টপিকঃ একজন অনন্য সাধারন মেয়ের কথা।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বিএ / বিএসএস ডিগ্রি প্রোগ্রামে অ্যাডমিশন নিতে সংশ্লিষ্ট রিজিওনাল সেন্টারে দুইদিন যেতে হলো। সেদিন সকাল থেকে ব্যাংকে টাকা জমাদানের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার চাইতেও তিনগুন যন্ত্রণাদায়ক ছিল অ্যাডমিশন অফিসারের নাগাল পাওয়া। দুপুর দেড়টায় উনি তার কক্ষ অভিমুখী এক বিশাল লাইনে দাঁড়ানো বিভিন্ন বয়সী ছাত্র - ছাত্রীদের অপেক্ষায় রেখে মধ্যাহ্নভোজনে চলে গেলেন। এর আগে দেড়ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে দুবার বাইরে গিয়ে ফটোকপি ও আঠা কিনে আনতে গিয়েছিলাম। এর মধ্যেই লাইনে দাঁড়ানো কয়েকজনের আবেদনপত্রের অসম্পূর্ণ অংশ, ভুল ইত্যাদি ধরিয়ে দিচ্ছিলাম। এর মধ্যেই পরিচয় হলে কানিজ ফাহিমার সঙ্গে। আমি তাকে ভুল দেখায়ে দিতেই সে ঠিক করে নিচ্ছিল কিন্তু এর মধ্যেই সংশ্লিষ্ট অফিসার বিরতিতে যাওয়ায় আমরা একটা টেবিলে কাগজ রেখে তার আবেদনপত্রটি পূরন করছিলাম। আমার কাছে থাকা আঠা দিয়ে তার ছবি আবেদনপত্রে লাগাবার জন্য দিতেই অন্য আরো কয়েকজন শিক্ষাথী আঠা নিয়ে নিজেরাও ব্যবহার করতে লাগলো। ক্ষণিকের সময়েই মেয়েটির ব্যাপারে অনেক কিছু জেনে গেলাম। কারণ আবেদনপত্রতেই সব তথ্য আছে আর আমিই ওকে দেখিয়ে দিচ্ছিলাম কীভাবে পূরন করতে হবে। আশ্চয যে আমাদের জন্ম সাল এক তবে ও বয়সে আমার চেয়ে কয়েক মাসের বড় হবে (০৫/০৫/১৯৮৭ সাল)।  ২০১০ সালে এস, এস, সি ( Science GPA 2.50) আর ২০১২ তে এইচ, এস, সি ( Arts GPA 2.50) পাশ করেছে Open University এর অধীনে। এতো গ্যাপ কেন জিজ্ঞেস করতে বললো যে সে ছিল ২০০৩ সালের এস, এস, সি পরীক্ষাথী। কিন্তু যেকোন কারনেই হোক পরীক্ষা দিতে পারেনি। সেও ছিল Science গ্রুপ এর শিক্ষাথী। ২০০২  সালে তার বাবা ইন্তেকাল করেন। প্রথম পক্ষের সন্তানদের মধ্যে কোন ভাই নেই। পাঁচ বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। তার জন্মের সময়ই মা ইন্তেকাল করলে বাবা আবার বিয়ে করেন। দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রীর ঘরে সৎ দুই ভাই ও এক বোন রয়েছে। ওর পিতা নিবাচন কমিশনে চাকুরী করতেন। কিন্তু এই গ্যাপটা কেন সেটা সে এড়িয়ে গেল। হঠাৎ করে দেখি যে, ওর বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়। ব্যক্তিগতজীবনে নোয়াখালীর কিছু মানুষের সাথে তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলেও দক্ষিণবঙ্গের লোকজনের মতো এদেরকে ঘৃণা, অপছন্দ করিনা। তবে এড়িয়ে চলি। বিনাকারণেই যেন কিছুটা আশাহত হলাম। কেন জানিনা। আমার দেশের বাড়ি চাঁদপুর শুনে সে কোন একফাঁকে বললো যে, কুমিল্লার মানুষ সে পছন্দ করেনা। আমি বললাম, আমিও কুমিল্লা, চাঁদপুরের Village Politics এসব অপছন্দ করি। তার ফোন নাম্বার আবেদন ফরমেই লেখা ছিল। ইচ্ছে করেই নিলাম না। কি দরকার। ক্ষণিকের জন্যে এ পরিচয়, সম্পক নিয়ে এটাকে টেনে দীঘ করার তো কোন মানে হয় না।
এর মধ্যে তার রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য কাগজপত্রের ফটোকপির কথা মনে করিয়ে দিতেই দুজনে বাইরে এসে ফটোকপির দোকান খুঁজে বের করলাম।
পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি উচ্চতার ফর্সা সুন্দর চেহারার, একহারা গড়নের মেয়েটির কথা মনে পড়লো বলেই এই লেখা।

আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।”(২:১৭৭)