টপিকঃ যম দূতের মন

যম দূতের মন
গিনি
এক ঝড়ের রাতে নিপেনের টিনের ঘরের দরজায় বাড়ি। নির্জন মাঠের কোনায় এই ঘর। বাহিরে প্রচণ্ড তোলপাড়, এমন সময় কে হবে? ভয়ে নিপেনের শরীর ছম ছম। হারিকেনটা হাতে লয়। দুর্বল কণ্ঠে জিজ্ঞাস করে কে। কোনো উত্তর নাই। শুধু ধপ ধপ। দরজাটা খুলেই ফেলে। বৃদ্ধ এক, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, বলিষ্ঠ শরীর, পুরাটাই ভেজা।
নিপেন মায়া ভরে অন্দরে আনে। গরম ডাল পান করায়। মোটা চাদর দেয়। তার এক মাত্র বিছানাটাও ছেড়ে দেয়। সে মাটিতে মাদুর পাতে।
বৃদ্ধ মুখ খুলে।
নিপেন বাক রুদ্ধ আর জড়সড় হয়ে শুনে।
বৃদ্ধ বলে, " আমি খুনি। এটা আমার নেশা। অগণিত বধ করেছি সারা জীবন। কোনো চিনহ রাখিনি তাই ধরা পরিনি। যারা আমকে জানে খুনের জন্য টাকা দেয়। এ ব্যবসায় কত বিচিত্র মানুষের দেখা পেলাম। কেউ সম্পত্তির জন্য, কেউ প্রেমের জন্য, কেউ অন্য কে কষ্ট দেওয়ার জন্য, কেউ পরকীয়ার জন্য খুন করালও। আবার সামান্য উচ্চ পদের জন্য আর রাজনৈতিক হত্যাও আছে। এক এক জন পিচাশ। শুধু আমি কাজতা করি দেখে আমার বিভিন্ন নাম দেয়, যেমন, জল্লাদ, অ মানুষ, নরাধম, পিচাশ, খুনি। যখন আমি কাউকে খুন করি তাদের ঐ চেহারা আমার খুব ভালো লাগে। আমি, এক না বলা আনন্দ পাই। খুন করার পর একটা গান মনে পরে গ্রামের এক হাটে শুনেছিলাম। এক বাউল ভাঙ্গা একতারা বাজায়ে খাতি কথা বলে, “ তুই চিনলি কবে  তারে, যে রয় বুকের পাড়ে, একটু হলে নড়চড়, সে কাতবে সকল ধারে, ওরে তুই চিনলি কবে তারে?” সেই রাতে এক খুন করি। পিতা তাঁর কন্যা কে খুন করায়। কারন তাঁর পরকীয়া তুঙ্গে, কন্যা পথের কাঁটা।   আজকে ইচ্ছা ছিল ঝড়ের রাতে এমনি একটা খুন করবো। লোকো চক্ষুর বাহিরে। কিন্তু তুমি যখন হারিকেনটা উঁচা করলে দেখলাম আমার সে ভরা যৌবন মুখ। নিজেকে নিজে খুন করতে পারলাম না। যখন তুমি মায়া করলে তখন মনে হল আমার যৌবন বর্তমান বৃদ্ধকে রক্ষার চেষ্টা করছে। এতো খুনের পরও নিজের খুন টা স্বীকার হল না। দুর্বল মন আমাকে কাবু করলো।“
“ এতো ঝড়ে কোথায় যাবে? থামলে যেও।“
“ ঝড়, আমি নিজেই এক মহা ঝড়, এই ঝড়ে কিছু হবে না।
তুমি ঘুমাও। ঝড়টা কমেছে। দরজাটা লাগিয়ে দাও।"