টপিকঃ হত্যা

নদীর ধারে একটি জনমানব শূন্য রাস্তা। সুমন মাঝে মাঝেই আসে এখানে। যখন খুব বেশী মন খারাপ হয়, তখনই সে একাকী চলে আসে মেঘনা নদীর পার ঘেঁষা রাস্তাটির ধারে। যায়গাটি সুমনের খুবই প্রিয়।এই যায়গায় একসময় সে খুঁজে পেয়েছিল “টমি” কে। আজ সুমনের প্রচণ্ড মন খারাপ। চিৎকার করে কাঁদতে চাইছে সে, কিন্তু পারছেনা। অনেকগুলো সৃতি আজ তাকে গ্রাস করে ফেলছে, টেনে নিয়ে যাচ্ছে ব্ল্যাক হোলের মতো অন্ধকারের রাজ্যে।
সুমন তখন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। ভীষণ দুরন্ত আর দুষ্ট ছিল। রবিন্দ্রনাথের মতো স্কুল পালনো ছিল তার প্রধান নেশাগুলোর মাঝে একটি। প্রতিদিনের মতই ঘুরতে ঘুরতে সে মেঘনার পারে আসে। দিনটি ছিল রবিবার। স্রোতস্বিনী নদীর ঢেউগুলো তার হৃদয়ে দোলা দিচ্ছিল। পালতোলা নৌকায় মাঝিদের বৈঠার ছোপ ছোপ আওয়াজ শুনতে শুনতে কখন যে প্রকৃতিতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে সেদিকে তার খেয়াল ছিলনা মোটেই। তার কাছে মনে হল সূর্য বুঝি আজ বড্ড তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে গেছে।
হঠাৎ তার খুব ভয় লাগতে শুরু করে, যদিও সুমন ভূতের ভয় করেনা। কিন্তু আজ কেন তার খুব ভয় লাগছে? সে বারি যাবার জন্য উঠে দাড়াতেই একটি চিৎকার শুনতে পেলো। সুমন ভয়ে দৌড় দিল। হঠাৎ খেয়াল হল তার বাঁশিটি নদীর পারে রয়ে গেছে। বাঁশিটি আনার জন্য আবার মেঘনার পারে গেলো সে। সেখানে পৌঁছে সুমন যা দেখল তার জন্য প্রস্তুত ছিলনা মোটেই। বাঁশিটি মুখে নিয়ে টমি বসে আছে। সুমন বুজতে পারল চিৎকারটি তবে টমিরই ছিল। আসলে আই টমি নামটি সুমনের খুব প্রিয়। একটা ছায়াছবিতে টমি নামটি সে প্রথম শুনে। সুমন মনের অজান্তেই টমি বলে ডাক দিতেই সারা দিল টমি। দৌড়ে চলে আসে তার কাছে। সুমন সেই থেকেই শাবকটিকে টমি বলে ডাকত। বাঁশি এবং টমিকে নিয়ে সে বাড়ি চলে আসলো।
টমিকে দেখে সুমনের মা খুব রাগ করলো। বললো টমিকে যেখান থেকে এনেছিস সেখানে রেখে আয়। সুমন খুব মন খারাপ করলো। ছেলের মন খারাপ দেখে সুমন এর বাবা বললেন টমি আমাদের সাথেই থাক,হাসি ফুটে উঠলো ছেলের মুখে। খুবই আদর করত সুমন টমি কে। টমি কে চান করাত, খাওয়াত, খেলাধুলা ও করত। সুমন যখন স্কুল থেকে ফিরত তখন টমি তার কোলে ঝাপিয়ে পড়তো। সেই যে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেখা হয়নি দুজনের। তাইতো টমি ছুটে আসতো একটু ভালবাসা পাবার আশায়। টমিকে বাড়ির সবাই খুব ভালবাসত, সবার ভালবাসায় টমি এখন বড় হয়ে উঠেছে। এদিকে সুমনের সপ্তম শ্রেনির পাঠ শেষ হয়েছে।



বিদ্রঃ পাঠকদের ভালো লাগলে বাকী অংশ পোস্ট করবো। তাই সবাই অবশ্যই মতামত জানাবেন কেমন হল।

নাম নেই