টপিকঃ শনির চাঁদে প্রাণের সম্ভাবনা- বলছে নাসা

শনির বরফাবৃত চাঁদ এনসেলাডাসে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছেন নাসার গবেষকেরা। পৃথিবীতে গভীর সাগরে প্রাণ টিকে থাকার জন্য যেমন পরিবেশ দরকার তেমন পরিবেশ এনসেলাডাসের সাগরেও ঘটতে পারে বলে তারা ধারণা করেন।এই তথ্য জানানো হয় সম্প্রতি সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায়। প্রাণ টিকে থাকার জন্য কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়া জরুরী যারা হাইড্রোজেন অণুর উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। এই হাইড্রোজেন সম্ভবত এনসেলাডাসের সাগরের উত্তপ্ত পানি এবং পাথরের মাঝে বিক্রিয়া থেকে অনবরত উৎপন্ন হচ্ছে। হাইড্রোজেনের এই সহজলভ্যতা এবং পূর্বে পাওয়া কার্বোনেটের উপস্থিতি থেকে ধারণা করা যায় এনসেলাডাসে রয়েছে প্রাণ টিকিয়ে রাখার মত কোনো একটি রাসায়নিক শক্তির উৎস, জানান জেফ্রি সিওয়াল্ড। তিনি এই গবেষণার সাথে জড়িত ছিলেন না, তবে এ নিয়ে একটি রচনা লেখেন সায়েন্স জার্নালের একই পর্বে।৩১৩ মাইল চওড়া এনসেলাডাস শনির চাঁদগুলোর মাঝে ষষ্ঠ বৃহত্তম। কিন্তু অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্টদের চিন্তায় সে রয়েছে ২০০৫ সাল থেকেই। সেই বছরে শনিকে প্রদক্ষিণ করতে থাকা নাসার ক্যাসিনি মহাকাশযান এনসেলাডাসের দক্ষিণ মেরু থেকে বরফপানির ফোয়ারা উঠতে দেখে। গবেষকেরা ধারণা করেন, এই চাঁদের জমাট পৃষ্ঠের নিচে থাকা বিশাল এক সাগর থেকে উঠে আসছে পানির এই ফোয়ারা। হ্যাঁ, পানি আছে এনসেলাডাসে, যাকে প্রাণের উপস্থিতির অন্যতম এক শর্ত বলেই জানি আমরা। আর এই নতুন গবেষণা বলছে এর পাশাপাশি সেখানে একটি শক্তির উৎসঅ থাকতে পারেন। সান অ্যান্টনিওর সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (SwRI) গবেষক হান্টার ওয়েইট এবং তার দল অক্টোবর ২০১৫ এ ক্যাসিনির পর্যবেক্ষণ করা তথ্য বিশ্লেষণ করেন। ক্যাসিনি এ সময়ে একটি ফোয়ারার ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে। এনসেলাডাসের পৃষ্ঠের ৩০ মাইল দূরত্ব পর্যন্ত সে যেতে পারে। এ সময়ে ক্যাসিনির আয়ন অ্যান্ড নিউট্রাল মাস স্পেকট্রোমিটার ব্যবহার করা হয় এই ফোয়ারায় হাইড্রোজেনের পরিমাণ মাপার জন্য। দেখা যায়, এই ফোয়ারার আয়তনের ০.৪ থেকে ১.৪ শতাংশ ছিল হাইড্রোজেন। ফোয়ারার ০.৩ থেকে ০.৮ শতাংশ ছিল কার্বন ডাই অক্সাইড।গবেষণা থেকে তারা ধারণা করেন এনসেলাডাসের ভেতরে উত্তপ্ত পানি ও পাথরের মাঝে বিক্রিয়ায় তৈরি হচ্ছে এই হাইড্রোজেন। অন্যান্য সম্ভাব্য তত্ত্ব বিশ্লেষণ করার পর এই সম্ভাবনাটাই তাদের কাছে সবচাইতে যুক্তিযুক্ত মনে হয়। ২০১৬ সালে আরেকটি গবেষক দলের কিছু তথ্যের সাথেও এই তত্ত্ব সঙ্গতিপূর্ণ। তারা বলেছিল ক্যাসিনির শনাক্ত করা ক্ষুদ্র সিলিকার কণা শুধুমাত্র গভীর জলে উত্তাপের মাঝেই তৈরি হওয়া সম্ভব। গভীর জলে উত্তপ্ত পরিবেশে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষকেরা এত উৎসাহিত কেন? কারন পৃথিবীর ডিপ-সি হাইড্রোথার্মাল ভেন্টগুলো প্রচুর পরিমাণে জীবনের শক্তি যোগায়। এসব জায়গায় বেশীরভাগ মেটাবলিজম হয় মিথেনোজেনেসিস ধরণের। এক্ষেত্রে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং হাইড্রোজেনের বিজারণে তৈরি হয় মিথেন। এই গবেষণায় ধারণা করা হচ্ছে এনসেলাডাসেও একই ধরণের বিক্রিয়া ঘটছে।তবে এসবই এখনো ধারণা। আসলেই এনসেলাডাসে এই বিক্রিয়া ঘটছে কিনা তা জানার উপায় নেই। আর এখানে প্রাণ আছেই, জোর দিয়ে সেটাও বলা যাচ্ছে না। এর জন্য দরকার শক্ত প্রমাণ এবং আরও অনেক তথ্য।সুত্র: লাইভ সায়েন্স