টপিকঃ নেপালে বাংলাদেশের বাজার চাহিদা ও সম্ভাবনা বিস্তৃত হচ্ছে

প্রতিবেশী দেশ নেপালের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ লেনদেন আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে আছে।  নেপালে বাংলাদেশের পণ্যসামগ্রী রফতানি আয় বেড়েই চলেছে। আর হ্রাস পাচ্ছে আমদানি। উভয় দেশের সরকারের ব্যবসা-বান্ধব নীতি বিশেষ করে ঢাকার কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধিসহ দূরদর্শী কিছু পদক্ষেপের ফলে নেপালের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাংলাদেশের অনুকূলে শুধুই আসেনি; বরং বাণিজ্যের সূচকগুলো ঊর্ধ্বগামী। তবে দেশটিতে বাংলাদেশের উৎপাদিত হরেক ধরনের ভোগ্যপণ্য, খাদ্যদ্রব্য, সৌখিন, গৃহস্থালী পণ্য ও নির্মাণ সামগ্রীর প্রকৃত বাজার চাহিদা রয়েছে আরও ব্যাপক-বিস্তৃত। সুযোগ রয়েছে রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের। পণ্যসামগ্রী আমদানিতে নেপাল একচেটিয়া ভারত-নির্ভরতা (৬৩ শতাংশ) কাটিয়ে উঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলেও দেশটিতে বাংলাদেশের বাজার চাহিদা ও সম্ভাবনা বিস্তৃত হচ্ছে। তবে সেই চাহিদার তুলনায় রফতানি বাজার এখনও সীমিত রয়ে গেছে। নেপাল বন্দর সুবিধা-বঞ্চিত ভূমি পরিবেষ্টিত (ল্যান্ড লক্ড) দেশ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারিত হতে পারে। বন্দর ব্যবহার করে নেপালে অনেক পণ্য পুনঃরফতানিও হতে পারে। গত কয়েক বছরের দ্বিপক্ষিক বাণিজ্যের হিসাব অনুযায়ী নেপালে বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতবছর ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে নেপালে রফতানি বাবদ মোট আয় হয়েছে ৩৮৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আর আমদানি হয়েছে ১০৭ কোটি ৭ লাখ টাকা মূল্যের। এরআগে ২০১৫ সালে নেপালে রফতানিতে আয় আসে ২০১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং আমদানি হয় ১৫৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের। ২০১৪ সালে নেপালে রফতানি হয়েছে ১৫৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকার পণ্য এবং আমদানি করা হয় ১৬১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য। বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য, সিরামিকস সামগ্রী, ওষুধ, আসবাবপত্র, সাবান, মেলামাইন, হোম টেক্সটাইল, আসবাবপত্র, পোশাক সামগ্রী প্রভৃতি নেপালে রফতানি হচ্ছে। নেপাল থেকে আমদানি হচ্ছে ডাল, মসলাসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার বাণিজ্যিক পরিধি বাড়ানোর জন্য দু’দেশ অধিকসংখ্যক শুল্কমুক্ত পণ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে সহায়ক পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে হলে প্রথম দরকার নেপালের সাথে কানেকটিভিটি বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে প্রস্তাবিত চার দেশীয় (ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভূটান) সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার হলে হলে রফতানি আরও প্রসারিত হবে। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়িয়ে নেপালকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ালে দুই দেশের টেকসই উন্নয়ন হবে বলে আশা করা যায়।