টপিকঃ পুরা কালের মত

পুরা কালের মত
গিনি

এক জন সুঠাম যুবক এ গায়ে প্রথম মটর সাইকেলে এসে সেই ছোট্ট নির্জন ঘরটার সামনে দাঁড়ায়। এই ঘরটার গায়ে বিচিত্র সব ছবি আঁকা। এলাকার লোক একে ডাইনি বুড়ির ঘর বলে জানে।
যুবক দরজায় কড়া নাড়ে। এক প্রায় শত বর্ষীয় বৃদ্ধা দোর খুলে। গাল ভাঙ্গা, চোখ দাবা, মাথায় শনের মত সাদা চুল।
যুবক বলে," একটু জল দাও। বড় তেষ্টা। আমি এক ভ্রমন কারি। দেশে দেশে ঘুরা আর নূতন কিছু পেলেই তা সংগ্রহ করা। এই কাজ।"
বৃদ্ধা, " এক মাটির বাটিতে জল এনে দেয়।"
যুবক একটু চিনি চায়। বৃদ্ধা চিনি দেয়। তারপর যুবক পকেট থেকে একটা গাছের কাঠি দিয়ে নেড়ে পান করে। বিদায় নেওয়ার সময়।
বৃদ্ধা," আমার ভাই সেই যে বিদেশ গেল প্রায় ৩ যুগ আর এলো না। তুমি যদি তাকে দেখ আমার কথা বল। এখান কার মানুষ আমাকে ডাইনি বলে। কারন আমি অল্প বয়সে বুড়ি হয়েছি। এক হিংসুথে নারী আমার রুপে জ্বলে আমাকে যাদু করে কি একটা খেতে দেয়ে বুড়ির রোগ ধরিয়ে দিয়েছে।"
বলে বৃধা ভেতরে যায়।
যখন ফিরে আসে যুবক ভয়ে লাফ দিয়ে উঠে। সামনে তার এক অপূরব সুন্দরী। সোনালী চূল, লাল ঠোঁট, চোখের চাহূণীতে হ্রদয়ের ভেতরে গিয়ে প্রেম জাগায়।
যুবক বলে,' আপনি কে?"
বৃদ্ধা, দরজার ভাঙ্গা কাচ টায় নিজেকে দেখে। চিৎকার দেয়," এইটাই আমি।"
তুমি জলের পাত্রে এক খানা কাঠি দিয়ে নেড়ে ছিলে, ঔ কাঠির রসে কিছু আছে । আমি যখন বাটিটা রাখতে যাই তখন ঔ জল আমার হাতে লাগে। তারপর সব পাল্লটে গেছে।"
যুবক বলে," শোন । চিৎকার কোরো না। এ গাঁয়ের লোক জানতে পারলে তোমাকে মেরে ফেলবে। চল আমার সাথে ভিন দেশে।"

যুবকের মটর সাইকেল টা সন্ধ্যার আবছা আলোয় গ্রাম ছেরে, পাহার পেরিয়ে অজানায় হাঁড়ায়।