টপিকঃ বোটা ছেঁড়া ফল

বোটা ছেঁড়া ফল।
গিনি

পাখি যখন গাছে ঝোলা ফলটিকে ঠোঁটে করিয়া উড়িয়ার যায় তখন বীজ খানি কোথায় শিকড় গাথিবে তাহা বলা কঠিন। তেমনই এক নড়বড়ে মনুষ্য বস্তি স্থাপ্নের ধারা ইংরেজ উপ্নিবাসিক শাসন ব্যবস্থায় গড়িয়া উঠে। যেহেতু বিশ্বের সকল মহাদেশে বিস্তৃত ছিল ইংরেজ, সে অতি সহজেই তার রাজ্যের জনগণকে ইচ্ছামত স্থানান্তর করিত এবং এক নতুন বস্তি তৈয়ারির ব্যবস্থা করিত।

রমা যখন কিশোরী তখন তাহার ভূমিহীন, কর্মহীন পিতা ইংরেজদের আশ্বাসে জাহাজে করিয়া সাগর পাড়ি দেয়। জাহাজের কয়লার ইঙ্গিনের পার্শ্বে কোনো মতে যাত্রা শুরু। মনে পরে অনেক দোলাদুলির পর এক অজানা ঘাটে ভিড়ে। এখানে সকলই নতুন। পশু পাখি, গাছ গাছালি, সবচেয়ে কঠিন ভাষা।
রমাদের মত অনেকের জীবন চির কারে জন্য বদলায়। ঐ সকল নতুন জনপদে তারা নতুন সমাজে বড় হয়। তাদের চেহারা ভারতীয় থাকেল তাদের কথা, চলা ফেরা, সংস্কৃতি অন্য রকম হয়। ইংরেজ দের দেওয়া প্রতিসুতি কার কার ক্ষেত্রে সঠিক হলেও বেশীর ভাগ দুর্ভাগ্যই বয়ে চলে। সেই দুখের সাথে যোগ হয় প্রিয় জন, প্রিয় পরিবার ফেলা আসার এক গোপন যন্ত্রনা।
দিন, সপ্তাহ, বৎসর পার হয়। প্রথম পার হওয়া অনেকের মনেই আবার দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রবল থাকে। কেউ কেউ যন্রত্না সহ্য করতে না পেরে না না ভাবে জীবন দেয়। কেউ কেউ সাগর পারি দেওয়ার মত ভুল চেস্তায় ডুবে মরে। কাল ক্ষেপণে ঐ সকল ঘটনা তুচ্ছ ইতিহাস মাত্র। ধীরে ধীরে ঐ সকল ব্যক্তি ,পরিবার স্থায়ী হয়। তাদের সন্তানেরা শুধু দূর প্রবাসের দাদা, দাদির, নানা , নানির আম, কাঁঠালের বনের, নদীতে ঝাঁপনর গল্প, বন্যায় মাছ ধরার কাহিনী শুনে আর পুল্কিত হয়। মনের গভীরে রাক্ষে এক দিন যাবে সেও যাবে সেই আরব্য উপন্যাসের মত আশ্চর্য দেশে। যেখানে বরবটির খেতে ঘুরে বেরানো যায়, গরু টানা গাড়ি চড়া যায়। খেজুর রস গাছের তেকে পেরে পান করা যায় । আম মাখনো দুধ ভাত হয়। বড় বড় পাথরের মহল, কেল্লা, কিছু পরে পরে।
তারপর তারা ঘুম যায়।

এখন রমা দাদি। নাতি পুতিরা সব হৈ চৈ করিয়া বেড়ায়। ধীরে ধীরে সব সইয়া গিয়াছে, এমনকি ভিন্ন সুরের ইংরেজি ও।
দাওয়ায় বসে মাঝে মাঝে ঐ সাগরের দিকে চাহিয়া দেখে দূরে ধোয়া ছাড়িয়া জাহাজ দিগন্তে হারাইতেছে। ভাবে আবার কোনো দিন যদি ফেরত যাওয়া যাইত সেই চেনা জন পদে যেখানে যুগ যুগ ছিল তাহার পরিবারের আনাগোনা। তাহার কৈশরের সাথি এখনো কি আমের গুটি কুড়ায়!