টপিকঃ দুদক হটলাইন- ১০৬, দুর্নীতি হলেই অভিযোগ

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে যুগ-উপযোগী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্নীতি দমন কমিশন কলসেন্টার বা হটলাইন সেবা চালু করতে যাচ্ছে। যখনই দুর্নীতির ঘটনা, তখনই অভিযোগ এমন সুবিধা নিয়ে চালু হতে যাচ্ছে হটলাইন সেবা ১০৬। চলতি মাসেই যাত্রা শুরু হচ্ছে এই হটলাইনের। এরই মধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন থেকে নেওয়া হয়েছে হটলাইন নম্বর ‘১০৬’। অভিযোগকারী এই নম্বরে যেকোনো অপারেটর থেকে সার্ভিস চার্জ ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট অপরাধের সরাসরি অভিযোগ করতে পারবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনি পরামর্শ নিতে পারবে। ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় চলছে এই কলসেন্টার স্থাপনের কাজ। প্রায় ১৩ সদস্যের জনবল নিয়ে কলসেন্টারের যাত্রা শুরু হবে। সার্বক্ষণিক কল রিসিভ করতে সহকারী পরিচালক ও উপ-সহকারী পরিচালক পদমর্যাদার চার থেকে পাঁচ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবে। দুদক হটলাইন চালু হলে জনগণ অবশ্যই উপকৃত হবে। নতুন হটলাইনে চাইলেই দুর্নীতির স্বীকার যে কেউ মোবাইলে বা ফোনে অভিযোগ দিয়ে এ সংশ্লিষ্ট যে কোনো সেবা গ্রহণ করতে পারবে। আশা করা যাচ্ছে কলসেন্টার চালু হলে জনগণ দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে আরো এগিয়ে আসবে। জনগণকে দুদকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রদানে উৎসাহিত করতে হটলাইন নম্বরসহ বড় আকারে ১০ হাজার স্টিকার ছাপানো হবে। যা সরকারি বিভিন্ন অফিসের সামনে বিলবোর্ড আকারে রাখা হবে। এতেকরে যে সরকারি অফিসে সেবাগ্রহিতা বা ভুক্তভোগীরা দুর্নীতি ও অনিয়মের স্বীকার হবেন সেখানে বসেই দুদকের হটলাইনে অভিযোগ করে তাৎক্ষণিক সেবা গ্রহণ করতে পারবে। অর্থ্যাৎ যখনই দুর্নীতির ঘটনা তখনই অভিযোগ। এতে দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। এই কলসেন্টারে প্রাথমিকভাবে ন্যূনতম চার থেকে পাঁচজন প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা দ্বারা কলসেন্টার পরিচালনা করা হবে। কলসেন্টারে নিযুক্ত কর্মীবৃন্দ দেশের যে কোন প্রান্ত হতে দুর্নীতি সংক্রান্ত যে কোন কল গ্রহণ করার পর তাৎক্ষণিকভাবে সফটওয়্যার ডেটাবেইজে তথ্য লিপিবদ্ধ করবে। কলসেন্টার কর্মীর জন্য ১০টি ডেস্কটপ কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক প্রিন্টার, ভয়েস রেকর্ডার, নয়েজ রিডাকশন হেডসেট, সার্ভারের সাথে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক কানেকশন থাকবে। থাকবে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা। অভিযোগকারীর যে সব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান দেয়া সম্ভব হবে না সেক্ষেত্রে কলসেন্টার কর্মী সরাসরি ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আর ওই ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হবেন উপপরিচালক কিংবা পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা। কলসেন্টারের সফটওয়্যারের প্রথম অংশে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমের আওতায় বেশ কিছু তথ্য যে কোন অভিযোগকারীর কল করার সাথে সাথেই চলে আসবে। এসব তথ্য নিশ্চিত করতে ও টোল ফ্রি শর্টকোড বরাদ্দের জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন, বিটিসিএল, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেলসহ সব মোবাইল অপারেটরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুদকের এই হটলাইন ১০৬ সেবা চালু হলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসবে এবং দুর্নীতি দমনে নতুন মাইল ফলক যুক্ত করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।