সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রুপকথা (০১-০৩-২০১৬ ১০:৩৪)

টপিকঃ মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক শুধূ ফেব্রুয়ারিতে ২৪ শিশুসহ নিহত ৪৬৫, এর প্রতিরোধে সরকারের আশু হস্তক্ষেপ দরকার বলে মনে করেন ভুক্ত ভোগীরা

নতুন দিনের স্বপ্ন নিয়ে নতুন বছরকে বরণ করেছে মানুষ। কিন্তু বছরের প্রথম মাসেই দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আহত ও নিহত হয়েছে শিশুসহ ২৫৯২ জন নারী-পুরুষ। - See more at: http://www.sheershanewsbd.com/2016/02/0 … UVHPt.dpuf

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা: দেশের বিভিন্ন স্থানে ফেব্রুয়ারি মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ৪৬৫ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছে। আর এই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৫৬২। এসব ঘটনায় দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে আলোচনার শীর্ষে ছিল শিশু হত্যা ও নির্যাতন। পারিবারিক কোন্দলে আহত ও নিহতের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশী ছিল। আর নারী নির্যাতন, আত্মহত্যা, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সহিংসতা ছাড়াও ‘কথিত ক্রসফায়ারে’ মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ উদ্ধার, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্তৃক নিরীহ মানুষ হত্যাও চলছে। আর মানুষের পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় বাড়ছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার ফেব্রুয়ারি মাসের গবেষণা সেলের তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা যায়, গত কয়েক মাসের মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসেই শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশী ঘটেছে। এই মাসে ৪০ জন শিশু নির্যাতনের শিকার ও ২৪ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।

তার মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি নাটোরের বাগাতিপাড়ার মাকুপাড়া বাজারে স্কুলপড়ুয়া ৩জন শিশুকে রশি দিয়ে হাত বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। একই দিনে রাজশাহীর দুই স্কুল ছাত্রকে চুরির অপবাদ দিয়ে হাত পা বেঁধে সাত ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করা হয়। এছাড়া, ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুলের চার ছাত্রকে পুলিশ বেধড়ক পিটিয়ে নির্যাতন করা হয়। এর আগে, ২ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিশু সন্তানকে চারতলা বাড়ির বারান্দা থেকে ফেলে দেয় তার মা। শুধু নির্যাতন নয়, বেড়ে গেছে শিশু হত্যার ঘটনাও। গত ৭ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে দুই বছরের এক শিশুকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গত ১০ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ভালুকায় শিশু কন্যাকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন তার বাবা।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জের সুদ্রাটিকি গ্রাম থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় ৪শিশু, পরবর্তীতে তাদের লাশ মাটিচাপা অবস্থায় পাওয়া যায়। কিশোরগঞ্জে পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে দেড় বছরের শিশুপুত্রকে হত্যা করে তার মা। ২৮ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লায় হত্যা করা হয় দুই শিশুকে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে গাজীপুরে চার বছরের এক শিশুকে হত্যা করা হয়।

এছাড়া, যৌতুকের জন্য প্রাণ দিয়েছেন ৬ জন নারী এবং যৌতুকের কারণে আহত হয়েছেন, ২৩ জন নারী। তার মধ্যে মুন্সিগঞ্জের গৃহবধূ রাশিদা বেগমকে যৌতুকের কারণে ব্লেড দিয়ে কেটে রক্তাক্ত করে স্বামী ও দেবর। রাঙ্গামাটির গৃহবধূ নূর বানু, পাবনার শম্পা বেগম এর মতো মাত্র পঁচিশ হাজার টাকার জন্য শাহজাদপুরের নাজমা খাতুনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। আর পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় ফেব্রুয়ারি মাসে ২৮ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ৬৯ জন। এরমধ্যে বেয়ালমাড়িতে ভাইয়ের হাতে বোন নিহত হন। পাবনায় পারিবারিক কলহের কারণে এক মা ও তার সন্তানের বিষপানে মৃত্যু হয়।

আর ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫ জন নারী ও ৯ জন শিশু ধর্ষিত হয়েছে। এদের মধ্যে ৭ জন নারী, গণধর্ষণের শিকার হয় ৬ জন ও ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৩ জনকে। তার মধ্যে পিরোজপুরে শিরিন আক্তার নামের এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা করে দুর্বৃত্তরা। ঢাকা বিভাগের ফেব্রুযারি মাসে ধর্ষণের ঘটনা বেশী হয়েছে বলে এক গবেষণায় জানা গেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে কথিত ক্রসফায়ারের ঘটনায় ১৩ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় নিহত হয় ৩ জন, র‌্যাব কর্তৃক ৮ জন ও অন্যান্য বাহিনী কর্তৃক ২ জন।

আর আত্মহত্যা করেছে ৩৬ জন। এদের মধ্যে ৭জন পুরুষ ও ২৯ জন নারী। সারা দেশে সন্ত্রাসী ঘটনায় ৭৩ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ১৪২ জন। ২১ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়ে মঠ পূজারীকে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়। আর সামাজিক অসন্তোষের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ৩১ জন এবং আহত হয়েছেন ৬৩২ জন। বেশীর ভাগ ঘটনাই ঘটেছে  জমি জমা, দুই গ্রামের খেলা নিয়ে সংঘর্ষ বা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

আর রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৭২ জন আহত হয়েছে ও নিহত হয়েছেন ২ জন। আধিপত্য বিস্তার, টেন্ডার বাণিজ্য, এলাকা দখল, চাঁদাবাজী নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতার দাপট প্রদর্শনের জন্য আওয়ামী লীগের অন্তঃকোন্দলে ১২৯ জন বিএনপির অন্তঃকোন্দলে ৭ জন আহত হয়েছেন। তাছাড়া মাদক ব্যবসার বিরোধে ৬ জন আহত ও ১জন নিহত হয়েছেন। বিদ্যুৎপৃষ্ট, পানিতে পড়েসহ বিভিন্ন ঘটনায় ৩৪জন মারা গেছেন। আর ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয় ৬ জন। রাজনৈতিক অজুহাতে গণগ্রেফতার হয়েছে ৭২৫  জনেরও বেশী। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কমিউনিকেশন এ্যান্ড ডকুমেন্টেশন অফিসার ফাতেমা ইয়াসমিন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

শীর্ষ নিউজ/লতিফ
- See more at: http://www.sheershanewsbd.com/2016/03/0 … WWyf7.dpuf