সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন অপেক্ষা (০৯-১১-২০১৭ ১৫:২৫)

টপিকঃ টুকতাক (পরিচয়পর্ব...দ্যা বিগিনিং)

প্রথম অংশের পর.....

আমি ভীষন অস্থির বোধ করছি।ফোনটাকে মা রাক্ষসীর কাছে থেকে উদ্ধােরর পর,  প্রায় ৫৭ বার কল দেওয়া হয়ে গেছে আমার ফিলিয়াকে।আর এই ৫৭ বার আমাকে শুনতে হয়েছে-

"আপনি যে নম্বরে কল দিেয়ছেন,তার মালিক তো বিরাট ব্যস্তমানুষ।সে কি এত সহজেই ফোন ধরে?আরে,একটু থামেন,ধৈর্য্য ধরেন।সে কল ধরবে।"

এই রকম একটা অদ্ভুদ ওয়েলকাম টিউন মাত্র গাধারাই সেট করতে পারে।ফিলিয়া যে পুরোপুরি গাধা হয়ে গেছে,সেটাএই কিম্ভূতকিমাকার ওয়েলকাম টিউন ৫৭ বার শুনে আমার বোঝা হয়ে গেছে বেশ ভালো মতই।রাগে গা কাঁপতে শুরু করছে আমার।"আমি জরুরি বিষয়ে কল দেই,আর গাধাটা না কি ব্যস্ত।আরে গাধা,খালি কি তুই ই ব্যস্ত? দুনিয়ায় কোটিকোটি লোক,তারা সক্কলেই ব্যস্ত।আমিও ব্যস্ত।আমি আর তোর মতো ব্যস্ত গাধাকে কল দিবো না।দিচ্ছি না না না।হু।"

মনে মনে কথাগুলো বললাম ফোনে ফিলিয়ার নম্বরটাকে ডায়াল করে।"আসলেই গাধা"।পেছন থেকে টুকতাক বলে উঠল।পেছন ফিরেই দেখি,ও বেশ হাসি হাসি মুখ করে আছে।আমি বললাম-
-হাসছ কেন টুকতাক?
-এই দেখো কি এনেছি?

টুকতাক ওর মুঠিকরা হাত আমার সামনে খুলল,দেখি বরই।টসটসে বরই।আমার খুব প্রিয়।আমি খুশিতে আত্মহারা হয়ে সেগুলো নিয়ে কোনরকম জামাতে মুছেই খাওয়া শুরু করে দিলাম।

-টুকতাক,ঝাল-টাল কিছু আনোনি?
-উপস,না তো।
আমি আর কিছু বললাম না।খেতে লাগলাম পাকা পাকা বরইগুলো।
টুকতাক খুব ভালো মেয়ে।ভূত হবার আগে ওর নাম কি ছিলো? অনেকবার জিঙ্গেসা করেছি,ও বলতে পারেনি।ওর সাথে আমার পরিচয়টা খুব বেশি থ্রিলিং না হলেও,বেশ অন্যরকম ছিলো।বছর দুয়েক আগের ঘটনা,আমি আমার খালু মারা যাওয়ায়, খালামনির বাসায় যাই।বেশ গ্রাম এলাকা সেটা।সকলে বেশ শোকাহত খালু মারা যাওয়ায়।আমি ও শোকাহত ছিলাম।তবে এতলোকের ভির আমার পছন্দ হচ্ছিলো না।আমি তাই দুপুরবেলায় বের হলাম হাটতে,একা একাই।বিকেলে মিলাদ।তার আগেই চলে আসতে হবে,নইলে খোঁজাখুঁজি শুরু হবে।আমি বেশ সহজেই বের হতে পারলাম,কারণ,সকলে কাজে ব্যস্ত,তার ওপর মরাবাড়ি,কারও তেমন খেয়াল নেই।আমি আশেপাশে হাটতে লাগাল।প্রতিবছর না হলেও,মাঝে মাঝো এখানে আসা হয়।আমার সামান্য চেনা আছে এই গ্রামটা।দুপুর বেলায় সকলে ভাতঘুমে।আমি ধুলি ওড়া মেটেল পথ ধরে হাটছিলাম। রোদের তীব্রতা তেমন ছিলো না,কারণ সময়টা ছিলো ফ্রেব্রুয়ারি মাস।হালাকা শীত শীত ছিলো গ্রামে।আমি আমার নীলচে,কার্ডিগান পড়ে হাটছিলাম,কিন্তু গরম গরম লাগায় আমি সেটা খুলে কোমড়ে পেচিয়ে হাটতে লাগলাম। হাটতে হাটতে বেশ দূরেই চলে গেছিলাম আমি। তখন চোখের সামনে শুধু বাঁশবন পড়তে লাগল একটু পরপর।আমি সেই নুয়ে পড়া বাঁশগুলো সরিয়ে সরিয়ে যেতে লাগলাম সামনে।দেখি এক বিরাট বটগাছ।তার তিন শাখা যেনো কোন পুরাণের তিন মাথা ওয়ালা দৈত্য।আমার সামনে দাড়িয়ে আছে বুক উচিয়ে।আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছি গাছটাকে।কাছে ফোন ছিলো,বেশ কিছু ছবিও তুলে নিলাম।হঠাৎ,চোখ পড়ল,বেশ উচুঁ ডালে,একটা কমলা কাপড় বাধা।কাপড়টা বেশ মলিন।মেলাদিন আগে কেউ হয়তো ফাঁস নিয়ে ছিলো,এরপর কাপড় তার ভার সইতে না পেরে ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছে নিথর দেহটাকে।এসব ভাবতেই বুকটা কেমন জানি কেঁপে কেঁপে উঠল।ভয় ভয় শুরু করল।খেয়াল করলাম,আশে পাশে একটা ভাংগা মন্দির ছাড়া কেন বাড়ি নাই।আমি গ্রাম থেকে বেশ দূরে চলে এসেছি।আমি ভীতু
নই, তবুও বুকটা দুরুদুরু করে কাঁপছিলো।হঠাৎ,মন্দির থেকে একটা "টং" করে আওয়াজ এলো।কেউ ঘন্টা বাজালে যেমন আওয়াজ হয়,ঠিক তেমনটা।আমি মন্দিরের দিকে পা বাড়ালাম।দেখি বহু পুরোনো মন্দির,কোন ঘন্টা নেই।তাহলে , ওই টং আওয়াজ? আমি এবার ভয় পেলাম।আর তখুনি দেখি,একটা সাপ, মন্দির থেকে বেরিয়ে আসছে।আমি ভয়ে দৌড় দিতে না দিতেই,ওই বিশাল বটের মাটি ফুঁড়ে বের হওয়া শিকড়গুলোতে পা আটকে পড়ে গেলাম।পুরো শরীর ধুলোয় মাখামাখি হয়ে গেছে।আমি প্রচন্ড পায়ে ব্যথা পেয়েছি,উঠতে পরছি না,আর ওদিকে সাপটা যেন ফনা তুলে এগিয়ে আসছে আমার দিকে।আমি কোনমতে, "লা হাওলা কুয়াতাআআআ....." বলে উঠলাম।হঠাৎ দেখি বাঁশঝাড় থেকে শব্দ আসছে,আরো ভয় পেলাম।তবুও সাহায্যের জন্য "হেল্পএএএএএ....." বলে চেঁচিেয় উঠতেই দেখি, বেগুনী শাড়ি পড়া,চুল এলো এক তরুনী এগিয়ে আসছে লাঠি হাতে।ততক্ষণ এ সাপটা ফনা তুলে আমার কাছে এসে গেছে,আর ও দূর থেকে লাঠিটা ছুড়ে দিলো।সাপটা ছিটকে গেলো।ও দৌড়ে এসে,লাঠিয়া নিয়ে সাপটা পিটিয়ে পিটিয়ে লাশ করে দিলো।আমি ততক্ষণ মৃতের মত সব দেখছি।মুখটা অজান্তেই হা হয়ে গেছে।মেয়েটা সাপটাকে মেরে,লাঠি দিয়ে পাশের পানাপুকুর টায় ফেলে দিয়ে এলো।এসেই আমাকে উঠাতে উঠাতে বলল-
-এখানে কি করছো?

আমি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম।হা করে কথা গিললাম ওর,বলতে পারছি না কিছুই।ও আমার জামা ঝেড়ে দিতে দিতে আবার বলল-
-এখানে কেনো আসছ? জায়গা ভালো না।

আমি হু হা করতে চাইলাম,পারছি না।আমি কি তাহলে বোবা হয়ে গেছি? হয়তো! সে আবার বলল-
- বাড়ি কই?
আমি নিশ্চুপ।সে বলল-
-আসো,বড় রাস্তায় এগিয়ে দেই তোমাকে।
আমি ওর পিছুপিছু হাটতে হাটতে এবার বললাম-
-তুমি কে?

সে আমার দিকে ফিরে এক হাসি দিলো।প্রাণ খোলা এমন হাসি শহরের কারও মুখে কখনও দেখিনি।হালকা বাতাসে ওর এলো চুল উড়ছে,মেলা দিন আচড়ায়নি।তাও দারুন লাগছে।তবে,সে বড় নোংরা, সারা শরীরে মাটি লেগে আছে।বলল-
-আমি কে তা তো জানি না।তুমি বুঝি শহুরে? শহর থেকে এসেছো?
-হ্যা,তবে তুমি কে তা কেন জানো না?

সে পা দিয়ে মাটি খুড়তে খুঁড়তে বলল-
-মনে নাই।বহুদিন আগে মরছি তো তাই।

কথাটা শুনে আমার চোখ কপালে উঠে গেলো।মেয়েটা মজা করছে কেন আমার সাথে? সে আমাকে বড় বিপদ থেকে বাঁচালো।ওর ওপর রাগ করা যায় না,তবে এমন রসিকতাও মানা যায় না।আমি একটু স্বর গাঢ় করে বললাম-
-কি যা তা বলো মেয়ে।
-যা তা বলছি না গো, যা তা বলছি না।আমি সত্যিই মরে গেছি।আমার শরীর নেই।

এসব কথা বলতে বলতে আমরা বড় রাস্তায় (মূল গ্রামের রাস্তায়) চলে এসেছি।ও এক জায়গায় থেমে বলল-
-চলে যাও,আর এসো না।

আমি দেখালম সে হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে।একজন জলজ্যন্ত মানুষ,যার সাথে আমি কথা বললাম,যে আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে আসল,সে কেমন করে মিলিয়ে যায়?এটা কিভাবে সম্ভব? এই বিংশ শতাব্দীর যুগে , যেখানে সব কিছু আধুনিক,সে সময় আমি কিভােব এমন অদ্ভুতুরে জিনিস দেখলাম।আমি আর কিছুই ভাবতে পারছিলাম না।কারণ,আমি তখন আর আমার মধ্যে নেই।


চলবে......

ডিজিটাল বাংলাদেশে ত আর সাক্ষরের নিয়ম চালু নাই।সবটায় দেখি বায়োমেট্রিক।তাই আর সাক্ষর দিতে পারলাম না।দুঃখিত।