টপিকঃ এখনও মাত্র ১৬টি কেন?

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর থেকেই অতীতের নানা কুশাসনে বিপর্যস্ত হয়ে ধুঁকতে থাকা এ দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও মূল্যবোধকে পুনরুজ্জীবিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই দেশে গণতন্ত্র আজ একটি দৃঢ় ভিতের উপরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সরকার সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। আর নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা প্রমাণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে গত ১৬ জুলাই ২০১৭ তারিখে ৭টি করণীয় নির্ধারণ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা করে। এই ৭টি করণীয় বিষয় হলো আইনি কাঠামোসমূহ পর্যালোচনা ও সংস্কার, কর্মপরিকল্পনার উপর পরামর্শ গ্রহণ, সংসদীয় এলাকার নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুতকরণ এবং বিতরণ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা এবং  নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সকলের সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দেশের ৪০টি রাজনৈতিক দলের সাথে এই সাতটি বিষয়ে আগামী ৩১ জুলাই ১৭ থেকে অক্টোবর ১৭ পর্যন্ত সংলাপের কর্মসূচিও গ্রহণ করেছে ইসি। শুধু এটিই নয়, গত ১২ জুলাই ১৭ তারিখের মধ্যে নিবন্ধিত দলগুলোর কাছে ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে একজনের নাম-ঠিকানা চেয়েছেন। দলগুলোকে ১৭ জুলাই ১৭ বুধবারের মধ্যে নাম-ঠিকানা দিতে বলা হলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত কেবল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুই দলের তথ্যই ইসির হাতে এসেছে। এছাড়াও গত ১৩ জুন ১৭ তারিখ ৪০টি দলের কাছে সংগঠনের সব স্তরে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পূরণের অগ্রগতির বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছিল ইসি। তবে ১৮ জুলাই ২০১৭ মঙ্গলবার পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, খেলাফত মজলিস, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা, কল্যাণ পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাকের পার্টি, জাতীয় পার্টি-জেপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-জেপি ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, এই ১৬টি দল তাদের অগ্রগতি জানিয়েছে। দলগুলো ২০২০ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর এই প্রতিক্রিয়া ইসির কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। তবে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর উপলব্ধিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের এখনই মাহেন্দ্রক্ষণ। তাদেরকে শুধু মুখের কথায় নয়, কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তার সফল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে। কেননা দেশের গণতন্ত্রকে একটি দৃঢ় ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত করার দায় শুধু ক্ষমতাসীন দল কিংবা সরকারের নয়, এ দায় সকলের। সকলের সম্মিলিত প্রয়াস আর সহযোগিতাতেই বিকশিত হতে পারে একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। তাই দল-মত নির্বিশেষে, ব্যক্তি-গোষ্ঠী-দলীয় স্বার্থের সংকীর্ণতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে দেশের সার্বিক গণতান্ত্রিক পরিবেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির প্রয়োজনে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের গণতন্ত্রের ইতিবাচক ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনায় যে ১৬টি রাজনৈতিক দল ইসির আহ্বানে সাড়া দিয়েছে তাদরকে সাধুবাদ। এখন অন্যদেরও উচিত অনতিবিলম্বে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। সকলকে মনে রাখতে হবে, অনেক ত্যাগের বিনিয়মে অর্জিত গণতন্ত্রের পথে অভিযাত্রা তথা স্বাধীনতার সুফল ভোগ করা থেকে জনতাকে বঞ্চিত করার যে কোন অপপ্রয়াস এ দেশের সচেতন জনতা প্রতিহত করবেই। অনেক চড়াই-উৎড়াই পাড়ি দেয়া গণতন্ত্রের পথে চলমান অভিযাত্রায় সঙ্গী হতে না পারলে দেশের যে কোন রাজনৈতিক দলের জন্যই বর্তমান অর্জন অর্থহীন হওয়ার মধ্যে ফলাফল সীমিত থাকবে না – তাদের দলীয় ইমেজের অনাগত ভবিষ্যতও অনিশ্চিত হয়ে যাবে। তাই দেশের সকল সচেতন নাগরিকের এখন এক অনন্য উপলব্ধি – ইসির আহ্বানে সাড়া দেয়া দলের সংখ্যা এখনও মাত্র ১৬টি কেন? ৪০টি নয় কেন? আদৌ সেটা ৪০টি হবে কি? কোন দল যদি একগুঁয়েমি আর অদূরদর্শীতার কারণে অতীত হটকারিতার ধারাবাহিকতায় এবারও এই সম্মিলিত প্রয়াস থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে তবে এ দেশের মূলধারার রাজনীতি থেকে চির নির্বাসন দন্ডপ্রাপ্তির মাধ্যমে এর দায় মেটাবে – এ কোনো সম্ভাবনার কথা নয়, এক অনিবার্য পরিণতির আগাম বার্তা। তবে সময়ই বলে দিবে, ঐ চিহ্নিত অপশক্তিগুলি শুভবুদ্ধির জাগরণে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় শামিল হয়ে অস্তিত্ব রক্ষায় সচেষ্ট হবে – নাকি এ দেশের গণমানুষের কাছে কৃত অতীত পাপের দায় মেটাতে হটকারিতার পৌনঃপুনিকতায় নিজেদের বিস্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে দিবে।

Re: এখনও মাত্র ১৬টি কেন?

এই ক্রিকেট খেলায়, নিজেই দলের প্লেয়ার, নিজেই এমপেয়ার, নিয়েই থার্ড এমপেয়ার , নিজেরাই অফিশিয়াল , এই যদি হয় তবে অপরদল জিতবে কি হারবে , এটা জানার জন্য খেলার ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না

নিজে শিক্ষিত হলে হবে না- প্রথমে বিবেকটাকে শিক্ষিত করতে হবে