টপিকঃ শ্রমশক্তির সদ্ব্যবহারই হবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি

জনশক্তি তথা যুবশক্তি দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানিযোগ্য সম্পদ। ১৬ বছর পর নাকি দেশের গ্যাস রিজার্ভ ফুরিয়ে যাবে। গ্যাস রিজার্ভ ফুরালে বিদ্যুত উৎপাদন  কমবে, শিল্প কারখানা, যানবাহন, ঘরের চুলা, সর্বক্ষেত্রে খরচ বাড়বে। তৈরি পোশাকসহ অনেক পণ্যেও  রপ্তানি হয়তো কমবে, কিন্তু জনশক্তি রপ্তানি কখনও  হ্রাস পাবে বলে মনে হয় না। কারণ পাশ্চাত্যসহ প্রাচ্যের কিছু কিছু দেশেও জন্মহার কম থাকায় কর্মক্ষম  যুবক-যুবতীর সংখ্যা যথেষ্ট বাড়ছে না, অন্যদিকে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে শিল্প কারখানায়, ব্যবসায়ে, কৃষি কাজে, গৃহকর্মে কর্মক্ষম জনশক্তির ঘাটতি পূরণ করতে সেসব দেশকে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ থেকে জনবল আমদানি করতেই হবে। সুতরাং এ দেশের জনশক্তি রপ্তানি বাড়বে বই কমবে না। সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে যেভাবে চাহিদার কথা জানাচ্ছে তাতে শীঘ্র আরও জনশক্তি রপ্তানির উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা যায়। বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি লোক বিদেশে কর্মরত। দেশের বাইরে শ্রম বিনিয়োগের সুষ্ঠু, সুন্দর এবং সহজ নিয়ম পদ্ধতির অনুসরণের মাধ্যমে ও দেশের অভ্যন্তরে বেকার শ্রমশক্তি বিনিয়োগের জন্যে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে একদিকে যেমন দেশ বেকারত্বের অভিশাপ হতে মুক্ত হতে পারবে, ঠিক অপরদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান সূত্র শ্রমশক্তির সদ্ব্যবহার করাও সম্ভব হবে। এই জনশক্তি খাতের মাধ্যমেই অর্জিত হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা যা শুধু দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে না, অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকেও ত্বরান্বিত করছে।