টপিকঃ বিবর্তন-- ধর্ম ---প্রথম মানব ও মানবী

বিবর্তন-- ধর্ম ---প্রথম মানব ও মানবী
পনারা বিজ্ঞানকে নস্যাৎ করে দিতে পারেন না । এক কথায় ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচরণের উলটো পালটা মনে করে অথচ বিজ্ঞানকে মেনে নিতেও পারেন না চোখ বুজে । ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচরণকে এক্ষেত্রে এবং এই রকম সবক্ষেত্রে উদ্ভট কাল্পনিক বলে’ উড়িয়ে দিয়ে ; সুতরাং ধর্ম ও বিজ্ঞানে  মূলত: কোন বৈপরীত্য নেই, বিরোধ নেই, একে অপরের পরিপূরক, প্রতিদ্বন্দ্বী নয় ইত্যাকার গালভরা কথা ঐ রকম অবৈজ্ঞানিক অসত্য ব্যাখ্যা অনুসারে বলতে পারেন কি ? পারেন না। বরং ঐ সকল বৈজ্ঞানিক তথ্য ও তত্ত্ব (সত্য) আবিষ্কারের প্রতি আল্লাহর দেয়া চোখ দুটি বন্ধ করে রেখেই বলতে পারেন ; তাতে করে কি আসল সত্য ধর্ম - বিশ্বাস ও আচরণ রক্ষিত হয়, কিংবা হবে কোন দিন ? কোন দিনও না ।
>>কাজেই আদম হাওয়ার কাহিনীর সঠিক তাৎপর্য নিশ্চয়ই এই রকম :
আদম হাওয়া কোন চিরন্তন একই মানব গোষ্ঠীর আদি মানব মানবী নন, বরং বিভিন্ন স্থলের ক্রম-বিকশিত সভ্য মানব মানবীই আদম হাওয়া, আর সব অসভ্যরা তাদের জ্ঞাতি গোষ্টি হলেও ঐ রকম আকস্মিক (mutation ) সভ্য জ্ঞান-বিজ্ঞান আহরণ ও জীবন-যাপন-উপযোগী আত্মিক ও দৈহিক বিবর্তন লাভ করতে পারে নি বলে তাদের আর মানব না বলে জীন বলা হয়েছে, কেননা :
এবং এর আগে জীনদের আমি বায়ুর আগুন দিয়ে বানিয়েছি। —হিজর ২৭।
>তাৎপর্য হলো : বায়ুর প্রকোপে যেমন আগুন বাড়ে, ঘর বাড়ী পোড়ায় এবং মানুষ ও অন্যান্য  জীব-জন্তু দগ্ধ করে মারে, তেমনি জীনের অর্থাৎ অসভ্য মানুষেরা রিপুর উত্তেজনা-বশে যা-তা করে বেড়াতে, তাই ঐ মেছাল ।
>কাজেই দেখুন :
‘আর যখন তোমার প্রভু ফেরেশতাদের [ পুর্ব প্রত্যাগত পাক রুহুদের (১) ] বললেন ; আমি দুনিয়ায় এক প্রতিনিধি বানাবো, তারা [ পাক রুহুল কোদছ অর্থাৎ পবিত্র আত্মারা (২) ] বললেন : তুমি কি দুনিয়ায় এমন খলিফা ( প্রতিনিধি ) বানাবে যারা সেখানে ফসাদ করবে, রক্তপাত ঘটাবে ।  আর আমরাইতো ( তোমার গুন-গান করছি ; তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি ; তিনি বললেন ; আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না। —বাকারা ৩০—৩১ ।
অতএব আদিম-হাওয়ার আবির্ভাবের সময়ে তাদের জমানায় এবং তারও পূর্বেকার জমানায় ফসাদী, রক্ত-পাতকারী অসভ্য  বন-মানুষ, গুহা-মানব (জেন-পরী) না থাকলে কি উপরোক্ত কাইজা-ফসাদ ও রক্তপাতের কথা উঠতো ?
উঠতোই না । মানে এক স্তর থেকে এলেও আদম-হাওয়া এখন সভ্য ।
সুতরাং আগুনে পোড়ানোর মতো রিপুর অতো উত্তেজনা অসভ্যদের মতো তাদের নেই, কিংবা কম ; তাই মাটির মতো অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা মন মেজাজ শরীফের কারণে তারা মাটির মানুষ ; আবার, প্রাণ যা-ই হোক, জীবের জড় দেহের মুল উপাদান মাটির সার ; ---- মানুষকে আমরা (আল্লাহ ) মাটির সার (ছোলালাতেমমিন তিন ) থেকে বানিয়েছি । তার পর তাকে রাখি শুক্র (ডিম্ব) বিন্দু রূপে এক নিরাপদ স্থানে (মাতৃগর্ভে ) ; তারপর ঐ শুক্রডিম্ব-বিন্দুকে করি জমাট রক্তপিগু, জমাট রক্তপিণ্ডকে মাংসপিণ্ড, সে মাংসপিণ্ডে দেই অস্থি ( মেদ-মজ্জা ), তাতে পরাই ঐ মাংস ; তখন তাকে (প্রাণ সঞ্চার করে' ) করি নবতর সৃষ্টি ( মানব-দেহ ও আত্মা ) । অতএব বড়ো মহিমাময় আল্লাহ, তিনি সর্বশ্রেষ্ট স্রষ্টা — মোমেমুন ১২-১৪
>>বিজ্ঞানও বলে ; মৃত্তিকা-সার প্লেটো প্লাজম দিয়েই আসলে জড়দেহের বিবর্তন ; আল কোরান কালামও যে মূলতঃ তাই বলে তা ঐ আয়তের তাৎপর্যেই বোঝা যায় ; রক্ত-মাংস-মেদ-মজ্জা ক্রমশঃ কিভাবে প্রকাশ পায় সে-সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জন্মবৃত্তান্ত ( Biology ) ও কোরাণিক তথ্যে বিশেষ তফাৎ নেই, গরমিল নেই, কেবল বিজ্ঞান যেখানে অনেক সময়ে প্রাণকে মনে করে ঐ প্লোটোপ্লাজমের ( মৃত্তিকা-সার ) যোগসাজস মেসিনের মতো, কোরআন-কালাম সেখানে আল্লাহর অস্তিত্ব থেকেই— মূলতঃ তার উদগম ও উদভব ঘোযণা করে ।
>সুতরাং আদম হাওয়া কি কোরআন উক্ত ও বিজ্ঞান বর্ণিত বিবর্তনের বাইরে ছিলেন যে খামাখা তাকে বেহেশত থেকে বিচু্যত কল্পনা করা হচ্ছে ?
মাটির দেহ-ধারী জীব যে সূক্ষ্ম চেতন লোক মৃত্যুর পরপারের স্বর্গে ( বেহেশতে ) কি নরকেও ( দোযখে ) থাকতে পারেন, এতোটুকু বুদ্ধি বিবেচনাও কি আমাদের হবে না ?
বলা হবে আদম-হাওয়াকে নিয়মের ব্যতিক্রম কিন্তু কোরআন ঐ নিয়মের ব্যতিক্রম বলছেন কোথায় ? আদম হাওয়া কি ঐ ইনছান (মানব) মণ্ডলীর বাইরে ? কী করে হয় ? অতএব আদম হাওয়ার স্বৰ্গবাস, তার থেকে বিচ্যুতির কিসসাকাহিনী রূপক ;
>কোরআনে বর্ণিত সেমিটক-ইরাণীয় আদম-হাওয়া ছিলেন আসলে বর্তমান জমানার আদন-অঞ্চলের এক বাগানে ( জান্নাতে ), ফলমূলাহারী ; অসভ্যদের মতো আর কাচামাংসাদি খেতেন না । সেই আলাদা বাগানকেই সে ক্ষেত্রে জান্নাতে আদম বলা হয়েছে ।
জান্নাত অর্থই বাগান। মনে করা অসংগত, তাসমীচিন নয় যে তারা ঐ অসভ্যদের থেকে সভ্যতার কারণে সরে এসে আলাদা সুখ-স্বাচ্ছন্দময় এক বাগানে বসবাস করতে শুরু করেন । তা বর্তমান জমানার অদিন-অঞ্চলই। এ সকল কারনেই তারা ঐ মাটির মানুষ  এবং আল্লাহও যে বিবর্তন  নিয়মেই সব-কিছু করেছিলেন, করছেন ও করবেন। কোনরূপ অসম্ভব, অস্বাভাবিক কারবার যে কোনদিন হয়নি, হচ্ছেনা, কিংবা হবেনা, তাও এখন ভালো করে বুঝুন।
**অমনি আল কোরআনের এ-ধরনের আয়ত টেনে আনা হবে :
নিশ্চয়ই র্তার কার্যকলাপ, যখন তিনি কোন-কিছু ইচ্ছ। করেন, বলেন হও আর তা হয় -ইয়াছিন ৮২ ৷
তিনিই আছমান-জমীন বানিয়েছেন সঠিকভাবে, এবং একদিন তিনি বলেন ‘হও’ আর তা হয়।— আন আম ৭৩ ৷
আসলে আল্লাহ, কী ? সর্বশ্রেষ্ট বিশ্ব-বিজ্ঞানী, দাশনিক, শিল্পী ('শিল্প-সংস্কৃতি-কথা-প্রবন্ধের প্রকৃতি, পরম প্রজ্ঞাবান প্রভূ, শিল্পী)দুনিয়ার সকল গুণ ও জ্ঞান কর্ম তারি থেকে এসেছে, তারি প্রতিচ্ছবি বহন করছে। এখন দুনিয়ার গুণ ও জ্ঞান কম-ব্যাপারে ঐ গুণী ও জ্ঞানীর মনে প্রথম জাগে সৃষ্টির ইচ্ছা, সৃষ্টির বেদনাও তাকে বলা যেতে পারে। তার ফলে জন্মে প্রথম মানসিক প্রকল্প, তার থেকেই ক্রম-বিবর্তনের মাধ্যমে জন্ম নেয় কোন গুণকম, কি জ্ঞান-কর্ম। বিশ্বস্রষ্টার সৃষ্টি সম্পর্কেও ঠিক ঐ কথা খাটে ।
মূলতঃ মামুষে ঐ ক্রম অভিজ্ঞতা অভিব্যক্তি স্তর সমূহ তো এসেছে তার থেকেই। সুতরাং বিশ্বের যে কোন সৃষ্টি বা কার্য কলাপের পূর্বে বিশ্বস্রষ্টার ঐ সৃষ্টি-বাসনা জাগে, তাকে আর মানুষের বেলা যে সৃষ্টির বেদনা  তা বলা যেতে পারেনা, কারণ তিনি সর্ব রকম সুখ দুঃখের অতীত, নিরাকার, নির্বিকার। কিন্তু সেখানেও ঐ ইচ্ছা বা বাসনা জাগে, ফলে তিনি বলেন হও, আর তা হয় । তাৎপর্য হলো ঐ প্রকল্প ক্রমে ক্রমে সৃষ্টিরূপে পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। আর তার এই প্রকল্প-গুলোকেই এক কথায় বলে আইয়ানে ছাবেতা" সৃষ্টির মূলসূত্র সমূহ” লাওহে মাহফুজ ।
কাজেই আছমান জমীনও তিনি অমনি তার অদৃশ্য প্রকল্প অনুসারে একটা নিয়ম পদ্ধতি বা শৃঙ্খলা অনুসারে বানিয়েছেন, এখনও কতোকিছু বানাচ্ছেন, বানাবেন । অতএব বানাবার ঐ বাসনা বা প্রকল্প যখনি জাগে তখনি তার পক্ষে—আমাদের দিবারাত্রির মতো— একটা সময় ৷ 'বলেন’ কথায় সেই প্রকল্প অনুসারে কার্যকলাপ হওয়ার পর্যায় শুরু হয় বোঝা যায়। আর তা হয়’ অর্থ একদিন তা পরিপূর্ণতা লাভ করে ।
সুতরাং হঠাৎ কোন-কিছু কোন দিন হয়নি, হচ্ছেনা বা হবেনা । হঠাৎ যদি কিছু হতেও দেখি তার অন্তরালে থাকে অনেক দিনের অনেক কারণ বা প্রকল্প সমুহ । কোথায় যাবেন ? বিবর্তন নিয়মের ব্যতিক্রম— কিবা স্রষ্টার বেলা, কিবা মানুষ, কি অপর জীব-জন্তু, গাছ লতা পাতা, তৃণ-গুল্ম —এমন কি যে কোন জড়-পদার্থ- কারে বেলায়ই কোথাও ছিলোনা কোনদিন, নেই, থাকবেনা কোনদিন । আর সৃষ্টির নিয়মের বাইরে অসম্ভব, অস্বাভাবিক কোন-কিছু কোনদিন হয়নি, হচ্ছেনা, কি হবেন ।
> কেবল হিপনোটিজম-মেসমেরিজম— সম্মোহন পর্যায়ের প্রবল ইচ্ছাশক্তি প্রভাবে—যা করা যায়, করান যায়, দেখা যায়, দেখান যায় তাকেই মাত্র অলৌকিক কায ( মোজেজা-কেরামত ) বলা যেতে পারে, তা-ও ঐ সৃষ্টির বিবর্তন নিয়মের বাইরে নয় আদৌ, মরহুম মনীষি আমীর আলী তার জগৎ-বিখ্যাত পুস্তক স্পিরিট অব ইসলামে এ সম্পর্কে যে যুক্তিপূর্ণ তথ্য লিখে রেখেছেন তার থেকেও এ বহু বিতর্কিত বিষয়টা সম্পর্কে আপনাদের সঠিক ধারণ হতে পারে।
These wonders are called 'Karamat performed as they are by virtue of the power gisted to them—(sufis) by God. In these days they would probably be attributed to what is called “psychic influence.” Hypnotism and mesmerism, under the name of “Tasirul Anzar' and ‘Telepathy' have long been known in the East. Some of the acts might be due to unconscious hypnotism,
এই অলৌকিক কাণ্ডগুলোকে ( ছুফির পরিভাষায় ) কারামত বলে। আল্লাহর দেয়া ক্ষমতায় তারা তা করে থাকেন। আজকালকার যুগে এগুলোকে হয়তো বলা যাবে আত্ম-শক্তির প্রভাব [ ইচ্ছাশক্তি ]। 'তাছিরুল আনজার’ নামে হিপনেটিজম  মেসমেরিজম এবং টেলিপ্যার্থী প্রাচ্যে বহুকাল পূর্ব থেকেই বেশ জানাশোনা । কতক কার্যকলাপ অবচেতন মনের ক্রিয়া –ম্পিরিট অব ইসলাম ৪৭• পৃ: ।
হিপনেটিজম মেসমেরিজম বাংলা সম্মোহন বিদ্যা । প্রবল ইচ্ছা শক্তি অপর মনের উপর চালিয়ে তাকে বেহু'শ করে, পুনঃ আধা বেহশ আধা হুশে এনে তাকে যা দেখান যাবে তা-ই দেখবে, সম্ভবপর যা করতে বলা হবে হয়তো তা-ই করবে। প্রাচ্যে বহুকাল থেকে এসব ক্রিয়া তাছিরুল আনজার বা দৃষ্টি-প্রভাব নামে পরিচিত হয়ে আসছে। আর টেলিপ্যার্থী হচ্ছে এক মন থেকে আর এক মনে ধার কি দূর থেকে প্রভাব বিস্তার করা। এটার গুরুত্বই বেশী, এবং আমরা যাদের পয়গম্বর, কি ওলিউল্লাহ বলি তাদেরই বিশেষ করে এই ক্ষমতা থাকে । কেবল পৃথিবীর সুদূর থেকে সুদূরে নয়, এমনকি ইহলোক থেকে পরলোকে, কি পরলোক থেকে ইহ-লোকে ঐ রকম বিশিষ্ট আত্মার সংবাদ আদান প্রদান, কি সম্মোহন শক্তি প্রয়োগ চলতে পারে। ঐ রকম অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাই মাত্র তার সম্যক ধারণা করতে পারেন, অনভিজ্ঞের কাছে মনে হবে কিসসা-কাহিনী। কিন্তু এ-ও স্বাভাবিক ও সম্ভবপর। তা ছাড়া মরামানুষকে কেউ বাঁচাতে পারেন না, পানির উপর দিয়েও কেউ হাটতে পারেন না । শুধু সশরীর শূন্যের উপব দিয়াও চলতে পারেন না ।
>আর স্বামী বিবেকানন্দ যে চন্দ্র সূর্যের গতি রোধ বা রদ করতে পারেন বলে’ হঠাৎ উক্তি করেছিলেন মনেয় জোরে তাও সত্য হতে পারেন। [ দেখুন তার গ্রন্থাবলী, স্মরণ করুন তার অকাল মৃত্যু, মাত্র ৪১ বৎসর বয়সে র্তার মৃত্যু হয়, কাজেই এই অকাল মৃত্যুই যে মানুষ রোধ বা রদ করতে পারে না, কী করে’ সে চন্দ্র সূর্যের গতি রোধ কি রদ করবে, কিংবা উপরোক্ত রূপ যে কোন অসম্ভব কায করবে ] |
কিন্তু কোন ব্যক্তিকে সম্মোহিত করে ঐ পানির উপর দিয়ে হাটা কি শূন্যে উড়া, কি মরা মানুষের ছবিও সম্মোহিত অবস্থায় দেখান যেতে পারে। কিন্তু তাতো সত্য নয়, সম্মোহিতের কল্পিত ছবির এক মাত্র তারি সাম্মাহিত নজরে পড়া মাত্র। অজ্ঞ লোকে ঐ সম্মোহিত অবস্থায় দেখা ব্যাপারগুলোকে, কি স্বপ্নেদেখা ঐ প্রকার ব্যপার গুলোকে মহাপুরুষদের বেলা সত্য বলে চর্মচক্ষে সুস্থস্বাভাবিক অবস্থায় দেখা বলে প্রচার করে প্রাধান্য দিয়ে ঐ রকম খাটি মহাপুরুষদের প্রাকৃত জীবনও অস্বাভাবিক অপ্রাকৃত অসম্ভব অলৌকিকতায় বিকৃত করে আসছে যুগে যুগে । ফলে, এখন কদাচিৎ সত্যিকার ঐ রকম খাটি বোজর্গের আবির্ভাব হলেও সাধারণ মানুষ ঐ শোনা ও অতি-বিশ্বাস-করা অস্বাভাবিক অসম্ভব বোজগী তাদের জীবনে না দেখে আর বিশ্বাস করতে, কি মানতে চায়না । কিংবা বিশ্বাস করলেও, মানলেও পুর্ববর্তী বোজর্গের মতে অসাধারণ বোজর্গ আর মনে করে না।
মরা মানুষ বাচানো নয়, তবে আধিব্যাধি ঐ আত্মশক্তি, ইচ্ছ। শক্তি ( will force ) চালিয়ে ক্রমে ক্রমে—যে ক্ষেত্রে যতোটুকু সময় ও শক্তি প্রয়োজন - তা দিয়ে- সারিয়ে তুলতে পারেন বটে – অভিভক্তরা— ঐ রোগী যদি মরনাপন্ন থেকে থাকে— তবে তার রোগ মুক্তিকে মরামানুষ বাচানোর রূপ দিয়ে থাকে, উদ্দেশ্য অবশ্য তাদের পীর বোজর্গের মাহাত্ম্য বাড়ানো ।
আবার, কৃত্রিম পীর ফকির দরবেশ মৌলবী মৌলানার বার্ষিক সভায় কি মহফিলে কেউ চোর সেজে নিজেদের জানাশোনা পরামর্শ করা ব্যক্তির, কিংবা অজানা ব্যক্তিরও কখনো কখনো মাল চুরি করে, কৃত্রিম চুরি যাওয়া মালের ব্যক্তি, কি অজ্ঞাত ব্যক্তি হুজুর কেবলাকে গিয়ে চুরির খবর দেয়। হুজুর দু'হাত তুলে মোনাজাত করেন, অমনি কৃত্রিম চোর আপনা-আপনিই বোবা হয়ে হাত বিকল অবস্থায় এসে হুজুর কেবলার পায়ে পড়ে। মাল দিয়ে দেয়, হুজুর কেবল আবার দোয় করেন। সে পুনরায় স্বাভাবিক সুস্থ হয়ে যায়। সবই হুজুর কেবলার কেরামতি বোজর্গ দেখাবার জন্য, বাড়াবার জন্য বানাউটি ঘটনা । বিশ্বাস না হয় পরীক্ষা করে দেখুন। —খাট পীর মোশেদের উরসে অবশ্য কখনো ও-রকম বানানো অস্বাভাবিক অসম্ভব ব্যাপার  ঘটেইনা । যা কিছু ঐ উপরের কারো কারো ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা। অজ্ঞ লোকে তাকে বাড়িয়ে বলুক সেজন্য তিনি দায়ী নন।
আর হাত ছাফাই-টাফাইতো ম্যজিশিয়ানদের ম্যাজিক, ঐ যাদুকরদের তথাকথিত যাদুটোনা, ভেলকি, ভান, ফাকিবাজি । জন্মগত বিকলাংগ আদি যা কিছু বিকৃতি আমরা দেখি, তা-ও পিতামাতা অর্থাৎ ঐ স্রষ্টাদ্বয়ের ভিতরের নিজস্ব বিকৃতির প্রকাশ, আদৌ সৃষ্টির বিবর্তন নিয়মের বাইরে অসম্ভব অস্বাভাবিক নয় কিছু।
কাজেই, আদম হাওয়াকে বাগানের সব গাছের নিকটে যেতে বলা ও তার ফল আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করতে বলার তাৎপর্য বোঝা যায় ; আর ঐ গাছের নিকটে? যেতে নিষেধ করার তাৎপৰ্য্যও বোঝা যায় ; সে গাছ জীবন বৃক্ষ ;
বাইবেল (ইঞ্জিল) তৌরাত তো পুরো মাত্রায় তাকে The tree of life (genesis 2:9)  জীবনে ঐ অসভ্য জনোচিত অতি জৈব আচরণ না করা । কিন্তু রক্তে যে আজতক অসভ্যতা মিশে রয়েছে । ফলে আদম হাওয়ার আধ্যাত্মিক পদস্খলন হলো অতি যৌনাচারে অবিবাহিত অবস্থায় ।
অবশ্য বিবাহের কথা ঐ আদিম জামানায় কী করে উঠে যখন যৌন মিলনে উভয়ের সম্মতি ছিলো? উঠে । কারণ আল্লাহ, চাননি এবং এখনও চান না ষে সভ্য মানব-মানবী অসভ্যদের মতো, পশুর মতো নির্বিচারে পুনঃ পুনঃ যেখানে সেখানে যখন তখন যৌন ক্রিয়া করে যাবে, সংযম শালীনতাও চেয়েছিলেন, তা-ই আদিম জমানার বিবাহ এবং বিবাহিত জীবনে স্নেহ প্রেমভালোবাসার উৎস।
এখনও আল্লাহ তা-ই চান। আদম-হাওয়া সেই আদিম জমানায় তা প্রথমতঃ রাখতে পারেন নি, এখনও হয়তো বিবাহিত জীবনে অনেকে তা রাখতে পারেন না । কিন্তু সাধারণ মানুষের বেলা যা-ই হোক, আদম হাওয়ার মতো পয়গম্বর, কি অলিউল্লা ( আল্লাহর বন্ধু ) হবার মানুষের বেলা ঐ অতি যৌনাচার এবং অপর যে কোন রিপুর তাবেদারী করা নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মহা ক্ষতিকর তো বটেই, পতন ডেকে আনে।
অথচ আদম-হাওয়া সেই মহা ক্ষতিজনক কার্য করে’ যেতে লাগলেন । ফল হলো কী ? ফল হলো সেই আদিম সভ্য পয়গম্বর, কি অলিউল্লাহ ( আল্লাহর বন্ধু) হবার মানব-মানবীর অধ্যাত্ম পতন। সম্বিত ফিরে পেয়ে অতি অনুতাপ ও উদভ্ৰান্ত হালহকিকতে কিছুকাল তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে এদিক সেদিক ঘুরলেন। বলা যেতে পারে ঐ আদন অঞ্চল ছেড়ে হাওয়া চলে গেলেন বর্তমান জমানার জেদ্দায় (বলা হয়ে থাকে আরবী ভাষায় জাদ্দাতুন অর্থ দাদী আম্মা ; হাওয়া সেমিটিক ইরানীয় বংশীয়দের দাদী আম্মার মতো, তাই পরবর্তীকালে ঐ অঞ্চলের নাম করণ করা হয় জেদ্দা ) ।
আদম ইরাণ তুরাণ ভারত পার হয়ে সিংহলে গিয়েছিলেন কিনা তারও কোন দলিল প্রমান নেই। কিন্তু বলা হয় তখন সিংহল ( লংকা ) ছিলো ভারতের কতকগুলো দ্বীপমালা দিয়ে যুক্ত ; নাম ছিলো সরন্দ্বীপ ; আর আদমের ঐ দ্বীপমালা পার হয়ে ঐ সরন্দ্বীপে পৌছার কারণেই ঐ দ্বীপমালার একত্রে নাম করণ করা হয় আদম সেতু (Adam Bridge) ; সিংহলের যে পাহাড়ের চূড়ায় তিনি উঠেছিলেন, কিছুকাল ছিলেন, তাকে বলা হয় আদম-চুড়া (Adam peak)।
**বলা হয় স্বর্গ থেকে ঐখানে তাকে ফেলে দেয়া হয়, সেটা যে গাঁজাখুরী গল্প তা' বোঝাই যায় ; ঐ দুই নাম ইংরেজীতে আজো আছে, অন্য ভাষায় হয়তো হারিয়ে গেছে।
**পরবর্তীকালে - রাম রাবনের সংগে যুদ্ধে জিতে গিয়ে লংকায় ঐ দ্বীপমালা পার হয়ে পৌছেছিলেন বলে নাম করণ করা হয় রামেশ্বর সেতু বন্ধ ! দুই দিকেই গাজাখুরী কিসসা আছে ; এবং কোনটারই আসল দলিল প্রমাণ কিছু নেই।
**ইরানী (আর্য) সেমিটিক ধারার আদিম মানবের পক্ষে সেই দুরুহ জমানায় অতোদূর পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব হতেও পারে, না-ও হতে পারে। তা যাক ।
>>ঐ অতি যৌনাচারে পদস্খলনের কারণে, অধ্যাত্ম পতনের কারণে আত্ম অনুশোচনায় তিনিও হাওয়ার মতো বহুদূর, এমন কি পুরুষ বলে বেশী দূর ভ্রমণ করেছেন, তা বোঝা যায়। এখন, ঐ অধ্যাত্ম সাময়িক পতনকেই বলা হয়েছে স্বগ-বিচূতি (Paradiselost), কারণ মনের যে সুখশান্তি মৃত্যুর পরপারের সুখশাস্তি—অর্থাৎ স্বর্গের প্রতীক, তাকে তারা সাময়িক হারিয়ে ফেলেছেন ; পরে অবশ্য পরস্পর পুন: দেখাশুনা হয় এবং আল্লাহর তরফী পরস্পর প্রেম-পথ পেয়ে সংষম-স্বালীনতার ভিতর দিয়ে আল্লাহর জেকের ( গুণ কর্ম ) ফেকের ( জ্ঞান কর্ম) করে আল্লাহর দীদারে ( দর্শনে ) মিলনে (মে'রাজে) পৌছেন।
ঐ স্বৰ্গীয় শাস্তি লাভ, চির স্বস্তি লাভ করেন, তা-ই পুন স্বর্গ প্রাপ্তি (Paradise Regained) আর শয়তান ঐ ষড়রিপু—কাম-ক্ৰোধ-লোভ-মোহ-মদ-মাৎসর্য— যে কোন একটির, কি একাধিকের, কি সবগুলোর তাবেদারী ; ফেরেশতা তেমনি এ-রকম ক্ষেত্রে স্ব-প্রবৃত্তি ; স্থল আকৃতি প্রকৃতি দিয়ে ( Personified করে' ) সব বোঝানো হয়েছে ধর্মগ্রন্থসমূহে বিশেষ করে তৌরাত, ইঞ্জিল ( বাইবেল) ও আলকোরআনে ।
**এ না ধরলে, না মানলে, বিজ্ঞানের সংগে ঠক্কর অনিবার্য এবং বিজ্ঞান সেখানে জিতবে ; কারণ, তার সত্য পরীক্ষিত, প্রমাণিত ; আর ধর্মের হাতে ঐ প্রাচীন, অতি প্রাচীন অবৈজ্ঞানিক অদার্শনিক, অশৈল্পিক পন্থী ব্যাখ্যায় কোন প্রমাণ পঞ্জী নেই, আছে ধর্মগ্রন্থের দোহাই আর কল্পনা, কিন্তু নেহাত  দোহাই আর কল্প-কিসসা যে পরীক্ষিত প্রমাণিত বাস্তব সত্যের মোকাবিলায় টিকতে পারেনা, তাতো দেখতেই পাচ্ছেন । তবু এ জ্ঞান, অধিজ্ঞান আমাদের কবে হবে ।
এখন, আশা করি, এও বুঝলেন যে যৌনক্রিয় ও সন্তান লাভ স্বেচ্ছাধীন সংযম-শালীনতা পর্যায়ে সম্ভবপর।
যাদের বিয়ের তওফিক নেই তারা যেন বিয়ে না করে যাবৎ না আল্লাহ তাদের আপন ফজল থেকে সচ্ছল করেন। —মূর৩৩।
ঐ তওফিক এক ব্যাপক বিশ্লেষণ যোগ্য শব্দ ; ওতে করে যেমন শরীরিক মামসিক নৈতিক আধ্যাত্মিক তওফিক অর্থাৎ স্বচ্ছলতা, স্বাচ্ছন্দ বোঝায়, তেমনি পরিবার প্রতিপালনের মতো পর্যাপ্ত জীবিকার সংস্থানও বোঝায়, আর তার সংগে জাগতিক জন সংখ্যা বুদ্ধি এবং সেই হিসাবে পরিমিত জীবিকা অর্থাৎ জীবন-ধারন-উপযোগী খাদ্য সংস্থানের অর্থাৎ তওফিকের অভাবও তে ওতপ্রোত জড়িত।
আবার আল্লাহর ফজল অর্থ আল্লাহর অনুগ্রহ । তারও ব্যাপকত ন ন রকম। হু হু করে পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছে, সংগে সংগে খাদ্যাভাবে মানুষের মৃত্যুহার বাড়ছে, অশিক্ষা কুশিক্ষ বাড়ছে অভাবে স্বভাব নষ্ট হচ্ছে, যেমন চাকরি বাকরি জীবনে অসদুপায়ে অর্থ উপার্জন বাড়ছে, তেমনি চাকরি বাকরি কি অপর কর্ম সংস্থানের অভাবে চুরি ডাকাতি, রাহজানি, কালোবাজারি প্রভূতি দিন দিন বাড়ছে ; এমত অবস্থায় আল্লাহর ফজল- প্রেম, দয়া, দক্ষিনাদি থেকে – যে সব নর নারী ঐ শারীরিক মানসিক নৈতিক আধ্যাত্মিক ও পারিবারিক—যে কোন একটি, একাধিক, কি সবরকম তওফিক পাওনা থেকে হচ্ছেন বঞ্চিত, তারা আজীবন চিরকুমার, চিরকুমারী, কি যার পক্ষে যতোদিন দরকার কুমার, কুমারী থাকলে তা ধর্মের দিক দিয়ে সমাজের দিক দিয়ে এবং রাষ্ট্রের দিক দিয়ে কেন দোষনীয় কার্য হবে ? বরং ন্যায় সংগত সমযোপযোগী কার্য হবে। এবং যারা ঐ তওফিক কিছু পাচ্ছেন বলে’ বিবাহিত জীবন যাপন করছেন, কি করবেন তাদের পক্ষেও পরিবার পরিকল্পনা আইন-অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জন্ম নিয়ন্ত্রণ করে? মুখী সুস্থ মুশিক্ষিত পরিবার গড়ে তুললে তা-ই বা দোষনীয় কার্য হবে কেন ? বরং ধর্ম-সম্মত, দেশ-রাষ্ট্র ও সময়-সংগত কার্য হবে। কেন না, অতিরিক্ত সস্তান জন্ম দিয়ে যদি তাদের সুচারু লালন পালন করা না যায়, অস্বাস্থ্যে-কুম্বাস্থ্যে সস্তান ও প্রসূতি উভয়ই ভোগে, উভয়দিকেরই মৃত্যুহার যায় বেড়ে, ওদিকে পর্যাপ্ত ভরণ পোষনের অভাবে অসৎপথে অর্থ উপার্জনের মওক খুজতে হয়, অশিক্ষা কুশিক্ষাই সস্তানরা পেতে থাকে, তাতে করে ধৰ্মত: ন্যায়ত: কেন পিতামাতা দায়ী হবেন না ? সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছেই বা কেন জবাবদিহী হবেন না ?
সাধনার কথা আর কী বলবো ! অধ্যাত্ম সাধনা ক্ষেত্রে যদি অতি যৌনাচারের আশংকা থাকে, আদম-হাওয়ার মতো অধ্যাত্ম পতনের সম্ভাবনা থাকে তেমন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ পথ-প্রদর্শকের ( মোশেদের ) নির্দেশে, পরিচালনাধীনে—সাময়িক, কি চিরজীবন-যার পক্ষে যা প্রয়োজন— কুমার, কুমারী থাকায় কোন গোনাহ খ’ত তো নেইই, বরং অধ্যাত্ম উরুজের ( উন্নতির ) সম্ভাবনা থাকলে উন্নতি হলে তেমন সাধক-সাধিকার পক্ষে ওতে করে হয় পুন্য এবং পরিনামে অধ্যাত্ম সিদ্ধি ও মুক্তির কারণ হয়ে দাড়ায়
—দৃষ্টান্ত আছহাবে কাহফ, খাজা খিজির, আছহাবে ছুফ ফা, রাবেয়া বসরী, শাহজালাল, হাজি মহসীন প্রভৃতি বোজর্গনের অনুপম জীবন-দর্শন ।
>>আদম-হাওয়া, সম্পর্কে সংক্ষেপত:
কোরাণিক শব্দ-সন্তার বাক্য-বিন্যাস বহু ক্রম-বিকশিত ক্রম-বিবর্তিত তাৎপর্যে ভরপুর আর ঐ সকল প্রাচীন অতি প্রাচীন তরজমা তফসিরে কতো যে প্রচলিত অপ্রচলিত য়িহুদী ও খৃষ্ঠান  কিসসাকাহিনী ও স্বকপোল কল্পনা ঢুকানো হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই ; বরং ঐ দার্শনিক বৈজ্ঞানিক শৈল্পিক গুণ ও জ্ঞান-গবেষনায়ই পাওয়া যেতে পারে আল-কোরআনের সঠিক তাৎপর্য-তাবিল—মননশীল সাহিত্য এবং মতবাদ - দর্শন বিজ্ঞাম শিল্প—সংস্কৃতি ।
>নিশ্চয়ই কোরআনের জাহের ( প্রকাশু ) বাতেন ( গোপন অর্থ, তাংপর্য) আছে, এবং সেই বাতেনের জন্য আর এক বাতেন আছে—এমনি সাত বাতেন পর্যন্ত । সপ্ত স্তরে দার্শনিক বৈজ্ঞানিক শিল্পিক অর্থাৎ সাংস্কৃতিক সকল তাৎপর্য ভাবীল তথা গুণ, জ্ঞান, শান হাছেলের ক্রম-বিকাশ, প্রগতি-প্রকাশ, পরিণতি— বিবর্তন শেষ ]– হাদিছ ।
>স্তরে নাজেল এবং প্রত্যেক আয়াতের জাহের বাতেন ( প্রকাশু ও গোপন ) অর্থ আছে, এবং প্রত্যেক সীমায় পুর্ণ প্রকাশ আছে —হাদিছ।
এর দ্বারা শরিয়ত (শুরু ) অথর্পৎ সামাজিক, কখনো কখনো রাষ্ট্রিক-ব্যবহারিক পর্যায়াদি, তরিকত অর্থাৎ ঐ গুণকর্ম  জ্ঞান-কর্ম মূলক পন্থ। সমূহ অর্থাত ক্রমবিকাশ, হাকিকত অর্থাৎ অধ্যাত্ম প্রগতি-প্রকাশ বা অভিজ্ঞতাঅভিব্যক্তি, এবং মারেফাত অর্থাৎ অধ্যাত্ম পরিণতি, পুর্ণতা, কামালিয়াতও সাব্যস্ত হয়, বোঝা যায় । এই দার্শনিক বৈজ্ঞানিক শৈল্লিক সংস্কৃতির জমানায় আমরা যা শিক্ষা দিচ্ছি তার সব ধারণা কতোদূর দর্শন-বিজ্ঞান-সম্মত, শিল্প-শৈলী-সংগত সত্য, কতোদূর এ প্রগতি ও বিবর্ত ন-বিরোধী, সুতরাং গোমরাহীর পথ, ধর্মের নামে আপোগণ্ড, অবিজ্ঞানী, অদার্শনিক অজ্ঞান অশিল্পী তৈরীর শিক্ষা ও পস্থা তা একে একে বোঝা যাবে ।
সূত্র--  জিজ্ঞাসা—মাওলানা বজলুর রহমান বি টি, কোরআনের আলোকে প্রানের প্রাগৈতিহাসিক উৎস ও মানব মনের গুপ্ত রহস্য—জাকির হোসেন

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ