টপিকঃ অ্যাম্পেরার অব দ্য মোগল-২ : ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার (কাহিনী সংক্ষেপ) - ০৪

অ্যাম্পেয়ার অব দ্য মোগল :  ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার
মূল লেখক : অ্যালেক্স রাদারফোর্ড
অনুবাদক : সাদেকুল আহসান কল্লোল।
https://i.imgur.com/SMv3ucw.jpg
৪৯৯ পাতার বিশাল এই বইটির কাহিনী সংক্ষেপ আমি ধারাবাহিক ভাবে কয়েকটি পর্বে লিখে যাব।

পাঠকদের মনে রাখতে হবে আমার লেখা অন্যসব কাহিনী সংক্ষেপের মতো এই কাহিনী সংক্ষেপটিও স্পয়লার দোষে দুষ্ট। এই কাহিনী সংক্ষেপে সম্পূর্ণ উপন্যাসের মূল কাহিনীর ধারাবাহিক বর্ননা করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাই এখানে উল্লেখ আছে।


==================================================================================

অ্যাম্পেরার অব দ্য মোগল-২ : ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার (কাহিনী সংক্ষেপ) : পর্ব - ০১পর্ব - ০২পর্ব - ০৩


অ্যাম্পেরার অব দ্য মোগল-২ : ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার (কাহিনী সংক্ষেপ) - ০৪ পর্ব

এদিকে হুমায়ূন আবার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। সে খবর পায় শের শাহ তার বিজয় উপলক্ষে বিশাল ভোজের আয়োজন করেছে। সেখানে সে সকলকে প্রচুর উপটকন দিয়েছে। হুমায়ূনের বন্দি সৈন্যদের দাশ হিসেবে উপহার দিয়েছে। হুমায়ূনের অনুগত মিত্ররা সকলেই শের শাহের দলে যোগ দিয়েছে। শের শাহ এখন প্রায় দুই লাখ সৈন্য নিয়ে ধীরে আগ্রার দিকে আসতে শুরু করেছে। অন্যদিকে হুমায়ূনের মিত্ররা সৈন্য পাঠাচ্ছে না। শুধু হিন্দাল প্রচুর সৈন্য পাঠালেও কামরান ও আকসারী নামকাওয়াস্তে কিছু সৈন্য পাঠিয়েছে। সব মিলিয়ে হুমায়ূনের সৈন্য সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজারের মত।


দেখতে দেখতে শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। শের শাহের বিশাল দলের সাথে যোগ হয় হুমায়ূনের অনুগত দলছুট বিশ্বাসঘাকতদের দল। যুদ্ধের সময় শের শাহের প্রথম অশ্বারোহী যোদ্ধাদের হটিয়ে দেয় হুমায়ূনের সৈন্যরা গোলা আর তীরের আঘাতে। এরপরেই প্রতিরক্ষার দুই প্রন্ত থেকে আক্রমণ শুরু হয়। অশ্বারোহীরা হুমায়ূনের তীরন্দাজ ও পদাতিক বাহিনীকে কচু কাটা করতে করতে। তখন প্রতিরক্ষার মাঝের সৈন্যরা ছুটে যায় দুই দিকে। ঠিক তখন মাঝের অংশে আক্রমণ করে একেবারে ভিতরে ঢুকে পরে শের শাহের সৈন্যরা। হুমায়ূনের সৈন্যরা অকাতরে মারা পরতে থাকে। শেষে হুমায়ূন  কোন রকমে জীবন বাঁচিয়ে পিছিয়ে আসার হুকুম দেয়।


আগ্রার দূর্গে ফিরে হুমায়ূন দেখে তার মা মাহাম খুবই অসুস্থ। হুমায়ূনের সাথে কথা বলেই তিনি মারা যান। বাবরের তৈরি করা বাগানে মাহামের সমাধি হয়। এর কদিন পরেই হুমায়ূন খবর পায় শের শাহ প্রায় তিন লাখ সৈন্য নিয়ে আগ্রার দিকে এগিয়ে আসছে। হুমায়ূন ঠিক করে সে তার অবশিষ্ট ৮০ হাজার সৈন্য নিয়ে লাহর চলে যাবে। চেষ্টা করবে কাবুল থেকে সৈন্য আনতে। তাছাড়া তার সৎ ভাইদের নির্দেশ পাঠায় যত বেশী সম্ভব সৈন্য পাঠাতে। সকলকে নিয়ে হুমায়ূন আগ্রা ছেড়ে লাহোরের দিকে পিছু হটতে শুরু করে এবং খবর পায় শের শাহ আগ্রা দুর্গ দখল করে নিয়ে নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করে মসজিদে খুৎবা পাঠ করিয়েছে এবং নিয়মিত দরবার করছে। সে আর হুমায়ূনের পিছু করছে না।


একসময় হুমায়ূন তার দল নিয়ে উপস্থিত হয় লাহরে। হুমায়ূন লাহরে পৌঁছানোর আগেই তার ডাকে সারা দিয়ে লাহর রাজপ্রাসাদে এসে উপস্থিত হয়েছে তার তিন সৎ ভাই কামরান, আসকারী ও হিন্দাল। পিতা বাবরের মৃত্যুর পরে আজ প্রায় ছয় বছর পরে হুমায়ূন তার ভাইদের সাথে মিলিত হয়। কিন্তু যুদ্ধের আলোচনায় হুমায়ূন ও কামরানের মতের মিল হয় না। আসকারী ও হিন্দাল চুপ থেকে বড় দুই ভাইয়ের তর্ক শুনে যায় শুধু। হুমায়ূন যখন শের শাহকে আক্রমণ করতে গেছে তখন কামরান বলেছে আগ্রায় থেকে শের শাহের ধীর্ঘস্থায়ী অবরোধের জন্য প্রস্তুতি নিতে। আর এখন যখন হুমায়ূনের সৈন্য সংখ্যা অনেক কম এবং কাবুল থেকে আরো সৈন্য আসা পর্যন্ত হুমায়ূন অপেক্ষা করতে চাইছে তখন কামরান বলছে এখনই শের শাহকে আক্রমণের জন্য ছুটে যেতে।


গুপ্তচর খবর আনে শের শাহ তার সৈন্য নিয়ে এগিয়ে আসতে শুরু করেছে। তখন হুমায়ূন সময় লাভের জন্য চিঠি পাঠায় হয় শের শাহ হুমায়ূনের সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধে নামুক নইলে আপাতত যুদ্ধ বিরতি থাকুক। কিন্তু কদিন পরে শের শাহ উত্তর পাঠায় হুমায়ূন প্রস্তাব নাকোজ করে দিয়ে। সাথে আরো একটি চিঠি পাঠায় যেটা কামরান লিখেছিল শের শাহের কাছে। কামরান শের শাহকে প্রস্তাব পাঠায় পাঞ্জাব ও কাবুল কামরানকে ছেড়ে দিলে কামরান নিজ হাতে হুমায়ূনকে হত্যা করবে বা বন্দী করে পাঠাবে। শের শাহ সেই প্রস্তাবও নাকচ করেছে। ক্ষুব্ধ হুমায়ূন প্রহরীদের আদেশ দেয় কামরানকে ধরে আনতে। কিন্তু তারা সংবাদ আনে কামরান ও আকসারী সকালেই ঘোড়া নিয়ে প্রাসাদ ছেড়ে চলে গেছে আর তাদের মা গুলরুখও তার বোনের সাথে দেখা করার কথা বলে প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে গেছে।


শের শাহ লাহরে পৌঁছে খবর পাঠায় হুমায়ূন যদি লাহর ত্যাগ না করে তাহলে শের শাহ শহর ধ্বংস করে দিবে। হুমায়ূন নিজের বিপদ বুঝতে পেরে লাহর ছেড়ে চলে যেতে রাজি হয়। বাইসানগারকে কাবুলে পাঠিয়ে দেয় সেখানকার রাজ্যভার গ্রহণের জন্য আর হুমায়ূন  নিজে চলতে শুরু করে সিন্দ অভিমুখে। সেখানকার সুলতান মির্জা হুসেন হুমায়ূনের আত্মীয়। সেখানেই হুমায়ূন আশ্রয় নিবে। তার সাথে আছে হিন্দাল, খানজাদা আর সৎ বোন গুলবদন। মাত্র ১৫ হাজার সৈন্য আছে তাদের সাথে। অবশ্য হুমায়ূন তার কামানগুলি ভেলায় চাপিয়ে গোলন্দাজ সেনাপতির অধীনে মুলতানে তার জমা হওয়া সৈন্যদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে।



-------------------------------------------------------------- চলবে --------------------------------------------------------------

অ্যাম্পেয়ার অব দ্য মোঘল - ০১ : রাইডারস ফ্রম দ্য নর্থ (কাহিনী সংক্ষেপ) : পর্ব - ০১, পর্ব - ০২পর্ব - ০৩পর্ব - ০৪পর্ব - ০৫পর্ব - ০৬পর্ব - ০৭পর্ব - ০৮পর্ব - ০৯পর্ব - ১০


আমার লেখা অন্যান্য কাহিনী সংক্ষেপ সমূহ:
ভয়ংকর সুন্দর – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সবুজ দ্বীপের রাজা – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
পাহাড় চূড়ায় আতঙ্ক – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ভূপাল রহস্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
খালি জাহাজের রহস্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
মিশর রহস্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

তিতাস একটি নদীর নাম – অদ্বৈত মল্লবর্মণ

ফার ফ্রম দ্য ম্যাডিং ক্রাউড - টমাস হার্ডি

কালো বিড়াল - খসরু চৌধুরীর

মর্নিং স্টার - হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড
ক্লিওপেট্রা - হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড

১৯৭১ – হুমায়ূন আহমেদ
অচিনপুর – হুমায়ূন আহমেদ
অয়োময় – হুমায়ূন আহমেদ
অদ্ভুত সব গল্প – হুমায়ূন আহমেদ
অনীশ – হুমায়ূন আহমেদ
আজ আমি কোথাও যাব না – হুমায়ূন আহমেদ
আজ চিত্রার বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ
আজ দুপুরে তোমার নিমন্ত্রণ – হুমায়ূন আহমেদ
গৌরীপুর জংশন – হুমায়ূন আহমেদ
হরতন ইশকাপন – হুমায়ূন আহমেদ

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।