সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (১৭-০১-২০১৬ ০১:৩০)

টপিকঃ কত শক্তি হাইড্রোজেন বোমায়: ১

উপসর্গ

হাইড্রোজেন বোমা নিয়ে অনেকর মধ্যেই ভ্রান্ত ধারানা বিরাজমান। হাইড্রোজেন বোমা বেশী শক্তিশালী নাকি এটম বোমা বেশী শক্তিশালী? প্রশ্নের উত্তরে বেশীরভাগই ভুল উত্তর দেবেন। কারনটা সম্ভবত এর নামের দরুন। নাম শুনে মনে হয় হাইড্রোজেন বোমা হল হাইড্রোজেনের দহন-ক্রিয়ার শক্তি দিয়ে বানানো বোমা। অনেকটা মার্সিয়ান মুভিতে পানি বানাতে গিয়ে বিস্ফরনের মত। আসলে তা নয়।

http://s11.postimg.org/4wlwhs22r/screenshot_471.jpg
ছবি: দ্যা মার্সিয়ান মুভি স্ক্রিনসট

এই জাতীয় বোমা যে খুব একটা কাজের না তা মুভিতেই দেখা গেছে। বিস্ফোরনের পর ম্যাটের চুলে একটু ধোয়া ধরলেও সবই অক্ষত ছিল। ghusi ব্যায়বহুল এবং কম শক্তি উৎপাদনের কারনে কোন মিলিটারীই এই ধরনে বোমা ব্যাবহার করেননা। ফলে “হাইড্রোজেন বোমা” নামটা অব্যাবহৃত রয়ে গেছে। এই সুযোগে পারমানবিক বোমা পার্টি তাদের নতুন জেনারেশন পারমানবিক বোমার নাম “হাইড্রোজেন বোমা” দিয়ে দিয়েছেন। mad জি হ্যা হাইড্রোজেন বোমা নিজেও একটা পারমানবিক বোমা। একের ভেতরে দুই।

আরো একটু খোলসা করি। পারমানবিক বিক্রিয়া হয় দুই ধরনের। বিভাজন(Fission) এবং সংযোজন(Fusion)। নামদিয়েই বোঝাযায় কোনটা কি। ফিশান ক্রিয়ায় বড় একটা পরমানুকে (ইউরেনিয়াম ২৩৫ এবং অথবা প্লুটোনিয়াম ২৩৯ পরমানু ) ভেঙ্গে দুটা ছোট পরমানু প্লাস কিছু খুচরা বানানো হয়।  পারমানু দুটা থেকে যায় আর খুচরা ভর হয়ে যায় শক্তি।  যেমন ইউরেনিয়াম ভেঙ্গে হয় আর্গন আর বেরিয়াম। আর্গন আর বিরিয়ামের মিলিত ভর ইউরেনিয়ামের একার ভরের চেয়ে একটু কম। সেই রয়ে যাওয়া অংশটুকুই পরিনত হয় শক্তিতে। অনেকটা পাচ টাকার নোট ভেঙ্গে দুটা দু টাকার নোট বানানো আর এক টাকার গাট্টা খাওয়ার মত।

http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/1/15/Nuclear_fission.svg/220px-Nuclear_fission.svg.png
ছবি: উইকি

যেহেতু E=mc^2 সেহেতু সেই অতি অল্প খুচরা ভরটাই বিপুল শক্তি উৎপন্ন হওয়ার জন্য যথেষ্ট।


অন্যদিকে ফিউশান হল উল্টা। দুইটা ছোট পরমানু একসাথ করে একটা বড়পরমানু প্লাস কিছু খুচরা বানানো এই ক্ষেত্রেও খুচরাটুকু পরিনত হয় শক্তিতে। আমাদের সূর্য্যে পারমানবিক বিক্রিয়াটা এই টাইপের। সূর্য্যে হাইড্রোজেন সংজোজিত হয়ে পরিনত হয় হিলিয়াম আর শক্তিতে।

http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/3/3b/Deuterium-tritium_fusion.svg/248px-Deuterium-tritium_fusion.svg.png
ছবি: উইকি

সাধারন (হিরোশিমা আমলের) “এটম বোমা” হল ফিশান বোমা। তত্তগত ভাবে যত বেশী ইউরেনিয়াম তত বেশী শক্তি হওয়ার কথা। কিন্তু সমস্যা দুইখানে। প্রথমত পরমানু ক্ষুদ্র হওয়ায় ইউরেনিয়াম কে ভাঙতে যে নিউট্রন ছুড়েদেয়া হয় সেটা ইউরেনিয়াম পরমানুতে লাগতেও পারে, নাও লাগতে পারে। তাই প্রয়োজনের অনেক বেশী ইউরেনিয়াম দিতে হয়। অত ইউএরনিয়াম জোগাড় করা ব্যায়বহুল। আদতে একটা বোমাতে থাকা ইরেনিয়ামের ছোট একটা অংশই শুধু ভাঙ্গে, বাকিটা থেকে যায় বা অপচয় হয়, সেই থেকে যাওয়া ইউরেনিয়াম থেকে হয় রেডিয়েশন পরবর্তী হাজার বছর যাবৎ।  sad

আরেকটা সমস্যা হল ক্রিটিক্যাল ম্যাস, যার সার মর্ম হল, আপনি চাইলেই বস্তায় বস্তায় ইরেনিয়াম দিয়ে বিশাল এক বোমা বানতে পারবেননা। কারন একটা নির্দিস্ট ভরের পর স্তুপটা আর স্টেবল থাকেনা। এখন আপনি যদি কবিদের উপর বিরক্ত হয়ে আকাশের চাঁদটা গুড়িয়ে দিতে চান। এবং এর তার জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল একটা ফিশান এটম বম বানাতে চান (যদিও অত ইউরেনিয়াম দুনিয়ার মানুষে হাতে নাই, ধরে নিন জুয়েলআইচ পাছার ভেতর থেকে ১০০ বস্তা ইউরেনিয়াম এনে দিলেন), ক্রিটিক্যাল ভর সমস্যার জন্য ট্যাকনিক্যল ভাবে তা সম্ভব নয়। অন্তত আমাদের বর্তমান টেকনলজী দিয়ে। তাহলে উপায়? কবিদের অত্যাচার সহ্য করতে হবে... পূর্ণিমার চাদ যেন ঝলশানো রুটি...? না তা হবে কেন। উপায় হল হাইড্রোজেন বম।


একটা পুরানো দাদার আমলের সাধারন ফিশান এটম বম নিয়ে এটা একবস্তা লিথিয়াম - হাইড্রোজেন আইসোটোপের পেস্টের ভেতর ভরে দিলেই হাইড্রোজেন বোমা হয়ে গেল। ভেতরের এটম বমটা যখন ফাটে তখন অতি প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয়, সেই তাপে বাইরের হাইড্রোজেন আইসোটোপ ফিউজ হতে থাকে, ঠিক সূর্য্যে হওয়া বিক্রিয়ার মত। ডিউটেরাইড হয় ট্রিটিয়াম, এবং পরে ট্রিটিয়াম হয় হিলিয়াম। এই ক্ষেত্রে ক্রিটিক্যাল ম্যাস লিমিটেশন নাই। এক বস্তার যায়গায় দশ বস্তা লিথিয়াম ডিউটেরাইড দিলেও সমস্যা নাই। তার উপর ফিউশনের হিট/মিস রেট ফিশানের চেয়ে অনেকগুল ভাল। ব্যাস এখন শুধু আইচকে রাজি করানো গেলেই চাদের একটা বিহিত করা যায়।  waiting

http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/8/8c/Teller-Ulam_device.png
টেলার- উলাম (Teller–Ulam) মডেল।  ছবি: উইকি

হিরোশিমায় ফেলা লিটল বয় এটম বোমার ইয়েল্ড ছিল ১৫ কিলোটন টিএনটি সমতুল্য। ফিশান বমের হিসেবে ঐটাই অনেক। অন্যদিকে ১৯৬১ সালে রাশিয়ায় টেস্ট(!) করা এইচ বম টেসার বব্মা ছিল ৫০,০০০ কিলোটন টিএনটি ইয়েল্ডের!! হিরোশিমারটাকে লিটল বয় কেন নাম দিয়েছিল এইচ বম বেরুনোর পর সেটা পরিস্কার হল!  tongue

ভাবছেন টিএনটি কি জিনিস? ৫০ হাজার কিলোটন টিএনটি কত খানি শক্তি? মানে কয়টা রজনীকান্ত ঘুসিতে এক কিলোটন টিএনটির সমান শক্তি থাকে?

হুমম
-    চলবে

Re: কত শক্তি হাইড্রোজেন বোমায়: ১

চলতে থাকুক।

Re: কত শক্তি হাইড্রোজেন বোমায়: ১

বিটখিটা এই বোমার বক্তব্য সরস করে উপস্থাপন অতি অসাধারণ হইছে  thumbs_up
পরের পর্বে মিস্টার জুয়েল সাহেবকে রাজি করারনোর একটা চেষ্টা নিয়েন। আমরা দেখতে চাই একটা চাঁদের বদলে অসংখ্য চাঁদের গুড়া দেখে কবিরা কি ধরনের কবিতা লেখেন।  thinking

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: কত শক্তি হাইড্রোজেন বোমায়: ১

সুন্দর তথ্য শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

Re: কত শক্তি হাইড্রোজেন বোমায়: ১

সুন্দর পোস্ট।
নিউট্রিনো বোমা নিয়েও কিছু তথ্য দিয়েন thumbs_up

Re: কত শক্তি হাইড্রোজেন বোমায়: ১

ভালো লিখেছেন।

  “যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ, ঋণং কৃত্ত্বা ঘৃতং পিবেৎ যদ্দিন বাচো সুখে বাচো, ঋণ কইরা হইলেও ঘি খাও.

Re: কত শক্তি হাইড্রোজেন বোমায়: ১

Postimage এর ছবিটা আসছে না। তবে পড়ে অনেক কিছু শিখলাম। রেপু thumbs_up

OH DEAR NEVER FEAR SAIF IS HERE
BOSS অর্থাৎ সাইফ
Cloud Hosting BossHostBD

Re: কত শক্তি হাইড্রোজেন বোমায়: ১

আগে তো জানতাম এটম বোমাই শক্তিশালী। কিন্তু হাইড্রোজেন ও আছে সাথে দেখছি। যাই হোক শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ smile

সব কিছু ত্যাগ করে একদিকে অগ্রসর হচ্ছি

লেখাটি CC by-nd 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: কত শক্তি হাইড্রোজেন বোমায়: ১

চলতে থাকুক !  thumbs_up

১০

Re: কত শক্তি হাইড্রোজেন বোমায়: ১

টপিকের শুরুতে এই নিয়ে আপনার রম্য লেখাটির লিংক দিলে ভালো হতো।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (১৭-০১-২০১৬ ০১:৩৪)

Re: কত শক্তি হাইড্রোজেন বোমায়: ১

ত্রিমাত্রিক লিখেছেন:

নিউট্রিনো বোমা নিয়েও কিছু তথ্য দিয়েন thumbs_up

নিউট্রন বোমাও এটম বম। একটু অন্য ধাচের আরকি। এটা শক্তি উৎপাদন করে কম, কিন্তু রেডিয়েশন উৎপাদন করে বেশী। নিউট্রন রেডিয়েশন।  এর কাজ হল ঘরবাড়ি যতটা সম্ভব অক্ষত রাখা, শুধু মানুষজন মেরে ফেলা। নিউট্রন রেডিয়েশন তারাতারি মজে যায় ফলে শত্রু মড়ে যাওয়ার পর অপেক্ষাকৃত কম সময়ের মধ্যে যায়গাটা আবার ব্যাবহার উপযোগী হয়। প্রাসঙ্গে আসলে বলব দেখি।

সাইফ দি বস ৭ লিখেছেন:

Postimage এর ছবিটা আসছে না


আমার এখান থেকে সমস্যা হচ্ছেনা। অন্যের টপিকে ব্যাপারটা আমিও খেয়াল করেছি। ওদের জিও সার্ভার ক্লাস্টারিংয়ে সমস্যা আছে মনে হয়  thinking

mizvibappa লিখেছেন:

আগে তো জানতাম এটম বোমাই শক্তিশালী।

যাক, অন্তত একজন স্বীকার করলেন  hehe !
ব্যাপার হল
কেরসিন বম = কেরসিন পুড়িয়ে বম
পেট্রোল বম = পেট্রোল পুড়িয়ে বম
হাইড্রোজেন বম = হাইড্রোজেন পুড়িয়ে বম না! পোড়ানো মানে অক্সিডাইজেশন। হাইড্রোজেন বমে পিউর হাইড্রোজেন থাকেনা। যে মিশ্রিত হইড্রোজেন আইসোটপ থাকে তাকেও অক্সিডাইজেশন করা হয়না।

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

টপিকের শুরুতে এই নিয়ে আপনার রম্য লেখাটির লিংক দিলে ভালো হতো।

হুম দিয়ে দিলাম। আসলে প্রিফিক্স গল্পটা কাজে লাগবে পরের পর্বে। যখন নাম্বার গুলো দেয়া শুরু করব...  hehe নাম্বার গুলো এতোই ছোটবড় যে আদৌ গ্রাফ আকা যাবেকিনা সেটাই চিন্তা করছি  thinking

১২

Re: কত শক্তি হাইড্রোজেন বোমায়: ১

লেখা ভাল হয়েছে। কিন্তু ১০০ বস্তা ইউরেনিয়াম কেন জুয়েল আইচের পাছা থেকেই বের করতে হবে তা বুঝলাম না। অহেতুক একজনকে এভাবে উপস্থাপন করার কোন প্রয়োজন ছিল না।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

১৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সমালোচক (২১-০১-২০১৬ ১২:০৭)

Re: কত শক্তি হাইড্রোজেন বোমায়: ১

আমাদের এক স্যার ছিলেন ফার্মাসিউটিক্যাল এনালাইসিস পড়াতেন। উনি ল্যাবে প্রাক্টিক্যালের সময় টাইট্রেশন এর সময় উত্তেজিত ভাবে ইউরেকা ইউরেকা বলতেন। তো ঘটনা হলো এন্ড পয়েন্টে সলিউশন কালার চেঞ্জ হতো  এবং অন্যকালার ধারন করত। তার তখনি উনি ইউরেকা ইউরেকা করতেন। আমরা রং চেঞ্জ এবং নিজেদের অজ্ঞতার কারনে উনার কাজ অসম্ভব কঠিন ভাবতাম
একসময় দেখা গেল উত্তেজনার অতিসায্যে আমরাও ইউরেকা ইউরেকা শুরু করেছি, সাম্লাতে পারছি না......
আমার মনেহয় সদস্য ভাইও নিজের সৃষ্টি সামলাতে না পেরে জুয়েলাইসের পশ্চাদদেশ টেনে এনেছেন।

উপরে আমার মন্তব্য ফান মন্তব্য। সদস্য ভাই, ইনভার ভাই, শামীম ভাই, মেহেদী৮৩ , সরদার ভাই, জলদশ্যু, রাবেয়া, জলকনা, আছেন বলে আমরা অনেক বৈজ্ঞানিক, বিজ্ঞানের অনেক কিছু জানতে পারি, অনেক জায়গা ভার্চুয়ালি দেখা হয়, অনেক রান্না ভার্চুয়ালি খাওয়া হয়।

  “যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ, ঋণং কৃত্ত্বা ঘৃতং পিবেৎ যদ্দিন বাচো সুখে বাচো, ঋণ কইরা হইলেও ঘি খাও.

১৪

Re: কত শক্তি হাইড্রোজেন বোমায়: ১

আরণ্যক লিখেছেন:

কিন্তু ১০০ বস্তা ইউরেনিয়াম কেন জুয়েল আইচের পাছা থেকেই বের করতে হবে তা বুঝলাম না। অহেতুক একজনকে এভাবে উপস্থাপন করার কোন প্রয়োজন ছিল না।

ঐলাইনটা যাতে কেউ বুঝতে চেষ্টা না করে এই জন্যইতো ব্র্যাকেটের ভেতরে রাখা। আপনার ঐলাইনটাই চোখে পরল!  sad

যাদু ছারা ১০০ বস্তা ইউরিনয়াম জোগাড় করা সম্ভব না তাই বলা। আর পাছা থেকে বের করে আনার কথা বললে, আইচ ত্তস্তাদ মানুষ, ওনিতো আর নিজের থেকে বের করবেননা। করবেন সাগরেত বা সামনে যে থাকে তার থেকে। tongue_smile ব্যাপারটা আপনার কাছে অন্যরকম লাগতে পারে, তবে আমি কমপ্লিমেন্ট হিসেবেই বলেছি। ছেলেবেলায় হাটের ম্যাজিসিয়ানদের পকেটে রাখা পয়সা পাছায় চাপড় দিয়ে বের করে আনতে যতবার দেখেছি ততবারই বিমোহিত হয়েছি। একবারতো ভলেন্টিয়ার আমার নিজের বন্ধুই ছিল!