সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন অপেক্ষা (১৭-০৮-২০১৭ ১৭:৫৩)

টপিকঃ গন্ধ

মানুষ তার জীবনে কত রকমই গন্ধ না পেয়েছে।জন্ম থেকেই পাওয়া শুরু,মৃত্যুতেই শেষ।জন্মের পরপর শিশু পায় মায়ের গায়ের গন্ধ,মায়ের স্তনবৃত্ত চুপসে বেরিয়ে আসা দুধের গন্ধ।আমিও তেমনটা পেয়েছি নিশ্চই।কিন্তু,৩২ বছর পর তা মনে থাকবার কথা নয়।আমি অসাধারন কেউ নই,অতি সাধারণ একটা মধ্যবিত্ত পরিবােরর একজন মেয়ে।মা বাবার প্রথম সন্তান।বহু আশা,স্বপ্ন আমাকে ঘিরে রয়েছে তাদের।বাবা- মার স্বপ্ন,আশা ছিলো,মেয়ে ডাক্তার হবে।হয়েছি।সফল না বিফল সেটা জানি না।তবে হয়েছি ত।এই অনেক।

একটু বড় হতেই পেলাম আরো কত কত গন্ধ,মায়ের রান্না সসহজপাচ্য খিচুড়ির গন্ধ,পেটে জ্যাম হওয়া খাদ্যের ফেলে দেওয়া বমির গন্ধ,পোষা বিড়ালের গায়ের গন্ধ,বইয়ের পাতার গন্ধ,কাদাঁ-জলে মেশা কাপড়ের গন্ধ,নিজের গোপন রক্তের গন্ধ,চক-স্লিটের গন্ধ,ধোয়া- ধুলোর গন্ধ,বাজারের সবজি-মাছ,মাংসের গন্ধ,বৃষ্টি ভেজা মাটির গন্ধ,সবুজ পাতার গন্ধ,তরুণ বয়সে পাওয়া একগুচ্ছো গোলাপের গন্ধ,তরুণের ঠোটের মিস্টি গন্ধ,ডাক্তারি পড়তে যাওয়ার পর মৃত মানুষের গন্ধ,পেট ফাটা লাশের গন্ধ,সন্তান জন্মদেওয়া মায়ের রক্তের গন্ধ,ওষুধের গন্ধ,ঘামে ভেজা পুরুষ শরীরের গন্ধ,বীর্যের গন্ধ।সারাটা জীবন কাটল এই গন্ধে গন্ধেই।

জীবন খুব কম সময়ই ভালো গন্ধ পায়।সেগুলোকে গন্ধ বলে না,বলে সৌরভ।যা মেহিত করে,বিভোর করে।অল্প সময়ের জন্যই পাওয়া যায় তাকে।স্মৃতির মত বেচেঁ থাকে জীবনে।মধুময় স্মৃতিসেগুলো।তাই যতক্ষন পাওয়া যায়,আমি সব সৌরভ নিয়ে নিই নিজের মাঝে।আবার কবে পাবো,জানি না।

আমি রাজকন্যা।রাজকন্যা হাওলাদার।একজন মধ্যবয়সী নারী।একজন সন্তান।একজন ডাক্তার।একজন গৃহবধু।একজন মা।আমি দূর্গার চেয়েও কম নই।আমি আমার লুকায়িত আরো আট হাতে সংসার চালাই।আমি নারী।কোমলমতি,স্নেহময়ী নারী।আবার কঠোর,নিষ্ঠুর,পাষানী নারী।
এই যে এত গন্ধ গন্ধ করলাম।কারণ ত আছে নিশ্চই? হ্যা,আছে বৈকি।নইলে এত গন্ধ গন্ধ কেন? কি আছে এতে? বহু কিছু।একটা জীবনের গল্প।একটা মৃত্যুর গল্প।জীবন- মৃত্যু, এরা খুব আপন।এতই আপন যে, বলে বোঝানো যাবে না।জীবনের গল্পগুলো বড় অদ্ভুদ.......



চলবে....

ডিজিটাল বাংলাদেশে ত আর সাক্ষরের নিয়ম চালু নাই।সবটায় দেখি বায়োমেট্রিক।তাই আর সাক্ষর দিতে পারলাম না।দুঃখিত।