টপিকঃ ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-১০)

টুকটাক ভ্রমনের অভ্যাসহেতু পিকনিক বা চড়ুইভাতিতেও সুযোগ পেলেই পাড়ি জমাই আমি।তখন ২০১১ সাল।তেমনি এক পিকনিকে যাবার সুযোগ হয়েছিল ফ্যামিলিসহ প্রায় ৩০ জন সফরসঙ্গী নিয়ে ঢাকার আশুলিয়ায় অবস্থানরত ফ্যান্টাসি কিংডমে।যেহেতু পিকনিকের জন্য যাওয়া আমাদের জন্য বাস,এন্ট্রি টিকেট,সবগুলো রাইডের ফি এবং দুপুরের লাঞ্চ খরচ বাবদ সবকিছু রাইডস ছিল আগে থেকে বুক করা। শুধু কুপন দেখালেই চড়া যাচ্ছিল সব রাইডস এ।তবে ভেতরে অবস্থানরত ওয়াটার কিংডম আর হেরিটেজ পার্কে অবশ্য যাওয়া হয়নি।চাইলে নিজের খরচে ওগুলোতে যাওয়া যেত।যা হোক,প্রবেশ ফি মূলত প্রতিজন ৪০০ টাকা ছিল তখন,তবে আমরা প্যাকেজে যাওয়ায় সেটি ১৫০ টাকা ধরা হয়েছিল।
প্রবেশ গেট:
http://i71.fastpic.ru/big/2015/0909/bb/7aca33cee3f628365f472156c9c824bb.jpg

ফ্যান্টাসি কিংডমের রাইডস গুলো খুবই উন্নতমানের, যা একটি আলাদারকম থ্রিলিং অভিজ্ঞতা দেবে বলা যায়।ইনট্রেন্স গেট পার হতেই হাতের বামে যে রাইডটি চোখে পড়বে তার নাম "পাগলা ধাক্কা।" একটি প্লাটফর্মে ছোট কার্ট টাইপের অনেকগুলো গাড়ি থাকে।সিটবেল্ট পড়ে সেখানে সবাই একসাথে এলোপাথারি ড্রাইভ করতে করতে দুটি, তিনটি কখনো চারটি গাড়ি থেকে চারদিক থেকে লাগে ধাক্কা।

এরপর যে রাইডস টিতে চড়েছিলাম তার নাম "ইজ্জি বিজ্জি।"এ রাইডটা খুবই সাধারণ, যে কারো জন্যই উপযোগী। চেয়ারের উপর বসে থাকলেই চলবে। যখন স্টার্ট করবে ধীরে ধীরে প্রত্যেকটি চেয়ার নিজে নিজে ঘুরবে,একইসাথে সবগুলো ঘুরতে ঘুরতে ক্রমাগত উপর নিচ করবে।
ইজ্জি বিজ্জি:
http://i72.fastpic.ru/big/2015/0909/e6/b3b9ea152e78c0eaa841ab7876c2bee6.jpg

ফ্যান্টাসি কিংডমের কমপ্লেক্সে আছে এক বিখ্যাত ড্রাগন।এই ড্রাগনের উপর সবাই বসে, ছবি তুলে। আমরাও তুলেছিলাম। বলতে গেলে ইনি কিংডমের এক সেলিব্রিটি।
ড্রাগন:
http://i72.fastpic.ru/big/2015/0909/7f/37d88ade09aac43a265b037dce6c507f.jpg

এছাড়া আছে মিনি ট্রেন। আলাদা কোন এক্সপেরিয়েন্স না দিলেও চলার পথে একটা অন্ধকার ভুতুড়ে খোপ রাখা হয়েছে। ভয় লাগবে না যদিও, লাইন ঘুরে দু চক্কর দিয়ে ট্রেনে চড়া শেষ হয়।
মিনি ট্রেন:
http://i70.fastpic.ru/big/2015/0909/fa/8255eb5af709091966d9a007947b67fa.jpg

এছাড়া আছে দোলনচেয়ার, হেলিকপ্টার এর মত রাইডগুলো।দোলনচেয়ার নরমালি স্টার্ট নিয়ে হাওয়ার উপরই ক্রমাগত উঁচুতে উঠে,নিচে নামে।বাচ্চাদের জন্য রয়েছে ঘোড়া।অন্যসব পার্কের মত এখানকার এক অন্যতম আকর্ষণও চড়কি বা নাগরদোলা।

একটি রাইড আছে যেখানে একটি ঘরের ভেতর ঢুকতে হয়, তারপর পুরোপুরি একটি ভুতুড়ে অভিজ্ঞতা হয়, রুমের ভেতর ডিম লাইট থাকে ছোট ছোট,আর দেয়ালে রাক্ষস খোক্ষসদেরর ভুতুড়ে ছবি আঁকা। নড়তেও হবে না।রুমে ঢুকার পর ইলেকট্রিক সিঁড়ির মত অটো চালিয়ে সময় শেষে আবার এক্সিট গেটে পৌঁছে দেবে।তবে রাইডটির নাম ছিল হয় "ভূতের ঘর" নয় "ইগলু হাউস"।মনে নেই,তবে আমার মনে হয় ইগলু হাউস হওয়ার সম্ভাবনা কমই কারণ তা বরফজাতীয় কিছুকে বোঝায়।
ঘরের ভেতরের চিত্র:
http://i70.fastpic.ru/big/2015/0909/e4/daa22d89c6edc51c98d1b1436eeaa5e4.jpg
ইগলু হাউস:
http://i71.fastpic.ru/big/2015/0909/c0/e1417afb522b2816a26990f2da1d89c0.jpg

ফ্যান্টাসি কিংডমে অবস্থিত ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় "রোলার কোষ্টার।"বর্তমানে যমুনা ফিউচার পার্কেরটি বাংলাদেশ ও বিশ্বের সবচেয়ে বড়।এ রোলার কোষ্টারে চড়ার আগে এত্ত বড় আর এত্ত ডেঞ্জারাস রোলার কোষ্টার আগে দেখিনি।রীতিমত একটি ত্রিভুজ লাইন করা আছে।মাটি থেকে আকাশে উঠিয়ে মুহূর্তে নিচে নামিয়ে ফেলে আবার উপবৃত্তাকার বা ডিম্বাকার একটা লাইনে ১২০ ডিগ্রি বাঁকিয়ে একটা চক্কর দিবে।আর কি ঘটেছিল আমার মনে নেই,ভয়ে চোখ বন্ধ করে ছিলাম।
রোলার কোষ্টারের একাংশ:
http://i69.fastpic.ru/big/2015/0909/35/1f7ae96fc0c150c72361e2960f6d1235.jpg

রোলার কোষ্টারের রেশ যেতে না যেতেই আরেকটা ভয়ঙ্কর রাইডে চড়েছিলাম যার নাম ম্যাজিক কার্পেট। কার্পেটের মত করে গালিচাকৃতির এক একটি আসন বানানো।একটি কাঠামোর দু পাশে ধারণ করা আসনগুলো। উঠার সময় থাকবে একদম নিচে।ধীরে ধীরে উপরে উঠাবে। প্রথম প্রথম ১০/১২ ফিট উপরে উঠিয়ে ঝট করে নিচে নামিয়ে দেবে।আর এমন জোরে হাওয়া লাগবে মনে হবে যেন আকাশে ভাসছেন।তারপর এ তো গেল ট্রায়াল। ধীরে ধীরে সর্বোচ্চ আনুমানিক ৩০/৩৫ ফুট উপরে ধীরে ধীরে তুলে গালিচাটিকে এক ঝটকায় নিচে নামিয়ে ফেলা হবে।২ বার করার পর তৃতীয়বার জোরে উঠিয়ে জোরেই নামিয়ে ফেলা হবে। আর উঠার আগে সিটবেল্ট পড়িয়ে নেয়া হয়।তবে আমি একটু ভয় পাই। দু চারজনকে দেখে মনে হল ব্যাপারই না।যদিও তাদের সংখ্যা খুবই কম।
ম্যাজিক কার্পেট:
http://i65.fastpic.ru/big/2015/0909/44/d74ef2dce9a6641751edc9be5fc4ec44.jpg

আরও একটি রাইড ছিল সেটায় আর চড়িনি।নাম সম্ভবত স্প্রিং বোট।দেখেই ভয় পাচ্ছিলাম। একটি বিশালাকৃতির নৌকা পরাবৃত্তাকার লাইন ধরে উপরে উঠে আর নিচে নামে নৌকার নিচে চাকা আছে।তবে দূর থেকে যাত্রীদের অবস্থা ভয়ঙ্করই মনে হচ্ছিল।

দুপুর হয়ে যাবার পর ফুড কর্ণারে আমাদের জন্য বুক করা বিরিয়ানি দিয়ে লাঞ্চ সেরে নিলাম।অনেকে এরপর ওয়াটার কিংডমে গিয়েছিল, আমি আর যাইনি।দূর থেকে দেখেছি।সাঁতার পারিনা। বরং পানিতে এমনিও নামিনা, ওখানে অনেকে আছে কেমন যেন ইতস্ত:ত লাগছিল।
ওয়াটার কিংডমের বহিদৃশ্য:
http://i65.fastpic.ru/big/2015/0909/e5/9acf07428c5c7b6a5aa7b2704b5e14e5.jpg

তাছাড়া সেদিন ছিল বিশ্বকাপের বাংলাদেশ ইংল্যান্ড খেলা যা বড় পর্দায় দেখাচ্ছিল। আমি যখন আসলাম ৩৬ রানে নেই ইংল্যান্ডের চার উইকেট।দারুণ ভিড় জমেছিল ম্যাচ দেখতে, প্রথম প্রথম এত ভাল পারফর্মেন্সের পরও অনেককে উল্লাস করতে দেখা যাচ্ছিল না।কারণ আগের ম্যাচেই মাত্র ৫৮ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

অবশেষে বিস্কুট আর কফি। একটু নাস্তা করে আমরা সবাই মিলে বাস ধরলাম।বাসা আসলাম খেলার কমেন্ট্রি শুনতে শুনতে। বাসায় আসার পর ১৫০ রানে ২ উইকেট ছিল বাংলাদেশের।আইসা কুফা লাগাইসিলাম কিনা কে জানে।১৬৬ রানে পড়ে গেছিল ৮ উইকেট।যাই হোক,আর উইকেট পড়ে নাই,জিতে যাই শেষ মেষ। সবমিলে কেটেছিল চমৎকার মনে রাখার মত একটা দিন।

ছোটবেলায় শিশুপার্কে ঘুরার আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।আমি মোট ৭ বার শিশুপার্কে গিয়েছি।শেষবার যাই অবশ্য ২০০৯ এ।এরপর আর যাওয়া হয়নি।সুলভ মূল্যে বিনোদনের জন্য সবরকম ব্যবস্থা আছে শিশুপার্কে।  ছোটদের মজার উপর ভিত্তি করে বানানোয় রাইডস গুলো অপেক্ষাকৃত কম থ্রিলিং তবে বেশ মজাদার। শেষ যখন যাই কিছু রাইড জনপ্রতি ৮ আর কিছু রাইড ছিল জনপ্রতি ৬ টাকা।
প্রবেশ গেট:
http://i71.fastpic.ru/big/2015/0909/98/bcd4b203bedcedd29e194ff2dfa83198.jpg


শিশুপার্কের মূল আকর্ষণ মূলত চড়কি আর মিনি ট্রেন। এছাড়া আরও ভাল লাগার যে রাইডগুলো আছে সেগুলোর মধ্যে দোলনচেয়ার,হেলিকপ্টার এগুলো অন্যতম। ফ্যান্টাসি কিংডমের মত গাড়ির ধাক্কাও আছে, তবে এটি অটোই চলে।নিজেকে চালাতে হয় না।
চড়কি:
http://i69.fastpic.ru/big/2015/0909/bb/fc3fb2d4af5e460abf4ef61eeeef5fbb.jpg
হেলিকপ্টার:
http://i68.fastpic.ru/big/2015/0909/c7/aa04fcc489e37b27e5dbd4d1bb471fc7.jpg
ট্রেন:
http://i72.fastpic.ru/big/2015/0909/2b/35199358c08d74887b8941ff3b62062b.jpg

একেবারে কিডসদের জন্য ফিক্সড হল ঘোড়া, আর লম্ফঝম্ফ।আছে একটি উঁচু উপত্যকা। শিশু পার্কের জায়গাটি পূর্বের রেসকোর্স ময়দানের অংশ।যেখানে ৭ই মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।সে স্থানটি স্মরণীয় করে রাখতে নির্মাণ করা হয়েছে শিখা চিরন্তন।

স্বাদ ও সাধ্যের মধ্যে ঘুরে আসার জন্য অন্যতম আকর্ষণ শিশু পার্ক। আর যদি একটু থ্রিলিং রিফ্রেসমেন্ট চাই,পাড়ি জমানোই যায় ফ্যান্টাসি কিংডম।
(ব্যবহৃত ছবি সংগৃহীত, নিজে তোলা ছবি ক্যামেরায় এবং প্রিন্ট করা,ফোনে ছবি নেই)

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-১০)

Shoumik লিখেছেন:

যমুনা ফিউচার পার্কেরটি বাংলাদেশ ও বিশ্বের সবচেয়ে বড়।

তাই নাকি  surprised বসুন্ধরা সিটি আর যমুনা ফিউচার পার্ক নিয়ে দাবিগুলো শুনলেই  lol (পত্রিকায় প্রায়ই বিশ্বের...  ধরণের লেখা দেখিতো তাই  mad)
ম্যাজিক কার্পেট আমার খুবই পছন্দের রাইড। আপনার ঐ কম সংখ্যার দু- চারজনের তালিকায় আমায় অনায়াসে ঠাই দিতে পারেন। শিশুপার্কে গিয়ছিলাম সেই শিশুবেলায়।  tongue

hard to hate but tough to love

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-১০)

এই খানে আএকবার গিয়েছিলাম আমি। পার্কগুলি তেমন একটা টানেনা আমায়, তাই যাওয়া হয় না।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-১০)

মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:

এই খানে আএকবার গিয়েছিলাম আমি। পার্কগুলি তেমন একটা টানেনা আমায়, তাই যাওয়া হয় না।

আমি গিয়েছিলাম ২০০৩ সালে। সাম্প্রতিক কালে যাওয়ার কথা স্বপ্নেও ভাবি না। মানুষের ভীড়ে চ্যাপ্টা হওয়ার অবস্থা। কিছু কিছু জায়গা পার্ক করাও উচিত না। ফয়েজ লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যটাই ধ্বংস করে ফেলেছে।

সৌমিক ওয়াটার কিংডমে না যেয়ে ভালই করেছেন। পানির যা দুদর্শা। আর কিছু মানুষের কান্ডজ্ঞানহীন কার্যকলাপে পালিয়ে না এসে উপায় নেই।

hard to hate but tough to love

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-১০)

চমৎকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ  smile

Shoumik লিখেছেন:

    যমুনা ফিউচার পার্কেরটি বাংলাদেশ ও বিশ্বের সবচেয়ে বড়।


এই তথ্যটি সঠিক না  smile

এক টুনিতে টুনটুনালো সাত রানির নাক কাঁটালো

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Shoumik (১০-০৯-২০১৫ ১৯:২৮)

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-১০)

Gypsy Saleh লিখেছেন:
Shoumik লিখেছেন:

যমুনা ফিউচার পার্কেরটি বাংলাদেশ ও বিশ্বের সবচেয়ে বড়।

তাই নাকি  surprised বসুন্ধরা সিটি আর যমুনা ফিউচার পার্ক নিয়ে দাবিগুলো শুনলেই  lol (পত্রিকায় প্রায়ই বিশ্বের...  ধরণের লেখা দেখিতো তাই  mad)

RubaiyaNasreen(Mily) লিখেছেন:

Shoumik লিখেছেন:

    যমুনা ফিউচার পার্কেরটি বাংলাদেশ ও বিশ্বের সবচেয়ে বড়।


এই তথ্যটি সঠিক না  smile


রোলার কোস্টার এর রাঙ্কটা অনেকভাবে করা হয়, এটি পরিধির দিক থেকে সবচেয়ে বড়।  ৩৬০ ডিগ্রি ঘূর্ণনশীল পৃথিবীর একমাত্র রোলার কোষ্টার। পথ বা দৈর্ঘ্যের দিক থেকে অন্যগুলো বড়।তবে আমি ১০০% অবগত নই।পত্রিকাতে পড়া। ধন্যবাদ।

মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:

এই খানে আএকবার গিয়েছিলাম আমি। পার্কগুলি তেমন একটা টানেনা আমায়, তাই যাওয়া হয় না।

হুম,আমারও এখন পানসে মনে হয়।তাই যাওয়া পড়ে না।