টপিকঃ বিজ্ঞান—বিবর্তন—ধর্ম

বিজ্ঞান—বিবর্তন—ধর্ম
----------------------
বিজ্ঞান ফসিল ( জীবাশ্ম ) আবিষ্কার করে গবেষণা করে দেখিয়ে দিয়েছে যে মানুষও আসলে ক্রম-বিবর্তনের ফল । প্যলিয়োজয়ীক, মোসোজয়ীক, টারসিয়ারী প্রভৃতি হলো পৃথিবীর ভৌগলিক ক্রম-বিকাশের জমান। এ সব জমানায় পৃথিবীতে হরদম ভাঙচুর চলেছে, নানা প্রকার শিলাস্তর গঠিত হয়েছে ; তারি কতকগুলোর নাম হচ্ছে ক্যামব্রিয়ান, অড্রোভিসিয়ান, ডেভোনিয়ান, ট্রায়সিক, জুরেসিক, ক্রেটাসিয়াস প্রভৃতি। এই বিভিন্ন ভৌগলিক জামানায় বিভিন্ন শিলাস্তর বিন্যাস কালে বিভিন্ন ধরণের জীব-জন্তুর আবির্ভাব হয়েছিল । তাদের বৈজ্ঞানিক বিভাগ করা যায় ও চিহ্নিত করা যায় ; অমেরুদণ্ডী, মেরুদণ্ডী, অণ্ডজ, স্তন্যপায়ী প্রভৃতি রূপে । এই সবের মধ্যে অনেক বিলুপ্ত জীবজন্তুর ফসিল পাওয়া গেছে । এই সব ফসিল এবং সিনানথোপাস (চীনের প্রাগৈতিহাসিক পিকিং গুহা-মানব ), জাভামানুষ আফ্রিকার রোড়েশিয়ান, পূর্ব ইউরোপ-এশিয়ার নিয়াণ্ডারথাল পশ্চিম ইউরোপের ফ্রান্সের ক্রোমাগন্তান, লাসকক্স, স্পেনের আলটামীর, ফনট্‌-ডি-গম প্রভৃতি গুহা সমুহে প্রাগৈতিহাসিক মানুষের যে সব ফসিল পাওয়া গেছে, পরীক্ষা করে দেখা গেছে তা বিভিন্ন স্থান কাল পরিবেশের প্রভাবে বিভিন্ন রকম বিবর্তন । লাখ লাখ, কি হাজার হাজার বৎসর পূর্বের গুহামানবদের ফসিল, তাদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পাথুরে যন্ত্রপাতি (প্রাচীন ও নূতন প্রস্তর যুগ ), গুহা গাত্রে, কি তাদের ব্যবহৃত কোন কোন যন্ত্রপাতিতে তাদের আঁকা, কি খোদাই-করা সেই সব জমানার নিজেদের ছবির পাশাপাশি হারানো জীব-জানোয়ারের অদ্ভুত সুন্দর ছবি কি প্রমাণ পেশ করে ? আবার আফ্রিকার ট্যাংগানিকার কয়েক লক্ষ বৎসর পূর্বের আফ্রিকান প্রাগৈতিহাসিক গুহা মানব জিঞ্জানথোপাসের যে-ফসিল পাওয়া গেছে তা-ই বা কি প্রমাণ হাজির করে ? বলে নাকি যে ঐ হারানো এবং আজো বেঁচে-থাকা জীব-জানোয়ারের যেমন যুগে যুগে ক্রমবিকাশ হয়েছে, মানুষেরও তেমনি ক্রম বিকাশ হয়েছে। মাঝখানে কোন কোন ক্রম-বিবর্তন-সূত্র হয়তো মহাকালের গর্ভে হারিয়ে গেছে (missing links) এই মাত্র।
তাহলেই মানুষ এলো কোথথেকে তা বুঝতে হবে। বিজ্ঞানীরা অতি প্রাচীন বানর-গোষ্ঠীর যে-ফসিল সমূহ ও অতি প্রাচীন উপরোক্ত মানব গোষ্ঠীর যে ফসিল সমূহ পেয়েছেন তা পরীক্ষা করে সঠিক স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে ঐ সব বানর ও মানব মূল একস্তর থেকেই এসেছে। বর্তমান কালের গরিলা, শিম্পাঞ্জি, ওরাংওটাং প্রভৃতির কংকালেও ঐ ক্রমবিবর্তনের চিহ্নিত পরিবর্তন ছাড়া জীব হিসাবে অন্য বিশেষ তফাৎ নেই । আদিতে ‘দ্রিওপিথেক’ নামক এক দল বৃক্ষ-শাখা-বাসী বানর জাতীয় জীব ছিলো। খাদ্যের খোজে তারা সময়ে সময়ে মাটিতে নেমে আসতো এবং দুপায়ে চলতেও চেষ্টা করতো। এদের থেকেই ক্রম-বিবর্তিত মানুষের প্রায়-কাছাকাছি দুপেয়ে জীব দক্ষিণ আফ্রিকার বহু লক্ষ বৎসর পূর্বের অস্ত্রালোপিথেক — দক্ষিনী বানর মানুষ – Apeman – হয়েছে। তাদের থেকেই পুরোপুরি মাটিতে বসবাস কারী দুহাত ব্যবহারে পুরো সক্ষম, দুপায়ে পুরো চলতে অভ্যস্ত না-বানর না-মানব (বন-মানুষ, অথচ কতটা বানর আকৃতির বানর মানুষ) পিথেক্যানথ্রোপাসের উৎপত্তি। । এদেরই নানা শাখা প্রশাখা পরবর্তী নানা স্থান কাল-পরিবেশে উপরোক্ত নানা শ্রেণীর গুহামানব, যাযাবর শিকারি মানুষে পরিণত হয়েছে। তাদের ভিতর দিয়েই নানা কাল ও ক্রমবিকাশের নানাগণ্ডি পার হয়ে এসে বর্তমান জমানার পৃথিবীর নানা স্থানের নানা প্রকার সভ্যতা সংস্কৃতির মানব মানবী হয়েছে । আর যারা এরূপ মানবীয় বিকাশের অভাবে আজো সেই যার যার পৌরাণিক আদি উদ্বর্তন-স্তরে রয়ে গেছে, তাদের কতক শাখা প্রশাখার কথা ঐ উপরে শুনলেন—গেরিলা, শিম্পাঞ্জি, ওরাংওটাং–আরো কতো শাখা প্রশাখা এক কথায় বাদর নামে পৃথিবীর নানা স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে। প্রশ্ন হতে পারে তারা কেন গুহামানব, যাযাবর শিকারীমানব ও পরিশেষে বর্তমান জমানার পূর্ণ মানবে বিবর্তিত হতে পারলোনা, সে আলাদা ব্যাপার। সে হিম্মত-হেকমত (Properties) ওদের ছিল না। কেন ছিলো না সে 'কেন'র কোন উত্তর নেই। সব কেনরই যে উত্তর থাকবে তাও সত্য নয়। তবু, ওরা যে মানব হয়নি, কোনদিক হবেনা এতো সত্য, এতে তো আর অসত্যের, অবিশ্বাসের কিছু নেই, যেমন নেই এই ক্রম বিবর্তিত মানবীয় আকৃতি প্রকৃতিতে ।
>>>বানর ছিলেন শুনেই ভ্ৰকুঁচকে তাকালেন ? কিন্তু মাতৃগর্ভে ক্রমবিবর্তন ঠিক বানরের মতোই। ভূমিষ্ট হয়েও তো ঐ বানরের মতোই ক্রমবিবর্তন ; চার হাত পায়ে চলা আর দুষ্টুমি গুলে মনে করুন।
ব্যাঙচি দেখেছেন ? যেনো মাগুর মাছের বাচ্চা, কিন্তু ক্রমবিবর্তনে সে সম্পূর্ণ চারপাওয়ালা ব্যাঙ হয়ে যায়, লেজ যায় খসে, চেহারা এমন কি বর্ণ পর্যন্ত বিবর্তিত। এক জীবনেই যখন এই তখন লাখ লাখ, কি হাজার হাজার বৎসর ব্যাপী জাতীয় (Species) বিবর্তনে যে কি বিপুল পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে, চিন্তা করুণ। সুতরাং ভ্ৰকুচকানোর কি কারণ আছে ? এ আল্লাহরই অমোঘ বিধান ও নিয়ম-নিগড়, এই মনে করে। স্বস্তির নি:লুশ্বাস ফেন এবং কিসসা কাহিনীর বদৌলতে বেহেশত হতে পতিত কোন মানব-মানবীর বংশধর হওয়ার মিথ্যা দেমাগ ফের বেহেশতেই পাঠিয়ে দিন, সে বৃথা অহমিকা আর অনর্থক জিইয়ে রেখে কি ফল ! বরং সত্য জেনে এবং মেনে সুস্থ প্রজ্ঞ হন । নির্বুদ্ধিতা আর কতো ! আর কেন ? আর নয় ।
কারণ, এ হলো বিজ্ঞান আবিষ্কৃত নৃতাত্ত্বিক সত্য (Anthro pological truth) । কিন্তু তথাকথিত ধম সেখানে বেহেশত হতে আদম-হাওয়ার অর্থাৎ আদি মানব-মানবীর পৃথিবীতে পতনের গল্প খাড়া করে রেখেছে। আর বিজ্ঞানী অ-বিজ্ঞানী প্রভৃতি সকলের মুখপাত্র ( মাধ্যম ) রেডিয়ো-টেলিভিশানমারফতও ঐ কিসসা কাহিনীই এক তরফ মাঝেমাঝে প্রচার করছে।

>>মরহুম ইকবালের মতো মহাকবি, কি মরহুম গোলাম মোস্তফার মতো কবি ঐ কিসসা কাহিনী কাব্যের মারফত প্রচার করে জনসাধারণ তো বটেই, জাতির ভবিষ্যৎ স্কুল-কলেজ-ইউনিভারসিটির ছেলেমেয়েদের পর্যন্ত এসব বিষয়ে মুখ বানাবার কোশিশ করে গেছেন। দেখুন ‘পায়াম-ই-মাশরিক’এর তাসখির ই-ফিতরত' প্রভৃতি এবং ‘জাবিদ-নামার "ইবলিস কি মজলিসেগুরা’ ও ইবলিস ওয়া জেব্রাইল এবং গোলাম মোস্তফার 'বনি আদম কাব্যগ্রন্থের অবতরণ কবিতা । কিন্তু কী আশ্চর্য!
* আমনি ইংলণ্ডের সপ্তদশ শতাব্দীর মহাকবি মিলটনের ‘প্যারাডাইজ লষ্ট’ (বেহেশত বিচ্যুতি) ও প্যারাডাইজ রিগেনড ( বেহেশত পুন: প্রাপ্তি ) মহাকাব্য-দ্বয়ের কথা তোলা হবে, কিন্তু মনে রাখ! কর্তব্য তখনও চার্লস ডারউইন ( ১৮০৯–১৮৮২ ), ল্যামার্ক, উইজম্যানের এবং হিউগো ডি ভ্রাইজের ( ১৮৪৮ –১৯৩৫ ) আবির্ভাব ঘটেনি, এবং উপরোক্ত বিবর্তনের সত্যেরও (বিবর্তন বাদের ) আবিষ্কার হয়নি।
সুতরাং মিলটনের পক্ষে ঐ ধর্মীয় কিসসাই ছিলো সত্য, আর এ জমানায়ও ঐ মিথ্যা শিক্ষা দিয়ে ছেলেমেয়ে নষ্ট করা হবে ? না, এ সব ব্যাপারে কাব্য হবে বিজ্ঞান ভিত্তিক, চিন্তা করুন |
>>ঐ একই আদম হাওয়ার বংশধর হলে তাদের ফসিলের আকৃতি নানা প্রকার হয় কী করে ? নৃতাত্ত্বিক গবেষণায় যে নানা স্থানের হাজার হাজার কি লাখ লাখ বৎসর পূর্বের গুহা মানবের নানা মুখাকৃতির ফসিল পাওয়া গেলো কি করে তার একই আদম হাওয়ার বংশধর হয় ? আবার, অষ্ট্ৰিচ ( কোল, ভিল, মুণ্ড প্রভৃতি অনার্য ), আর্য, সেমেটিক, মংগোলীয়, নিগ্রো, দ্রাবিড় প্রভৃতি বিভিন্ন স্থানের বিভিন্ন সংস্কৃতির, আকৃতিপ্রকৃতির মানুষ কি করে? একই আদম হাওয়ার বংশধর হয় ? পুনঃ দেখুন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, অপরাপর দূর দ্বীপপুঞ্জে, কি আফ্রিকার ঘন বন জংগলে যে-সব অসভ্য মানব গোষ্টি পাওয়া গেলো, তারাই বা কি করে একই মানব গোষ্টি হয় ? আবার, কাচা মাংস-ভোজী, এমন কি মানুষ হয়ে মানুযের মাংস ভোজী অসভ্য মানুষরা ? তারাও একই মানব গোষ্ঠীর ? আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া না হয় প্রাচীন এশিয়া ইউরোপ আফ্রিকার ভূখণ্ডের সংগে কোন এক সময়ে সংযুক্ত ছিলো, তাই পদব্রজে ঐ সব জায়গায় গেলো। শেষে প্রবল সমুদ্র স্রোত ও ঢেউয়ে ভূখণ্ড ভেঙে চুরে আলাদা হয়ে গেল, তাই সবাই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে বিস্তর প্রভেদ হয়ে গেল ; মূল থেকে বিচ্ছিন্নরা ক্রমশ: অসভ্য হয়ে গেল— যদিও তার সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যদিও তা সম্ভবপরই নয়-- কিন্তু জলযান সৃষ্টি হবার অনেক আগে কি করে ঐ সুদূর সমুদ্র-দ্বীপপুঞ্জে মানুষ গেলো ? আফ্রিকার বন জংগলেই বা পৌছলো কোন কোন স্থলযানে চড়ে ? আর কেন ? হিংস্ৰ জানোয়ার সিংহ, ব্যাঘ্ৰ, হাতি, গণ্ডার, গরিলা আর বিষধর মেম্বা সাপ প্রভৃতি সরীসৃপের সংগে যুদ্ধ করে বাঁচবার জীবনই বা তারা বেছে নিল কেন ? সভ্য জনপদ মধ্য এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা, ইউরোপ ছেড়ে তারা অসভ্য জানোয়ারের মতো জীবন যাপন করতেই বা গেল কোন দুঃখে ? কেন ? বানানো কিসসা ছাড়া এসব প্রশ্নের কোন সদুত্তর নেই। সুতরাং আসল সত্যের ও সঠিক ধমের সন্ধান হবে কোন পথে, কি পন্থায় ?
ধরলাম, আদম হাওয়া দোষ করেছেন, তাই বেহেশত হতে তাদের ঠেলে ফেলে দেয়া হয়েছে এবং দুনিয়ার সকল মানুষই একই আদম-হাওয়ার বংশধর, আর তার বিভিন্ন জায়গায় পরবর্তীকালে ছড়িয়ে বিভিন্ন আবহাওয়ায় বিভিন্ন চেহারা ও প্রকৃতি পেয়েছে। কিন্তু সেই অতি প্রাচীনকাল থেকে গরু, ছাগল, মোষ, ভেড়া, ঘোড়া, গাধা, উট, কুত্তা, বিড়াল, হাস মুরগী প্রভৃতি গৃহপালিত পশু ও পাখী কোথা থেকে প্রায় সর্বত্রই বিভিন্ন আকারে প্রকারে তাদের সংগে এলো ? তাদেরও কি বেহেশত থেকে ঠেলে ফেলে দেয়া হয়েছিলো ? তা না হলে বেহেশতী মানব-মানবী-দ্বয় হালচাষ করতে, বোঝা বহন করাতে সেই প্রাচীন কালে সভ্য জনপদে (মধ্য এশিয়ার মরু-জনপদ মক্কা মদিনায় প্রধানত: ) গরু, ঘোড়া, উট, গাধা, ছাগল, ভেড়া, ডুম্বা পেলেন কোত্থেকে ?
কুত্তা, বেড়াল, হাস, মোরগ প্রভৃতি পেলেন কোথায়, কি ভাবে ? আর বনে তো এখনও ঔ সব পশু পাখীর বংশধররা বসবাস করছে ; তাদের যদি আদম-হাওয়া  সংগে করেই নিয়ে আসবেন, তবে বনে আবার তাদের বংশধররা হিংস্র বন্য অবস্থায় বিভিন্ন পরিবেশে বিভিন্ন রকম থাকে কি করে ? না, আধা সভ্য গুহা মানব, ষাযাবর মানবরাই বন থেকে ওদের জোড়া জোড়া বাচ্চা টাচ্চা ধরে’ এনে লালন পালন করেছে, বড়ো করেছে, নানা কাজে খাটিয়েছে, যেমন কুত্তাকে খাটিয়েছে গুহামুখে, কি বাহিরে পথহারায় (বলা বাহুল্য কুত্তাই মানুষের প্রথম পোষমানা জানোয়ার ও খেদমতগার), বিড়ালকে খাটিয়েছে সেই জমানার গৃহ শত্রু ইদুর, ছু.চে প্রভৃতি মারবার এবং তাড়ানোর কাজে । এই কুত্তার বংশধর খেঁকশিয়াল, আর বিড়ালের বংশধর বনবিড়াল (খাটাশ), নেকড়ে বাঘ, বাঘ আজো তো আমরা বন বাদাড়ে দেখতে পাই। বিড়ালের মুখাকৃতি দেখতেও অনেকটা বাঘের মতো । মানুষের ঘরে থেকে সভ্য হলেও শিকার ধরার ভঙ্গী টঙ্গী (প্রকৃতি) ঠিক বাঘের মতো ; বিড়ালকে তাই বলা হয় বাঘের খালা, বাঘের মাসী—যদিও মেরে মেরে মানুষ প্রায় সাবাড় করে এনেছে বাঘ, নেকড়ে বাঘ, খাটাশ প্রভৃতি। গরু, ছাগল, তুম্বা, উট, ঘোড়া, গাধা, মোৰ প্রভূতির মাংস মানুষ খেয়েছে, দুধ খেয়েছে ( আজো করে। কারো মাংস, দুধ খায় )। আবার কাউকে কাউকে যেমন ঘোড়া, গরু, উট, গাধা, মোষ, আর ঘোড়া ও গাধার মিলনে পয়দা খচ্চর প্রভূতিকে ভার বহন কাজে, কি হাল চাষ করার মতো কঠিনতর কাজে খাটিয়েছে, আজো খাটায়। বুনো ইাস মুরগী পালন করে তাদের মাংস খেয়েছে, ডিম খেয়েছে, আজে খায়। এই ভাবে বন্ত মানুষ, গুহা মানুষ নিজেরা ক্রমশ: সভ্য হয়েছে, ঐ সব গৃহ পালিত বন্ত জীব-জানোয়ারও তাদের সংগে থেকে থেকে ক্রমান্বয়ে অনেকটা নিরীহ প্রকৃতির হয়ে গেছে, আকারে প্রকারে তাদের বংশধর বন্যদের তুলনায় মানুষের সংগে সংগে খর্ব হয়েছে, ছৰ্বল হয়েছে, প্রায় সম্পূর্ণ মানুষের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছে, রয়েছে। সেই প্রাচীন প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে আজ পর্যন্ত তাদের ঐ সব কাজ-কমে খাটছে, কেউ কেউ আজো আহার যোগাচ্ছে, যদিও কাচা মাছ মাংস, কিংবা আগুনে সেক, কি আধ পোড় মাছ মাংস আর নয়, দস্তুর মতো রাধা ভাজা, বিজ্ঞানের রসায়ন পন্থায় আবিষ্কৃত কত রকম পরিমিত মসলা যোগে পাকানো রসনার স্বাদে মজাদার খানা-চৰ্য, চুৰ্য লেহ্য। পেয় অর্থাৎ পিনাও আর নদী খাল সরোবর থেকে ঘোলা পানি উবুড় হয়ে পশুর মতো মুখে চো চে করে পান করা নয়, বরং কতো কায়দার পেয়ালায় কি গেলাসে পানি পান তো আছেই, আরো আবিষ্কৃত হয়েছে দুধ, দই, ঘোল, চিনি সিরাপ, ফলের রস প্রভৃতির রকমারি পানীয় – শরবত - শরাব ! কাচ দুধ শুধু পাকানোই হয়না ; ঘি, মাখন, পনীর, ক্ষীর, ছানা, সন্দেশ, রসগোল্লা কতো কিছু হচ্ছে, আরো হয়তে হবে ।
এখন, মানুষেরই কারণে মানুষেরই মুখাপেক্ষী এই সব জীবের প্রতি মানুষেরা – বিশেষ করে’ এ দেশের মানুষেরা—কি রকম নিদয় ব্যবহার করছে প্রসঙ্গক্রমে তা-ও দেখুন। কুকুর বিড়ালকে রীতিমত আহার দেওয়া হয় না যদিও নিজেরা চর্ব, চূষ্য, লেহ্য, পেয় খাচ্ছে। কোন গৃহপালিত পশু পাখী মরলে, ছুঁচো, ইঁদুর মারা হলে তা পানিতেই ভাসিয়ে দেয়া হয়, কিংবা মাটি চাপা দেয়া হয়, কুকুরকে দেয়া হয় না। বিড়ালের খানা মাছের কাটা, মাংসের ঝুটা, উদ্বৃত্ত ভাত-তরকারী বাইরেই ফেলে দেয়া হয়। বিড়ালকে বড়ে একটা দেয়া হয় না। রীতিমত খানা পিন না পেয়ে এই সব ক্ষুধার্ত তৃষ্ণাৰ্ত গৃহপালিত জীবেরা চুরি করে কিছু খেলে তখন কিন্তু তাদের উপর জবর মার চালানো হয়, কখনো কখনো মেরেই ফেল৷
হয় ।
গরু, ছাগল, ভেড়া, উট, তুম্বা, মোষ, ঘোড়া, গাধা প্রভূতিকে রীতিমত খাওয়ানো হয় না । অথচ নিজের পেট পুরে খাওয়া হয়। হজ্জের মওসুমে গরু, ছাগল, উট, তুম্বা অকারণ অতিমাত্রা হত্যা করে, ভোজনে তা না লাগায় মিনা বাজারের নিকটবর্তী পাহাড়ের খন্দকে ঢালা হয়, অথচ বৈজ্ঞানিক উপায়ে বাটtভর খাদ্য বানিয়ে কিন্তু বিদেশে চালান দেয়া যেতো । দেশে দেশে অকারণ অতিরিক্ত ভোজনোৎসব লেগেই আছে। পুণ্যের মোহে ভোজ খাওয়ার লোভে নির্বিচার হত্যায় যে এ-সব জীবের বংশ একদা প্রাগৈতিহাসিক গুহা-যুগের বন্য মোষ বাইসনের মতো লোপ পেয়ে যেতে পারে সেদিকে করে। খেয়াল নেই ।
রীতিমত খানা পিন না দিয়ে অতিরিক্ত খাটিয়ে ঘোড়া, গাধা, মোষ, গরু দিন দিন অস্থিচর্ম কংকালসার করা হচ্ছে ; অনেক সময়ে অকালে মহা যাত্রা করতে তারা বাধ্য হচ্ছে ।
গোরু, ছাগল, ডুম্বা, উট, মোষের বাচ্চাদের তাদের মায়ের দুধ রীতিমত পরিমিত মাত্রায় খেতে নাদিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে, অথচ দুধ তো আসলে তাদের জন্যই। ঘাস, খড়, কুটো, ফেন, খৈল, ভুষি খাইয়ে বাচ্চাদের মায়েদের দুধের পরিমাণ বাড়ানোর বিশেষ তদ্বির নেই ; অথচ সামান্য কিছু খেয়ে টেয়ে যে টুকু দুধ পালানে হয় তা প্রায় সম্পূর্ণ টেনে নিয়ে নিজেরা নিজেদের বাচ্চাদের নিয়ে মজা মেরে মানুষ খাচ্ছে, কি বেচে পয়সা করছে, আর যাদের জন্য দুধ—সেই গৃহ পালিত তৃণভোজী পশুর বাচ্চারা-নিজেদের মায়ের দুধ খেতে না পেয়ে ক্ষুধার জ্বালায় ট্যা ট্য" করছে। আরো কি বেলেল্লা পনা ! সারা রাত দুধ খেতে না দিয়ে দুধ বেশী হবে আশায় বাছুর দিনের প্রায় দুপুর নাগাদ বেঁধে রাখা হয়। বাচ্চারা ট্যা ট্যা করে একদিকে মা হাম্বা হাম্বা করে কি চেঁচায় আর একদিকে ; মাঠে-ছাড়া গরু ছাগল মেষ বাচ্চার মায়ায় ঘাসও বেশী করে খেতে পারেন, বার বার ফিরে আসে উঠোনে কি গোয়ালে । সব শেষ হয় যেদিন নাখেতে নাখেতে দুর্বল বাচ্চা একদিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে’ জালা যন্ত্রণার অবসান করে ।
ধর্ম কোথায় ? এ সকল পাপ কিনা ? এর বিচার হবে কিনা— যদি পরকাল ও মানুষের ভালোমন্দ পাপ পুণ্য কর্যের প্রতিফল দেনেওয়ালা কেউ থেকে থাকেন—তা আপনারাই এখন বিচার করুণ ।
>>>>আর কি রকম কিসসা বানিয়ে মানুষকে ঠকানো হচ্ছে তাও দেখুন।
আদিম হাওয়ার চাষ-আবাদের জন্যই বেহেশত থেকে এক জোড়া গরু তাদের দিয়ে দেয়া হয় (বেহেশতে যেন কেবল কত গরুই আছে আর কি, আর সব গৃহপালিত পশু পাখি মাটি ফুড়ে আদম হাওয়ার সংগী সাথী হয়েছে )। সেই গরু দুটোও জোয়াল কাঁধে লাঙল টেনে হাটতে চায়না, বলে : "তোমরা নিষিদ্ধ ফল খেয়ে গোনাহ করেছ তার ফলে বেহেশতের আরাম-আনন্দ-বাগ থেকে ভূপতিত হয়েছ, আমাদের দোষ কি ? আমরা যে তোমাদের লাঙল বাইবো ?—আদম হাওয়া গরুদ্বয়ের কথায় হালচাষ ছেড়ে দিয়ে কাঁদতে থাকেন। আল্লাহ, জিব্রাইলকে পাঠিয়ে দিলেন, জিবরাইল গরুদ্বয়কে কতো বুঝালেন, গরু-যুগল কিছুতেই কথা শোনেন, ঐ এক কথা বলে—আদম হাওয়া পাপ করেছে, সে পাপে তারা ভুগবে কেন ? আর কথাও তো ন্যায্য । জেব্রাইল যুক্তিতে না পেরে করলেন কি ? না, রাগান্বিত হয়ে এয়সে হাঁক ছাড়লেন যে গরু যুগল বোবা ও আহমক হয়ে গেল ; আদম-হাওয়া এখন ষেদিকে চালান সেই দিকে চলে, য। করান তা-ই করে। কিন্তু তাদের ন্যায়-বিচার পাওনা যে এই ভাবে গেল রসাতলে তলিয়ে আর এতে করে যে জেব্রাইল আর র্তার এবং আদম হাওয়ার প্রভু স্বয়ং আল্লাহতালা আর ন্যায়-বিচারক নিরপেক্ষ থাকেন না, কিসসার জৌলুসে কে তা লক্ষ্য করে !

আরো কি মজা ! সকালে চাষ-আবাদ করে বীজ বপন করলে বিকালে গাছ ও শস্য হয়েটয়ে পেকে থাকে। আর সেই ফসল তুলে আনার সময়ে পৃথিবী অর্থাৎ মাটি আবার কি বলে ? বলে : এসেছ আমার বুড়ো কালে, যোয়ান কালে এলে যখন বীজ বুনতে তখন তখনি পাকা ফসল পেতে ? কেমন সব মজার কিসসা !
যুক্তির বহর ন্যায় শাস্ত্রের (লজিক) বিচারে টেকসই, অখণ্ডনীয়, অকাট্য মা করে না রেখে বৃথা এক দিকের কতকগুলো কিসসা বিশ্বাস করলেন, বললেন, আর দিকে ঠেক লেই নেহাত খেলো অযুক্তি কুযুক্তি খাড়া করলেন নিজেদের পাপ ঢাকবার জন্য, অজ্ঞতা লুকোবার জ ন্য  ; কিংবা তাতে না কুলোয়ে তথাকথিত সুন্নতি লাঠি উঁচিয়ে এলেন, এতে করে জিতেও কি আসলে পাপ ঢাকা পড়লো, অজ্ঞতা লুকালে ? না, তামাসার এক অজ্ঞান অন্ধকার গোনাহর রাজ্যে গোমরাহির মুলুকে বাস করলেন তা নিজেরাই এখন খুঁজে দেখুন, বুঝে দেখুন, আমি আর কতো কাহাতক বলবো । আর এ সবের কোন মানে হয় এই দর্শন-বিজ্ঞান-সাহিত্য শিল্প-কলায় পাওয়া সত্যের জমানায়, তার তথ্য ও তত্ত্বের মোকাবিলায় ?
সূত্র--  জিজ্ঞাসা—মাওলানা বজলুর রহমান বি টি

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ

Re: বিজ্ঞান—বিবর্তন—ধর্ম

gmakas লিখেছেন:

সূত্র--  জিজ্ঞাসা—মাওলানা বজলুর রহমান বি টি

এই রে, "সবই ঈশ্বরের কারসাজি" নাটকরের নেক্সষ্ট রাউন্ড শুরু হওয়ার সময় চলে এসছে। দেখতে দেখতে নতুন ধর্ম, ধর্ম-গ্রন্থ., ঈশ্বর চলে আসবে। যেখানে বিবর্তন হবে ঈশ্বর প্রদত্য সত্য এবং মামুলি ব্যাপার।  hehe

Re: বিজ্ঞান—বিবর্তন—ধর্ম

gmakas লিখেছেন:

বিজ্ঞান—বিবর্তন—ধর্ম
----------------------
বিজ্ঞান ফসিল ( জীবাশ্ম ) আবিষ্কার করে গবেষণা করে দেখিয়ে দিয়েছে যে মানুষও আসলে ক্রম-বিবর্তনের ফল । প্যলিয়োজয়ীক, মোসোজয়ীক, টারসিয়ারী প্রভৃতি হলো পৃথিবীর ভৌগলিক ক্রম-বিকাশের জমান। এ সব জমানায় পৃথিবীতে হরদম ভাঙচুর চলেছে, নানা প্রকার শিলাস্তর গঠিত হয়েছে ; তারি কতকগুলোর নাম হচ্ছে ক্যামব্রিয়ান, অড্রোভিসিয়ান, ডেভোনিয়ান, ট্রায়সিক, জুরেসিক, ক্রেটাসিয়াস প্রভৃতি। এই বিভিন্ন ভৌগলিক জামানায় বিভিন্ন শিলাস্তর বিন্যাস কালে বিভিন্ন ধরণের জীব-জন্তুর আবির্ভাব হয়েছিল । তাদের বৈজ্ঞানিক বিভাগ করা যায় ও চিহ্নিত করা যায় ; অমেরুদণ্ডী, মেরুদণ্ডী, অণ্ডজ, স্তন্যপায়ী প্রভৃতি রূপে । এই সবের মধ্যে অনেক বিলুপ্ত জীবজন্তুর ফসিল পাওয়া গেছে । এই সব ফসিল এবং সিনানথোপাস (চীনের প্রাগৈতিহাসিক পিকিং গুহা-মানব ), জাভামানুষ আফ্রিকার রোড়েশিয়ান, পূর্ব ইউরোপ-এশিয়ার নিয়াণ্ডারথাল পশ্চিম ইউরোপের ফ্রান্সের ক্রোমাগন্তান, লাসকক্স, স্পেনের আলটামীর, ফনট্‌-ডি-গম প্রভৃতি গুহা সমুহে প্রাগৈতিহাসিক মানুষের যে সব ফসিল পাওয়া গেছে, পরীক্ষা করে দেখা গেছে তা বিভিন্ন স্থান কাল পরিবেশের প্রভাবে বিভিন্ন রকম বিবর্তন । লাখ লাখ, কি হাজার হাজার বৎসর পূর্বের গুহামানবদের ফসিল, তাদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পাথুরে যন্ত্রপাতি (প্রাচীন ও নূতন প্রস্তর যুগ ), গুহা গাত্রে, কি তাদের ব্যবহৃত কোন কোন যন্ত্রপাতিতে তাদের আঁকা, কি খোদাই-করা সেই সব জমানার নিজেদের ছবির পাশাপাশি হারানো জীব-জানোয়ারের অদ্ভুত সুন্দর ছবি কি প্রমাণ পেশ করে ? আবার আফ্রিকার ট্যাংগানিকার কয়েক লক্ষ বৎসর পূর্বের আফ্রিকান প্রাগৈতিহাসিক গুহা মানব জিঞ্জানথোপাসের যে-ফসিল পাওয়া গেছে তা-ই বা কি প্রমাণ হাজির করে ? বলে নাকি যে ঐ হারানো এবং আজো বেঁচে-থাকা জীব-জানোয়ারের যেমন যুগে যুগে ক্রমবিকাশ হয়েছে, মানুষেরও তেমনি ক্রম বিকাশ হয়েছে। মাঝখানে কোন কোন ক্রম-বিবর্তন-সূত্র হয়তো মহাকালের গর্ভে হারিয়ে গেছে (missing links) এই মাত্র।
তাহলেই মানুষ এলো কোথথেকে তা বুঝতে হবে। বিজ্ঞানীরা অতি প্রাচীন বানর-গোষ্ঠীর যে-ফসিল সমূহ ও অতি প্রাচীন উপরোক্ত মানব গোষ্ঠীর যে ফসিল সমূহ পেয়েছেন তা পরীক্ষা করে সঠিক স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে ঐ সব বানর ও মানব মূল একস্তর থেকেই এসেছে। বর্তমান কালের গরিলা, শিম্পাঞ্জি, ওরাংওটাং প্রভৃতির কংকালেও ঐ ক্রমবিবর্তনের চিহ্নিত পরিবর্তন ছাড়া জীব হিসাবে অন্য বিশেষ তফাৎ নেই । আদিতে ‘দ্রিওপিথেক’ নামক এক দল বৃক্ষ-শাখা-বাসী বানর জাতীয় জীব ছিলো। খাদ্যের খোজে তারা সময়ে সময়ে মাটিতে নেমে আসতো এবং দুপায়ে চলতেও চেষ্টা করতো। এদের থেকেই ক্রম-বিবর্তিত মানুষের প্রায়-কাছাকাছি দুপেয়ে জীব দক্ষিণ আফ্রিকার বহু লক্ষ বৎসর পূর্বের অস্ত্রালোপিথেক — দক্ষিনী বানর মানুষ – Apeman – হয়েছে। তাদের থেকেই পুরোপুরি মাটিতে বসবাস কারী দুহাত ব্যবহারে পুরো সক্ষম, দুপায়ে পুরো চলতে অভ্যস্ত না-বানর না-মানব (বন-মানুষ, অথচ কতটা বানর আকৃতির বানর মানুষ) পিথেক্যানথ্রোপাসের উৎপত্তি। । এদেরই নানা শাখা প্রশাখা পরবর্তী নানা স্থান কাল-পরিবেশে উপরোক্ত নানা শ্রেণীর গুহামানব, যাযাবর শিকারি মানুষে পরিণত হয়েছে। তাদের ভিতর দিয়েই নানা কাল ও ক্রমবিকাশের নানাগণ্ডি পার হয়ে এসে বর্তমান জমানার পৃথিবীর নানা স্থানের নানা প্রকার সভ্যতা সংস্কৃতির মানব মানবী হয়েছে । আর যারা এরূপ মানবীয় বিকাশের অভাবে আজো সেই যার যার পৌরাণিক আদি উদ্বর্তন-স্তরে রয়ে গেছে, তাদের কতক শাখা প্রশাখার কথা ঐ উপরে শুনলেন—গেরিলা, শিম্পাঞ্জি, ওরাংওটাং–আরো কতো শাখা প্রশাখা এক কথায় বাদর নামে পৃথিবীর নানা স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে। প্রশ্ন হতে পারে তারা কেন গুহামানব, যাযাবর শিকারীমানব ও পরিশেষে বর্তমান জমানার পূর্ণ মানবে বিবর্তিত হতে পারলোনা, সে আলাদা ব্যাপার। সে হিম্মত-হেকমত (Properties) ওদের ছিল না। কেন ছিলো না সে 'কেন'র কোন উত্তর নেই। সব কেনরই যে উত্তর থাকবে তাও সত্য নয়। তবু, ওরা যে মানব হয়নি, কোনদিক হবেনা এতো সত্য, এতে তো আর অসত্যের, অবিশ্বাসের কিছু নেই, যেমন নেই এই ক্রম বিবর্তিত মানবীয় আকৃতি প্রকৃতিতে ।
>>>বানর ছিলেন শুনেই ভ্ৰকুঁচকে তাকালেন ? কিন্তু মাতৃগর্ভে ক্রমবিবর্তন ঠিক বানরের মতোই। ভূমিষ্ট হয়েও তো ঐ বানরের মতোই ক্রমবিবর্তন ; চার হাত পায়ে চলা আর দুষ্টুমি গুলে মনে করুন।
ব্যাঙচি দেখেছেন ? যেনো মাগুর মাছের বাচ্চা, কিন্তু ক্রমবিবর্তনে সে সম্পূর্ণ চারপাওয়ালা ব্যাঙ হয়ে যায়, লেজ যায় খসে, চেহারা এমন কি বর্ণ পর্যন্ত বিবর্তিত। এক জীবনেই যখন এই তখন লাখ লাখ, কি হাজার হাজার বৎসর ব্যাপী জাতীয় (Species) বিবর্তনে যে কি বিপুল পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে, চিন্তা করুণ। সুতরাং ভ্ৰকুচকানোর কি কারণ আছে ? এ আল্লাহরই অমোঘ বিধান ও নিয়ম-নিগড়, এই মনে করে। স্বস্তির নি:লুশ্বাস ফেন এবং কিসসা কাহিনীর বদৌলতে বেহেশত হতে পতিত কোন মানব-মানবীর বংশধর হওয়ার মিথ্যা দেমাগ ফের বেহেশতেই পাঠিয়ে দিন, সে বৃথা অহমিকা আর অনর্থক জিইয়ে রেখে কি ফল ! বরং সত্য জেনে এবং মেনে সুস্থ প্রজ্ঞ হন । নির্বুদ্ধিতা আর কতো ! আর কেন ? আর নয় ।
কারণ, এ হলো বিজ্ঞান আবিষ্কৃত নৃতাত্ত্বিক সত্য (Anthro pological truth) । কিন্তু তথাকথিত ধম সেখানে বেহেশত হতে আদম-হাওয়ার অর্থাৎ আদি মানব-মানবীর পৃথিবীতে পতনের গল্প খাড়া করে রেখেছে। আর বিজ্ঞানী অ-বিজ্ঞানী প্রভৃতি সকলের মুখপাত্র ( মাধ্যম ) রেডিয়ো-টেলিভিশানমারফতও ঐ কিসসা কাহিনীই এক তরফ মাঝেমাঝে প্রচার করছে।

>>মরহুম ইকবালের মতো মহাকবি, কি মরহুম গোলাম মোস্তফার মতো কবি ঐ কিসসা কাহিনী কাব্যের মারফত প্রচার করে জনসাধারণ তো বটেই, জাতির ভবিষ্যৎ স্কুল-কলেজ-ইউনিভারসিটির ছেলেমেয়েদের পর্যন্ত এসব বিষয়ে মুখ বানাবার কোশিশ করে গেছেন। দেখুন ‘পায়াম-ই-মাশরিক’এর তাসখির ই-ফিতরত' প্রভৃতি এবং ‘জাবিদ-নামার "ইবলিস কি মজলিসেগুরা’ ও ইবলিস ওয়া জেব্রাইল এবং গোলাম মোস্তফার 'বনি আদম কাব্যগ্রন্থের অবতরণ কবিতা । কিন্তু কী আশ্চর্য!
* আমনি ইংলণ্ডের সপ্তদশ শতাব্দীর মহাকবি মিলটনের ‘প্যারাডাইজ লষ্ট’ (বেহেশত বিচ্যুতি) ও প্যারাডাইজ রিগেনড ( বেহেশত পুন: প্রাপ্তি ) মহাকাব্য-দ্বয়ের কথা তোলা হবে, কিন্তু মনে রাখ! কর্তব্য তখনও চার্লস ডারউইন ( ১৮০৯–১৮৮২ ), ল্যামার্ক, উইজম্যানের এবং হিউগো ডি ভ্রাইজের ( ১৮৪৮ –১৯৩৫ ) আবির্ভাব ঘটেনি, এবং উপরোক্ত বিবর্তনের সত্যেরও (বিবর্তন বাদের ) আবিষ্কার হয়নি।
সুতরাং মিলটনের পক্ষে ঐ ধর্মীয় কিসসাই ছিলো সত্য, আর এ জমানায়ও ঐ মিথ্যা শিক্ষা দিয়ে ছেলেমেয়ে নষ্ট করা হবে ? না, এ সব ব্যাপারে কাব্য হবে বিজ্ঞান ভিত্তিক, চিন্তা করুন |
>>ঐ একই আদম হাওয়ার বংশধর হলে তাদের ফসিলের আকৃতি নানা প্রকার হয় কী করে ? নৃতাত্ত্বিক গবেষণায় যে নানা স্থানের হাজার হাজার কি লাখ লাখ বৎসর পূর্বের গুহা মানবের নানা মুখাকৃতির ফসিল পাওয়া গেলো কি করে তার একই আদম হাওয়ার বংশধর হয় ? আবার, অষ্ট্ৰিচ ( কোল, ভিল, মুণ্ড প্রভৃতি অনার্য ), আর্য, সেমেটিক, মংগোলীয়, নিগ্রো, দ্রাবিড় প্রভৃতি বিভিন্ন স্থানের বিভিন্ন সংস্কৃতির, আকৃতিপ্রকৃতির মানুষ কি করে? একই আদম হাওয়ার বংশধর হয় ? পুনঃ দেখুন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, অপরাপর দূর দ্বীপপুঞ্জে, কি আফ্রিকার ঘন বন জংগলে যে-সব অসভ্য মানব গোষ্টি পাওয়া গেলো, তারাই বা কি করে একই মানব গোষ্টি হয় ? আবার, কাচা মাংস-ভোজী, এমন কি মানুষ হয়ে মানুযের মাংস ভোজী অসভ্য মানুষরা ? তারাও একই মানব গোষ্ঠীর ? আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া না হয় প্রাচীন এশিয়া ইউরোপ আফ্রিকার ভূখণ্ডের সংগে কোন এক সময়ে সংযুক্ত ছিলো, তাই পদব্রজে ঐ সব জায়গায় গেলো। শেষে প্রবল সমুদ্র স্রোত ও ঢেউয়ে ভূখণ্ড ভেঙে চুরে আলাদা হয়ে গেল, তাই সবাই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে বিস্তর প্রভেদ হয়ে গেল ; মূল থেকে বিচ্ছিন্নরা ক্রমশ: অসভ্য হয়ে গেল— যদিও তার সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যদিও তা সম্ভবপরই নয়-- কিন্তু জলযান সৃষ্টি হবার অনেক আগে কি করে ঐ সুদূর সমুদ্র-দ্বীপপুঞ্জে মানুষ গেলো ? আফ্রিকার বন জংগলেই বা পৌছলো কোন কোন স্থলযানে চড়ে ? আর কেন ? হিংস্ৰ জানোয়ার সিংহ, ব্যাঘ্ৰ, হাতি, গণ্ডার, গরিলা আর বিষধর মেম্বা সাপ প্রভৃতি সরীসৃপের সংগে যুদ্ধ করে বাঁচবার জীবনই বা তারা বেছে নিল কেন ? সভ্য জনপদ মধ্য এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা, ইউরোপ ছেড়ে তারা অসভ্য জানোয়ারের মতো জীবন যাপন করতেই বা গেল কোন দুঃখে ? কেন ? বানানো কিসসা ছাড়া এসব প্রশ্নের কোন সদুত্তর নেই। সুতরাং আসল সত্যের ও সঠিক ধমের সন্ধান হবে কোন পথে, কি পন্থায় ?
ধরলাম, আদম হাওয়া দোষ করেছেন, তাই বেহেশত হতে তাদের ঠেলে ফেলে দেয়া হয়েছে এবং দুনিয়ার সকল মানুষই একই আদম-হাওয়ার বংশধর, আর তার বিভিন্ন জায়গায় পরবর্তীকালে ছড়িয়ে বিভিন্ন আবহাওয়ায় বিভিন্ন চেহারা ও প্রকৃতি পেয়েছে। কিন্তু সেই অতি প্রাচীনকাল থেকে গরু, ছাগল, মোষ, ভেড়া, ঘোড়া, গাধা, উট, কুত্তা, বিড়াল, হাস মুরগী প্রভৃতি গৃহপালিত পশু ও পাখী কোথা থেকে প্রায় সর্বত্রই বিভিন্ন আকারে প্রকারে তাদের সংগে এলো ? তাদেরও কি বেহেশত থেকে ঠেলে ফেলে দেয়া হয়েছিলো ? তা না হলে বেহেশতী মানব-মানবী-দ্বয় হালচাষ করতে, বোঝা বহন করাতে সেই প্রাচীন কালে সভ্য জনপদে (মধ্য এশিয়ার মরু-জনপদ মক্কা মদিনায় প্রধানত: ) গরু, ঘোড়া, উট, গাধা, ছাগল, ভেড়া, ডুম্বা পেলেন কোত্থেকে ?
কুত্তা, বেড়াল, হাস, মোরগ প্রভৃতি পেলেন কোথায়, কি ভাবে ? আর বনে তো এখনও ঔ সব পশু পাখীর বংশধররা বসবাস করছে ; তাদের যদি আদম-হাওয়া  সংগে করেই নিয়ে আসবেন, তবে বনে আবার তাদের বংশধররা হিংস্র বন্য অবস্থায় বিভিন্ন পরিবেশে বিভিন্ন রকম থাকে কি করে ? না, আধা সভ্য গুহা মানব, ষাযাবর মানবরাই বন থেকে ওদের জোড়া জোড়া বাচ্চা টাচ্চা ধরে’ এনে লালন পালন করেছে, বড়ো করেছে, নানা কাজে খাটিয়েছে, যেমন কুত্তাকে খাটিয়েছে গুহামুখে, কি বাহিরে পথহারায় (বলা বাহুল্য কুত্তাই মানুষের প্রথম পোষমানা জানোয়ার ও খেদমতগার), বিড়ালকে খাটিয়েছে সেই জমানার গৃহ শত্রু ইদুর, ছু.চে প্রভৃতি মারবার এবং তাড়ানোর কাজে । এই কুত্তার বংশধর খেঁকশিয়াল, আর বিড়ালের বংশধর বনবিড়াল (খাটাশ), নেকড়ে বাঘ, বাঘ আজো তো আমরা বন বাদাড়ে দেখতে পাই। বিড়ালের মুখাকৃতি দেখতেও অনেকটা বাঘের মতো । মানুষের ঘরে থেকে সভ্য হলেও শিকার ধরার ভঙ্গী টঙ্গী (প্রকৃতি) ঠিক বাঘের মতো ; বিড়ালকে তাই বলা হয় বাঘের খালা, বাঘের মাসী—যদিও মেরে মেরে মানুষ প্রায় সাবাড় করে এনেছে বাঘ, নেকড়ে বাঘ, খাটাশ প্রভৃতি। গরু, ছাগল, তুম্বা, উট, ঘোড়া, গাধা, মোৰ প্রভূতির মাংস মানুষ খেয়েছে, দুধ খেয়েছে ( আজো করে। কারো মাংস, দুধ খায় )। আবার কাউকে কাউকে যেমন ঘোড়া, গরু, উট, গাধা, মোষ, আর ঘোড়া ও গাধার মিলনে পয়দা খচ্চর প্রভূতিকে ভার বহন কাজে, কি হাল চাষ করার মতো কঠিনতর কাজে খাটিয়েছে, আজো খাটায়। বুনো ইাস মুরগী পালন করে তাদের মাংস খেয়েছে, ডিম খেয়েছে, আজে খায়। এই ভাবে বন্ত মানুষ, গুহা মানুষ নিজেরা ক্রমশ: সভ্য হয়েছে, ঐ সব গৃহ পালিত বন্ত জীব-জানোয়ারও তাদের সংগে থেকে থেকে ক্রমান্বয়ে অনেকটা নিরীহ প্রকৃতির হয়ে গেছে, আকারে প্রকারে তাদের বংশধর বন্যদের তুলনায় মানুষের সংগে সংগে খর্ব হয়েছে, ছৰ্বল হয়েছে, প্রায় সম্পূর্ণ মানুষের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছে, রয়েছে। সেই প্রাচীন প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে আজ পর্যন্ত তাদের ঐ সব কাজ-কমে খাটছে, কেউ কেউ আজো আহার যোগাচ্ছে, যদিও কাচা মাছ মাংস, কিংবা আগুনে সেক, কি আধ পোড় মাছ মাংস আর নয়, দস্তুর মতো রাধা ভাজা, বিজ্ঞানের রসায়ন পন্থায় আবিষ্কৃত কত রকম পরিমিত মসলা যোগে পাকানো রসনার স্বাদে মজাদার খানা-চৰ্য, চুৰ্য লেহ্য। পেয় অর্থাৎ পিনাও আর নদী খাল সরোবর থেকে ঘোলা পানি উবুড় হয়ে পশুর মতো মুখে চো চে করে পান করা নয়, বরং কতো কায়দার পেয়ালায় কি গেলাসে পানি পান তো আছেই, আরো আবিষ্কৃত হয়েছে দুধ, দই, ঘোল, চিনি সিরাপ, ফলের রস প্রভৃতির রকমারি পানীয় – শরবত - শরাব ! কাচ দুধ শুধু পাকানোই হয়না ; ঘি, মাখন, পনীর, ক্ষীর, ছানা, সন্দেশ, রসগোল্লা কতো কিছু হচ্ছে, আরো হয়তে হবে ।
এখন, মানুষেরই কারণে মানুষেরই মুখাপেক্ষী এই সব জীবের প্রতি মানুষেরা – বিশেষ করে’ এ দেশের মানুষেরা—কি রকম নিদয় ব্যবহার করছে প্রসঙ্গক্রমে তা-ও দেখুন। কুকুর বিড়ালকে রীতিমত আহার দেওয়া হয় না যদিও নিজেরা চর্ব, চূষ্য, লেহ্য, পেয় খাচ্ছে। কোন গৃহপালিত পশু পাখী মরলে, ছুঁচো, ইঁদুর মারা হলে তা পানিতেই ভাসিয়ে দেয়া হয়, কিংবা মাটি চাপা দেয়া হয়, কুকুরকে দেয়া হয় না। বিড়ালের খানা মাছের কাটা, মাংসের ঝুটা, উদ্বৃত্ত ভাত-তরকারী বাইরেই ফেলে দেয়া হয়। বিড়ালকে বড়ে একটা দেয়া হয় না। রীতিমত খানা পিন না পেয়ে এই সব ক্ষুধার্ত তৃষ্ণাৰ্ত গৃহপালিত জীবেরা চুরি করে কিছু খেলে তখন কিন্তু তাদের উপর জবর মার চালানো হয়, কখনো কখনো মেরেই ফেল৷
হয় ।
গরু, ছাগল, ভেড়া, উট, তুম্বা, মোষ, ঘোড়া, গাধা প্রভূতিকে রীতিমত খাওয়ানো হয় না । অথচ নিজের পেট পুরে খাওয়া হয়। হজ্জের মওসুমে গরু, ছাগল, উট, তুম্বা অকারণ অতিমাত্রা হত্যা করে, ভোজনে তা না লাগায় মিনা বাজারের নিকটবর্তী পাহাড়ের খন্দকে ঢালা হয়, অথচ বৈজ্ঞানিক উপায়ে বাটtভর খাদ্য বানিয়ে কিন্তু বিদেশে চালান দেয়া যেতো । দেশে দেশে অকারণ অতিরিক্ত ভোজনোৎসব লেগেই আছে। পুণ্যের মোহে ভোজ খাওয়ার লোভে নির্বিচার হত্যায় যে এ-সব জীবের বংশ একদা প্রাগৈতিহাসিক গুহা-যুগের বন্য মোষ বাইসনের মতো লোপ পেয়ে যেতে পারে সেদিকে করে। খেয়াল নেই ।
রীতিমত খানা পিন না দিয়ে অতিরিক্ত খাটিয়ে ঘোড়া, গাধা, মোষ, গরু দিন দিন অস্থিচর্ম কংকালসার করা হচ্ছে ; অনেক সময়ে অকালে মহা যাত্রা করতে তারা বাধ্য হচ্ছে ।
গোরু, ছাগল, ডুম্বা, উট, মোষের বাচ্চাদের তাদের মায়ের দুধ রীতিমত পরিমিত মাত্রায় খেতে নাদিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে, অথচ দুধ তো আসলে তাদের জন্যই। ঘাস, খড়, কুটো, ফেন, খৈল, ভুষি খাইয়ে বাচ্চাদের মায়েদের দুধের পরিমাণ বাড়ানোর বিশেষ তদ্বির নেই ; অথচ সামান্য কিছু খেয়ে টেয়ে যে টুকু দুধ পালানে হয় তা প্রায় সম্পূর্ণ টেনে নিয়ে নিজেরা নিজেদের বাচ্চাদের নিয়ে মজা মেরে মানুষ খাচ্ছে, কি বেচে পয়সা করছে, আর যাদের জন্য দুধ—সেই গৃহ পালিত তৃণভোজী পশুর বাচ্চারা-নিজেদের মায়ের দুধ খেতে না পেয়ে ক্ষুধার জ্বালায় ট্যা ট্য" করছে। আরো কি বেলেল্লা পনা ! সারা রাত দুধ খেতে না দিয়ে দুধ বেশী হবে আশায় বাছুর দিনের প্রায় দুপুর নাগাদ বেঁধে রাখা হয়। বাচ্চারা ট্যা ট্যা করে একদিকে মা হাম্বা হাম্বা করে কি চেঁচায় আর একদিকে ; মাঠে-ছাড়া গরু ছাগল মেষ বাচ্চার মায়ায় ঘাসও বেশী করে খেতে পারেন, বার বার ফিরে আসে উঠোনে কি গোয়ালে । সব শেষ হয় যেদিন নাখেতে নাখেতে দুর্বল বাচ্চা একদিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে’ জালা যন্ত্রণার অবসান করে ।
ধর্ম কোথায় ? এ সকল পাপ কিনা ? এর বিচার হবে কিনা— যদি পরকাল ও মানুষের ভালোমন্দ পাপ পুণ্য কর্যের প্রতিফল দেনেওয়ালা কেউ থেকে থাকেন—তা আপনারাই এখন বিচার করুণ ।
>>>>আর কি রকম কিসসা বানিয়ে মানুষকে ঠকানো হচ্ছে তাও দেখুন।
আদিম হাওয়ার চাষ-আবাদের জন্যই বেহেশত থেকে এক জোড়া গরু তাদের দিয়ে দেয়া হয় (বেহেশতে যেন কেবল কত গরুই আছে আর কি, আর সব গৃহপালিত পশু পাখি মাটি ফুড়ে আদম হাওয়ার সংগী সাথী হয়েছে )। সেই গরু দুটোও জোয়াল কাঁধে লাঙল টেনে হাটতে চায়না, বলে : "তোমরা নিষিদ্ধ ফল খেয়ে গোনাহ করেছ তার ফলে বেহেশতের আরাম-আনন্দ-বাগ থেকে ভূপতিত হয়েছ, আমাদের দোষ কি ? আমরা যে তোমাদের লাঙল বাইবো ?—আদম হাওয়া গরুদ্বয়ের কথায় হালচাষ ছেড়ে দিয়ে কাঁদতে থাকেন। আল্লাহ, জিব্রাইলকে পাঠিয়ে দিলেন, জিবরাইল গরুদ্বয়কে কতো বুঝালেন, গরু-যুগল কিছুতেই কথা শোনেন, ঐ এক কথা বলে—আদম হাওয়া পাপ করেছে, সে পাপে তারা ভুগবে কেন ? আর কথাও তো ন্যায্য । জেব্রাইল যুক্তিতে না পেরে করলেন কি ? না, রাগান্বিত হয়ে এয়সে হাঁক ছাড়লেন যে গরু যুগল বোবা ও আহমক হয়ে গেল ; আদম-হাওয়া এখন ষেদিকে চালান সেই দিকে চলে, য। করান তা-ই করে। কিন্তু তাদের ন্যায়-বিচার পাওনা যে এই ভাবে গেল রসাতলে তলিয়ে আর এতে করে যে জেব্রাইল আর র্তার এবং আদম হাওয়ার প্রভু স্বয়ং আল্লাহতালা আর ন্যায়-বিচারক নিরপেক্ষ থাকেন না, কিসসার জৌলুসে কে তা লক্ষ্য করে !

আরো কি মজা ! সকালে চাষ-আবাদ করে বীজ বপন করলে বিকালে গাছ ও শস্য হয়েটয়ে পেকে থাকে। আর সেই ফসল তুলে আনার সময়ে পৃথিবী অর্থাৎ মাটি আবার কি বলে ? বলে : এসেছ আমার বুড়ো কালে, যোয়ান কালে এলে যখন বীজ বুনতে তখন তখনি পাকা ফসল পেতে ? কেমন সব মজার কিসসা !
যুক্তির বহর ন্যায় শাস্ত্রের (লজিক) বিচারে টেকসই, অখণ্ডনীয়, অকাট্য মা করে না রেখে বৃথা এক দিকের কতকগুলো কিসসা বিশ্বাস করলেন, বললেন, আর দিকে ঠেক লেই নেহাত খেলো অযুক্তি কুযুক্তি খাড়া করলেন নিজেদের পাপ ঢাকবার জন্য, অজ্ঞতা লুকোবার জ ন্য  ; কিংবা তাতে না কুলোয়ে তথাকথিত সুন্নতি লাঠি উঁচিয়ে এলেন, এতে করে জিতেও কি আসলে পাপ ঢাকা পড়লো, অজ্ঞতা লুকালে ? না, তামাসার এক অজ্ঞান অন্ধকার গোনাহর রাজ্যে গোমরাহির মুলুকে বাস করলেন তা নিজেরাই এখন খুঁজে দেখুন, বুঝে দেখুন, আমি আর কতো কাহাতক বলবো । আর এ সবের কোন মানে হয় এই দর্শন-বিজ্ঞান-সাহিত্য শিল্প-কলায় পাওয়া সত্যের জমানায়, তার তথ্য ও তত্ত্বের মোকাবিলায় ?
সূত্র--  জিজ্ঞাসা—মাওলানা বজলুর রহমান বি টি

বিজ্ঞান দিয়ে সবকিছুর ব্যাখ্যা চলে না। There are many things in heaven and earth.

আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।”(২:১৭৭)