টপিকঃ স্কলারশিপ না পাইলে, টিউশন ফি দিয়া সুইডেন যাইয়েন না

২০১৬ সালের অটাম/ফল সেমিস্টারের জন্য সুইডেনের ভার্সিটিগুলাতে অনেকেই অ্যাডমিশন পায়া গেছেন। যারা স্কলারশিপ পাইছেন, তারা তো চইলা যাবেন। কিন্তু যারা পান নাই, তাদেরকে কয়েকদিনের মধ্যে 72500 SEK (বাংলা টাকায় প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা) এর একটা ইনভয়েস ধরায়া দিবে। অনেক দালাল/এজেন্সি/প্রতারক এই ভুংভাং দেখায়া টাকা নিতেছে, বলতেছে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ওয়ার্ক পারমিটে গেলে আর টিউশন ফি লাগবে না। কথাটা ঠিক না।
Bangladeshi Community in Sweden গ্রুপটায় প্রতিদিন এইরকম হেল্প পোস্ট দেইখা মেজাজ খারাপ হয়া গেল। সেই গ্রুপে পোস্টটা দিছিলাম।

ডেডলক ভাই কইল এইখানেও দিতে যাতে গুগল সার্চে আসে। তাই এইখানেও দিলাম।

************************************

যারা স্কলারশিপ পান নাই, তারা টিউশন ফি দিয়ে সুইডেনে যাইয়েন না। এই সিম্পল কথাটা কি বুঝা এতটাই কঠিন? নতুন যারা আসতেছে, তাদের জীবনগুলা নষ্ট কইরেন না। কষ্টের টাকা গুলা নষ্ট করায়েন না।
কিন্তু যদি কেউ আপনারে টিউশন ফি দিয়া সুইডেনে যাওয়ার কথা বলে সে একটা প্রতারক, বদমাইশ, দালাল/এজেন্সি, না হইলে আপনার শত্রু।

আমি ৮ টা কারণ বললাম টিউশন ফি দিয়ে সুইডেনে পড়তে আসার বিপক্ষে। এর কোন যুক্তিটা ভুল, কেউ শুধরায়া দেন আমারে প্লিজ।

প্রথমত, স্কলারশিপ না পাইলে ৪০ লাখ টাকা টিউশন ফি দিয়া সুইডেনে মাস্টার্স করাটা কোন বুদ্ধিমানের কাজ না। মাস্টার্স ও পিএইচডি লেভেলে হাজার হাজার স্কলারশিপ, সেখানে কেন আপনি টিউশন ফি দিয়ে পড়বেন?

দ্বিতীয়ত, স্কলারশিপ না পাইলে ভিসা প্রসেসিং এ রেগুলার ক্যাটাগরিতে আপনাকে ফেলবে, সেক্ষেত্রে ছয় মাসের মত ওয়েটিং টাইম। এখন এপ্রিল, তারমানে অক্টোবরের আগে ভিসা পাবেন না। ক্লাস শুরু হয়ে যাবে আগস্টের 29 এ কিংবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।

তৃতীয়ত, আপনাকে টিউশন ফির প্রথম কিস্তির invoice (faktura) পাঠায়া দিবে আর এক সপ্তাহের মধ্যেই। সম্ভবত 72500 SEK, মানে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ বাংলা টাকা। ভিসার গ্যারান্টি না পায়া এই টাকা দিবেন কি দিবেন না, আপনিই ডিসাইড করেন।

চতুর্থত, টিউশন ফির টাকা বাংলাদেশ থেকে পে করার কোন বৈধ রাস্তা নাই। VISA/MasterCard দিয়ে এত টাকা পে করতে গেলে ব্যাংক আটকাবে। Standard Chartered দিয়ে পে করতে গেলে আপনার প্রয়োজন হবে একটা Student File, যেইটা শুধু মাত্র নর্থ আমেরিকান ভার্সিটির জন্য প্রযোজ্য, তাও আবার ভ্যালিড অ্যাডমিশন থাকতে হবে। সুইডেন থেকে আপনাকে যে Notification of Selection এর পিডিএফ দিয়েছে, সেটা বাংলাদেশের কোন ব্যাংক এক্সেপ্ট করে না অ্যাডমিশনের প্রমাণ হিসেবে। সুতরাং, হুন্ডি ছাড়া রাস্তা নাই। কেউ বিদেশে বসে আপনার সাড়ে ছয় লাখ টাকা দিয়ে দিবে, আপনি দেশে তার একাউন্টে জমা দিবেন। এইরকম কাউকে পাইলে পে করতে পারবেন (এইটাই একমাত্র রাস্তা এবং এইটা অবৈধ)।

পঞ্চমত, এতটাকা পে করে সুইডেনে গিয়ে আপনাকে থাকা খাওয়া বাবদ প্রতিমাসে মিনিমাম 50000 বাংলা টাকা খরচ করতে হবে (কিপটামি করে থাকলেও)। পার্ট টাইম কাজ পাওয়া অনেক কঠিন, সুইডিশ ভাষা না জানলে আরো কঠিন, কাজ করে এত টাকা ইনকাম করা সম্ভব, কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনি পড়ালেখা করার কোন টাইম পাবেন না। স্টকহোমেই কাজ পাওয়া কঠিন, আর Boras এ তো আরো কাজ নাই।

ষষ্ঠত, পড়ালেখা না করলে আপনি প্রতি বছর 30 ECTS Credit (চারটা সাবজেক্টে পাশ) কমপ্লিট করতে পারবেন না, আর না পারলে আপনার ভিসা এক্সটেনশন হবে না প্রথম বছরের পর।

সপ্তমত, আপনাকে ভিসা দিলে দিবে পরের বছরের আগস্টের 30 তারিখ পর্যন্ত। সুইডেনে ঢোকার দিন থেকে ভিসা এক্সপায়ার হবার আগ পর্যন্ত 365 দিনের কম হলে আপনি আপনি সু্ইডেনের ট্যাক্স অফিসে রেজিস্টার্ড হতে পারবেন না, যার ফলে Person Number পাবেন না। আর Person Number না পেলে আপনাকে হাসপাতালে গেলে দশ গুণ বেশি পে করতে হবে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন না, কোন দোকানের মেম্বারশিপ ডিসকাউন্ট পাবেন না।

অষ্টমত, আপনাকে ছয় মাস পরেই আবারও 72500 SEK পে করতে হবে, যদি পড়ালেখা কন্টিনিউ করতে চান। সকাল ছয়টা থেকে রাত বারটা পর্যন্ত অড জব করেও মাসে ম্যাক্সিমাম 10000 SEK এর বেশি কামাতে পারবেন না। আর আপনার মাসিক খরচ 72500/6 + 4000 = 16000 SEK, সুতরাং বাকিটা আপনাকে দেশ থেকে নিতে হবে।

৮ টা কারণ দেখাইলাম। আমি 2011 সালে স্কলারশিপ নিয়ে স্টকহোমে যাই, চারবছর থেকে 2015 তে দেশে ফিরি। এর মাঝে 2013 ও 2014 তে KTH এ স্টুডেন্ট অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেছি। আমার কথা বিশ্বাস করুন। ফাঁপড় দিচ্ছি না।

2013 তে AIUB থেকে পাশ করা একটা Rich ফ্যামিলির ছেলে টিউশন ফি দিয়েও শেষ পর্যন্ত আসতে পারে নাই। কারণ, তার ভিসা পেতে পেতে নভেম্বর হয়ে গেছিল। সে অ্যাডমিশন ক্যানসেল করে টিউশন ফির প্রথম কিস্তির টাকাও ফেরত পায় নি।

তবে, যদি ভেবে থাকেন যে, কোনমনে সাড়ে ছয় লাখ টাকা দিয়ে সুইডেনে ঢুকে এর পর পড়ালেখা না করে ফ্রান্স/ইটালি/জার্মানি বা অন্য কোন দেশে চলে যাবেন, ট্রাই করে দেখতে পারেন। কিন্তু কিছুদিন আগে ফ্রান্সের বোমা ও সিরিয়ান উদ্বাস্তুদের জন্য বর্ডার ক্লোজ করে দিছে। সুতরাং, কতটুকু সফল হবেন, সেটাও দেখার বিষয়।

আপনাকে যে কোন এজেন্সি কিংবা মানুষ কিংবা প্রতারক কিংবা বন্ধু কিংবা আত্মীয় যতই লোভ দেখাক, যাবেন না টিউশন ফি দিয়ে। I can tag at least 50 people, who will vouch for my statement. প্রতিটা কথার সত্যতা যাচাই করে নেন তাদের কাছ থেকে।

স্কলারশিপ পাইলে সুইডেনের মত আরাম আর কোন দেশে নাই, গ্যারান্টি দিতেছি। কিন্তু না পাইলে পুরাই লস প্রজেক্ট।

Gentlemen, you can't fight in here, this is the war room!

Re: স্কলারশিপ না পাইলে, টিউশন ফি দিয়া সুইডেন যাইয়েন না

আমার ইচ্ছা ছিল আন্ডারগ্র্যাডে ফিনল্যান্ড ট্রাই করা। বাসা থেকে দূরে পাঠাবেনা বলে দিয়েছে। তাই আর কোথাও ট্রাই করি নি। দেশে আছি, আলহামদুলিল্লাহ খারাপ তো নেই। হ্যা, জ্যাম আছে, কষ্ট আছে, অনেক কিছু উন্নতি নেই, কিন্তু তাও তো তিন বেলা খেয়ে পরে বেঁচে আছি। বাবা মার সাথে আছি। রাতে বাসায় নিজের রুমে আরাম করে ঘুমুতে পারি। আলহামদুল্লিাহ ভালই আছি।

OH DEAR NEVER FEAR SAIF IS HERE
BOSS অর্থাৎ সাইফ
Cloud Hosting BossHostBD

Re: স্কলারশিপ না পাইলে, টিউশন ফি দিয়া সুইডেন যাইয়েন না

সুইডেন খুব শান্তির দেশ শুনেছি

  “যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ, ঋণং কৃত্ত্বা ঘৃতং পিবেৎ যদ্দিন বাচো সুখে বাচো, ঋণ কইরা হইলেও ঘি খাও.

Re: স্কলারশিপ না পাইলে, টিউশন ফি দিয়া সুইডেন যাইয়েন না

একমত! টিউশন ফি দিতে পড়তে যাওয়ার কোন মানেই হয় না!

One can steal ideas, but no one can steal execution or passion. - Tim Ferriss