টপিকঃ ভাস্কর্য

ভাস্কর্য
গিনি

সাল ১৯৭১ ইং। বর্ষা কাল। থেকে থেকে শীতল বর্ষণ ঘর বাড়ি, প্রান্তর, বনাঞ্চল সিক্ত করিয়া পীচ্ছল করিতেছে।
অজয় ও তাহার সহযোগী কোষা নৌকায় লগি মাড়িয়া ইক্ষু ক্ষেতের ভিতর আত্ম গোপনের চেষ্টা করিতেছে।। তাহাদের আজকের সৈনিক তাবু আক্রমন ব্যর্থ। তাহাদের সাথের আরও দুইজন ইতিমধ্যে ধরাশায়ী। নৌকার লগি ঘন ঘন মারিতেছে। এই চেষ্টা জীবন যুদ্ধের। সুকৌশ্ল প্রশিক্ষন প্রাপ্ত আর উন্নত যন্ত্রের নিকট আজ তাহাদের গেরিলা কর্ম পরাজিত। এলো পাথারি গুলি চলিতেছে। ইক্ষু বৃক্ষ গুলি হেলিয়া পরিতেছে। কোনো মতে কোষাটি ডাঙ্গায় ভিরাইয়া ঝাপ দেওয়ার পূর্বেই সাথি নিহত হয়। অজয় দৌড়াইয়া পারে উঠে। ঘারের নিকট এক জোর আঘাত লাগে। তাহার দেহ খানি কাদা মাটি তে উবর হইয়া পরে। শরীরে প্রাণ আছে বিধায় সৈনিকরা তাহাকে স্পীড নৌকায় তুলিয়া লয়। উহার পর আজ অবধি অজয়ের খবর তাহার আপন জন, আত্মীয়, বন্ধু কারো জানা নাই।

উহার পর বহু বর্ষা আসিয়াছে আবার চলিয়া গিয়াছে। আজিও যদি সেই দুর্গম অঞ্চলে যাওয়া যায়, হয়তো দেখা যাইবে একটি মানব দেহের ছাপ। মাথা উচ্চে, হাত দুখানা দুই পার্শ্বে ছড়ানো। পাশেই ইতস্তত, কিছু বুটের দাগ।
এ এক ভাস্কর্য।
বিধাতার অপূর্ব সৃষ্টি।
এক দিকে জীবন মুক্তির জিজ্ঞাসা, অন্য দিকে ধবংসের পদাংক।

যুবক অজয় যেন সেই রেণু যাহা সকল জন্মের সূচনা। যাহার জন্য ভ্রমরের গুঞ্জন, ঘ্রানে ভরা ফল।

এই তান, এই সুবাস আকাশ, বাতাস ভরা মুক্ত শ্বাসের অভয়। আজিকার স্বাধীনতা।