সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন নিয়াজ মূর্শেদ (০১-০৮-২০১৬ ০২:০৫)

টপিকঃ বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

আজ গেলাম চুল কাটতে এক সেলুনে। হিন্দু নাপিতের দোকান। তাদের সেলুনে হিন্দু দেবদেবীর দুটি ছবি লাগানো। সকালে পূজা দিয়ে সেলুন শুরু করে। চুল কাটতেছে নাপিত আর একজন আরেকজনের সাথে কথা বলতেছে। সেই সেলুনে এক দাড়িওয়ালা লোক ঢুকলো। চুল কাটার সময় তিনি নাপিতকে বলেন, কি সব ছবি লাগাই রাখছিশ দোকানে। এইসব ছবি সরা। সকাল সকাল এসব বাজে ছবি দেখলে দিন খারাপ যাবে উনার। নাপিত তখন রেগে বলে, আমার ভগবানের ছবি আমার দোকানে রাখলে আপনার কি সমস্যা। আপনারা যে নারায়ে তাকবীর বলে সারা বিশ্বে মারামারি কাটাকাটি করতেছেন আমরা কিছু বলি। নাপিতের কি সাহস! পরে বলে, কালকেও নাকি অপর পাশের এক দোকানদার সে পূজা দিয়ে দোকান শুরু করে বলে ধমকাধমকি করেছে। আরেক নাপিত বলে, আমার ধর্ম আমি পালন করি, আপনার ধর্ম আপনি পালন করেন। আমি আপনার জন্য আমার বাপ দাদার ধর্ম ক্যান পালন করমু না? দোকানে এক হুলস্থুল কান্ড।  hairpull

এসব দেখে একটা কথা মনে জাগলো। আমরা বাংলাদেশিরা কি আসলে চরম সাম্প্রদায়িক এক জাতিতে পরিনত হয়েছি? আরে, সে তার দোকানে পূজা দেয় না অন্য কিছু করে তাতে আপনার কি? আপনি চুল কাটতে এসেছেন চুল কেটে টাকা দিয়ে চলে যাবেন। উসকানীমূলক কথাটা বলার দরকার কি ছিলো?  thumbs_down

এটাই কি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত?

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আউল (২৪-০৭-২০১৬ ১৬:৩০)

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

বাংলাদেশ অবশ্যই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ

এখানে দেখুন

"We want Justice for Adnan Tasin"

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

লজ্জার ব্যাপার! দাড়িওয়ালা ছাগলটাকে আপনি কিছু বললেন না? আশ্চর্য হয়ে যাই, আগে তো এমন ছিল না! কিছু সংকীর্ণমনা উল্লুক আগেও ছিল, কিন্তু এমন নির্লজ্জের মত বলত না  surprised

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমানের পূর্বপুরুষ সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিলো... সেন বংশের রাজত্বকাল অব্ধি। তার আগে পাল রাজত্বকাল পর্যন্ত বৌদ্ধ ধর্ম, তারও আগে মহেঞ্জেদারোর সমকালীন অজানা কোনো স্থানীয় এ্যানিমিস্টিক বিলিফ সিস্টেম প্রচলিত ছিলো।

এদের বেশিরভাগই নিম্নবর্ণের হিন্দু ছিলো। পূর্ব ইউরোপ, ইরান থেকে আগত নোমাডিক, যুদ্ধপ্রেমী আর্য্য অভিবাসীরা নিজেদের অভিজাত উচ্চবর্ণ ঘোষণা করে ভারতবর্ষের স্থানীয় আদিবাসীদের নিম্ন বর্ণে ("দাস") স্থান দিয়েছিলো।

পূর্ববঙ্গীয় জনপদ ধর্মান্তরিত হবার জন্য মোটামুটি প্রস্তুতই ছিলো। এ অঞ্চলে মুঘল সাম্রাজ্য সম্প্রসারিত হবার আর পেছন ফিরে তাকাতে হয় নি।

কে জানে, ওই লোকটির পূর্বপুরুষরা হয়তো মিলিট্যান্ট হিন্দু ছিলো... সে কালে হয়তো ইসলামিক সিম্বল দেখলে হয়তো বাঁকা মন্তব্য করতো।

Calm... like a bomb.

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

কোন নাপিতের দোকনে কি কি বল্ল আর  সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নস্ট হয়ে গেলো?
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এত ঠুনকো নয়
আমাদের দেশ প্রতিবেশী দেশের মত নয়,
এখানে মানুষ  সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বেশী আন্তরিক

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

MAD লিখেছেন:

কোন নাপিতের দোকনে কি কি বল্ল আর  সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নস্ট হয়ে গেলো?

নাপিতের দোকানও তো সমাজের একটা অংশ নাকি? সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ঠুনকোই। কথায় কথায় প্রতিবেশী টেনে আনবেন না; নিজেরা কী করছি, সেটির আগে মূল্যায়ন করুন, বিচার করুন। চুল কাটাতে যাওয়া লোকটি গর্হিত অপরাধ করেছেন। কারো ধর্মবিশ্বাসে আঘাত দেওয়াটা ঠিক না। সে তো কারো ক্ষতি করে সেটা করছে না। নিজের ব্যবসাস্থলে চর্চা করছেন। ব্যাপারটা যদি উলটো হত ধরেন, কোনো সনাতন ধর্মাবলম্বি মুসলমান কোনো নাপিতের দোকানে কাবা শরীফ দেখে নাক কুঁচকে ফেলে কিছু একটা বাজে কথা বললো। তখন কেমন লাগতো? উল্লেখ্য, ধর্মের প্রতি আমার কোনো বিশ্বাস আর নেই। আমার কাছে সনাতন, ইসলাম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সব এক। তবে অবিশ্বাসী বলে বেকুবের মত বিশ্বাসীদের আঘাত করাটা কিংবা এক বিশ্বাসীর অন্য আরেক বিশ্বাসীর বিশ্বাসকে হেয় করাটা আমার কাছে অত্যন্ত কুরুচিকর মনে হয়!

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

দেশের বেশিরভাগ মুস্লিমদের পূর্বপুরুষ সোনাতন ধর্মালম্বি ছিলেন এটা বললে তো কল্লা থাকবে না...... একে অন্যের ধর্মের প্রতি আন্তরিক হওয়া উচিৎ

  “যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ, ঋণং কৃত্ত্বা ঘৃতং পিবেৎ যদ্দিন বাচো সুখে বাচো, ঋণ কইরা হইলেও ঘি খাও.

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

অনেক দেশ থেকে আমরা অনেক শান্তিতে আছি
http://www.sheershanewsbd.com/2016/07/27/136400

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৭-০৭-২০১৬ ১৬:০৫)

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

MAD লিখেছেন:

অনেক দেশ থেকে আমরা অনেক শান্তিতে আছি
http://www.sheershanewsbd.com/2016/07/27/136400

চোখে টিনের চশমা আর কানে তুলো গুঁজে রাখলে শান্তিতে তো থাকবেনই...

Calm... like a bomb.

১০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সীমান্ত ঈগল (মেহেদী) (২৭-০৭-২০১৬ ১৬:৩৯)

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

২/৪ টা ঘটনা দিয়ে বাংলাদেশের পুরো সমাজের ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ নষ্ট হয়ে গেছে, ধারনাটা মোটেই সঠিক নয়। আর প্রতিবেশীর উদাহরনটা উনি [mad] বলেছেন, এটা বোঝাতে যে,  ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক বেশী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ভারতের মত বাংলাদেশে কয়টা দাঙ্গা হয়েছে, বলেন তো! তাই, বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের পুরো সমাজের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়ে গেছে, এটা বলা যাবে না। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি যদি না থাকতো, তাহলে হিন্দু জনসংখ্যা এদ্দিনে হয়তো ৮.৬ থেতে ২/৩ এ নেমে আসতো; আর বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানদের অবস্থা (যথাক্রমে ০.৬ ও ০.৩ থেকে) ০.০১ এ নেমে আসতো। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বলেই বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ এখনো টিকে আছে। আমার এক হিন্দু ফ্রেন্ড সেদিনও স্বীকার করলো, ভারতের (মুসলিমদের উপর নির্যাতনের) তুলনায় তারা এদেশে বেশ সুখে-শান্তিতেই বসবাস করছে। নিউজ পেপারগুলো কি বললো, তার উপর ভিত্তি না করে আপনি তৃণমূল পর্যায়ে যান, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উপর জরিপ করুন- তারা কেমন আছে! জবাব পেয়ে যাবেন।

আর অন্য ধর্মের দেব-দেবীকে কটাক্ষ করা, গালি দেয়া অবশ্যই অনুচিত। এ ব্যপারে পবিত্র কোরআনে নির্দেশনা দেয়া আছেঃ-

"আল্লাহকে ছেড়ে যাদেরকে তারা ডাকে তাদেরকে তোমরা গালি দিও না; কারণ এতে তারাও সীমালংঘন করে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিবে।" [সূরা আল-আন'আম, আয়াত ১০৮]

উদাসীন লিখেছেন:

তবে অবিশ্বাসী বলে বেকুবের মত বিশ্বাসীদের আঘাত করাটা কিংবা এক বিশ্বাসীর অন্য আরেক বিশ্বাসীর বিশ্বাসকে হেয় করাটা আমার কাছে অত্যন্ত কুরুচিকর মনে হয়!

ঠিক এই কাজগুলোই আমাদের তথাকথিত বেশিরভাগ মুক্তমনাগন করে থাকেন। ইসলাম ধর্মের নবী, সাহাবা ও মহান ব্যক্তিদের নিয়ে কুরুচির্পূণ বক্তব্য, নোংরা মন্তব্য এদের লেখায় প্রায়শঃ দেখা যায়। এমনকি মহান আল্লাহকে নিয়েও অনেক নোংরা বক্তব্য এসেছে এদের পক্ষ থেকে।

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন MAD (২৭-০৭-২০১৬ ১৬:৪৩)

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

invarbrass লিখেছেন:
MAD লিখেছেন:

অনেক দেশ থেকে আমরা অনেক শান্তিতে আছি
http://www.sheershanewsbd.com/2016/07/27/136400

চোখে টিনের চশমা আর কানে তুলো গুঁজে রাখলে শান্তিতে তো থাকবেনই...

এমন ঘটনা খুজলে অন্যদেশের হাজার হাজার কাহিনী পাওযা যাবে, তাই বলছি সেই তুলনায় আমাদের দেশ অনেক ভালো আছে, আমাদের দেশে সরকার অপরাধীদের ধরছে বিচার করছে- প্রশ্রয় দিচ্ছে না

http://www.noyonchatterjee.com/2015/11/ … st_75.html

http://www.bbc.com/bengali/news/2015/09 … r_beef_ban

http://www.bbc.com/bengali/news/2016/07 … ims_family

১২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন নিয়াজ মূর্শেদ (২৭-০৭-২০১৬ ১৯:০০)

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

invarbrass লিখেছেন:

বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমানের পূর্বপুরুষ সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিলো... সেন বংশের রাজত্বকাল অব্ধি। তার আগে পাল রাজত্বকাল পর্যন্ত বৌদ্ধ ধর্ম, তারও আগে মহেঞ্জেদারোর সমকালীন অজানা কোনো স্থানীয় এ্যানিমিস্টিক বিলিফ সিস্টেম প্রচলিত ছিলো।

এদের বেশিরভাগই নিম্নবর্ণের হিন্দু ছিলো। পূর্ব ইউরোপ, ইরান থেকে আগত নোমাডিক, যুদ্ধপ্রেমী আর্য্য অভিবাসীরা নিজেদের অভিজাত উচ্চবর্ণ ঘোষণা করে ভারতবর্ষের স্থানীয় আদিবাসীদের নিম্ন বর্ণে ("দাস") স্থান দিয়েছিলো।

পূর্ববঙ্গীয় জনপদ ধর্মান্তরিত হবার জন্য মোটামুটি প্রস্তুতই ছিলো। এ অঞ্চলে মুঘল সাম্রাজ্য সম্প্রসারিত হবার আর পেছন ফিরে তাকাতে হয় নি।

কে জানে, ওই লোকটির পূর্বপুরুষরা হয়তো মিলিট্যান্ট হিন্দু ছিলো... সে কালে হয়তো ইসলামিক সিম্বল দেখলে হয়তো বাঁকা মন্তব্য করতো।

তার মানে বলতে চাচ্ছেন বাংলাদেশিদের পূর্বপুরুষ সব নিম্নবর্ণের হিন্দু ছিলো? কথাটা মানতে পারলাম না। উচ্চবর্ণের হিন্দুও ছিলো। এই যে চৌধুরী বংশ, তালুকদার বংশ এসব অভিজাত মুসলিম বংশের লোকদের পূর্বপুরুষ তো উচ্চ বর্ণের হিন্দু  ছিলো।

আমি একটা ব্যাপার বুঝলাম না। ভারতের পূর্ববঙ্গে (বাংলাদেশ)  আফগানী, ইরানী, তুর্কী এলো ইসলাম নিয়ে তাহলে বাংলাদেশিরা দেখতে তাদের মতো না কেনো? দেখতে তো পূর্ব ভারতীয়দের মতো লাগে।

১৩

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

নিয়াজ মূর্শেদ লিখেছেন:

তার মানে বলতে চাচ্ছেন বাংলাদেশিদের পূর্বপুরুষ সব নিম্নবর্ণের হিন্দু ছিলো? কথাটা মানতে পারলাম না। উচ্চবর্ণের হিন্দুও ছিলো। এই যে চৌধুরী বংশ, তালুকদার বংশ এসব অভিজাত মুসলিম বংশের লোকদের পূর্বপুরুষ তো উচ্চ বর্ণের হিন্দু  ছিলো।

আমি লিখেছিলাম "বেশিরভাগই" - সবাই নয়।
২ দিন আগের খবর + ফলোআপ

Calm... like a bomb.

১৪

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

invarbrass লিখেছেন:

বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমানের পূর্বপুরুষ সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিলো... সেন বংশের রাজত্বকাল অব্ধি


তার মানে আগে সবাই সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিলো, পরে মুসলমান হয়েছে ? লিংকটি দিন কোন পত্রিকার সংবাদ এটি?

১৫ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন নিয়াজ মূর্শেদ (৩১-০৭-২০১৬ ০২:০১)

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

MAD লিখেছেন:
invarbrass লিখেছেন:

বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমানের পূর্বপুরুষ সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিলো... সেন বংশের রাজত্বকাল অব্ধি


তার মানে আগে সবাই সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিলো, পরে মুসলমান হয়েছে ? লিংকটি দিন কোন পত্রিকার সংবাদ এটি?

সার্চ দিয়ে সূত্র পেলাম। হুম... তাহলে আমরা বাংলাদেশিদের সবার পূর্বপুরুষ সব হিন্দু ছিলো। উচ্চ বংশের হিন্দুরা (বেশির ভাগ পশ্চিমবঙ্গীয়) নিচু বংশের হিন্দুদের (বেশির ভাগ পূর্ববঙ্গীয় বা বাংলাদেশি) উপর বর্নবাদী আচরন করায় বাংলাদেশিদের পূর্বপুরুষেরা গনহারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। 

https://s32.postimg.org/q80fq3g9h/w_Eg_Af8o.jpg

https://s31.postimg.org/72dbzwh17/s_C8p_KXq.jpg

১৬

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

উদাসীন লিখেছেন:

নাপিতের দোকানও তো সমাজের একটা অংশ নাকি? সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ঠুনকোই। কথায় কথায় প্রতিবেশী টেনে আনবেন না; নিজেরা কী করছি, সেটির আগে মূল্যায়ন করুন, বিচার করুন। চুল কাটাতে যাওয়া লোকটি গর্হিত অপরাধ করেছেন। কারো ধর্মবিশ্বাসে আঘাত দেওয়াটা ঠিক না। সে তো কারো ক্ষতি করে সেটা করছে না। নিজের ব্যবসাস্থলে চর্চা করছেন।

এ ধরণের আচরণ শুধু নিয়াজ মোর্শেদদের নজরেই পড়ে। আমার এলাকাতে আমি কখনোই এ ধরণের কোন আচরণ দেখিনি  বরং উল্টোটা দেখেছি যা বললে হয়তো অনেকেরই গাত্রদাহ হবে।

১৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (৩১-০৭-২০১৬ ১৩:০২)

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

ইন্টারেস্টিং! @নিমু ভাইকে ধন্যবাদ। আপনার রেফারেন্স থেকে গুগলিং করতে গিয়ে আরো বেশ কিছু থিওরী পেলাম। একটি থিওরী মতে, এখানকার আদিবাসীরা সরাসরি বুদ্ধিস্ট-এ্যানিমিস্ট ধর্ম থেকে ইসলামে কনভার্ট হয়েছিলো।

এই উপমহাদেশের অধিবাসীরা একাধিকবার ধর্মান্তরিত হয়েছিলো। প্রাচীন বৈদিক ধর্মের বর্ণপ্রথার কারণে অনেকেই অন্য ধর্ম/মতবাদে ধর্মান্তরিত হচ্ছিলো। ব্রাহ্মণ্যবাদী বর্ণপ্রথাকে প্রত্যাখ্যান করে, সাম্যতার বাণী প্রচার করে বৌদ্ধধর্ম রীতিমতো ঝড়ের বেগে ভারতবর্ষে প্রসারিত হয়েছিলো। একই ধাঁচের মতবাদের জৈন ধর্মও জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো, বিশেষ করে ভারতীয় শাসকগোষ্ঠীদের মধ্যে। সে কালে বৈদিক ধর্ম মোটামুটি কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলো। চীনা পরিব্রাজক ফা শিয়েন (৪র্থ শতাব্দী) ও শিউয়েনৎসাঙ (৬ষ্ঠ শতাব্দী)-র বর্ননায় ভারতবর্ষে বৌদ্ধধর্মের ব্যাপক প্রভাবের আভাস পাওয়া যায়। ৭ম ও ৮ম শতাব্দীতে কয়েকজন বৈদিক স্কলারের জন্ম হয় যাঁরা সনাতন ধর্মকে পুনর্প্রতিষ্ঠা করেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আদি শংকরাচার্য্য। ইনি মাত্র এক দশকের মধ্যে ভারতবর্ষের ব্যাপক এলাকায় বৌদ্ধ ধর্মের বদলে সনাতন ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন।

কাজটা প্রোফেটিক ধরণের কঠিন শোনালেও বাস্তবে অতটা নয় - আদিশঙ্কর বিভিন্ন রাজ্যে বৌদ্ধ মঠের ভিক্ষুদের সাথে যুক্তিতর্কের লড়াই করে বেড়াতেন। তিনি সনাতনী ধর্মে পক্ষে, ভিক্ষুরা বৌদ্ধ ধর্মের পক্ষে বিতর্ক করতেন।

প্রাচীন কালে বিতর্কে পরাজিত পক্ষকে বিজয়ীর যুক্তি/মতবাদ গ্রহণ করে নিতে হতো। তর্কবাগীশ শঙ্করাচার্য্য বিভিন্ন এলাকার বৌদ্ধ পণ্ডিতদের বিতর্কে হারিয়ে দিতে থাকেন, ফলে সেসব এলাকার ভিক্ষুরা সনাতন ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য হয়, সেখানকার শাসনকর্তা-গণও ধর্মগুরুদের অনুসরণ করেন, আর প্রজাদের ব্যাপারে বলাই বাহূল্য। হিন্দু লিজেণ্ড মতে সুপারম্যান আদি শঙ্কর মাত্র ১০ বছরের মধ্যে ভারতের ব্যাপক এলাকাজুড়ে সনাতন ধর্ম পুনর্প্রতিষ্ঠা করেন।

আদি শঙ্করের আগে আসামেও কুমারিলা ভট্ট নামে একজন বৈদিক ইভাঞ্জেলিস্ট একই কাজ করেছিলেন। তবে শেষ তর্কে হেরে গিয়ে মনের দুঃক্ষে তিনি চীনাবাদামের খোসায় অগ্নি সংযোগ করে আত্মহত্যা করেন (apparently, পেট্রোল আবিষ্কার না হবার কারণে সেকালে সুইসাইডের সবচেয়ে কষ্টকর পথ ছিলো চীনাবাদামের খোসা জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া roll )

সম্ভবতঃ বর্তমান বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকা এসব সনাতনী রকস্টার ইভাঞ্জেলিকাল তর্কবাগীশদের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকে। এখানে বৌদ্ধধর্ম ও স্থানীয় এ্যানিমিস্টিক বিলিফ সিস্টেমের জগাখিচুড়ী প্রচলিত রয়ে যায়। পরে চট্টগ্রামে আরব বণিক ও সিলেটে মোঘলদের আগমন হলে অধিবাসীরা ব্যাপকভাবে ধর্মান্তরিত হয়।

তবে এটাও একটা নিছক অল্টারনেটিভ হাইপোথিসিস। জোরালো কোনো প্রমাণ নেই। হয়তো "হিন্দু -> বৌদ্ধ -> হিন্দু -> মুসলিম", "ডিরেক্ট বৌদ্ধ -> মুসলিম" ইত্যাদি সবগুলো সিনারিওই সংঘটিত হয়েছিলো।  whats_the_matter

বিখ্যাৎ আর্কিওলজিস্ট ইয়ান মরিসের অসাধারণ একটি বই [url=http://press.princeton.edu/titles/10419.html]Foragers, Farmers, and Fossil Fuels:
How Human Values Evolve[/url] পড়েছিলাম কিছুদিন আগে। ওই বইয়ের মূল যুক্তি অনেকটা এরকম - প্রাগৈতিহাসিক গুহাবাসী আদিম মানুষের কাল থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত প্রকৃতি থেকে মানুষের পার ক্যাপিটা শক্তি আহরণের পরিমাণ ব্যাপকভাবে, এ্যাস্ট্রোনমিকালী বৃদ্ধি পেয়েছে।

একজন হাণ্টার-গ্যাদারার (শিকারী-সংগ্রাহক?) আদিম মানুষ টানা ক'দিন অভুক্ত-অর্ধভুক্ত থাকার পর হঠাৎ এক-আধদিন হয়তো শিকার (বা মরা প্রাণী) পেয়ে পেট পুরে খেতে পারতো। অর্থাৎ, গড়ে ওর দৈনিক শক্তি আহরণ ছিলো মাত্র কয়েকশ ক্যালরী। আর এই এনার্জী বটলনেকের কারণে আদিম মানুষের পপুলেশনও কম ছিলো, এক একটা গোত্রে বড়জোর ২০/২৫ জন পর্যন্ত সদস্য থাকতো।

সভ্যতা বিবর্তনের প্রথম বিগ ব্যাং ইভেণ্ট হলোঃ কৃষি টেকনলজীর আবিষ্কার। এ্যাগৃকালচার প্রযুক্তির উদ্ভাবনের পর মানুষের ডায়েট সংকুচিত হয়ে পড়ে বটে, তবে নিয়মিত ও নিরাপদ শক্তি আহরণের পন্থা পেয়ে যায়। শিকার বা ফলমূল-বাদাম কুড়ানোর চেয়ে প্রোটো-কৃষিপ্রযুক্তির এনার্জী আহরণের পরিমাণ খুব বেশি ছিলো না (বরং কমই ছিলো - গ্রাম প্রতি গম/সব্জীর ক্যালরী কাউণ্ট মাংস বা ফলমূলের চেয়ে কম)। তবে নিয়মিত এনার্জী সাপ্লাইয়ের একটা রাস্তা তৈরী হলো। চাষবাসের কষ্টকর জীবন যারা এ্যাডপ্ট করে নেয়, তাদের বংশবৃদ্ধি ঘটতে থাকে দ্রুত। যারা শিকারী-ভবঘুরে জীবন ত্যাগ করে নি, তারা এক সময় বিলীন হয়ে যায়। এখন সম্ভবতঃ পৃথিবীর ১-২% সোসাইটী হাণ্টার-গ্যাদারার (এরা সকলেই আফৃকা, এ্যামাযন ও অন্যান্য দুর্গম অঞ্চলের অধিবাসী) - বাকী সমস্ত মানবজাতী ইউনিভার্সালী এ্যাগৃকালচার আয়ত্ত করে নিয়েছে।

এ্যাগৃকালচারের ফলে পপুলেশন বাড়তে থাকে। এতে করে সভ্যতাগুলোর জন্ম হতে থাকে। ব্যাপকসংখ্যক মানুষকে কন্ট্রোলে রাখতে, এবং সাম্রাজ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অর্গানাইযড ধর্মগুলোর জন্ম হয়।

যাকগে, কৃষিকাজের ফলে মানুষের পার ক্যাপিটা এনার্জী দৈনিক হাজারখানেকের বেশি ক্যালরীতে উন্নীত হয়।

এরপরের বিগ ব্যাংটা হয় - সমালোচকদার অতি প্রিয় - ফসিল জ্বালানী আবিষ্কারের পর। সভ্যতার ক্যান্সার পেট্রলিয়াম আবিষ্কারের পর হঠাৎ করে জনপ্রতি এনার্জী আহরণের পরিমাণ কয়েকশ গুণ বেড়ে গিয়েছে। আমরা সম্ভবতঃ দৈনিক কয়েক লক্ষ ক্যালরী আহরণকারী (ইয়ান মরিসের বইটাতে অনেক হিসাব টিসাব কষেছে, সঠিক সংখ্যাটা মনে নেই। আগ্রহীরা মূল বইটা ঘাঁটতে পারেন)

বইটার মূল উপপাদ্য হলোঃ এনার্জী আহরণ পরিমাণের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের মূল্যবোধেরও বিবর্তন ঘটেছে।

আদিম মানুষের জীবনকালে রিসোর্সের চরম অপ্রতুলতার কারণে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সংঘাত ছিলো। ভায়োলেন্স ওদের জীবনে নিত্য সঙ্গী। সেকালে নিজে বাঁচার জন্য অন্যগোত্র থেকে খাদ্য, অস্ত্র ইত্যাদি ছিনিয়ে নেয়া বা একেবারে মেরে ফেলা স্বাভাবিক ব্যাপার ছিলো।

পরে কৃষিকাজ আবিষ্কার হবার পর এক গ্রুপ চাষবাসে স্থিতু হয়। আর অন্য শিকারী গ্রুপটা হামলা চালিয়ে খাদ্য ও অন্যান্য সম্পদ ছিনিয়ে নিতো। এ কারণে কিছু চাষী ভাইয়েরা স্পেশালাইজেশন করে মাফিয়া সিস্টেমের প্রচলন করে। এই যোদ্ধা শ্রেণীর কাজ ছিলো বাকীদের নিরাপত্তা দেয়া, বিনিময়ে চাষীরা ওদের দেখভালের দায়িত্ব পালন করতো। হিন্দু ধর্মের ক্ষত্রিয় গোত্র সম্ভবতঃ এদেরই বংশধর।

এই প্রটেক্টর ক্লাস বিবর্তিত হয়ে রাজা বা শাসক শ্রেণীর জন্ম হয়। বহিরাগতদের আক্রমণে ফসল-সর্বস্ব খোয়ানোর চাইতে বরং খাজনা-মাজনা দিয়ে হলেও ডন-বাদশার মাফিয়াতন্ত্রই ভালো, ওটা নুসরাত ফারিয়ার আগেই প্রাগৈতিহাসিক চাষাভুষারা বুঝে গেছিলো।

এই মিডিয়াম এনার্জীর কালে একের পর এক ধর্মের আবির্ভাব ঘটতে লাগলো। স্বল্প সংখ্যক ছাড়া প্রায় সমস্ত ধর্মই বিলীন হয়ে গেলো। ধর্মগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিলো, ক্রমবর্ধমান মানবসমাজ ও সাম্রাজ্যে নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। প্রথমদিকের ধর্মগুলো এলাকার সম্রাট-রা নিজেকেই ঈশ্বর বা ঈশ্বরের বংশধর দাবী করতেন (ব্যাবীলনে মারদুক, মিশরের ফারাও...)

সভ্যতার বিবর্তনে এনার্জী আহরণের পরিমাণ যত বাড়তে থাকে, ততই প্রিমিটিভ ধর্মগুলোরও খোলনলচে পাল্টাতে থাকে। নশ্বর রাজা-রাজড়া থেকে ধর্মের প্রধান উপাস্যের আপগ্রেড হয় মানুষের চেয়েও আরো ব্যাপক শক্তিশালী, জন্ম-মৃত্যুহীন, পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞানী এক বা একাধিক entity-তে। তবে প্রটেকশন র্যাকেটের মূল থীমটা টিকে থাকলো - রাজার বদলে ঈশ্বর মানুষের প্রতিরক্ষা করবেন বহির্শত্রু, প্রাকৃতিক দুর্যৌগ বা রোগবালাই ইত্যাদি থেকে। শত্রুর আক্রমন বিনষ্ট করতে পারলেও রাজা-গজাদের ক্ষমতা নেই প্রাকৃতিক ঘটনা (যেমন ভূমিকম্প, বন্যা, ঝড়) থেকে রক্ষা করার। অতএব, আরো সক্ষম, শক্তিশালী, অশরীরী বিগ বসদের আবির্ভাব হলো। আবার এদের ম্যানেজ করার জন্য পুরোহিত বা priest শ্রেণীর প্রভাব আরো বিস্তৃত হলো।

এই মিডিয়াম এনার্জী যুগ টানা কয়েক হাজার বছর স্থায়ী ছিলো। খুব উল্লেখযোগ্য তেমন পরিবর্তন সাধিত হয় নি এই কালে। সে কালের ফাস্টেস্ট স্পোর্টস ভেহিকল ডিজেলের বদলে ঘাস ভক্ষণ করতো, ব্রডকাস্টিংয়ের জন্য রেডিওওয়েভের বদলে কাদামাটির ফলক কিংবা প্যাপিরাস ব্যবহৃত হতো...  lol

কিন্তু বিগত কয়েক শতাব্দীতে ব্যাপক বিপ্লবী পরিবর্তন হলো। শক্তি আহরণের জন্য একের পর এক প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হলো। নদীতে টারবাইন বসিয়ে স্রোতশক্তি আহরণ করা শুরু হলো ইংল্যাণ্ডে। কয়লা, ফুটন্ত পানি মিক্স করে স্টীমশিপ, রেলগাড়ী ইত্যাদি তৈরী হলো। সবশেষে পেট্রলিয়াম, সোলার প্যানেল, উইণ্ডমিল ইত্যাদি। (এই লেখা যখন লিখছি - মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা সালোকসংশ্লেষণের মতো গ্রীন এনার্জী আহরণের পথ বের করে ফেলেছেন। এই গেইম চেঞ্জার টেকনলজী আমাদের যুগের বিগব্যাং হতে পারে কি?  confused )

পার-ক্যাপিটা শক্তি ডিস্ট্রিবিউশনের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মানসিকতায়ও পরিবর্তন হলো। আগের মতো, রাজা-বাদশার সামনে নূব্জ্য থেকে পিঠ পেতে বেতের বাড়ী খাবার মতো লোক থাকলো না।

জনসংখ্যা বাড়তে থাকলো বিস্ফোরক গতিতে। কিন্তু নতুন কোনো ধর্মের আবির্ভাব হলো না। তবে সোশালিযম, কমিউনিযম, ন্যাশনালিযমের মতো মতবাদ জনপ্রিয়তা পেতে লাগলো। ফ্রান্সে ফরাসী বিপ্লব, ইংল্যাণ্ডে শিল্প বিপ্লব, রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লব ইত্যাদি অজস্র বিপ্লব সংঘটিত হতে লাগলো একের পর এক। বিগত যুগের স্বর্গীয় মাফিয়া গডফাদারকে হঠিয়ে দিয়ে জন্ম হলো রাষ্ট্র নামক গডযিলাদের। অশরীরী, স্বর্গীয় সত্বার বদলে এই মাফিয়ারাজের প্রধান হলেন গুটিকয়েক জনসমর্থিত নির্বাচিত ব্যক্তি। অদৃশ্য এ্যাঞ্জেল, দেবদূত বা ফেরেশতাদের চাকরী বাতিল করে এসে গেলো আর্মী আর পুলিসবাহিনী। ইনস্ট্যান্ট নুডলসের আগেই চলে এলো ইনস্ট্যান্ট কারমাঃ অকাম-কুকাম করেছেন? পরকাল অব্ধি অপেক্ষা করতে হবে না, কর্মফলের শাস্তি এই ইহজীবনেই ভোগ করে দিয়ে যান। গৃকদের আবিষ্কৃত তথাকথিত ডেমোক্রেসীকে এলীট সমাজের হাত থেকে মুক্ত করে সর্বসাধারণের জন্য রিব্র্যাণ্ডিং করা হলো।

যাকগে, ইয়ান মরিসের থিসিস অনুযায়ী আপাততঃ আমরা তিনখানা এনার্জী যুগ/স্টেজ পার করেছি।

আদিম শক্তিযুগের মূল থীম ছিলো সর্বগ্রাসী ভায়োলেন্স - মারো নয় মরো। অল্প কয়েকজন আলফা মেইল বাদ দিলে নারীপুরুষ সকলেরই মোটামুটি সমান গুরুত্ব ছিলো গোত্রে বা সমাজে। টিকে থাকার জন্য গোত্রের প্রত্যেক সদস্যের প্রয়োজনীয়তা ছিলো।

মধ্য শক্তিযুগে (পোস্ট এ্যাগৃকালচার) এলো প্রটেক্সন র্যাকেট। এই যুগে এলিট শ্রেণীর সৃষ্টি হলো। আর জনসাধারণ সামন্তপ্রভুদের ভৃত্যশ্রেণীতে পরিণত হলো।

বর্তমানের ফসিল ফুয়েল সভ্যতায় মানবসমাজ রিভার্স গিয়ারে ফিরে যাচ্ছে। আদিম যুগের মতো সাম্যতা প্রসারিত হচ্ছে। বিগত শতাব্দীতে ইউরোপ জুড়ে একাধিক বিপ্লব আর মহাযুদ্ধের পর এলিট শ্রেণীর প্রভাব ব্যাপকভাবে হ্রাস হয়েছে। ইউরোপ-বৃটেনের রাজা-ব্যারনরা এখন শুধু আলংকারিক উপাধি বৈ কিছু নয়। অল্পকিছু absolute monarchy এখনো টিকে আছে অবশ্য। আরব বসন্তে কয়েকটার সলিল সমাধি হয়েই গিয়েছে। মরুভূমি-প্রধান কিছু রাষ্ট্র এখনো টিকে থাকলেও ওদের ভেতরেও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে তীব্র গণঅসন্তোষ। ডোমিনো ইফেক্টের প্রভাব এখনো স্তিমিত হয়ে যায় নি।

আমাদের যুগের বিগত কয়েক শতাব্দীর প্রচ্ছন্ন থীমটি হলো: শক্তি আহরণের বিস্তৃতির পথ ধরে সাম্যবাদের উত্থান।

বর্ণবাদী বৈদিক ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করে বৌদ্ধ, জৈন ধর্মের আবির্ভাব - যাদের মূলনীতি সাম্যতা। আবার বৌদ্ধ-জৈন ধর্মের প্রভাবে কাটছাঁট করে অধিকতর সাম্যবাদী দর্শন নিয়ে সনাতন ধর্মের পুনরুত্থান হলো।

যীশু খৃস্টও সাম্যতার বাণী প্রচার করে গিয়েছিলেন। তবে খৃস্ট ধর্মের উত্থান মধ্য যুগে হয়েছিলো - তাই ওর ক্ষমতার কেন্দ্র দখলে নিয়ে নিলো রোমান ক্যাথলিক চার্চ। পরবর্তীতে কৃসেনডমে মধ্যে একাধিক বিদ্রোহ সূচিত হলো। মার্টিন লুথার, প্রটেস্টান্টিযম সর্বোপরি রিফর্মেশনের পর চার্চের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেলো।

আরবে ইসলামের জন্মও হয়েছিলো প্রোটো-সোশালিস্ট বিপ্লবের মতো। কোরেশ এলিটদের বর্ণবিদ্বেষ থেকে আরব সমাজকে মুক্ত করে সমাজে সাম্যতা, নারীঅধিকার ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করা ইসলামের অন্যতম লক্ষ ছিলো।

আধুনিককালে বিভিন্ন সমাজ কমিউনিযম, সোশালিযম, ন্যাশনালিযম ইত্যাদি নিয়ে এক্সপেরিমেণ্ট করে চলেছে।

এক্সপেরিমেণ্ট চলছেই। অনেক দেশ গণতন্ত্র বরণ করে নিয়েছে। এহেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলতেই থাকবে।

এসবের পেছনে ব্যাকগ্রাউণ্ডের বিগ পিকচার থীমটা হলোঃ সাম্যবাদ। এবং ওর পেছনের এঞ্জিন হলোঃ প্রকৃতি থেকে আহরিত শক্তি।

"The history of all hitherto existing society is the history of class struggles."

- Karl Marx, The Communist Manifesto

ভবিষ্যৎে, মানুষ যখন পৃথিবীর গণ্ডি ছাড়িয়ে সৌরজগৎ এমনকি গ্যালাক্সী জুড়ে মিলিয়ন-বিলিয়ন ক্যালরী আহরণ করতে শুরু করবে তখনকার সভ্যতা কেমন হবে?

প্রাগৈতিহাসিক আদিম গুহাবাসী মানুষ যেমন আমাদের ২০১৬ সালের সমাজ কল্পনাও করতে পারতো না, আমরাও...  sleeping

Calm... like a bomb.

১৮

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

চমতকার ইনভারব্রাস ভাই!  clap

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৯

Re: বাংলাদেশ কি আসলেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

ধর্ম ভিত্তিক রাজনিতি বন্ধ করলে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাড়বে, কিন্ত এটা করবে কে?
বর্তমান সরকারের ১৪ দলীয় জোটের শরিক রয়েছেন আটরশির পীরের সন্তান পীরজাদা আলহাজ মোস্তফা আমীর ফয়সল মুজাদ্দেদীর নেতৃত্বাধীন জাকের পার্টি, মাইজভাণ্ডারীর পীর নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর নেতৃত্বাধীন তরিকত ফেডারেশন, আলহাজ মিসবাহুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট, সৈয়দ রেজাউর রশিদ খানের নেতৃত্বাধীন বাসদের একাংশ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পাটি (জেপি), পঙ্কজ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন গণঐক্য ও ইসলামিক ফ্রন্টের একাংশ।
এদের মধ্যে জাকের পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট ও তরিকত ফেডারেশন ও ইসলামিক ফ্রন্ট সুফিবাদী ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।