুত সেনা প্রত্যাহার চান। এর মধ্যে তিনি উপদেষ্টাদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গতকাল শুক্রবার এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত খুব শিগগির আমরা সিরিয়া থেকে বেরিয়ে আসছি। এখন অন্যদের দেশটির দেখভাল করা উচিত।’
যুক্তরাষ্ট্র সরে আসার পর সিরিয়ার দেখাশোনার দায়িত্ব কার নেওয়া উচিত, এ বিষয়ে ট্রাম্প কিছু বলেননি। দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সমর্থন দিতে সেখানে তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ রাশিয়া ও এর পাশাপাশি ইরানের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।


সোনার ডিম পাড়া হাঁস তো আর কেউ এমনি ফেলে যায় না, এতে ক্লিয়ার বুঝা যায় আমেরিকা এমন কোন চাপে রয়েছে যার জন্য তারা এখন রাশিয়ার কাছে সিরিয়া দিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।


কিছুদিন আগে চায়নার সাথে ট্রেড ওয়ার শুরু করে আমেরিকা।আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সতর্কতা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর বিতর্কিত শুল্ক আরোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর যথাক্রমে ২৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করে একটি আদেশপত্রে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। গত ২৫ মার্চ এই আদেশ কার্যকর হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মূলত আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে।
https://www.jugantor.com/international/ … েন-ট্রাম্প

এখন তারা কাচামালের উপর লাভ হিসেবে অল্প কিছু লাভ পাচ্ছে এটা ঠিক, কিন্তু ঠেলা বুঝবে যখন চায়না থেকে তাদের নিজেদের তৈরি করা পণ্য বেশি দামে কিনতে হবে। এখানে বলে রাখা ভাল, আমেরিকার অনেক ভাল ভাল ব্র্যান্ড পণ্য ডিজাইন আমেরিকাতে বসে করলেও তৈরি করে চায়না থেকে কম খরচ হয় বলে। চায়না তো হাত গুটিয়ে বসে থাকে নি। তারাও পণ্যের উপরে একটু বেশিই শুল্ক আরোপ করে দিয়েছে, কারন দেখাচ্ছে বেশি দামে এলুমিনিয়াম আর অন্য জিনিস কেনা লাগছে। এদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ১৫ ই মার্চ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের ন্যায়সঙ্গত জবাব দেয়া হবে। ফরাসি অর্থমন্ত্রী ব্র“নো ল্য মারি বলেন, বাণিজ্য যুদ্ধে সবাই হারে।

https://www.washingtonpost.com/news/wor … d9e8950f56


আর হয়তো বেশিদিন নেই রাশিয়ার প্রতিশোধ নেবার ষোল কলা পূর্ন করতে। তখন আর রাশিয়ার কোন বাধা থাকবে না সুপার পাওয়ারশিপ টা ফিরে পেতে।


আসলে পরাশক্তিগুলোর মতিগতি বোঝা অনেক কঠিন। কিন্তু বোঝা সম্ভব, কেমন যেন সব গুলো কাহিনি মনে হয় ছকের মত সাজানো। অপেক্ষায় থাকি পরের কাহিনি গুলো দেখার জন্য সবে তো ২০১৮ সাল, ৪০ বছর পরে কি হয়, তা নেক্সট প্রজন্মের কাছের রেখে গেলাম।

fhratul

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে কিছু কথা।

দারুন বিশ্লেষণ

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে কিছু কথা।

খুবই কষ্ট করে ও সুন্দর ভাবে টপিকটি তৈরি করে শেয়ার করেছেন, ভালোই হয়েছে

"We want Justice for Adnan Tasin"

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Ferdous Hasan Ratul (০১-০৪-২০১৮ ১৯:৩২)

Re: সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে কিছু কথা।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আউল ভাইয়া, কস্ট করে কমেন্ট করার জন্য।

fhratul