টপিকঃ সুর সম্রাট তানসেন।

সম্রাট আকবরের নবরত্ন সভার অন্যতম
সভাগায়ক ছিলেন তানসেন। গানের
অলৌকিক মায়াজালে আকাশ থেকে
তিনি বৃষ্টি নামাতে পারতেন। তার
পুরো নাম রামতনু পাণ্ডে। আকবর তাকে
তানসেন উপাধিতে ভূষিত করেন। সুরের
জাদুকর তানসেনকে নিয়ে লিখেছেন
সুরাইয়া নাজনীন
তানসেন জন্মগ্রহণ করেন ১৫০৬ সালে।
তার বাবা মুকুন্দ পাণ্ডে ছিলেন একজন
কবি। পারস্য ও মধ্য এশিয়ার সংগীতের
কিছু উপকরণ যখন ভারতীয়
উচ্চাঙ্গসংগীতে মিশ্রিত হচ্ছিল তখন
তার জন্ম একটি আলোকিত অধ্যায় হয়ে
থাকে। মধ্য ভারতের সাতনা জেলায়
তার জন্ম। বৃন্দাবনের কিংবদন্তি
সংগীতজ্ঞ স্বামী হরিদাসের শিষ্য
ছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর
তানসেন বাড়ি ফিরে যান এবং
সেখানে বিখ্যাত মুসলিম সাধক মুহম্মদ
গাউসের সংস্পর্শে আসেন। অনেকে
বলে তানসেন সুরের অলৌকিক
মায়াজালে আকাশ থেকে বৃষ্টি
নামাতে পারতেন, আগুন ধরাতেও
পারতেন। তার গানের মহিমার কারণে
তিনি হয়েছিলেন দিল্লির বাদশাহ
আকবরের সভাগায়ক।
আকবরের নবরত্ন সভার শ্রেষ্ঠরত্ন। তার
আসল নাম আতা আলি খাঁ। তানসেন
ছিল তার উপাধি। তবে আতা আলি ও
তানসেনের সত্যিকারের নাম নয়।
আতা আলি হওয়ার আগে তার নাম ছিল
রামতনু পাণ্ডে। এক সভায় সম্রাট আকবর
তানসেনের গানে মুগ্ধ হয়ে নিজের
গলার বহুমূল্যবান কণ্ঠহার পরিয়ে দেন
তানসেনের গলায়। তার আর্থিক মূল্য
সেসময় ছিল ১৮ লাখ টাকা। অনেক সময়
সম্রাট সামনাসামনি গান শুনে তৃপ্ত
হতেন না। তিনি গভীর রাতে
ছদ্মবেশে একাকী চুপিচুপি তানসেনের
গান শুনতেন।
সম্রাট আকবর নিজেই তাকে তানসেন
উপাধি দেন। তানসেন মানে সুরলহরী
দিয়ে যিনি চেতনা ফেরাতে সক্ষম।
শোনা যায় মুসলমান এক কন্যাকে বিয়ে
করে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাম
রাখেন মুহম্মদ আতা আলি খাঁ।
তানসেনের সময়ে আকবরের রাজসভায়
আরো নামজাদা গায়ক ও সংগীতজ্ঞ
ছিলেন। এদের মধ্যে মিয়া খোদাবক্স,
জ্ঞান খাঁ, দারিয়া খাঁ, মিয়া মসনদ
আলি খাঁ, বাবা রামদাস, সুরদাস, নবাব
খাঁ, রাজ বাহাদুরসহ অনেকে।
কিন্তু সম্রাট সবচেয়ে ভালোবাসতেন
ও শ্রদ্ধা করতেন তানসেনকে। তিনি
রাজ দরবারে ও সারা ভারতে অভূতপূর্ব
সাফল্য ও সম্রাটের সুদৃষ্টির ফলে
অনেকের কাছে ঈর্ষার কারণ হয়ে
পড়েন। এ নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
সংগীতে অনেক রাগ বাসুর আছে, তার
অন্যতম রাগ দীপক। ষড়যন্ত্রকারী
জানতেন, তানসেন কোনদিন এই রাগ
পরিবেশন করবেন না। কারণ প্রথমত আগুন
ধরা, দ্বিতীয়ত গুরুবাক্য। তানসেনের
বিরোধীপক্ষ সম্রাট আকবরকে
সংগীতানুষ্ঠানের সময় অনুরোধ করলেন
তানসেনের কণ্ঠে দীপক রাগ শুনতে।
সরল বিশ্বাসে সম্রাট আকবর
তানসেনকে অনুরোধ করলেন দীপক রাগ
গাইতে।
বিচক্ষণ তানসেন বিপজ্জনক এই রাগের
পরিবেশনার জন্য সময় চেয়ে নিলেন
সম্রাটের কাছে। তিনি জানতেন,
দীপক রাগ গাওয়ার পর যখন আগুন জ্বলবে
তাকে নেভানোর জন্য প্রয়োজন হবে
মেঘমল্লার রাগ। কিন্তু একার পক্ষে তো
একসঙ্গে দুটো রাগ গাওয়া অসম্ভব।
তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবিলা
করার জন্য নিজের কন্যা ও গুরু কন্যাকে
মেঘমল্লার গানে তালিম দিতে
লাগলেন। তানসেনের এই পূর্ব প্রস্তুতির
কথা কেউ জানতেন না। রাজসভায়
নির্দিষ্ট দিনে লোকে লোকারণ্য।
মাঝখানে বসে আছেন সম্রাট আকবর,
যথাসময়ে বসল গানের আসর। শত্র“পক্ষের
ধারণা, হয়তো আর কিছুক্ষণের মধ্যে
আকবরের প্রিয় ব্যক্তি তানসেনের
জীবনলীলা সাঙ্গ হয়ে যাবে।
তানসেন সত্যিই শুরু করলেন দীপক রাগ।
শুরু হওয়ার পর একসময় সব মোমবাতিতে
আগুন ধরে গেল। সভা হয়ে ওঠে অগ্নিময়।
অবস্থা দেখে সবাই দিগি¦দিক ছুটতে
লাগলেন। তানসেনের নিজের
শরীরেও আগুন ধরে গেল। নিজে ছুটলেন
বাড়ির দিকে। সেখানে নিজ কন্যা ও
গুরুকন্যা সমস্বরে মেঘমল্লার গাইছে।
আকাশ থেকে নামতে শুরু করেছে বৃষ্টির
সুশীতল ধারা। তানসেন সে ধারায়
শীতল করলেন নিজেকে। তবুও এ ঘটনার
পর অসুস্থাবস্থায় ছয়মাস শয্যাশায়ী
ছিলেন। তানসেন সম্পর্কে আরো
অলৌকিক ঘটনা প্রচলিত আছে। তিনি
যেমন গানের সুর-মূর্ছনায় আগুন ধরাতে
পারতেন, আবার মেঘমল্লারে বৃষ্টির
ধারাও নামাতে পারতেন।
তেমনি দরবারি গান গেয়ে সুস্থ করতে
পারতেন দুরারোগ্য রোগীকে।
তানসেন গান গেয়ে দিনের আলোকে
অন্ধকার করে রাত। রাতের আঁধার দূর
করে দিনের আলোয় ভরে দিতে
পারতেন চারদিক। শুধু গানে নয়, যন্ত্র
সংগীতেও তার অসীম ক্ষমতা। আধুনিক
বাদ্যযন্ত্র বীণা। এটা তানসেনেরই
আবিষ্কার। মহান সংগীতসাধক
তানসেন ৮০ বছর বয়সে যোগ্য উত্তরসূরি
এক মেয়ে ও চার ছেলে রেখে ১৫৮৫
সালের ৬ মে মারা যান। তাকে কবর
দেয়া হয় গোয়ালিয়ের কাছে
বেহাটে।

"এমন মানব-জনম আর কি হবে।
যা কর মন ত্বরায় করো এই ভবে।"

Re: সুর সম্রাট তানসেন।

ভাই লাইন গুলা একটু কষ্ট করে ঠিক করে দিয়ে কপি পেস্ট করতে পারতেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: সুর সম্রাট তানসেন।

ভাইয়া, আমি এই সাইডে আজকেই প্রথম জয়েন করেছি। আর এটাই আমার প্রথম পোস্ট।  তাই অনেক কিছুই বুঝতে পারিনা। ধিরে ধিরে ঠিক হয়ে যাবে। আপনার লেখা এখানে জয়েন করার আগেও বেশ কয়েকবার পড়েছি।  ভুল হলে ধরিয়ে দিবেন। smile

"এমন মানব-জনম আর কি হবে।
যা কর মন ত্বরায় করো এই ভবে।"