টপিকঃ কদর বেড়েছে অনলাইন সাংবাদিকতার

সংবাদপত্র বিলীন হয়ে যাওয়ার এই উদ্বেগের কারণ নয়া যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষত অনলাইন সাংবাদিকতার বিস্ফোরণ। সংবাদ পরিবেশনায় দ্রুত গতি, স্বল্প ব্যয় এবং মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের কারণে ইন্টারনেটভিত্তিক সাংবাদিকতা এগিয়ে যাচ্ছে অবিশ্বাস্য রকমের দ্রুত গতিতে। প্রথম দিকে সনাতন বা কাগুজি সাংবাদিকতার ইন্টারনেটভিত্তিক প্রকাশকে অনলাইন সাংবাদিকতা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর সংজ্ঞা, পরিসীমা ও ব্যাকরণ পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। আজ যাকে ইন্টারনেট সাংবাদিকতা বলা হচ্ছে কালই তাকে নতুন নামে সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে। এগিয়ে যাচ্ছে অনলাইন সাংবাদিকতা, কাগুজে সাংবাদিকতার চেয়ে অনলাইন সাংবাদিকতা এগিয়ে যাওয়ার কারণকে কয়েকটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়। অনলাইন সাংবাদিকতাকে বলা হচ্ছে তাৎক্ষণিক সাংবাদিকতা। এখানে পাঠককে সংবাদ জানানোর জন্য পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। যখনই ঘটনা সংবাদে রূপ নিচ্ছে, তখনই তা পোস্ট হয়ে যাচ্ছে নিউজ সাইটে। এ কারণে অনলাইন সাংবাদিকতাকে ‘ইনস্ট্যান্ট জার্নালিজম’ও বলা হয়। কিন্তু কাগুজে সাংবাদিকতায় এটি সম্ভব নয়। যখন ঘটনা ঘটে তার একদিন পরে প্রকাশিত হয় সংবাদপত্র। তাই পত্রিকার সাংবাদিকদের জন্য ডেডলাইনের চাপ খুব একটা থাকে না। ঘটনা যখনই ঘটুক না কেন সন্ধ্যায় সংবাদটি অফিসে গিয়ে জমা দিলেই কাজ শেষ। টেলিভিশনের ক্ষেত্রেও ডেডলাইন মেনে চলা হয়। টেলিভিশনে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার খবর ঠিক সাড়ে সাতটায় সম্প্রচারিত হবে। তাই এই সময়ের আগে জমা দেওয়া সংবাদগুলো সাড়ে সাতটার বুলেটিনে যাবে। এর আগে যাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু অনলাইন সাংবাদিকতা এদিক দিয়ে পুরোপুরি ভিন্ন। কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই অনলাইনের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট সাইটে তা পোস্ট করা হয়। ফলে এ ধরনের সাংবাদিকতার কদর বাড়ছে দিন দিন। সংবাদপত্রে তথ্যের হালনাগাদ করা হয় বিভিন্ন সংস্করণের মাধ্যমে। বাংলাদেশে কোনো কোনো পত্রিকা প্রথম, দ্বিতীয় এমনকি তৃতীয় সংস্করণ পর্যন্ত বের করা হয়। এর বাইরে চলে গেলে তারা সাধারণত তথ্যের হালনাগাদ করতে পারে না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে পত্রিকায় হালনাগাদ করতে অনেক অর্থ এবং লোকবলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনলাইন সাংবাদিকতায় অর্থ এবং লোকবল ছাড়াই দ্রুত তা হালনাগাদ করা যায়। সংবাদপত্রে কোনো বড় ঘটনার ক্ষেত্রে একটি বড় স্টোরির পাশাপাশি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কয়েকটি ছোট স্টোরি করা হয়। সেই সঙ্গে ছবি এবং গ্রাফিক্সের মাধ্যমে পাঠককে পুরো ঘটনা জানানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অনলাইন সাংবাদিকতায় প্রত্যেকটি সংবাদই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এখানে বড় কিংবা ছোট স্টোরি বলতে কোনো কথা নেই। সব ধরনের স্টোরিই জুড়ে দেওয়া হয় হাইপার লিংকে। দর্শক-শ্রোতা যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করেই ঘটনাসংশ্লিষ্ট সব ধরনের তথ্য পেতে পারে। অনলাইনে সংবাদের পাশাপাশি ছবি, ভিডিও এবং অডিও ইত্যাদি হাইপার লিংক আকারে দেওয়া হয় যা প্রিন্ট মিডিয়ায় সম্ভব নয়। কাগুজে পত্রিকায় স্থানের সীমাবদ্ধতা আছে। একদিনের পত্রিকায় কখনোই সব ধরনের তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব নয়। সংবাদপত্রের একটা শারীরিক অবয়ব আছে। কিন্তু অনলাইনের ক্ষেত্রে এরকম কোনো শারীরিক অবয়ব নেই। এটি মনিটরের আকারের উপর নির্ভর করে। পত্রিকার সংবাদ বাহন হচ্ছে হকার। কিন্তু অনলাইনে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ডেস্কটপ ইত্যাদির স্ক্রিন সংবাদ বাহন হিসেবে কাজ করে।

Re: কদর বেড়েছে অনলাইন সাংবাদিকতার

লিখার জন্য অভিনন্দন গ্রহন করুন।
এক্ষেত্রে কিন্তু সংবাদের মানের একটা প্রশ্ন থেকে যায় যদি সংবাদের যথাযথ নজরদারি না থাকে।
যাই হোক, আমাকে কি আপনি কিছু মানসম্পন্ন বাংলা অনলাইন সংবাদপত্র প্রকশিত হয় এমন কোন ওয়েবসাইটের ঠিকানা দিতে পারবেন?

মিনহাজ আহমদ শোভন; সাধারন একটা ছেলে, যার চোখে মাঝে মাঝে সাধারন কিছু ব্যাপার অসাধারণ ঠেকে, আবার অসাধারণ কিছুকে খুবই সাধারন। তুচ্ছ ব্যাপারে কথা বলি। সৃষ্টিকর্তা বোধহয় আলস্য নামক গুনটা আমার মাঝে একটু বেশি মাত্রায় দিয়েছিলেন।

Re: কদর বেড়েছে অনলাইন সাংবাদিকতার

শোভনের শোভন লিখেছেন:

আমাকে কি আপনি কিছু মানসম্পন্ন বাংলা অনলাইন সংবাদপত্র প্রকশিত হয় এমন কোন ওয়েবসাইটের ঠিকানা দিতে পারবেন?

https://news.google.com.bd/#0

hard to hate but tough to love