টপিকঃ সেবাই হোক আদর্শ

সামাজিক অধিকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা আর সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে অপরিহার্য মেধা ও শিক্ষার বিস্তার। এই উপলব্ধিতে উজ্জীবিত চট্টগ্রামের বায়েজীদ থানার হাশেমী নগর, কুলগাঁও ফকিরাবাদ এলাকায় কয়েকজন মেধাবী আর উদ্যমী তরুণের হাত ধরে গড়ে উঠেছে জিনিয়াস স্টুডেন্ট ফোরাম। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা আর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর সমাজ উপহার     
দেয়ার লক্ষ্যে এই সংগঠনটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এর মধ্যে অন্যতম। স্কুলের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীরাই তাদের নিজেদের ব্লাড গ্রুপ জানে না, নিজেদের ব্লাড গ্রুপ জানলে তারা রক্ত দিতে আগ্রহী হবে - এমন ভাবনা থেকেই বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ এবং রক্তদান করে আসছে জিনিয়াস স্টুডেন্ট ফোরাম। আজ পর্যন্ত ২৩০০ জনকে স্বেচ্ছায় বিনামূল্যে রক্ত দানের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে একটি জিএসএফ পরিবার। রক্ত দেয়ার উপকারিতা সম্পর্কে অনেক সেমিনার আয়োজনের পাশাপাশি এরই মধ্যে ৩৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩০০০ ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্প করেছে জিএসএফ পরিবার। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জিনিয়াস স্টুডেন্ট ফোরাম ক্যাম্প করেছে সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে এ সামাজিক কার্যক্রমে। কারও কাছ থেকে কোন প্রকার আর্থিক সাহায্য না নিয়ে জিএসএফের সদস্যদের নিজেদের টিফিনের টাকায় নিয়মিত চলছে এই ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্প। এই ফোরামের সদস্যরা সরাসরি রোগীর কাছে গিয়ে ব্লাড ডোনেট করায় তাদের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে খানিকটা আলাদা মাত্রা। কারণ বাংলাদেশে অধিকাংশ ব্লাড ডোনেট সংগঠনই ব্লাড ব্যাংকের সহযোগিতায় রক্ত প্রদান করে থাকে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও রক্ত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার বিষয়ক জ্ঞানের অপরিহার্যতা বিবেচনায় তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সেমিনার করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের তথ্যপ্রযুক্তির মৌলিক ধারণা দিয়ে আসছে জিনিয়াস স্টুডেন্ট ফোরাম। এ পর্যন্ত ১৯টি স্কুলে সফলতার সঙ্গে এ বিষয়ক সেমিনার করেছে সংগঠনটি। এসব কার্যক্রমে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছেন অভিভাবকরাও। দেশের সব সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান যদি এই তরুণদের মতো সেবার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ইতিবাচক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে কাজ করত, তাহলে শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারত। নিশ্চিত সার্বিক সামাজিক উন্নয়ন, এমনকি সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতিও বৃদ্ধি পেত। তরুণ প্রজন্মই সমাজের মূল চালিকা শক্তি। তারা যদি অধিকহারে এ ধরণের সেবার আদর্শে অনুপ্রাণিত সামাজিক সংগঠন তৈরি করে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ   করে তবে সামাজিক উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তখন রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ছাড়াই স্থানীয় উদ্যোগে দেশের প্রতিটি এলাকা বা গ্রামকে আদর্শ এলাকা বা গ্রামে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে। তাই দেশের তরুণদের উচিৎ পদ-পদবির লোভ বিসর্জন দিয়ে, সত্যিকার উন্নয়নমূলক কাজের সংকল্প নিয়ে সংগঠন করা। সেটা করতে পারলেই সম্ভব হবে সমাজের উন্নয়ন, নিজের এলাকা বা গ্রামকে আদর্শ এলাকা বা গ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। আর তাহলেই দেশের সাধারণ মানুষও সম্মানের সঙ্গে সবসময় স্মরণ করবে তরুণদের প্রচেষ্টাকে। সেবাই হোক তারুণদের আদর্শ।

Re: সেবাই হোক আদর্শ

আপনার লজ্জা নাই কেন? বেকুব কোথাকার!

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শুভ১৭১ (১৫-০১-২০১৭ ০৯:৩২)

Re: সেবাই হোক আদর্শ

উদাসীন লিখেছেন:

আপনার লজ্জা নাই কেন? বেকুব কোথাকার!

উদাসীন ভাই, শুধু এদের দোষ ধরলে হবে না। নিচের ছবিটি দেখুন:

http://i66.tinypic.com/66b62a.png

এখানে সাম্প্রতিক আলোচিত  hairpull টপিকের মধ্যে দেখুন, সেখানে দিনা, শম্পা, হিমেল পরশ, আরমান খান এদের টপিকের সংখ্যাই বেশি থাকে।

আসলে প্রজন্ম ফোরামের টপিকের মানের কোন গ্রেডেশন (পছন্দ অথবা কমেন্ট, সম্মাননা অনুসারে) সিস্টেম নাই। আপনি একটা ভালো টপিক লিখলেও সেটা এক/ দুদিনের মধ্যে ফ্রন্টপেজ থেকে হাওয়া হয়ে যাবে।
কম্পিউটার নিয়ে সদস্য ১ ভাইয়ের এত সুন্দর লেখাটি আর দেখা যাচ্ছে না ফ্রন্টপেজে।

আবার পছন্দ অথবা কমেন্ট অনুসারে "আজাইরা" সবসময়ই উপরে থাকে। sad

কোডার ভাই যখন এখানে নিয়মিত হয়েছেন, দেখেন উনি কোন উপায় বের করতে পারেন কি না।

Re: সেবাই হোক আদর্শ

আসলে ওভাবে বলতে চাই নি। হে হে। মানুষের পিছল স্বভাবের সীমা তো থাকবে নাকি? ফালতু একটা!

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত