টপিকঃ যাকাত পর্ব - ২

★যাকাতের হকদার:

#যাকাত কাকে দিতে হবে বা যাকাতের অর্থ কোন খাতে ব্যয় করতে হবে  তা *আল্লাহ্‌ স্বয়ং নিজেই* নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ্‌ ৮টি খাতে  অর্থ ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছেন। যথা:

১. ফকির অর্থাৎ যাদের নিকট সন্তান-সন্ততির প্রয়োজন সমাধা করার মত সম্বল নেই অথবা যাদের নিকট জাকাত ফেতরা ওয়াজিব হওয়ার পরিমাণ অর্থ সম্পদ নেই।

২. মিসকিন অর্থাৎ যারা সম্পূর্ণ রিক্তহস্ত অথবা যাদের জীবিকা অর্জনের ক্ষমতা নেই।

৩.ইসলামী রাষ্ট্র হলে তার জাকাত তহবিলের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ।

৪. যাদের উপর ঋণের বোঝা চেপেছে।

৫. যারা আল্লাহর রাস্তায় শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদে লিপ্ত।

৬. মুসাফির ব্যক্তি ( বাড়ীতে সম্পদশালী হলেও) সফরে রিক্তহস্ত হয়ে পরলে।

৭.জাকাত দাতার ভাই-বোন, ভাতিজা- ভাতিজী, ভগ্নিপতি, ভাগ্না- ভাগ্নী, চাচা-চাচী, খালা-খালু, ফুফা-ফুফী, মামা-মামী, স্বাশুড়ী, জামাই, সৎ বাপ ও সৎ মা ইত্যাদি (যদি এরা গরীব হয়)।

৮. নিজের গরিব চাকর-নওকর বা কর্মচারীকে দেওয়া যায়। তবে এটা বেতন বাবদ কর্তন করা যাবে না।

★  যাদেরকে জাকাত দেওয়া উত্তম :

১.দ্বীনি এলেম পড়নে ওয়ালা এবং পড়ানে ওয়ালা যদি জাকাতের হকদার হয়, তাহলে এরূপ লোককে জাকাত দেওয়া সবচেয়ে উত্তম।

২. তারপর জাকাত পাওয়ার সবচেয়ে যোগ্য নিজের আত্মীয় স্বজনের মধ্যে যারা জাকাত পাওয়ার যোগ্য তারা।

৩.তারপর বন্ধু বান্ধব ও প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা জাকাত পাওয়ার যোগ্য তারা।

৪. তারপর জাকাতের অন্যান্য প্রকার হকদারগণ।

★ যাদের অথবা যে যে খাতে জাকাত দেওয়া যায় না :

১. যার নিকট নেসাব পরিমাণ অর্থ সম্পদ আছে।
২. জাকাত দাতার মা, বাপ, দাদা, দাদী, পরদাদা, পরদাদী, পরনানা, পরনানী ইত্যাদি উপরের সিঁড়ি।
৩. জাকাত দাতার ছেলে মেয়ে, নাতী, নাতনী-পোতা, পৌত্রী, ইত্যাদি নীচের সিঁড়ি।
৪. জাকাত দাতার স্বামী বা স্ত্রী।
৫. অমুসলিমকে জাকাত দেওয়া যায় না। ৬. যার উপর জাকাত ফরজ হয় এরূপ মালদার লোকের নাবালক সন্তান।
৭. মসজিদ, মাদ্রাসা বা স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল প্রভৃতি নির্মাণ কাজের জন্য। ৮. মৃত ব্যক্তির দাফন কাফনের জন্য বা মৃত ব্যক্তির ঋণ ইত্যাদি আদায়ের জন্য। ৯. রাস্তা ঘাট, পুল ইত্যাদি নির্মাণ ও স্থাপন কারজে যেখানে নির্দিষ্ট কাউকে মালিক বানানো হয় না।
১০. সরকার যদি জাকাতের মাসালা অনুযায়ী সঠিক খাতে জাকাতের অর্থ ব্যয় না করে, তাহলে সরকারের জাকাত ফান্ডে জাকাত দেওয়া যাবে না।
১১. জাকাত দ্বারা মসজিদ মাদ্রাসার স্টাফকে( গরীব হলেও) বেতন দেওয়া যায় না।



জাকাতের কাপড় আনতে গিয়ে প্রাণহানির মতো ঘটনার জন্য ধনাঢ্য ব্যক্তি, সমাজ এবং সরকার সমানভাবে দায়ী। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে জাকাত আদায় করা হয় তা শরিয়তসম্মত কোনো পন্থা নয়; বরং এটা লোক দেখানো । জাকাত দেয়ার পদ্ধতি হচ্ছে জাকাত নির্দিষ্ট করে তা তার প্রাপকদের কাছে নিজে সরাসরি অথবা নিজের লোক দিয়ে পৌঁছে দিতে হবে। আর শাড়ি লুঙ্গি জাকাত দেওয়ার কোনো বিধান ইসলামে নেই। জাকাত দেয়ার নিয়ম হলো এমনভাবে জাকাত দিতে হবে যে, সারা বছরে বছরের জন্য তার যেন দারিদ্র্য দূর হয়ে যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জাকাততো এভাবে দেওয়া ঠিক নয়। জাকাত দেয়ার একটা পদ্ধতি আছে। জাকাততো গরিব মানুষ গিয়ে নেবে না। বাড়ি বাড়ি দিয়ে আসতে হবে। ধনী হলে তার দায়িত্ব হলো তার টাকা পয়সার মধ্যে আল্লাহতায়ালা আড়াই শতাংশ গরিবের হক নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এই টাকাটা ধনীরা দরিদ্রদের কাছে দিয়ে আসবে। প্রত্যেকে নিজের এলাকায় যদি আত্মীয়স্বজন এদের মধ্যে জাকাত দেয় তাহলেতো সব এলাকার লোক একত্র হওয়ার দরকার পড়ে না।’

জাতীয় ফতোয়া বোর্ডের সেক্রেটারি জেনারেল ও তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার প্রধান মুফতি ড. মাওলানা খলিলু রহমান মাদানী বলেন, ‘জাকাত প্রদানের বর্তমান পদ্ধতি সরাসরি অনৈসলামিক কর্মকান্ড। জাকাত এভাবে দেওয়ার বিধান ইসলামি শরিয়তে কখনো ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘যেকোনো দান দিতে হবে ডান হাত দেবে বাম হাত জানবে না। আর জাকাততো হলো এটা এখরাজুল মাল। জাকাততো আপনাকে বের হয়ে দিয়ে আসতে হবে। নেওয়ার জন্যতো লাইন ধরানোর দরকার নেই। প্রত্যেকে যার যার জাকাত নিজস্ব চিন্তা অনুযায়ী বিভিন্ন হকদারের কাছে পৌঁছে দেবে।’

যারা যাকাত গ্রহণের যোগ্য নয় এমন ব্যক্তিকে যাকাত দিলে, যে দিবে এবং যে নিবে উভয়ই গুণার ভাগিদার হবে।

সবাই তর্কবাদী কিন্তু যুক্তিবাদী কেউ নাই।

Re: যাকাত পর্ব - ২

যাকাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই সাইটটি দেখতে পারেন, এখানে যাকাতের প্রয়োজনীয় সব মাসায়েল গুলো এক সাথে পাবেন।   ••►  bn.islamkingdom.com/s1/4882