টপিকঃ সুন্দরী প্রতিযোগিতা ও কিছু অভিব্যক্তি

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ আর এভ্রিল কে নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং উইনারের ম্যারিটাল স্ট্যাটাস নিয়ে ভেজাল। কেউ উইনারের পক্ষে কেউ বিপক্ষে। যাই হোক আমি কোন পক্ষে না গিয়ে গোটা মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার বিপক্ষে গিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।
.
রয়্যাল সোসাইটি ২০১১ সালে প্রকাশ করে বিশ্বের ফার্স্টেট গ্রোয়িং সায়েন্টিফিক নেশনসের তালিকা। সেখানে এক নাম্বারে কোন নামটা আসে জানেন? আমেরিকা? না রাশিয়া? না জার্মানি? না......
বিশ্বে বৈজ্ঞানিক ভাবে সবচাইতে দ্রুত বর্ধণশীল দেশের তালিকায় এক নাম্বারে নাম আসে ইরানের।
     
সারা দুনিয়া যখন ইরানে নিউক্লিয়ার উইপন আছে কিনা এইটা নিয়ে গবেষণায় ব্যাস্ত ,তখন ইরানে গত এক দশক ধরে নিরব টেকনোলজিকাল এবং সায়েন্টিফিক বিপ্লব হয়ে যাচ্ছে। ইরান কে ধরা হচ্ছে ইজরায়েলের পাশাপাশি মিডল ইস্টে সায়েন্টিফিক লিডার হিসেবে। ২০০১ সালে ইরানের সরকার বুঝতে পারে "পরাশক্তিগুলোর সাথে ফাইট করতে হলে বিজ্ঞানের আশ্রয় নেয়া ছাড়া বিকল্প নেই। মুখে মুখে ইহুদী নাসারাদের গালি দিয়া পাওয়ার গেম জেতা যায় না।" ২০০৫ সালে ইরান সরকার জাতীয় সায়েন্স বাজেটে ৯০০ মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করে।
২০০৪ সালে ইরান সরকার এক যুগান্তিকারী পদক্ষেপ নেয়। তারা লক্ষ করে দেশের মেধাবী তরুণরা সব দেশের বাইরে ইউরোপ,আমেরিকায় চলে যাচ্ছে। তখন ইরানি সরকার দেশের সব ইউনিভার্সিটির যত লোন আছে সব মওকুফ করে দেয় এবং ইউনিভার্সিটি গুলোকে নির্দেশ দেয় রিসার্চ সেক্টরে স্টেট অফ দি আর্ট ফ্যাসিলিটিজ নির্মাণ করতে। যত টাকা লাগে সরকার দেবে। দেশের মেধাবীরা দেশে থেকেই রিসার্চ করুক। আফসোস! আমাদের বুয়েট,ডুয়েট,চুয়েট, কুয়েট,রুয়েট,ঢাবি, চবি, জাবিসহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবীদের জন্য। তারা দেশের বাইরে কম কষ্টে যায়না। রিসার্চ বেজড জব না করে বিসিএস কম কষ্টে দেয়না। এ দেশে রিসার্চের জায়গা কই? পয়সা কই?

এ দেশে সুন্দরি প্রতিযোগিতার মত টেকনিক্যালি ইউজলেস প্রোগ্রামে বড় বড় স্পন্সরের অভাব না হলেও আজকে একজন বুয়েটের ছাত্রের রিসার্চ প্রজেক্টে ইনভেস্ট করার জন্য কোন ফকিরের বাচ্চাকেও খুইজা পাওয়া যাবেনা।
   
.
যেখানে ১৯৯৫ সালে বিশ্বের নামকরা জার্নালে ইরানিদের প্রকাশিত পিয়ার রিভিউড পেপার ছিল মাত্র ৭৩৬ সেখানে ২০০৮ সালে পিয়ার রিভিউড জার্নালের সংখ্যা হইল ১৩২৩৮। ইউনিভার্সিটি অফ তেহরান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং এ সেরা ৩০০ তে চলে আসে।
.
আমাদেরগুলার কথা বলে লজ্জা পাবার কোন মানে হয়না। স্টার্ট আপের ক্ষেত্রে ইরান মিডল ঈস্টে দুই নাম্বার পজিশনে। ২০২১ সালের মধ্যে টেকনোলজিতে ইরান সরকার শুধুমাত্র আর এন্ড ডি তেই ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করবে।
.
এই হলো ইরানের সায়েন্স বিপ্লবের গল্প।
এইসব আমরা বুঝবনা। রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট হলো লং টাইম প্ল্যানিং এর জিনিস। বছরের পর বছর কষ্ট করলে যাইয়া ইরানের মত কেষ্ট মিলে।
.
এখন আপনি প্রশ্ন তুলতে পারেন এসব দেশ ইন্ডিয়াতেও হয়। ইয়েস আপনি কচুটা জানেন। আমরা শুধু ইন্ডিয়াতে বলিউডই দেখছি। ইন্ডিয়ার রকেট প্রোগ্রাম, আইটি সেক্টরে রেভূলুশন দেখিনি।
.
ইন্ডিয়ার শুধুমাত্র আইটি সেক্টরের ব্র্যান্ড ভ্যালু ১৫৫ বিলিয়ন ডলার্। গুগল, এপলে ইন্ডিয়ার ভার্সিটির ছাত্ররা জব পায় রেগুলার্। আর আমাদের একজন পাইলে সেইটা নিউজপেপারে খবর হইয়া যায়। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং এ ইন্ডিয়ার ৩১ টা ভার্সিটি আছে। Apple এ প্রতি তিনজন ইঞ্জিয়ারের একজন ইন্ডিয়ান। ভাবতে পারেন?
   
 
২০১১ সাল নাগাদ গুগল ,পেপসিকো ,রেকিট বেনকিজারসহ বিশ্বসেরা এগারোটা কোম্পানির সিইও ইন্ডিয়ান ছেলে মেয়েরা ছিলো।
 
আর আমরা আছি মিস ওয়ার্ল্ড নিয়া। মাই ফুট।

.
আমাদের মোটা মাথায় এইটা ঢুকে না একটা দেশের বিশ্ব রাজনীতিতে পাওয়ার সে দেশের মিডিয়া, সিনেমা, এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ড্রাস্ট্রির উপর নির্ভর করেনা বরং সে দেশের বিজ্ঞান ,প্রযুক্তিগত সামরিক, অর্থনৈতিক সাফল্যের উপর নির্ভর করে।
.
আরো অবাক করা ব্যাপার হইল, ২০১৬ সালে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং এ যুদ্ধ, মৌলবাদ আর বোমাবাজির দেশ পাকিস্তানের ৬ টা ইউনিভার্সিটি জায়গা পায়। আর আমাদের? একটা। তাও সবচাইতে নীচের ৩০০ ভার্সিটির মধ্যে। ভারত, পাকিস্তানের পক্ষে আমার এইসব কথা অনেকের কাছে তিতা লাগতে পারে। আমারে দালালও বলতে পারেন। বাট এইগুলা হইল হার্ড ট্রুথ।
.
মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার র্যাম্পে মাংস ব্যাবসা চলে কিন্তু তাতে জিও পলিটিক্সের কঠিন ব্যাটলফিল্ডে এডভান্টেজ পাওয়া যায়না।
.
হলিউড বলিউড অনেক পরে। আগে ইউ এস এ, ইন্ডিয়া নিজেদের টেকনোলজি, আইটি ,ডিফেন্স কে শক্ত করছে বলেই ওদের এত পাওয়ার্।
মিস ওয়ার্ল্ড ঐশ্বরিয়া রাই ,প্রিয়াঙ্কা চোপড়ারা ইন্ডিয়াকে এ অঞ্চলের মোড়ল বানায়নি। মোড়ল বানাইছে ইন্ডিয়ার স্পেস প্রোগ্রাম , ডিফেন্স প্রোগ্রাম, আইটি সেক্টর্।
.
যতদিন পর্যন্ত আমরাও এইসব মিস ওয়ার

Re: সুন্দরী প্রতিযোগিতা ও কিছু অভিব্যক্তি

আসলেই, ফালতু কাজে সকলে টাকা ঢালে,আর বিনোদন ক্ষেত্র হলে তো আর ইচ্ছামতো।আমােদর দেশেও ভালো ছাত্র আছে,আর সকলেই বর্হিমুখী,কারণ এখানে প্রোপার এডুকেশন এর %কমে গেছে। পড়াশুনার ক্ষেত্র,ব্যবস্থা খারাপ হচ্ছে দিন দিন।আফসোস sad

ডিজিটাল বাংলাদেশে ত আর সাক্ষরের নিয়ম চালু নাই।সবটায় দেখি বায়োমেট্রিক।তাই আর সাক্ষর দিতে পারলাম না।দুঃখিত।