টপিকঃ সনাতনসংবাদ

মানবতার কল্যাণে সত্য প্রকাশে নির্ভীক>চুচুলীবটতলী সত্যসনাতন আধ্যাত্মিক পরিষদ । আটোয়ারী,পঞ্চগড়,বাংলাদেশ ।
সত্যবাদীতা-সত্যবাদীতা একটি বিশেষ গুণ । এ গুণ যার থাকে,তিনি সমাজে বিশেষভাবে সন্মানিত হন । সত্যবাদীতা মানব-চরিত্রের একটি মহৎ গুণ । গোপন না করে অকপটে সবকিছু প্রকাশ করার নামই "সত্যবাদীতা" । সত্য মানবজীবনের স্বরূপ বিকশিত করে । সত্যের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বা তথ্য সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায় । সত্যবাদী কখনো খারাপ কাজ করতে পারে না । সত্যবাদীকে সকলেই ভালোবাসে,সন্মান করে,শ্রদ্ধা করে । সত্যবাদীতা ধর্মের অঙ্গ । সকলেরই উচিত সত্যকথা বলা,সৎপথে চলা এবং সত্যবাদীতার অনুশীলন করা । এ বিশ্বে যত মহাপুরুষ আছেন তাঁরা সকলেই সত্যবাদী । সত্য প্রকাশ করাই ছিল তাঁদের জীবনের অন্যতম ব্রত ।
সত্য হচ্ছে দর্শন শাস্ত্রের একটি ধারণা যা প্রকৃত বিষয় বা ঘটনার সাথে যোগাযোগের সেঁবন্ধন গড়ে তোলে । যদি কোনো বিষয় প্রকৃতই ঘটেছে বলে মনে করা হয়,তখন তা সত্য হিসেবে বিবেচিত হয় । যিনি সত্যকথা বলেন বা লিখেন,সমাজে তিনি সত্যবাদী নামে পরিচিতি লাভ করেন ।
উদাহরণস্বরূপ-মানুষের রক্তনীল,তখন তা মিথ্যা । সত্য বিষয় হচ্ছে মানুষের রক্ত লাল,তখন তা সত্য ।

Re: সনাতনসংবাদ

ভক্তি ও শ্রদ্ধা-ভক্তি ও শ্রদ্ধা একটি নৈতিক গুণ এবং তা ধর্মেরও অঙ্গ । আমরা মা-বাবাকে শ্রদ্ধা করি । শিক্ষকদের শ্রদ্ধা করি । যারা আমাদের গুরুজন তাঁদের আমরা শ্রদ্ধা করি । আর গুরুজনেরা আমাদের স্নেহ করেন । তাহলে দেখা যাচ্ছে,বড়দের প্রতি ছোটদের যে-শিষ্টাচার তাকে বলে শ্রদ্ধা । ছোটদের প্রতি বড়দের যে-মমতামাখা আচরণ,তার নাম স্নেহ । শ্রদ্ধা ও ভক্তি সমার্থক । তবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটু পার্থক্য আছে । ভক্তি হচ্ছে ভক্তির পাত্রের প্রতি চরম অনুরাগ । শ্রদ্ধা যখন গভীর হয়,তখন তাকে বলে ভক্তি । আমরা ঈশ্বরকে ভক্তি করি । কারণ তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন । তিনি আমাদের পালন করেন । তিনি নানা ভাবে আমাদের মঙ্গল করেন । ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি দুভাবে প্রকাশ করা যায় । (১) সরাসরি ঈশ্বরের নাম জপ,নামকীর্তন ইত্যাদির মাধ্যমে । (২) আমাদের মা-বাবা-শিক্ষকসহ গুরুজনদের ভক্তি করার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তির প্রকাশ ঘটে । ঈশ্বর যখন ভক্তকে কৃপা করেন,তখন তাঁকে ভগবান বলে । ভক্ত যেমন ভগবানকে ভক্তি করেন,তেমনি ভগবানও ভক্তকে দেখে রাখেন । তাই তো বলা হয়,ভক্তের "ভগবান"কিংবা ভক্তের বোঝা ভগবান বহন করেন । ভক্ত সুখ ও দুঃখকে একইভাবে গ্রহণ করেন ।

Re: সনাতনসংবাদ

ভালো লিখেছেন
আরও লিখে যান

  “যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ, ঋণং কৃত্ত্বা ঘৃতং পিবেৎ যদ্দিন বাচো সুখে বাচো, ঋণ কইরা হইলেও ঘি খাও.

Re: সনাতনসংবাদ

কর্তব্যনিষ্ঠা-আমরা আমাদের পরিবারে ও সমাজে নানারকমের কাজ করি । আমাদের মধ্যে যারা শিক্ষার্থী,তাদের কাজ কী? এর উত্তর হবে ভালোভাবে লেখাপড়া করা এবং জ্ঞান অর্জন করা । যাঁরা চাকরি করেন,তাঁদের নিজেদের কাজ যত্নের সঙ্গে করতে হয় । সমাজেও মানুষকে নির্দিষ্ট কর্তব্য পালন করতে হয় । সে-কর্তব্য পালনে কেউ অবহেলা করলে গোটা সমাজেরই ক্ষতি হয় । আমরা নিশ্চয়ই লেভেলক্রসিং দেখেছি । রেল লাইন আর সড়ক যেখানে একে অন্যকে ভেদ করে চলে গেছে,সেই জায়গাটাকে বলে লেভেলক্রসিং । ট্রেন আসার আগেই ঠিক সময় রেললাইন ভেদ করে যাওয়া সড়কটির দুপাশ থেকে প্রতিবন্ধক দণ্ড ফেলে বন্ধ করে দিতে হয় । এজন্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী আছেন । তিনি ট্রেন আসার ঠিক আগে প্রতিবন্ধক ফেলে সড়কপথ বন্ধ করলেন না । তাহলে কী হবে? সড়ক দিয়ে গাড়ি চলতে থাকবে,ট্রেনও এসে পড়বে । তবে ঘটবে দূর্ঘটনা । তাই লেভেলক্রসি-এ প্রতিবন্ধকতা ফেলার এবং ওঠানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীর কর্তব্যনিষ্ঠার ওপর যানবাহন ও জনগণের চলাচলের নিরাপত্তা নির্ভর করে । এ-কথা জীবন ও সমাজের সকল ক্ষেত্রেই খাটে । সুতরাং আমরা কর্তব্যনিষ্ঠার আদর্শ অনুসরণ করে চলব । এর দ্বারা আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিজীবন সুন্দর হবে, সমাজ থাকবে শান্তিতে

Re: সনাতনসংবাদ

ভাতৃপ্রেম-কাজল আর সজল দুই ভাই । দুজনে খুব মিল । কাজলের খুশিতে সজল খুশি হয় । সজলের খুশিতে কাজল খুশি হয় । আবার কাজল কষ্ট পেলে সজল কষ্ট পায় । সজল কষ্ট পেলে কাজল কষ্ট পায় । এই যে কাজল ও সজলের একের প্রতি অন্যের ভালোবাসা বা মমতা,একেই বলে ভাতৃপ্রেম । আমাদের পরিবারে ও সমাজে ভাতৃপ্রেম খুবই দরকারি একটি নৈতিক গুণ । যে সকল নৈতিক গুণের জন্যে পরিবার শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় থাকে,সেগুলোর মধ্যে ভাতৃপ্রেম একটি । আর প্রতিটি পরিবার শান্তিপুর্ণ থাকলে গোটা সমাজও শান্তিপূর্ণ থাকবে । আমরা জানি,রামায়ণে রাম-সীতা যখন ****্দ বছরের জন্য বনে যান,তখন লক্ষণও রামের সঙ্গে বনে যান । ভাতৃপ্রেমের কি অপূর্ব দৃষ্টান্ত । একইভাবে ভরত রাজ্য শাসনের ভার পেয়েও রামকে ফিরিয়ে আনতে যান । রাম ফিরলেন না । ভরত তাঁর পাদুকা সিংহাসনে রেখে নিচে বসে রাজ্য শাসন করতে লাগলেন । আমরা জানি রাম ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যভার ফিরিয়ে দিলেন । তাই ভরতের ভাতৃপ্রেম উজ্জ্বল হয়ে আছে । তাঁদের এই ভাতৃপ্রেমের দৃষ্টান্ত আমরাও অনুসরণ করব । তাহলে আমাদের পরিবার ও সমাজ শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় হবে ।

Re: সনাতনসংবাদ

ধূমপান অনৈতিক কাজ-আমাদের চারপাশে এত লোক ধূমপান করে যে,আমাদের মনেই হয় না যে,কাজটি খুবই অনৈতিক । ধূমপানের কথায় উঠে আসে মাদকাসক্তি প্রসঙ্গ । মাদক বলতে এমন কিছু জিনিসকে বোঝায় যা আমাদের নেশাগ্রস্ত করে । আমাদের দেহ ও মনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে । আমাদের শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে অসুস্থ করে তোলে । এমনকি মাদকসেবী মারা পর্যন্ত যায় । ধূমপানও এক ধরনের মাদকাসক্তি । ধূমপানকে বিজ্ঞানী ও চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বিষপান বলে অভিহিত করেছেন ।কারণ বিড়ি সিগারেট তামাক বা চুরুটের ধোঁয়ায় থাকে নিকোটিন জাতীয় পদার্থ । এ-পদার্থ বিষ । এ-বিষ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে মানুষের অসুস্থতা এবং মানুষের মৃত্যুর কারণ হয় । চিকিৎসকগণ বলেন,ধূমপানের ফলে শ্বাসকষ্ট,নিউমোনিয়া,ব্রংকাইটিস,যক্ষা,ফুসফুসের ক্যানসার,গ্যাসট্রিক-আলসার,ক্ষুধামান্দ্য,হৃদরোগ ও মানসিক অবসাদসহ অনেক ধরণের রোগ হয় । এসব রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির অকাল মৃত্যুও ঘটে । অন্যদিকে ধূমপায়ী ব্যক্তি শুধু নিজেরই ক্ষতি করে না,অন্যদেরও নানাভাবে ক্ষতি করে । ধূমপানের সময় তার চারপাশের শিশু,নারী-পুরুষ,বৃদ্ধ-যুবক সকলেই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় । একে পরোক্ষ ধূমপান বলা হয়,যা অধূমপায়ীদের জন্য সাংঘাতিক ক্ষতিকর ।

Re: সনাতনসংবাদ

পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নৈতিক মূল্যবোধ গঠনের উপায়-"শৃঙ্খলাবোধ" নৈতিক মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম উপায় । ঈশ্বর জীব ও জগৎ সৃষ্টি করেছেন । ঈশ্বরের সৃষ্টির মধ্যে একটা শৃঙ্খলা রয়েছে । তেমনি আমরাও আমাদের জীবনে আনব শৃঙ্খলাবোধ । ঈশ্বরের শৃঙ্খলাবোধের প্রকাশ ঘটেছে তাঁর সৃষ্টিকর্মে । পারিবারিক জীবনে একটি পরিবারের সদস্যগণ পরস্পরের সঙ্গে নানাভাবে জড়িত । তাই নিজের অধিকার ভোগ করার সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রতি আমাদের কর্তব্য রয়েছে । এ-সত্য যেন আমরা ভূলে না যাই । সমাজের ক্ষেত্রেও সমাজের সকল সদস্যের এককভাবে সম্মিলিতভাবে দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয় । আর তা করতে গিয়েই তো কতগুলো নৈতিক মূল্যবোধের উদ্ভব ঘটেছে । যেমন-সততা,সহিষ্ণুতা,সম্প্রীতি,সেবা,সৌহার্দ্য,একতা,সত্যবাদীতা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ । ধর্মও সকল নৈতিক মূল্যবোধকে তার উপদেশ ও অনুশাসনে পরিণত করেছে । ধর্মের যে বিশেষ দশটি লক্ষণের কথা বলা হয়েছে,তার মধ্যে রয়েছে অহিংসা,সত্যবাদীতা,অক্রোধ,ধীশক্তি,বিদ্যা,সংযম ইত্যাদি । যিনি ধার্মিক তিনি এগুলো পালন করেন । আর এভাবেই নৈতিক মূল্যবোধ পরিণত হয় ধর্মীয় অনুশাসনে । আবার ধর্মীয় অনুশাসন থেকে তৈরি হয় নৈতিক মূল্যবোধ ।

Re: সনাতনসংবাদ

পরোপকার-সৌরভ গৌরাঙ্গের সহপাঠী । ওরা একই পাড়ায় থাকে । মা,বাবা আর সৌরভকে নিয়ে ওদের পরিবার । একদিন সৌরভ স্কুলে এল না । গৌরাঙ্গো তো স্কুল কামাই করার মতো ছেলে নয় । গৌরাঙ্গ স্কুল থেকে ফেরার পথে সৌরভের বাড়ি গেল । গিয়ে দেখে সৌরভের খুবই জ্বর । কিন্তু ওর বাবা বাড়িতে নেই । সৌরভের মা সৌরভকে ফেলে কোথাও যেতে পারছেন না । তখন গৌরাঙ্গ একদৌড়ে গিয়ে ডাক্তার ডেকে আনল । এই যে সৌরভের পরিবারের প্রতি গৌরাঙ্গের আচরণ,একেই বলে পরোপকার । উপকার মানে পরের ভালো করা ।কোনো স্বার্থের প্রত্যাশা না করে পরের মঙ্গলের জন্য যে কাজ করা হয়,তাকেই বলে পরোপকার । পরোপকারের পরিচয় পাই কবি কামিনী রায়ের একটি কবিতায় । তিনি লিখেছেন-
পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলেই দাও, তার মতো সুখ কোথাও কি আছে
আপনার কথা ভূলিয়া যাও ।
পরোপকারের মধ্য দিয়েও জীবের সেবা করা হয় ।যেহেতু জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বর অবস্থান করেন,তাই পরোপকারের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরেরই সেবা করা হয় । পরোপকার করলে ব্যক্তি উদার হয় । তার মানে প্রশান্তি আসে । কারণ পরোপকার করার মধ্যে এক ধরণের আত্মতৃপ্তি আছে । পরোপকারের মধ্য দিয়ে জীবের দুঃখ-কষ্ট দূর হয় । তাই ব্যক্তিজীবন ও সমাজের ক্ষেত্রে পরোপকার দরকার

Re: সনাতনসংবাদ

সেবা-সেবা শব্দটির অর্থ হচ্ছে যত্ন বা শুশ্রূষা । সেবার আর একটি অর্থ হচ্ছে পরিচর্যা । পরম মমতায় অপরের পরিচর্যা করাকে সেবা বলে । এটি মানুষের একটি বিশেষ গুণ । সেবা পরম ধর্ম । জীব সেবা করার কথা শাস্ত্রে বলা হয়েছে  । কেননা প্রত্যেক জীবের মাঝে ঈশ্বর বিদ্যমান । তাই বৃক্ষ-লতা,পাখ-পাখালি পরিচর্যা করাও সেবার অংশ । এ প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন-জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর ।
পারিবারিক জীবনে তথা সামাজিক জীবনে সেবার গুরুত্ব অপরিসীম । পরিবারের প্রত্যেক সদস্য একে অপরকে যথাযথভাবে সেবা করা উচিত । সমাজের প্রত্যেক মহান ব্যক্তিই সেবাপরায়ণ । চিকিৎসক রোগীকে সেবার মাধ্যমে সুস্থ করে তুললে সেখানেই তাঁর সার্থকতা । গরিব-দুঃখী,অনাথকে সেবা করলে মূলত ঈশ্বরকে সেবা করা হয় । মাতৃভূমি আমাদের মা । মায়ের মত মাতৃভূমিকে আমাদের সকলকেই সেবা করতে হবে । আমরা পরিবারের সকল সদস্যসহ আত্মীয়-স্বজন,সমাজের সবাইকে সাধ্যমতো সেবা করব । বৃক্ষ-লতাসহ প্রতিটি জীবকে ঈশ্বরজ্ঞানে সেবা করব । বিভিন্ন সেবামূলক কাজে অংশগ্রহন করব । প্রত্যেক ব্যক্তির মাঝে সেবার মনোভাব গড়ে তুলতে হবে । সেবার দ্বারাই সম্ভব পরিবার.সমাজ ও দেশে সুন্দর একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা ।

১০

Re: সনাতনসংবাদ

পরমতসহিষ্ণুতা-আমরা মানুষ । মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব জ্ঞান আছে,বুদ্ধি আছে,জগৎ-জীবন সম্পর্কে নিজস্ব ধারণা আছে । নিজস্ব মত আছে । আমার যেমন নিজস্ব মত আছে,তেমনি অন্যেরও নিজস্ব মত আছে । কিন্তু সাধারণত আমরা আমাদের নিজ নিজ মতকেই বড় করে দেখি । অন্যের মতের গুরুত্ব দিই না । অন্যের মত উপেক্ষা করি । আর এর ফলে আমাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় ।বিরোধ হানাহানি পর্যন্ত গড়ায় । কিন্তু আমরা যদি অন্যের মতের সারবস্তু বুঝে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি তাহলে কোন বিরোধ ঘটে না । বরং সকলের মঙ্গল হয় । এই যে অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করা,অন্যের মতের প্রতি সহনশীল হওয়া,একেই বলে পরমতসহিষ্ণুতা । পৃথিবীতে অনেক মত ও পথ আছে । ধর্মপালনের ক্ষেত্রেও নানা মত ও পথের সৃষ্টি হয়েছে ।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন-
যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্ ।
মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ ।।(৪/১১)
অর্থাৎ যে যেভাবে বা যেরূপে আমাকে উপাসনা করে,আমি তাকে সেভাবেই সন্তুষ্ট করি । হে পার্থ (অর্জুন),মানুষেরা সকল প্রকারে আমার পথেরই অনুসরণ করে ।
পরমতসহিষ্ণুতা সমাজের শৃঙ্খলার অন্যতম উপাদান । একে অপরের মতামতের মাধ্যমে কাজ করা উচিত ।

১১

Re: সনাতনসংবাদ

উদারতা,পরোপকার,সেবা,সৎসাহস ও পরমতসহিষ্ণুতা- এ নৈতিক গুণগুলো অনুশীলনের গুরুত্ব ও উপায়-উদারতা মানুষকে মহান করে । পরোপকার করলে মানুষের মঙ্গল হয় । উদার ব্যক্তির একটি গুণও আবার পরোপকার করার মনোভাব । অন্যদিকে পরোপকার করা উদার ব্যক্তির একটি বৈশিষ্ট্য । একটির সঙ্গে আরেকটি জড়িত । উদারতা ও পরোপকারের মধ্য দিয়ে ধর্ম পালিত হয় এবং নৈতিকতা অর্জন করা যায় । জীবকে সেবা করলেই স্বয়ং ঈশ্বরেরই সেবা করা হয় । সৎসাহস হচ্ছে ভালোকাজে সাহস দেখানো । দুষ্টের দমন,ন্যাবিচার,দেশরক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সৎসাহস প্রয়োজন । পরমতসহিষ্ণুতা সম্প্রীতি ও শান্তি স্থাপনের অন্যতম উপায় । পরমতসহিষ্ণুতা সমাজকে সুশৃঙ্খল রাখে । যখনই পরমতসহিষ্ণুতার অভাব ঘটে, তখনই উদ্ভব ঘটে সাম্প্রদায়িকতা ও সংকীর্ণতার । সুতরাং শান্তি,সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে পরমতসহিষ্ণুতা বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে এবং ব্যক্তিচরিত্রকে উন্নত করে । ভালো ভালো গুণগুলি মানুষকে আলোর পথে নিয়ে যায় । আর মন্দ গুণগুলি মানুষকে অন্ধকারের পথে নিয়ে যায় । পরিবার,দেশ,সমাজ ও সমগ্রবিশ্বকে আলোকিত করতে হলে আমাদের প্রত্যেককে আলোর পথে চলতে হবে । আলোর নিশান পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করলে শান্তি ও সুশৃঙ্খল বিরাজ করবে ।