টপিকঃ সময় ও আপেক্ষিক তত্ত্ব

কোনো গ্রহের ঘূর্ণন কী ওই গ্রহে অবস্থিত মানুষের শারীরিক বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলবে?? ধরা যাক,'ক' ব্যক্তি পৃথিবীতে ও 'খ' ব্যক্তি বৃহস্পতিতে থাকে। পৃথিবীর বার্ষিক গতির হিসাব অনুযায়ী 'ক' এর বয়স যখন ১৮ বছর হবে,বৃহস্পতির বার্ষিক গতির হিসাব অনুযায়ী একই সময়ে 'খ' এর বয়স ১.৫২ বছর হওয়ার কথা। এক্ষেত্রে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি কী সেই বয়স অনুপাতে হবে,নাকি সময় সমান বলে বৃদ্ধি একই হবে?? বিষয়টি জানতে চাই।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (২৩-০৪-২০১৬ ২১:২৮)

Re: সময় ও আপেক্ষিক তত্ত্ব

বার্ষিক গতির জন্য মানে কয়দিনে (বা সেকেন্ডে!) বছর হয় এর সাথে পৃথিবীর মানুষের শারীরিক বৃদ্ধির কোন সম্পর্ক নেই। কোন কোন প্রজাতীর উদ্ভিদের বৃদ্ধি সম্ভবত সূর্য্য সাইকেলের সাথে সম্পকৃত। মানুষের বৃদ্ধি নয়। অতএব ১৮ বছর মানে ১৮ বছরই, ১.৫২ বছর নয়। তবে....

পৃথিবীর মানুষ বৃহস্পতিতে গেলে, পৃথীবির সাথে আপেক্ষিক ভাবে সময়ের হের ফের ঘটবে। যেমন দুটো জমজ শিশুর জন্মের পর একটাকে পৃথিবীতে রেখে আরেকটাকে বৃহস্পতিতে পাঠালে, এবং ১৮ পৃথিবী-বছর পর দুজনকে একত্র করলে, দুজনের বয়সের অল্প পার্থক্য হবে। এটা এই জন্য নয় যে বৃহস্পতির বছর লম্বা (সূর্য্যের চারদিকে ঘুরে আসতে লম্বা সময় লাগে)। বরং এইজনে যে দুই জনের জন্য সময় দুই ভাবে অতিবাহিত হবে। পার্থক্য কতটা সেটা হিবেস না করে বলতে পারবনা। তবে ওয়াইল্ড গেস.. ১৮ বছরে সেটা কয়েক সেকেন্ডের বেশী হবে না।

আপেক্ষিকতা বুঝলে আপনি নিজেই হিসেবটা করতে পারেন। আপনাকে কয়েকটা ইকুয়েশন আলাদা ভাবে ক্যালকুলেট করতে হবে। স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটি এবং জেনারেল থিউরি অব রিলেটিভিটি।

প্রথম ফ্যাক্টর, স্পেশাল থিওরি হল গতি সংক্রান্ত। [কোন বস্তু যত দ্রুত চলে সময় তার জন্য তত স্লো হয়ে যায়। আলোর গতির সমানে চলতে পারলে সময় হবে স্থির। আলোর গতির বেশী চললে(!) সময় চলবে উল্টো... অতিতে.... ]  যেমন পৃথিবীর কাক্ষিক গতি ৩০কিমি/সে আর বৃহস্পতির ১৩ কিমি/সে। অতএব স্পেশাল থিউরীর হিসেবে পৃথিবীতে সময় হবে কিছুটা মন্থর আর বৃস্পতিতে সময় দ্রুত।

অন্যদিকে জেনারেল থিউরী হল গ্রাভিটি সংক্রান্ত। [গ্রাভিটি যত বেশী সময় তত মন্থর] পৃথিবীর গ্রাভিটি ৯.৮ মি/বর্গসে: আর বৃহস্পতির ২৪.৮ মি/বর্গসে:। অতএব জেনারেল থিউরীর হিসেবে পৃথিবীতে সময় হবে কিছুটা দ্রুত আর বৃস্পতিতে সময় মন্থর।

তৃতীয় ফ্যাক্টর হবে সূর্য্যের গ্রাভিটি (এটাই সম্ভবত সবচেয়ে বড়!)।  মানে যদিও বৃহস্পতির গ্রাভিটি পৃথিবী থেকে বেশী। কিন্তু সেটা সূর্য্য থেকে অনেক দুরে! মানে বৃহস্পতিতে সূর্য্যের গ্রাভটি, পৃথিবীতে সূর্য্যের গ্রাভিটির অনেক কম। অতএব জেনারেল থিউরীর হিসেবে সূর্য্যের প্রভাবে পৃথিবীতে সময় হবে কিছুটা মন্থর আর বৃস্পতিতে সময় দ্রুত। 

সবগুলোর যোগফল হবে মোট পার্থক্য! ১৮ বছরে সেটা সেকেন্ড বা মিলি সেকেন্ড স্কেলে কিছুটা হবে। অতএব বৃহস্পতিতে গিয়ে হাজার বছর বাচতে চাইলে সেটা ভুলে যান।  tongue

Re: সময় ও আপেক্ষিক তত্ত্ব

অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।আসলে এই সমস্যাটা আমার মাথায় এসেছে মিউওনের আয়ুর সমস্যা থেকে। মিউওনের নিজের অর্থাৎ প্রকৃত আয়ু বিজ্ঞানীররা জেনেছে কিভাবে,যদি আমাদের কাছে তার সময়টা আপেক্ষিক হয়?তাহলে তো আমাদের মিউওনের প্রকৃত আয়ু না ২.২ মাইক্রোসেকেন্ড,এইটা না জেনে আমাদের সাপেক্ষে যে আয়ু ৬৩.৫১ মাইক্রোসেকেন্ড এইটা জানার কথা। গুছিয়ে বলতে গেলে মূল সমস্যাটা হল,কোনো এক কাঠামোর অধীনে থেকে কী অন্য এক কাঠামোর তাদের সাপেক্ষে কোনো ঘটনার সময় এবং আমাদের সাপেক্ষে,উভয়ই জানা যাবে,যদি ওই কাঠামোর বেগ জানা থাকে??

আরেকটা প্রশ্ন,৩য় কোনো পর্যবেক্ষক এর সাপেক্ষে এই ঘটনাগুলো কিভাবে প্রকাশ পাবে??

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৪-০৪-২০১৬ ১০:৩৭)

Re: সময় ও আপেক্ষিক তত্ত্ব

nasiful alam লিখেছেন:

কোনো গ্রহের ঘূর্ণন কী ওই গ্রহে অবস্থিত মানুষের শারীরিক বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলবে?? ধরা যাক,'ক' ব্যক্তি পৃথিবীতে ও 'খ' ব্যক্তি বৃহস্পতিতে থাকে। পৃথিবীর বার্ষিক গতির হিসাব অনুযায়ী 'ক' এর বয়স যখন ১৮ বছর হবে,বৃহস্পতির বার্ষিক গতির হিসাব অনুযায়ী একই সময়ে 'খ' এর বয়স ১.৫২ বছর হওয়ার কথা। এক্ষেত্রে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি কী সেই বয়স অনুপাতে হবে,নাকি সময় সমান বলে বৃদ্ধি একই হবে?? বিষয়টি জানতে চাই।

খুব সম্ভবতঃ না। ঘুর্ণনের সাথে বয়স বৃদ্ধির সম্পর্ক সম্ভবতঃ নেই।

আপনি যে ইফেক্টের কথা বলছেন সেটা গ্র্যাভিটেশনাল টাইম ডাইলেশন। গ্র্যাভিটেশনাল পটেন্শিয়াল যেখানে বেশি (অর্থাৎ মহাকর্ষ বল বেশি) সেখানে সময় ধীরে প্রবাহিত হয়, উল্টোটা অর্থাৎ সময় দ্রুত প্রবাহিত হয় যেখানে মহাকর্ষ বল কম।

চতুর্মাত্রিক স্পেস-টাইমকে গ্র্যাভিটি "বাঁকিয়ে" (curve) ফেলে। নীচের কাল্পনিক ছবির মতোঃ
http://i.imgur.com/GV4Yeoe.png

কিন্তু আমরা জানি, আলোর গতি ধ্রুব। দূর্বল গ্র্যাভিটেশনাল ফিল্ডে পয়েণ্ট a থেকে b-তে যে সময়ে আলোর রশ্মি পরিভ্রমণ করে, জোরালো গ্র্যাভিটেশনাল ফিল্ডে c থেকে d-তেও একই সময়ে আলোরশ্মি পরিভ্রমণ করে (যেহেতু ওর গতিবেগ ধ্রুব):
http://i.imgur.com/7KqFLrO.png
এখানে, স্ট্রং গ্র্যাভিটেশনাল পটেনশিয়ালের দরুণ স্পেস-টাইম কার্ভেচারের কারণে c-d দূরত্ব "বেড়ে গেছে"।
এদিকে আমরা জানিঃ
http://i.imgur.com/YZx6jGP.png
যেহেতু, আলোর speed অপরিবর্তনীয়, আবার বেণ্ডিংয়ের কারণে c-d distance-ও বেড়ে গিয়েছে, অতএব এই ইকুয়েশনে একটা মাত্র ভ্যারিয়েবল-কেই ইলাস্টিক ব্যাণ্ডের মতো টেনেটুনে মান পরিবর্তন করার অবকাশ আছে - সে হলোঃ time

জুপিটারের সারফেস গ্র্যাভিটি যেহেতু পৃথিবীর তূলনায় প্রায় 2.4 গুণ বেশি, তাই সেখানে সময়ও ধীরে প্রবাহিত হয়। জমজ দুই ভাইকে যদি "রিয়েল টাইমে" দুই গ্রহে টেলিপোর্টেশন করা যেতো, তবে পৃথিবীবাসী চাচাচৌধরী ভাইয়ের বয়স যখন চব্বিশ, তখন জুপিটার সাবুর বয়স সবে ১০।

আইনস্টাইনের সময়ে সম্ভবতঃ আল্পস পাহাড়ের চূড়ায় ও পাদদেশে হাই ফ্রিকোয়েন্সী এ্যাটমিক ঘড়ি রেখে দেখা গেছে দু'টোর মধ্যে কয়েক ন্যানোসেকেণ্ড পার্থক্য - যদিও উভয় ঘড়িই তাদের সময় সাপেক্ষে ধ্রুব গতিতে ticking করে গেছে, কিন্তু পাহাড়ের চূড়া ও পাদদেশের গ্র্যাভিটেশনাল ফিল্ডের পার্থক্যের কারণে এমনটা হয়।

এতদিন অব্ধি রিলেটিভিটিকে ইউজলেস, আরকেইন ম্যাথমেটিকাল নলেজ মনে করা হতো। কিন্তু বিগত কয়েক দশকে আধুনিক পৃথিবীতে রিলেটিভিটির সবচেয়ে বড় উপযোগীতা হয়েছে জিপিএস সিস্টেমে। ২৪টা জিপিএস স্যাটেলাইট ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০,০০০ কিমি ওপর দিয়ে ১৪,০০০ কিমি/সে  গতিতে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করছে। গ্লোবাল পযিশনিং স্যাটেলাইটে সিযিয়াম এ্যাটমিক ঘড়ি ব্যবহার করে যা প্রতি ন্যানোসেকেণ্ডে একবার করে টিক করে। (FYI, ১ সেকেণ্ড = ১০০০ মাইক্রোসেকেণ্ড = ১ বিলিয়ন ন্যানোসেকেণ্ড) রিলেটিভ ভেলোসিটি টাইম ডাইলেশন (স্পেশাল রিলেটিভিটি) এবং গ্র্যাভিটেশনাল টাইম ডাইলেশন (জেনারাল রিলেটিভিটি) - এ দুই রিলেটিভিস্টিক ইফেক্টের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠ এবং স্যাটেলাইটগুলোর ঘড়িতে সময়ের ভিন্নতা হয়, ভূপৃষ্টের অবজার্ভেটরীর তুলনায় স্যাটেলাইটগুলো দৈনিক প্রায় ৩৮ মাইক্রোসেকেণ্ড বেশি টিক করে ফেলে (যেহেতু কক্ষপথে লো গ্র্যাভিটিতে সময় "দ্রুত প্রবাহিত" হয়)। ৩৮ মাইক্রোসেক (বা ৩৮ হাজার ন্যানোসেক) নিতান্তই অল্প মনে হতে পারে - কিন্তু বাস্তব জীবনে এই চোখের পলকের চেয়েও ক্ষুদ্র সময়কাল ভীষণ ক্রিটিকাল। ২ ডজন স্যাটেলাইটগুলো নিজেদের মধ্যে এবং ভূপৃষ্ঠের সাথে সময়ে পার্থক্য নির্ণয় করে, এবং তার সাথে জিপিএস রিসিভারের কো-অর্ডিনেটস ট্রাইল্যাটারেশন করে বস্তুর ৩ডি অবস্থান নির্ণয় করে। মিলিটারী/ইণ্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড হাই-প্রেসিশন জিপিএস রিসিভার কয়েক সেণ্টিমিটার প্রেসিশনে জিওলোকেট করতে পারে, আর আমাদের পকেটের এ্যণ্ড্রয়েড/আইফোনের মামুলী এজিপিএস-ও কয়েক মিটারের মধ্যে লোকেট করতে পারে। স্যাট ও সারফেসের মধ্যে টাইম ডিফারেন্স যদি এ্যাডযাস্ট না করে তা বরং পুঞ্জীভূত করতে দেয়া হয়, তবে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় জিপিএস লোকেশন ১০ কিমি পর্যন্ত এরর হবে। কল্পনা করতে পারেন, ঢাকা থেকে প্লেনে উঠলেন নিউ ইয়র্কে যাবেন বলে, জিপিএস-এ জেএফকে বা লাগার্ডিয়া এয়ারপোর্টের কো-অর্ডিনেটস সেট করে প্লেন খানা অটোপাইলটে ছেড়ে দিলেন লম্বা ঘুম...  sleeping  sleeping  sleeping ১৬-১৮ ঘণ্টা পর প্লেন থেকে নেমে দেখলেন পৌঁছে গেছেন নিউ ক্যালিফোর্নিয়া (যার অন্য নাম নোয়াখালী)-তে  lol এতোদিন তো ছিলো এয়ার ট্রান্সপোর্ট। ড্রোন আর গুগল সেল্ফ ডৃভেন কারের যুগে রিলেটিভিটি এখন তো আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বাই দি ওয়ে, রিলেটিভিস্টিক টাইম ডাইলেশনের বাইরেও গ্র্যাভিটির অনেক বায়োফিজিকাল ইফেক্ট আছে। ভূপৃষ্ঠের অধিক 9.8m/s অভিকর্ষ বলের কারণে আমাদের দেহের পেশীগুলোকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। পা থেকে রক্ত ওপরদিকে (এ্যাণ্টি-গ্র্যাভিটি) পাম্প করতে হৃৎপিণ্ডকে খুব বল প্রয়োগ করতে হয়। চলাফেরার জন্যও হাতপায়ের পেশীগুলোকে অধিক শক্তি খরচ করতে হয়। এমনকি ভূপৃষ্ঠে কোনো কিছু না করে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকাও একটি বেশ শক্তিনাশক কাজ। এসব কারণেও বায়োলজীকালী বয়সবৃদ্ধি একটু দ্রুত হয়। আগে ধারণা করা হতো, মহাকাশের যিরো গ্র্যাভিটিতে শরীরের অর্গ্যানগুলো রেস্ট স্টেইটে থাকবে, ওতে করে বায়োলজিকাল এজিং ধীরে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে উল্টো ইফেক্ট - শরীরের মাসলগুলো স্বল্প কিংবা অব্যবহারের কারণে গ্লোবাল মাসল ওয়েস্টিং হচ্ছে। অনেকদিন মহাকাশে (আইএসএস) থাকার পর যেসব এ্যাস্ট্রোনট-রা পৃথিবীতে ফিরে আসে, তারা ভূপৃষ্ঠের গ্র্যাভিটিতে প্রবেশ করে বিপাকে পড়ে - চলাফেরা তো দূরের কথা, উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাও এদের থাকে না। টিভিতে হয়তো দেখেছেন এদের স্ট্রেচারে করে স্পেসক্রাফট থেকে বের করে আনা হয়। এখন ধারণা করা হচ্ছে, যিরো গ্র্যাভিটিতে বেশিদিন থাকলে মাসল ওয়েস্টিং ও ডিজইউজের কারণে বরং উল্টো মৃত্যু ত্বরাণ্বিত হতে পারে।

Calm... like a bomb.

Re: সময় ও আপেক্ষিক তত্ত্ব

nasiful alam লিখেছেন:

অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।আসলে এই সমস্যাটা আমার মাথায় এসেছে মিউওনের আয়ুর সমস্যা থেকে। মিউওনের নিজের অর্থাৎ প্রকৃত আয়ু বিজ্ঞানীররা জেনেছে কিভাবে,যদি আমাদের কাছে তার সময়টা আপেক্ষিক হয়?তাহলে তো আমাদের মিউওনের প্রকৃত আয়ু না ২.২ মাইক্রোসেকেন্ড,এইটা না জেনে আমাদের সাপেক্ষে যে আয়ু ৬৩.৫১ মাইক্রোসেকেন্ড এইটা জানার কথা। গুছিয়ে বলতে গেলে মূল সমস্যাটা হল,কোনো এক কাঠামোর অধীনে থেকে কী অন্য এক কাঠামোর তাদের সাপেক্ষে কোনো ঘটনার সময় এবং আমাদের সাপেক্ষে,উভয়ই জানা যাবে,যদি ওই কাঠামোর বেগ জানা থাকে??

ঠিক বুঝলামনা আপনি কি বলতে চাইছেন! মিউওন কনা ভিন গ্রহের জন্ত্রু নয়। যদিএ আনস্টেবল, কিন্তু অন্যান্য সবাএটমিক পার্টিক্যালের মত মিউওনও আমাদের গ্রহেরই। ২২. মাইক্রোসেকেন্ডের বদলে ৬৩.৫১ মাইক্রোসকেন্ড কোথায় পেলেন?

nasiful alam লিখেছেন:

আরেকটা প্রশ্ন,৩য় কোনো পর্যবেক্ষক এর সাপেক্ষে এই ঘটনাগুলো কিভাবে প্রকাশ পাবে??

নির্ভর করবে তৃতীয় পর্যবেক্ষকের স্থান, কাল এবং গতি উপর।


invarbrass লিখেছেন:

জুপিটারের সারফেস গ্র্যাভিটি যেহেতু পৃথিবীর তূলনায় প্রায় 2.4 গুণ বেশি, তাই সেখানে সময়ও ধীরে প্রবাহিত হয়। জমজ দুই ভাইকে যদি "রিয়েল টাইমে" দুই গ্রহে টেলিপোর্টেশন করা যেতো, তবে পৃথিবীবাসী চাচাচৌধরী ভাইয়ের বয়স যখন চব্বিশ, তখন জুপিটার সাবুর বয়স সবে ১০।

কথার কথা বললেন নাকি সত্যি সত্যি? গ্রাভিটি আর টাইম ডায়েলেশন লিনিয়ার রিলেশন নয়। আর সূয্যের থেকে দুর থাকার জন্য কম গ্রাভাটির প্রভাব তো আছেই। যে করেই হোক, পার্থক্যটা কয়েক সেকেন্ডের বেশী হওয়ার কথা না।

Re: সময় ও আপেক্ষিক তত্ত্ব

মিউওনের ব্যাপারটা টাইম ডাইলেশনের কারনে হয়। যখন বায়ুমণ্ডল এর উপর থেকে সৃষ্টি হয়ে মিউওন পৃথিবীর দিকে আসে তখন এর এর স্বল্পায়ুর জন্য ভূমিতে একে পাওয়ার কথা না,কিন্তু এই কণার গতিবেগ যেহেতু আলোর ০.৯৯৪ গুণ,তাই টাইম ডাইলেশনের কারনে মিউওন এত লম্বা দুরত্ব অতিক্রম করতে পারে।

7 minutes and 46 seconds after:

মিউওনের ব্যাপারটা টাইম ডাইলেশনের কারনে হয়। যখন বায়ুমণ্ডল এর উপর থেকে সৃষ্টি হয়ে মিউওন পৃথিবীর দিকে আসে তখন এর এর স্বল্পায়ুর জন্য ভূমিতে একে পাওয়ার কথা না,কিন্তু এই কণার গতিবেগ যেহেতু আলোর ০.৯৯৪ গুণ,তাই টাইম ডাইলেশনের কারনে মিউওন এত লম্বা দুরত্ব অতিক্রম করতে পারে।

Re: সময় ও আপেক্ষিক তত্ত্ব

nasiful alam লিখেছেন:

মিউওনের ব্যাপারটা টাইম ডাইলেশনের কারনে হয়। যখন বায়ুমণ্ডল এর উপর থেকে সৃষ্টি হয়ে মিউওন পৃথিবীর দিকে আসে তখন এর এর স্বল্পায়ুর জন্য ভূমিতে একে পাওয়ার কথা না,কিন্তু এই কণার গতিবেগ যেহেতু আলোর ০.৯৯৪ গুণ,তাই টাইম ডাইলেশনের কারনে মিউওন এত লম্বা দুরত্ব অতিক্রম করতে পারে।

তো? সমস্যাটা কোথায়?

Re: সময় ও আপেক্ষিক তত্ত্ব

সদস্য_১ লিখেছেন:

কথার কথা বললেন নাকি সত্যি সত্যি? গ্রাভিটি আর টাইম ডায়েলেশন লিনিয়ার রিলেশন নয়। আর সূয্যের থেকে দুর থাকার জন্য কম গ্রাভাটির প্রভাব তো আছেই। যে করেই হোক, পার্থক্যটা কয়েক সেকেন্ডের বেশী হওয়ার কথা না।

ইট ওয়ায আ পিওর চাপা  tongue

Calm... like a bomb.

Re: সময় ও আপেক্ষিক তত্ত্ব

invarbrass লিখেছেন:

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে উল্টো ইফেক্ট - শরীরের মাসলগুলো স্বল্প কিংবা অব্যবহারের কারণে গ্লোবাল মাসল ওয়েস্টিং হচ্ছে। অনেকদিন মহাকাশে (আইএসএস) থাকার পর যেসব এ্যাস্ট্রোনট-রা পৃথিবীতে ফিরে আসে, তারা ভূপৃষ্ঠের গ্র্যাভিটিতে প্রবেশ করে বিপাকে পড়ে - চলাফেরা তো দূরের কথা, উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাও এদের থাকে না। টিভিতে হয়তো দেখেছেন এদের স্ট্রেচারে করে স্পেসক্রাফট থেকে বের করে আনা হয়। ............

মানুষ কখনই চাঁদে বা মহাকাশে যায় নি

  “যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ, ঋণং কৃত্ত্বা ঘৃতং পিবেৎ যদ্দিন বাচো সুখে বাচো, ঋণ কইরা হইলেও ঘি খাও.

১০

Re: সময় ও আপেক্ষিক তত্ত্ব

nasiful alam লিখেছেন:

আসলে এই সমস্যাটা আমার মাথায় এসেছে মিউওনের আয়ুর সমস্যা থেকে। মিউওনের নিজের অর্থাৎ প্রকৃত আয়ু বিজ্ঞানীররা জেনেছে কিভাবে,যদি আমাদের কাছে তার সময়টা আপেক্ষিক হয়?তাহলে তো আমাদের মিউওনের প্রকৃত আয়ু না ২.২ মাইক্রোসেকেন্ড,এইটা না জেনে আমাদের সাপেক্ষে যে আয়ু ৬৩.৫১ মাইক্রোসেকেন্ড এইটা জানার কথা। গুছিয়ে বলতে গেলে মূল সমস্যাটা হল,কোনো এক কাঠামোর অধীনে থেকে কী অন্য এক কাঠামোর তাদের সাপেক্ষে কোনো ঘটনার সময় এবং আমাদের সাপেক্ষে,উভয়ই জানা যাবে,যদি ওই কাঠামোর বেগ জানা থাকে??

ও! এখন বুঝেছি আপনি কি জানতে চাইছেন! মানে ডয়লেশনের জন্য যদি আয়ু বেড়েই যায় তাহলে কম আয়ুর সময়টা আমার জানলাম কিভাবে?  surprised surprised

উত্তরের আগে একটা জোকবলি,
প্রতিটা বড় সপিং মলে কোথায় কোন স্টোর সেটা দেখে নেয়ার জন্য যায়গায় যায়গায় ম্যাপ থাকে।
এবং প্রতিটা ম্যাপেই ঐ ম্যাপটা কোথায় আছে তা মার্ক করা থাকে "You are here"
তো দুই ব্লন্ডের কথোকোপন
Blonde 1: I'm lost! how do we get back to Prada store?
Blonde 2: Oh! here is a map! why don't we look up!
Blonde 1: It says "You are here"
Blonde 2: OMG! how did they know?
Blonde 1: Yah? Unless they already knew we would get lost here!

ভাইরে, বায়ু মন্ডলের উপর থেকে আসাই মিউওনের একমাত্র সোর্স নয়। তাছাড়া আজকাল পার্টিক্যাল নিয়ে গবেষনা করার সময় বিজ্ঞানীরা মোটামুটি সব পার্টিক্যালই এলএইচসিতে খাড়ার উপর তৈরী করে নেয়!
আর না হলেও... গতি এবং ডালিউটেড সময় জানার পর আসল সময় এমনিতেই হিসেব করে ব্যাকট্রেস করা যায়! গন্ডায় গন্ডায় উত্তর! এটা নিয়ে চুল পাকানোর মানে নেই!

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৪-০৪-২০১৬ ২১:১৬)

Re: সময় ও আপেক্ষিক তত্ত্ব

সমালোচক লিখেছেন:

মানুষ কখনই চাঁদে বা মহাকাশে যায় নি

মেশিনম্যান তো গেছিলো

Calm... like a bomb.

১২

Re: সময় ও আপেক্ষিক তত্ত্ব

ভাইরে, বায়ু মন্ডলের উপর থেকে আসাই মিউওনের একমাত্র সোর্স নয়। তাছাড়া আজকাল পার্টিক্যাল নিয়ে গবেষনা করার সময় বিজ্ঞানীরা মোটামুটি সব পার্টিক্যালই এলএইচসিতে খাড়ার উপর তৈরী করে নেয়!
আর না হলেও... গতি এবং ডালিউটেড সময় জানার পর আসল সময় এমনিতেই হিসেব করে ব্যাকট্রেস করা যায়! গন্ডায় গন্ডায় উত্তর! এটা নিয়ে চুল পাকানোর মানে নেই!


অকে,ধন্যবাদ।