টপিকঃ ৭১ এর---সাত দফা চুক্তি তাজউদ্দীন আহমদ ও বঙ্গবন্ধু (দুই )

৭১ এর---সাত দফা চুক্তি তাজউদ্দীন আহমদ ও বঙ্গবন্ধু (দুই )

৭১ এর---সাত দফা চুক্তি তাজউদ্দীন আহমদ ও বঙ্গবন্ধু ( এক)
https://forum.projanmo.com/topic53576.html

তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার এবং ভারতের ইন্দিরা গান্ধী সরকারের মধ্যকার এই সেই শক্ত বোঝাপাড়া যা সাত-দফা আকারে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনীর বাংলাদেশে প্রবেশের আগে, ১৯৭১-এর অক্টোবর মাসে। স্পষ্টতই ইন্দিরা গান্ধী সরকার ও তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের স্বাক্ষরিত সাত-দফার “স্বাধীনতা সনদে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়ের দায়িত্ব ছাড়াও বাংলাদেশের বেসামরিক প্রশাসনে ভারতীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগের অধিকার ভারতকে প্ৰদান করা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,
***১৯৬৬ সালে শেখ মুজিব ৬ দফায় উল্লেখিত যতটুকু এখতিয়ার পাকিস্থান সরকারকে দিয়েছিলেন তার চেয়ে  বেশী এখতিয়ার তাজউদ্দীন আহমদ সাত-দফায় দিল্লীকে প্ৰদান করেছিলেন। স্বাধীনতাসার্বভৌমত্ব দূরের কথা, জনাব তাজউদ্দীন আহমদ ইন্দিরা গান্ধীর নিকট হতে যা পেয়েছেন তা শেখ মুজিবের প্রস্তাবিত পাকিস্তানের রাষ্ট্র-কাঠামোর অধীন ছয়-দফারাও ধারে কাছে নয়।***
এই সাত-দফাই হচ্ছে নয় মাস যুদ্ধ করে, অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করে আমাদের অর্জন, আমাদের “খাটি স্বাধীনতার সনদ’ যা নিয়ে কি না শারমিন আহমদ চুয়াল্লিশ বছর পরও নেতা ও পিতার অর্জন হিসেবে গর্ববোধ করছেন। ---- সূত্রঃ নেতা ও পিতা

দিল্লী প্রদত্ত তাজউদ্দীন আহমদ-এর নেতৃত্বে (মূলত ডি.পি. ধরের নেতৃত্বে) প্রবাসী সরকারের সাতদফার “স্বাধীনতার সনদে স্বাধীনতার ষোল আনাই যে ফিকে হয়ে যাচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ যে ব্যৰ্থ হতে যাচ্ছে, প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি মরহুম সৈয়দ নজরুল ইসলামের বিবেক তাতে সাড়া দেননি বলেই সাত দফা চুক্তি স্বাক্ষর করার পর বিবেকের তাড়নায় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।
নেতা ও পিতার সুযোগ্যা কন্যা শারমিন আহমদের মুখে যখন কথা ফুটেছে, তখন সুদীর্ঘ তেতাল্লিশ বছর পরে হলেও জনাব তাজউদ্দীনের দিল্লী থেকে আনা সাত-দফার “স্বাধীনতার সনদকে ও পরীক্ষা করে দেখিনা তা কতটুকু নির্ভেজাল খাটি, তাতে কত ‘ক্যারেট” স্বাধীনতা আছে, নির্মম সত্য হচ্ছে, সত্য শেষপর্যন্ত চাপা থাকে। না। তাজউদ্দীন কন্যা শারমিন আহমদ এবং তাকে যারা প্রমোট করছেন বা তার চারপাশে যারা ভীড় করেছেন তাদের মনে রাখতে হবে ১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫-এর অভ্যুথানে   খোন্দকার মোশতাক আহম্মদ অভ্যুথানকারীদের নিকট ফাস্ট চয়েজ বা একমাত্র চয়েজ ছিলেন কিনা এবং চয়েজ লিস্টে আর কারা ছিলেন বা কোন দেশের রাষ্ট্রদূতের নির্দেশে খোন্দকার মোশতাক আহাম্মদকে প্রেসিডেন্ট বানানো হয়েছিল তা উদঘাটিত হওয়া এখন সময়ের দাবি।
১৯৭৫-এর ১৪ই আগষ্ট মাঝরাত থেকেই মুজিবকোট খুলে রেখে কয়েকজন প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য অস্থির হয়ে ঘর-বাহিরবারান্দা করছিলেন। সামরিক অভ্যুথানটিতে পরিকল্পনা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার বা ‘র’- এর দ্বারা রেসকিউ না হয়ে অভ্যুথানটি পৈচাশিক ও লোমহর্ষক হত্যাকান্ডে পরিণত হওয়ায় এ লাশের বোঝা বহন করা সম্ভব হবে না বিধায় ভীত- সন্ত্রস্ত হয়ে তারা পিছিয়ে গিয়েছিলেন, কেউ কেউ পালিয়ে গিয়েছিলেন, কেউ নিহতও (?) হয়েছিলেন! ষড়যন্ত্রকারীদের অনেকেই নির্মম এবং করুণভাবে নিজেদের ষড়যন্ত্রের বলি হন। একবার মুখ খুলে গেলে তারা বা তাদের উত্তরসূরীরা পালাবার পথ পাবেন না।

কিন্তু বাংলাদেশকে ভারতের অংশ বানাবার প্রস্তাব নিয়ে যে চিত্তরঞ্জন সূতার ১৯৭১-এর ২৮শে ডিসেম্বর ইন্দিরা গান্ধীর নিকট ধর্না দিয়েছিলেন, তিনি কিন্তু ১৯৭৫-এর ১৪ই অগাস্ট রাতেই ঢাকা থেকে লাপাত্তা হয়ে যান!
১৯৭৫-এর ১৫ই অগাষ্টের অভু্যুত্থানকারীরা শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করে খোন্দকার মোশতাককে প্রেসিডেন্ট বানানোর পর কেন সংসদ বাতিল করেনি তা সহজেই বোধগম্য।
আবার বাহ্যত আওয়ামী লীগও সিপিবি ঘরানার হওয়া সত্ত্বেও ব্রিগেডিয়ার খালেদ মােশাররফের নেতৃত্বে ১৯৭৫-এর ৩রা নভেম্বর পাল্টা অভ্যুথানের পর অভ্যুথানকারীরা কেন সংসদ বাতিল করলেন এবং বন্দী আওয়ামী লীগ নেতাদের জেল থেকে মুক্ত করলেন না, তা-ও কিন্তু বোধগম্য না। হওয়ার কথা নয়! কান টানলে মাথা আসবে । হাত কিন্তু কানের কাছেই
চলে গেছে!
আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, আদালতের রায় বা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য ইতিহাসের অংশ হতে পারে, কিন্তু আদালতের রায় বা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য দিয়ে কোথাও কোনকালেই ইতিহাস লেখা হয়নি। মৃত-কে আদালতে অভিযুক্ত করা যায় না। যেমন সত্য, তেমনি ‘ইতিহাসের আদালতে মৃত হয়েও মুক্তি পাওয়া যায় না-এটাও সত্য |
আদালতের রায় দিয়ে বা রাষ্ট্রীয় ফরমান জারী করে ইতিহাস লেখা বন্ধ করা যায় না। শেখ মুজিব পাকিস্তানের আদালতে মিথ্যা দেশদ্রোহী হিসাবে অভিযুক্ত হয়েছিলেন, কিন্তু জনগণ আর ইতিহাসের রায়ে শেখ মুজিব “বঙ্গবন্ধু এবং ‘জাতির জনক” ।
জনতার তাড়া খেয়ে মিথ্যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারক পিছনের দরজা দিয়ে পলায়ন করেছিলেন। প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে জনতার রায় বা ইতিহাসের রায় ছাড়ে।
প্ৰতিশোধ-প্ৰতিহিংসা বা আবেগতাড়িত কল্পকাহিনী বাদ দিয়ে বস্তুনিষ্ঠ নির্মোহ ইতিহাসের জন্য জাতিকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আমাদের ইতিহাসবিদ, বুদ্ধিজীবী, গবেষকরা কতো কিছু নিয়ে, কত ঘটনার চুল-চেরা বিশ্লেষণ করেন, জ্ঞান বিতরণ করেন। কিন্তু অস্বাভাবিকভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হত্যাকান্ড প্রসঙ্গে কেবল কতিপয় ঘাতকের নিষ্ঠুরতা আর হা-হুতাশের মাঝেই আটকে থাকেন, তারা চান না যে পিছনের ষড়যন্ত্রটি উদঘাটিত হোক।
আজ নেতা ও পিতার কন্যা শারমিন আহমদ তাঁর পিতা মরহুম তাজউদ্দীনের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য নিয়ে যখন উপস্থিত হয়েছেন, যখন কিছু লোক তাজউদ্দীন আহমদ সম্পর্কে মনের মাধুরী মিশিয়ে কল্পকাহিনী
তৈরী করে মাঠে নেমেছেন, তখন আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ অনুসারীদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আবেগ-তাড়িত আষাঢ়ে গল্প পরিহার করে সত্যটা বলার জন্য। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না—তাদেরকে যাদের সকালটা শুরু হয় “জয় বাংলা’ আর ‘বঙ্গবন্ধু' উচ্চারণ দিয়ে, যারা খুঁজে ফিরে কে শেখ মুজিব বলার আগে বঙ্গবন্ধু-জাতির জনক বলেন না।
‘বঙ্গবন্ধু' এসেই তাজউদ্দীন আহমদের নিকট হতে প্রধানমন্ত্রীত্ব অর্থাৎ রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী ক্ষমতা “কেড়ে নিয়েছেন। ঘটনা সত্য এবং এভাবেই রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী ক্ষমতা “কেড়ে নিয়ে একই সাথে মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর নিইয়োগকৃত পর্দার আড়ালের ‘প্রধান নির্বাহী’ ডি.পি ধরকে বঙ্গবন্ধু মৃদু একটি ধাক্কা দিয়ে বিদায় করে দেন। যিনি (তাজউদ্দীন) দিল্লী থেকে সাত-দফার আবরণে সিকিম মডেলের করদ রাজের সনদ নিয়ে এসেছেন, সঙ্গত কারণেই তাঁকে রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর ক্ষমতায় রাখা এক মুহুর্তের জন্যও শেখ মুজিব রাষ্ট্রের জন্য নিরাপদ মনে করেননি।
১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বরের পরপর-ই ভারত সরকার ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশের প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োগ দেয়া শুরু করে। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান থেকে ফিরে এসে কাল-বিলম্ব না করে বাংলাদেশের প্রশাসন হতে ইতোমধ্যে নিয়োগকৃত ভারতীয় সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসকদের বের করে দেন।

তাজউদ্দীন এবং তাঁর অনুসারীদের প্রবল বিরোধিতাকে উপেক্ষা করে শেখ মুজিব দুই-আড়াই মাসের মধ্যে কোন ধরনের রাজনৈতিক, সামরিক বা কূটনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টির সুযোগ না দিয়ে মিসেস ইন্দিরা গান্ধীকে বাধ্য করেছেন প্রায় পাঁচ থেকে সাত ডিভিশন ভারতীয় সৈন্যকে থিতু হয়ে বসার আগেই কামানের নল গরম থাকতেই বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাহার করতে, যা ইতিহাসে নজিরবিহীন।

ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের ঘটনাটি ছিল খুবই নাটকীয়। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতা সফরে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সাধারণ কথাবার্তার মাঝে প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীকে অপ্ৰস্তুত করে দিয়ে বলেন,

-----“আমার দেশ থেকে আপনার সেনাবাহিনী ফিরিয়ে আনতে হবে।”

শেখ মুজিব এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এত সহজভাবে তুলতে পারেন, ভাবতেও পারেননি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অপ্ৰস্তুত অবস্থার সুযোগ নিয়ে শেখ মুজিব নিজের কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেন- “এ ব্যাপারে। প্রধানমন্ত্রীর আদেশই যথেষ্ট।” অস্বস্তিকর অবস্থা পাশ কাটাতে মিসেস ইন্দিরা গান্ধীকে রাজী হতে হয় এবং জেনারেল মানেকশকে বাংলাদেশ থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের দিনক্ষণ নির্ধারণের নির্দেশ দেন।

প্রায় সত্তর বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে, এখনও মার্কিন সেনাবাহিনী জার্মানী ও জাপানে ঘাটি গেড়ে আছে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত রাশিয়া ভেঙ্গে যাওয়া পর্যন্ত রেড আমীকে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলি হতে বিদায় করা সম্ভব হয়নি।
বঙ্গবন্ধু ভারতের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সেনাবাহিনীকে শক্তিশালি ও পূনর্গঠন করার  লক্ষ্যে ভারতকে বাদ দিয়ে পূর্ব ইউরোপের দেশসমূহ হতে সেনাবাহিনীর জন্য অস্ত্ৰ ও যুদ্ধ সরঞ্জাম ক্রয় করেন, মিলিটারী একাডেমীসহ নতুন করে সেনানিবাস (ক্যান্টনমেন্ট) তৈরীর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একই সাথে তাজউদ্দীনের বিরোধিতা উপেক্ষা করে  সেনাবাহিনীকে ওপর হতে ভারতিয় কূটনৈতিক জে.এন দীক্ষিতের খবরদারী বন্ধ করে দিয়ে বঙ্গবন্ধু সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।

বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূল না হওয়ায় বঙ্গবন্ধু অতি দ্রুতই ভারতের সাথে উন্মুক্ত সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দেন।
**ইন্দিরা গান্ধী সরকারের আপত্তি ও কড়া হুমকি এবং ভারতীয় পত্র-পত্রিকার ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, উপহাস এবং তাজউদ্দীন, শেখ মনি, সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক, কতিপয় আমলা, মন্ত্রীপরিষদের অধিকাংশ সদস্য এবং বাংলাদেশের মস্কোপন্থী মনিসিং-মোজাফফর-মতিয়া চৌধুরীদের প্রবল বিরোধিতাকে উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু।


১৯৭৪-এর ২২-২৪ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসি সামিটে যোগদান করেন। বঙ্গবন্ধু ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তোয়াক্কা না করে এবং তাজউদ্দীনের দিল্লীর কাছে দাসখত দেয়া সাত-দফা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ভারতের সাথে কোন আলোচনা না করেই ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে আরবদের পক্ষে বলিষ্ঠ সমর্থন প্ৰদান করে স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ ও অনুসরণ করার সামর্থ প্ৰদৰ্শন করেন।

ভারত ও বাংলাদেশ ইসরাইলকে স্বীকৃতি প্ৰদান করবে। এই শর্তে মুক্তিযুদ্ধে ইসরাইল-ভারত ও মুক্তিবাহিনীকে অর্থ ও বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্ৰ সরবরাহসহ অজ্ঞাত সংখ্যক সামরিক বিশেষজ্ঞ ভারতে প্রেরণ করে। ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার শর্তে মুক্তিযুদ্ধে ইসরাইলের সহায়তা নেয়ার বিষয়টি জানতে পেরে শেখ মুজিব মর্মাহত হন এবং তাজউদ্দীন ও ভারতের বিরোধিতা উপেক্ষা করে।

স্বাধীনভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ভারতের সাথে পরামর্শ না করে বঙ্গবন্ধু আরব রাষ্ট্রগুলিকে বলিষ্ঠভাবে সমর্থন করায় ভারতে বিরূপ প্ৰতিক্রিয়া হয়।
বাংলাদেশের নব্য ‘ইসরাইল লবির জন্য এটা ছিল বড় ধরনের এক পরাজয়। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু ভারত-সোভিয়েত রাশিয়া এবং এদেশে তাদের অনুসারীদের তোয়াক্কা না করে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানান।

***ভুট্টোর বাংলাদেশ সফর বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়ে ভারতের হাই কমিশনার সুবিমল দত্ত চাকুরী হতে অব্যাহতি নেন অথবা পদত্যাগ করেন। এক কথায় বঙ্গবন্ধু সামান্যতম রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সংকট সৃষ্টি না করে, কাউকে টের পেতে না দিয়ে দিল্লী থেকে তাজউদ্দীনের নিয়ে আসা স্বাধীনতার সাতটি কলঙ্কের মধ্যে অবশিষ্ট ছয়টি কলঙ্কের অন্ততপক্ষে পাঁচটিকে ‘সমূলে’ উপড়ে ফেলেন। এখানে শেখ মুজিব অনন্য,
অসাধারণ। যারা বলেন শেখ মুজিব প্রশাসক হিসাবে ব্যর্থ তাদের জন্য এটা হচ্ছে এক প্রচন্ড চপেটাঘাত ।

’৭২-এর সংবিধানে ‘মুজিবনগর’, ‘মুজিবনগর সরকার’ নামক কোন শব্দ অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রণীত আমাদের রাষ্ট্ৰীয় সংবিধানে মুজিবনগর, মুজিবনগর সরকার বা প্রবাসী সরকারকে বৈধতা দিলে ইন্দিরা গান্ধী সরকারের সাথে প্রবাসী সরকারের স্বাক্ষরিত মুক্তিযুদ্ধের কলঙ্ক সাত-দফা চুক্তিসহ অন্যান্য অপ্রকাশিত চুক্তি এবং বৈধতা দেয়ার প্রসঙ্গটি চলে আস তো।
অর্থবহ কারণেই শেখ মুজিব-এর মুখে কখনো “সাত-দফা’ উচ্চারিত হয় নি। এভাবেই কৌশলগত কারণে সাত-দফার অস্তিত্বটা পর্যন্ত তিনি স্বীকার করেননি।

সঙ্গত কারণেই বঙ্গভবন বা কোন সরকারী অফিসের দেয়ালে লেখা তালিকায়ও প্রবাসী সরকারের কোন নাম-গন্ধ শেখ মুজিব রাখেননি এবং আজও তা পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। সংগত রাজনৈতিক কারণেই শেখ মুজিব তাঁর জীবদ্দশায় একটিবারের জন্যও মুজিবনগর গমন বা মুজিবনগরের নাম উচ্চারণ করেননি।

--------------ক্রমশ---

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ

Re: ৭১ এর---সাত দফা চুক্তি তাজউদ্দীন আহমদ ও বঙ্গবন্ধু (দুই )

thumbs_up thumbs_up thumbs_up thumbs_up