সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন khurshad.alam (১৯-১২-২০১৬ ০১:৩১)

টপিকঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের অবদান অনন্যসাধারন

আমাদের বিজয় দিবস উপলক্ষে সরকারী-বেসরকারি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে অনেক তথ্যসমৃদ্ধ ভাল ভাল নাটক-টেলিফিল্ম দেখছি। কিন্তু একটি বিষয় সবাই হয়তোবা খেয়াল করেছেন যে, সময় সংকুলানের অজুহাতেই হোক, আর যেভাবেই হোক সকল লেখক, নাট্যকার এবং পরিচালকেরা ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সুবিশাল অবদানকে বরাবরের মতোই এড়িয়ে যাচ্ছেন। এর কোন অর্থ হয় না।

এটাই বাস্তব যে, ভারতের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহযোগিতা ছাড়া আমরা হয়তোবা স্বাধীন হতে পারতাম না। উপকারীর উপকার স্বীকার করলে কেউ ছোট হয়ে যায় না। এতে বরং মহত্ত্বের বিকাশ ঘটে। আমাদের নতুন প্রজন্মের সামনে ভারতের মহান অবদানকে স্পষ্ট করে তুলে ধরা উচিত।

প্রসঙ্গক্রমে, ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিলো ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে। রাজাকার বাহিনী এবং তার অঙ্গ সংগঠনগুলো আমাদের দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জয় বাংলা শ্লোগানধারী ভারতের চর বা গুপ্তচর নামে অবহিত করতো। তারা সুযোগ পেলে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা থেকে শুরু করে, তাদের বাড়িতে লুণ্ঠন, অগ্নি সংযোগ, মুক্তিযোদ্ধাদের মা-বোনদের উপর পাশবিক নির্যাতনসহ এমন কোন ঘৃণ্যতম কাজ নেই যে তারা করতো না।

যাই হোক, আমাদের নতুন প্রজন্মের জানা অতি প্রয়োজন যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের অবদান অনন্যসাধারন। ভারতের প্রতি আমাদের জাতি হিসেবে চির কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশী স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের পর থেকে বাংলাদেশের দিশাহারা মানুষ সীমান্ত পার হয়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহন করে। যুদ্ধ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ নয় মাস ধরে ৯৩ লক্ষ আশ্রয়হীন, সহায় সম্বলহীন মৃত্যু ভয়ে আতংকিত মানুষকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে ভারত আশ্রয় দিয়েছে, খাদ্য দিয়েছে, বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে। বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে এমন নজির বিরল।

সে সময়ে অর্থনৈতিক সমস্যা ও জনসংখ্যা সমস্যায় জর্জরিত ভারত এক কোটি বাড়তি মানুষের বোঝা পরম সহিংসুতায় বহন করেছে দীর্ঘ নয় মাস ধরে। স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে, ১৯৭১-এর ৬ ডিসেম্বর পাকবাহিনী ভারতের উপর বিমান আক্রমন চালায়। এ দিন ভারত বাংলাদেশকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দান করে। এরপরে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর সমন্বয়ে 'যৌথ কমান্ড' গড়ে উঠে। যৌথ কমান্ডের তীব্র আক্রমনের ফলে ৯৩ হাজার পাকসৈন্য ভারতীয় মিত্র বাহিনীর হাই কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। তারই ফলশ্রুতিতে উন্মেষ ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। সুতরাং, একথা অনস্বীকার্য যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের অবদান অনন্যসাধারন।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

Khurshad Alam

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আউল (১৯-১২-২০১৬ ১০:১১)

Re: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের অবদান অনন্যসাধারন

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের অবদান অনন্যসাধারন এটা সবাই স্বিকার করে, কিন্ত ভারত আমাদের সেই সময়ের যে উপকার করেছে তার ফলে আজঅব্দি ভারত আমাদেরকে তাদের অঙ্গরাজ্য মনে করে আর বিমাতাসূলভ আচরন করে অনেক ক্ষেত্রে, ভারতের হাতি বাংলাদেশে এলে আমরা তাকে বীরবাহাদুর আখ্যাদিই, কিন্ত বাংলাদেশের মানুষ বর্ডারে গুলি খেয়ে মরার পর বলা হয় গরু চোর.............

khurshad.alam লিখেছেন:

যৌথ কমান্ডের তীব্র আক্রমনের ফলে ৯৩ হাজার পাকসৈন্য ভারতীয় মিত্র বাহিনীর হাই কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

আত্মসমর্পণ তো করার কথা বাংলাদেশের সর্বাধিনায়কের কাছে
কিন্ত তারা আত্মসমর্পণ করেছে ভারতে কাছে, সেই সময়ে সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানিও উপস্থিত ছিলো না ......................

মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে ক্রমান্বয়ে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর অবস্থা এতটাই শোচনীয় হয়ে পড়ে যে উপায়ন্তর না দেখে ঘটনা ভিন্ন খাতে পরিচালিত করতে তারা ডিসেম্বরের ৩ তারিখ ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ১৯৭১-এর ৩ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটায় রেডিও পাকিস্তান সংক্ষিপ্ত এক বিশেষ সংবাদ প্রচার করে যে ‘ভারত পশ্চিম পাকিস্তানের সীমান্তজুড়ে আক্রমণ শুরু করেছে। বিস্তারিত খবর এখনো আসছে।’ পাঁচটা ৯ মিনিটে পেশোয়ার বিমানবন্দর থেকে ১২টি যুদ্ধবিমান উড়ে যায় কাশ্মীরের শ্রীনগর ও অনন্তপুরের উদ্দেশ্যে এবং সারগোদা বিমানঘাঁটি থেকে আটটি মিরেজ বিমান উড়ে যায় অমৃতসর ও পাঠানকোটের দিকে। দুটি যুদ্ধবিমান বিশেষভাবে প্রেরিত হয় ভারত ভূখণ্ডের গভীরে আগ্রায় আঘাত করার উদ্দেশ্যে। মোট ৩২টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এই আক্রমণে।[২৯] ৩রা ডিসেম্বর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কোলকাতার ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে এক বিশাল জনসভায় বক্তৃতাদানকালে ভারতের বিভিন্ন বিমান ঘাঁটিতে পাকিস্তানের উল্লিখিত বিমান-আক্রমণ শুরু হয়। অবিলম্বে তিনি দিল্লী প্রত্যাবর্তন করেন। মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকের পর মধ্যরাত্রির কিছু পরে বেতার বক্তৃতায় তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বলেন, এতদিন ধরে “বাংলাদেশে যে যুদ্ধ চলে আসছিল তা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।”[৩০] ভারতও এর জবাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC … D%E0%A6%A7

"We want Justice for Adnan Tasin"