টপিকঃ মালি

মালি
গিনি
ফুলখানি যখন কলি থেকে তার পত্র মেলিয়া ধরে তখন মালি ঝরনায় জল ঢালিতেছে। টক টকে তাজা ফুলের পত্র গুলি নড়িয়া উঠিল। মনে হইল কোনো এক কিশোরী যেন তার মধুর হাসিখানি হাওয়ায় ছড়াইয়া দিল। মালি জল ঢালিতে থাকিল। কিশোরী এবার তার সিক্ত দেহ খানি আরও সুদেল করিয়া ফিস ফিস বলিয়া উঠিল, "এবার থামাও, প্রিয়তম, আর আদর ত সয় না।"
এমন সময় এক খানি ভ্রমর ভো ভোঁ করিয়া ফুলের সাথে ভাব জমাইতে চাহিল। মালির হাতের কাঁচি দিয়া সে সজোরে বারি দিল। ঐ ফুলটি বোঁটা হইতে খসিয়া ভেজা মাটিতে পরিয়া কর্দমাক্ত হইল। রুপ তার গেল। মালি অতি গভীর বেদনায় ঝোপের পার্শে কিছুক্ষন গ্যান হীন, নিলিপ্ত বসিয়া রহিল।
ভ্রমরটি ভোঁ ভোঁ করিয়া উঠিল। জ্ঞ্যান আসিলো। কিন্তু ঝরা ফুলটি তে নজর গেল, সে যেন, কাত্রে বলিতেছে লও মোরে কোলে তুলে, জীবন যে যায় যায়। দিশে হারা মালি কান্নায় বিমর্ষ। সে তাঁর সব চেয়ে প্রিয় জনের গলা কাটিয়া দিয়াছে। সে এক মহা পাপি।
মালি ছেঁড়া ফুলটি কানে গুঁজিয়া এক বিচিত্র ভালোবাসা অনুভব করিল, কিন্তু তাঁর ত রেহাই নাই আবার ঝরনা ঢালা শুরু করিল।