টপিকঃ শিক্ষার উদ্দেশ্য কি?

ভাল শিক্ষা ভাল মানুষ, এটাই স্বাভাবিক। মুক্ত চিন্তার মানুষ সব সময় স্বাধীন। আর শিক্ষাই মানুষকে মুক্তি এবং স্বাধীনতা এনে দেয়। শিক্ষার আসল সৌন্দর্য হচ্ছে, ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে দেশীয় ও সামাজিক জীবন আলোয় ভরিয়ে তোলা। শিক্ষার সংস্পর্শে মানুষের মন জরাজীর্ণতা, কালিমা, বন্দিত্ব ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত হয়। শিক্ষা লাভ মানুষ বিভিন্নভাবে করতে পারে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই সাধারণত পাঠ্যসূচীভিত্তিক শিক্ষা লাভ করে। আর উচ্চ শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ই দেশের প্রথম সারির নাগরিক গড়ে তোলে। দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে শিক্ষা লাভের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অবশ্যই অনস্বীকার্য। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা সে তুলনায় বাড়ছে না বললেই চলে। স্কুল, কলেজের পড়া সমাপ্ত করে শিক্ষার্থীকে তো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে। তাই শিক্ষার্থীর চাহিদানুযায়ী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও দিন দিন বেড়েই চলেছে। অবশ্যই আশাপ্রদ সংবাদ। নয়তো বহু শিক্ষার্থী শিক্ষার পাঠ চুকিয়ে হয়তো কাজে নেমে পড়ত। উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারত অগণিত শিক্ষার্থী। তবে এ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কতটুকু মানসম্পন্ন কার্যকরী শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে- তা গবেষণার বিষয়। শহরের অলিতে গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠছে ঠিকই। মুনাফালোভীরা সরলমনা শিক্ষার্থীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ঠিকই বড় মাপের মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে যে মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত দিক থাকার কথা তার কানাকড়িও নেই। সরকার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে নীতিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন তা অনুসরণ করলে শিক্ষার মান নিশ্চিত হত। ঢাকা শহরের মতো দেশের বিভিন্ন জেলা শহরগুলোতে ইদানীং রাস্তার মোড়ে, দেয়ালে এমনকি বিলবোর্ড ভাড়া করেও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানার, প্লাকার্ড ও বিজ্ঞাপন টাঙ্গানোর চিত্র দেখা যায়। দেশে অবশ্যই বহু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। ক্লাসরুমগুলোতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্লাস প্রদান করছে। কিন্তু তেমন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা নগণ্য। এর বিপরীত চিত্রও অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। দেখা যায় অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিকমতো ক্লাস হচ্ছে না। বরং শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত ছাড়াই শিক্ষাবর্ষ সমাপ্ত করে পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সার্টিফিকেট লাভ করা যেন সহজ হয়ে পড়ছে। কি জ্ঞান অর্জন করলাম তা মুখ্য নয়; বরং যেনতেনভাবে ভাল একটা সার্টিফিকেট লাভ করতে পারলেই হলো। বর্তমানে এমন একটি মনোভাব গড়ে উঠছে, চাকরি পাবার ক্ষেত্রে শিক্ষার আসল যে উদ্দেশ্য ভাল ও যোগ্য মানুষ হওয়া; তার প্রয়োজন নেই বরং সার্টিফিকেটই প্রধান। তাই অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যারা নামে মাত্র শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে অর্থের বিনিময়ে সার্টিফিকেট প্রদান করাকেই মুখ্য হিসেবে দেখে থাকে। লজ্জার মাথা খাই, শিক্ষা ও কার্য ক্ষেত্রেও যত দুর্নীতি! সব কিছুর উর্দ্ধে আমাদের যুব সমাজকে মানুষের মত মানুষ হতে হবে। এটাই আমাদের কাম্য হওয়া উচিৎ।