টপিকঃ কবির ভালবাসা!

গোধুলী বেলা তখনো জ্বলেনি দীপ
তুমি পরছিলে কপালে সোনার টিপ

বাতি  বন্ধ করা শুয়ে আছি, একটু পড়ে বই পড়ব। তুমি এস এম এস অরা বন্ধ করে বই পড়। খালি তো রেডিও আর  ফোন!

আহ! আমি তোমাকে নিয়ে একটা কবিতা লিখতে পারতাম। তোমাকে নিয়ে কোন কোন গান লিখা হয় নাই। চেষ্টা করেছি বহুবার- অঞ্জন দত্ত

সারাদিন আমার চারপাশে এমন গুনগুন কর কেন!!??

ষোল মাসের  ফোনে এসএমএস চালাচালির পর; এক দিনের লম্বাক্ষন কথা বলা।

ইমরানঃ হ্যালো।
ইরীনাঃ ব্যস্ত?
ইমরানঃ ১টা মিসকল!
ইরীনাঃ এক্টা মিসকল নামে ব্যস্ত কিনা?
ইমরানঃ তুমি সারাজীবন জ্বালাবা। ব্যস্ত হব কেন? ব্যস্ত হলে তোএসএমএস দিতাম।
ইরীনাঃ ইইইইইস। সারাজীবন জ্বলাবো মানে কি? আমি অনেক জ্বালাই তাইনা...আসলেই অনেক বিরক্ত করছি আপনাকে... অনেক দুঃখিত। আমি চেষ্টা করব আর না জ্বলাতে। ভালো থাকেন!
ইমরানঃ আমি কি তাই বলেছি? ফোন দেব!

কিছুক্ষন পর

ইরীনাঃ হুম্ম... তাই তো বলেন! আজ আকাশটা আজ কেমন যেন! আমার যদি একটা জাদুর তুলি থাকত; আকাশটাকে নানান রঙ দিয়ে একে দিতাম। কেমন যেন মরামরা লাগছে এখন। কি মনে হয় হয় আপনার!
ইমরানঃ দূর!!! আকাশটাই দেখ! আর আমার মনে আকাশটা দেখ না।  তোমার কথার তুলি দিয়ে এ আমার মন এর আকাশটা রাখায় দেও!

ইমরানঃ ভাল যদি বাসো সখি, কি দেব গো আর
কবির হ্রদয় এই দিব উপহার!
যা কিছু গাহিব গান
ধ্বনিবে তোমারি নাম
কি আছে কবির বল
কি তোমারে দিব আর!


ভালবেসে সখি
নিভৃতে যতনে
আমার নামটা লিখ তোমার মনের মন্দির-এ

ইরীনাঃ শুধু  সাদা আর কালো মিশেল  এ রাঙ্গাতে পারব। যা আপনার ভাল লাগবে না।শুধু আপনার  কবিতাকে ধন্য করতে যেয়ে, আমি আরও নিঃস্ব হতে চাই না! ছোট ছোট ভাললাগাকে মেরে ফেলতে চাই না। উপভোগ করতে চাই। শেষ দুটা লিখা সুন্দর কিন্তু বাস্তবে রূপ দেয়া সম্ভব না।

ইমরানঃ কোন কোন ঘর আছে , যাতে জানালা নাই। আর তোমার ভেতরে অনেক জানালা আছে কিন্ত  ঘর নাই। ঘর যখন নাই, তোমার কাছে থাকতে চেষ্টা করব না,তুমি শুধু তোমার জানালা গুলো আমার জন্য খুলে দেও!

ইরীনাঃ জানালা ছাড়া তো ঘর দেখেছি! কিন্তু ঘর ছাড়া আবার জানালা হয় কেমন করে!

ইমরানঃ আমার কবিতাকে ধন্য করতে গিয়ে তুমি নিঃস্ব হবে কেন? তুমি আমাকে কবিতা দিবে আর আমি তোমাকে  কবির ভালবাসা দেব। কেউই শুন্য হাতে ফিরে যাবে না।  আর আমার কবিতা দুটো তোমার কাছেই থাকবে। তুমিও তাদের মা হবে!

ইরীনাঃ কতজন এই কবিতা গুলোর কাছে ঋনি থাকবে? আমি শুধু কবিতাকে ভালবাসব না! কবিতার  জন্মদাতাকেও ভালো বাসবো। আর বাকি দশজনের মত  স্বার্থপর আমি, তাকে কারো সাথে ভাগ করতে চাইব না! তুমি চাইতে পারো। কারন আপনারা কবিরা অনেক উদার মনের মানুশ।

ইমরানঃ কি ক্ষতি হবে! কে জানবে যদি তুমি আমাকে একটু ভালবাসা দেও। জানি তোমাকে এইকথা গুও বলা ঠিক না। কি করব, আমি যে তোমার চেয়েও নিঃস্ব। আমরা কি দুঃজন দুঃজনের শুন্যতা পুরন করতে পারি না! সত্য জীবন। জীবন টা খুব সত্য।

ইরীনাঃ যেভাবে বলছেন, মিথ্যা নাকি আমাদের সবার জীবন!!!! হয়তো পারি। কিন্তু কোথায় জানি একটা কিন্তু ; ছোট কিন্তু এসে পথ আটকায়। হতো টোমার মত এত নিঃস্ব আমি না......... আসলে আমাকে আপনার প্রয়োজন নেই, কবিতার প্রয়োজনে আমাকে চাইছেন এই মুহুর্তে!!! কি ঠিক না!? বাস্তব এটাই!

ইমরানঃ এক একটা কবিতার মানে এক এক জনের কাছে এক এক রকম। তোমার সন্তানকে তুমি যেমন  তোমার মত করে দেখবে...... মনটা ভালো ছিল ।তোমাকে কথা গুলো বলতে গিয়ে মন খারাপ হয়ে গেল!

দু'পাশে নিরবতা

ইমরানঃ মানুস সন্তানের মুখ দেখার জন্য বিয়ে করে। ফিজিক্যাল নিড এর জন্য  বিয়ে করে। তাই বলে কি বউকে সে ভালবাসে না!? আমি কবিতা আর টোমার দান দুটোই চাই!
মানুশের দোষ কি জানো? সে সব কিছু ধরে রাখতে চায়। ছেড়ে দেবার আশায় কি ভালবাসা যায় না। আমাকে তোমার খাচার পাখির মত বন্দি করে আদর কর। তারপর একদিন ছেড়ে দিও। কারন সে তোমাকে ভাল-বাসে আর তুমিও তাকে ভালবাস।

ইরীনাঃ ঠিক বলছ। সাধারন মানুশ সব ধরে রাখতে চায়। আমি অসাধারন মানুশ না। ভাল্বেসে -ভাল্বাসার খাতিরে ছেড়ে দিব! এর পর যে কস্ট গুলো আমি পাব তার দাম দেবে কে? সেই কষ্ট সহ্য করার মত ক্ষ্মতা আমার নাই। জীবনটাকে উপভোগ করতে চাই বলে এর মানে এই না যে যা ইচ্ছা তাই করব। আর   দিন শেষএ এক ঝুড়ি কষ্ট বুকে নিয়ে বসে থাকব। আপনার লিখায় কিছু প্রান আছে তাই কথা বলি, কথা শুনতে ভাল লাগে।

ইমরানঃ ঠিক আছে। তুমি যা চাও তাই হবে। কিন্তু যে তোমাকে  কষ্ট দিল সে তোমাকে ভালবাসতে জানে না। আমি তোমাকে মিথ্যা স্বপ্ন দেখাতে চাইনা। আমার ভাল্বাআ অন্য রকম। নতুন দৃষতি ভঙ্গি দিত।

ইমরানঃ একদিন আমার বিয়ে হবে। আমি কি বলতে পারি তার সাথে আমার মনে মিল হবে। যদি না হয়।  তখন কার কাছে গিয়ে শান্তনা পাব।

ইরীনাঃ  ছোট এইটুকু জীবন। আপনার মানুশের অভাব হবে না। আপনাদের কবিদের অভাব বলে আসলে কিছু নাই। আমরা বন্ধু হয়ে থাকি সেই কি ভাল না?

ইমরানঃ  তুমি আমার কাছে এই চাও। ঠিক আছে!
কিহু মানুশ আছে সারাজীবন ভাল বাসতে শিখে না। কিন্তু মনে অনেক ভালবাসা। কবিরা মানুশে কে যুগে যুগে শেখায় কিভাবে ভালবাসতে হয়।নতুন দৃস্টি দেয়। কবির প্রেমিকারা এই জন্য কখনো অসুখী হয় না।  শুধু কবিরা হয়। যে রান্না করে ।সে রান্না করে অন্যকে তৃপ্তি দেয়। কিন্তু তার নিজের কপালে সেটা জোটে না!

ইরীনাঃ না জুটলেও এক রকম স্বার্থকতা থাকে, যা তাকে আনন্দ দেয়। আমরা ম্নাউশ খুব স্বার্থপর। ভাল লাগা আমরা ভাগ করতে পারি। কিন্তু ভালবাসা বাগ করতে নারাজ।

ইমরানঃ কবিরা ভাগ হয় না। এক কবির ভেতরে অনেক কবিকে খুজে পাওয়া যায়।  তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখলে তুমি এ মানে বুঝবে। অন্যেয়া অন্য মানে করবে। তোমার কবি তোমার থাকবে।


ইরিনাঃ কিন্তু ঘুরে কথা সেই, কবি ত ওয়ার আমার একার থাকবেনা। সময়ের সাথে সাথে সেও অন্যের হয়ে যাবে। সেটা ভাব্লেই তো সহ্যের বাইরের চলে যায়।  যাক গিয়ে আর কথা বাড়ায় আমাকে দুর্বল কইরেন না।  কবিতা থেকে অনেক দূরে চলে যেতে চাই।
আর তর্ক না। তর্ক করতে করতে সুন্দর একটা বিকেল পার হয়ে যাচ্ছে।  মন ভারাক্রান্ত রঙ হীন দুপুর  আর নেই এখন।

ইমরানঃ একাডেমিক ধর্মকর্ম আমাকে টানে না। আমার ব্যাক্তিগত ইশ্বর আছে। its called "Supreme Power of  Universe"
তুমি কি আমার উপর রাখ করলে।

ইরীনাঃ রাগের কি আছে।?

ইমরানঃ তোমার কাছে ভালবাসা চাইলাম। তাই বলে রাগ কছ কিনা তাই জিগাসা করলাম।  সম্পর্ক টা কেমন যেন হয়ে গেল, তাই না। একটু লজ্জা পাচ্ছি!

ইরীনা হাসছে।

ইরীনাঃ আসলে ভালবাসা জিনিসটা কি তাই ভাবছি। ভালবাসা বলে আসলে কিছু নাই।  আমাদের মনের চাহিদা গুলোকে বুঝানো সুবিধার্তে আমারা এর নাম দিয়েছি ভালবাসা.........

নিরবতা দু-দিকেই । হটাত ফোনের লাইন কেটে গেল।
সেই লাইন কাটাই রইল!


" নিজেকে আমি বুঝিনি কখনো
ছিলে না যখন আসোনি তখনো
এলে সেখানে অজানা যা ছিল
আমার মাঝে আজ, আমি আলোকিত!"

"নয় মিছে আশা, নয় শুধু ভালবাসা, নই অকারন প্রেমে অন্ধ
জানি তুমি আমি, আমাদের তরী আজো এক বন্ধুত্ব
তোমার ছোট তরী বল নেবে কি!?"

---জুলাই, ২০০৮

অসমাপ্ত গল্প!

বানান ভুলের জন্য আমি দায়ী নই! tongue নিজ দায়িত্ব  নিয়ে চোখে ফিল্টার বসায় পড়ে ফেলছেন, আমি জানি। নাইলে এই লাইন চোখে পড়ার কথা না


কিছু লিখে মনে চাইল বসে বসে লিখলাম। যাই ইফতারি বানাই বসে বসে হাবিজাবি লিখলে আর কাজ নাই! wink


ফোরাম একদম হুজুর টাইপ হয়ে গেছে! কে জানে পোস্ট হওয়া মাত্রই না ফ্লিটার করে লেখা বাতিল করে । আবার  আমাকে ব্যান করে দেয়।!  wink  hehe kidding
সবাই ভাল থাকুন । hug

Re: কবির ভালবাসা!

বটে! কার এত সাহস আমি থাকতে জলকনার লেখা মুছে দেয়? সব হুজুরদের ঝেঁটিয়ে বিদেয় করে দেব না!  lol

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Jol Kona (১০-০৬-২০১৬ ১২:৫৬)

Re: কবির ভালবাসা!

উদাসীন লিখেছেন:

বটে! কার এত সাহস আমি থাকতে জলকনার লেখা মুছে দেয়? সব হুজুরদের ঝেঁটিয়ে বিদেয় করে দেব না!  lol

tongue tongue lol lol

অনেকদিন কোন লেখা দেন না উদাদা! কিছু লেখা দেন! ফোরাম তো মরে যাইতেছে দুঃখের সাগরে ভাসতে ভাসতে!

Re: কবির ভালবাসা!

thinking thinking thinking এটা আবার কবে দিলাম!  roll mad