টপিকঃ সম্পর্কের নব দিগন্ত

শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের প্রতিবেশী একটি দেশ। দীর্ঘ সময় ধরেই দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বিরাজমান। উভয় দেশই দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্কের সদস্য। সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক দিক থেকেও উভয় দেশের রয়েছে অভিন্ন ঐতিহ্য। বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনার তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বলা যায়, উভয় দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে চলেছে। ইতোমধ্যে ৩৫ দফা যৌথ ঘোষণা প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বছরেই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হলে তা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, এটা নিঃসংশয়ে বলা যায়। শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশেও চাহিদা রয়েছে সে দেশের পণ্যের। তাই সঙ্গত কারণে মুক্তবাজার চুক্তির মধ্য দিয়ে শুল্কসহ সব বাধা দূর হবে, যা হবে উভয় দেশের জন্যই সুবিধাজনক। আর এটিই হবে কোন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। নিঃসন্দেহে এটি সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচন। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যে গতি ও প্রসার আসবে। এতে লাভবান হবে উভয় দেশই। বলা বাহুল্য, আন্তর্জাতিক বা বিশ্ববাণিজ্য বর্তমানে নানা ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করছে। সেখানে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য এগিয়ে নেয়ার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, জঙ্গী ও উগ্রবাদ এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এক্ষেত্রে উভয় দেশের পক্ষ থেকে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ‘উইন উইন’ অংশীদারিত্বে নেবে উভয় দেশ। তবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের অভাব থাকা সত্বেও বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ও সহযোগিতা যথেষ্ট বেগবান। এখন সেই কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ গ্রহণের ফলে সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। মতৈক্য হয়েছে যে, চুক্তির খুঁটিনাটি কাজগুলো যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা হবে। এ কারণে দুই দেশের কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের যাতায়াতে ভিসা অব্যাহতি সংক্রান্ত একটি চুক্তিও সই হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যে ১৪টি দলিল সই হয়েছে, তার সাতটিই হচ্ছে কৃষি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যবিষয়ক। তার মধ্যে আছে কৃষি খাতে সহযোগিতা, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) ও ইনভেস্টমেন্ট অব শ্রীলঙ্কার মধ্যে সমঝোতা স্মারক, দুই দেশের স্ট্যান্ডার্ডস এ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, দুই দেশের শিপিং কর্পোরেশনের মধ্যে সহযোগিতা, দুই দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংকের মধ্যে সহযোগিতা, এ্যাপারেলস এ্যান্ড টেক্সটাইল ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতাসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক। আমরা জানি, চুক্তি বা সমঝোতা শেষ কথা নয়, এটি হচ্ছে সূচনা। চুক্তির বাস্তবায়নই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সরকারি পর্যায়ে নয়, বেসরকারি পর্যায়েও দুই দেশের যোগাযোগ বাড়ানো জরুরী। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়লে সম্প্রীতির সম্পর্ক আরও গভীর হবে। সেজন্য সাংস্কৃতিক আদান প্রদান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দুই দেশের নেতা উপ-আঞ্চলিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রক্রিয়া গভীরতর করার ব্যাপারেও একমত হন। বিমসটেক ও সার্কের আওতায় কাজ করার ওপরও উভয়ে গুরুত্ব দেন। সার্কের বর্তমান অচলাবস্থার অবসান ঘটানো এবং সেটিকে গতিশীল করতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করলে শুধু সংশ্লিষ্ট দুটি দেশই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশই উপকৃত হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বপরিমন্ডলে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।