টপিকঃ রাজপ্রতিভু নদিরা বেগম

রাজপ্রতিভু নদিরা বেগম (নন্দিরা মোহলারায়িম) কোকান্দ খানাতে(১৭৯২-১৮৪২খ্রি.)
নন্দিরা বেগম ছিলেন কোকান্দ খানাতের শাসক ওমর খানের স্ত্রী।আধুনিক উজবেকিস্তানের ফারগানা উপত্যকার পশ্চিমাংশে কোকান্দ অবস্থিত। মধ্য এশিয়ার একটি অন্যতম প্ৰাচীন শহর কোকান্দের ইতিহাস প্ৰায় ২২০০ বছরের।
১৮ শতকের প্রথম ভাগে আশতারখানিদ খানাতের মাঝে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে ফারগানা বোখারা থেকে আলাদা হয়। কোকান্দকে কেন্দ্র করে একটি নতুন স্বাধীন রাজ্য কোকান্দ খানাতে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্ৰথমে ক্ষমতায় ছিল হোজ্জারা, তারপর খান রাজবংশ এই রাজ্য শাসন করে। ১৮ শতকের শেষ ভাগে কোকান্দ খানাতের অন্তভূক্ত ছিল বর্তমান ফারগানা, নামানগান, কোকান্দ, আনদিজান তাসখন্দ, খুজান্দ, কিরগিজস্তান এবং দক্ষিণ কাজাখাস্তান ।
উজবেক গোষ্ঠীর শাহরুখ বি ছিলেন কোকান্দ খানাতের প্রথম শাসক । ১৮০৯ খ্রি. আলিম খানের মৃত্যুর পর তার ভাই ৭ম শাসক ওমর খান (১৮০৯–১৮২২খ্রি.) ক্ষমতা দখল করেন। ওমর খান যখন মারা যান তখন তার স্ত্রী নদিরা বেগমের বয়স ছিল ৩০ বছর। ওমর খানের উত্তরাধিকার ছিলেন ১২ বছরের পুত্ৰ মোহাম্মদ আলি খান (মাদালিহান)। কিন্তু মোহাম্মদ আলি (১৮২২-১৮৪২খ্রি.) নাবালক ছিলেন বিধায় তার মাতা বিশিষ্ট কবি নদিরা বেগম পুত্ৰ সাবালক হওয়া পর্যন্ত রাজ্য শাসন করেন। তিনি তার শাসনকালে কোকান্দে সংস্কৃতি এবং শিল্পকলা বিকাশে প্রভূত অবদান রাখেন। নন্দিরা বেগমের নির্দেশে কোকান্দে একটি সরাইখানা, বাজার, একটি মাদ্রাসা, মসজিদ, হামাম এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। তিনি ১৮২৫ খ্রি. মাদারি-খান নামে প্রধান সমাধিক্ষেত্র স্থাপন করেন উমর খানের মায়ের জন্য। এটি মুসলিম স্থাপত্যশিল্পের একটি অন্যান্য দৃষ্টান্ত। তিনি ছিলেন একজন সুফি শিক্ষক, গজল রচয়িতা (তিনি তার বাইয়াতে ১০ হাজার পঙক্তি রচনা করেন)। সরাসরি কোকান্দ সরকার পরিচালনা করেন। স্বাধীনতার পর ৭ মে ১৯৯২ খ্রি. উজবেকিস্তানের প্রথম ডাক টিকিট ইসু্য করা হয় উজবেক কবি এবং কোকান্দ খানাতের শাসক নন্দিরা বেগমের (নদিরা মোহলার-ওইম) ২০০তম বার্ষিকীতে এটি উৎসর্গ করা হয় ।
“হে ঋজু হয়ে দাঁড়ানো সাইপ্রেস বৃক্ষ, কি ভাবছো তুমি?
ঠিকানা খুঁজে বেড়াবার তোমার এই সংকল্প আমার হৃদয় জ্বলিয়ে দেয়।
ক্ষমা কর আমাকে, আমি শুধু চেয়েছি তোমার নিখুঁত অবয়ব।
তুমি চাঁদের চেহারা নিয়ে তর্ক কর,
হে, সূর্য তুমি কি রাহুমুক্ত হয়েছে?

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ