টপিকঃ জঙ্গি তৎপরতাসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধন

বাজারে নকল ও নিম্নমানের সেটের ছড়াছড়ি এবং জঙ্গি তৎপরতাসহ বিভিন্ন অপরাধ, মোবাইল হ্যান্ডসেট চুরি, ছিনতাই ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী দু’মাসের মধ্যেই শুরু হবে এ নিবন্ধন প্রক্রিয়া। এজন্য উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষকে লাইসেন্স প্রদান করা হবে। ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে বিটিআরসি মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমএনও), আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, কাস্টম ও এনবিআরের সঙ্গে সমন্বয় করে এই নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করবে সরকার। নিবন্ধণ চালু হলে মোবাইলের আইএমইআই নম্বর নির্দিষ্টকরণের ফলে সংশ্লিষ্ট নম্বরের হ্যান্ডসেট ছাড়া অন্য কোনো হ্যান্ডসেট ব্যবহার করা যাবে না। এই নিবন্ধনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে গত বছরে প্রণীত জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালার খসড়ায় বলা হয়েছিল নিরাপত্তা ঝুঁকি, চুরি ও অন্যান্য বিষয় যেমন মোবাইল হ্যান্ডসেটের পুনঃপ্রোগ্রামিং রোধে মোবাইল ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের একটি জাতীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। উল্লেখ্য, আইএমইআই নম্বরবিহীন মোবাইল ফোনসেট ব্যবহার রোধে ২০১২ সালের মার্চে ছয় মাসের মধ্যে নকল সেটের আইএমইআই নম্বর চিহ্নিত করার জন্য মোবাইল ফোন অপারেটরদের নির্দেশনা দেয়া হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। এ বছরের ২৫ জানুয়ারি ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে মোবাইল হ্যান্ডসেটের ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুইপমেন্ট আইডেনটিটি (আইএমইআই) ডাটাবেস তৈরি ও সংরক্ষণের জন্য বিটিআরসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত আইএমইআই নম্বর হলো ১৫ ডিজিটের একটি স্বতন্ত্র সংখ্যা, যা বৈধ মোবাইল ফোনসেটে থাকে। একটি মোবাইল ফোনের কি-প্যাডে *#০৬# পরপর চাপলে ওই ফোনের বিশেষ এই শনাক্তকরণ নম্বর পর্দায় ভেসে ওঠে, যা নকল হ্যান্ডসেটে থাকে না। নিবন্ধন চালু হলে ব্যবহৃত মোবাইল সেটগুলোকে ৫০ টাকার বিনিময়ে আইএমইআই নম্বর দেবে বিটিআরসি। বর্তমানে এ দেশে বছরে গড়ে আনুমানিক প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি করা হয়। অবৈধভাবে এসব সেট আমদানি হওয়াতে সরকার বছরে আনুমানিক ৮০০ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবৈধভাবে আমদানি করা মোবাইল হ্যান্ডসেটগুলো নানাবিধ আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ যেমন—জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হচ্ছে এবং সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেগ পেতে হচ্ছে। সরকারের এতদসংক্রান্ত পরিকল্পিত পদক্ষেপ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে অবৈধভাবে মোবাইল হ্যান্ডসেটের অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে। মোবাইল হ্যান্ডসেটের চুরিও প্রতিরোধ করা যাবে। কেননা চুরি হওয়া হ্যান্ডসেট টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি অপ্রয়োজনীয় বস্তুতে পরিণত হবে এবং তা পুনরুদ্ধার সহজতর হবে। চুরি যাওয়া সেটের বিবরণ আলাদাভাবে ডাটাবেইসে সংরক্ষিত থাকবে এবং অপারেটরদের ইআইআর (ইক্যুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার) ব্যবহার করে অ্যাকসেস কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে চুরি হওয়া সেটের ব্যবহার ঠেকানো যাবে।