সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ছিন্নমূল (০৪-০৯-২০১৪ ০৩:২৭)

টপিকঃ বাংলাদেশে প্রতিদিন ২৮জন আত্মহত্যা করছে

দিনে ২৮ আত্মহত্যা
শেখ সাবিহা আলম | আপডেট: ০২:১৬, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

http://tazakhobor.com/bangla/images/stories/mother2/018/image_56939_0_e.jpg   

বাংলাদেশে গত চার বছরে প্রতিদিন গড়ে ২৮ জন আত্মহত্যা করেছেন। শুধু গত বছর ফাঁসিতে ঝুলে ও বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন ১০ হাজার ১২৯ জন। এ তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও পুলিশ সদর দপ্তরের। যাঁরা আত্মহত্যা করেছেন বা চেষ্টা করেছেন, তাঁদের বড় অংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
আত্মহত্যা নিয়ে গোটা বিশ্বে উদ্বেগ আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে, ১৫-৪৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর মৃত্যুর প্রধান তিনটি কারণের একটি হলো আত্মহত্যা। গত বছর ডব্লিউএইচও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ২০২০ সাল নাগাদ প্রতিবছর সাড়ে ১৫ লাখ মানুষ আত্মঘাতী হবেন। আত্মহত্যার চেষ্টা চালাবেন এরও ১০ থেকে ২০ গুণ মানুষ।
মনোবিজ্ঞানী ও মনোরোগ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর সবচেয়ে কর্মক্ষম বা উৎপাদনশীল বয়সে বহু মানুষ আত্মহত্যা করলেও সমস্যা সমাধানে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেই। এ সমস্যার পরিসর যে এতটা, তা নিয়েও খুব বেশি মাথাব্যথা নেই নীতিনির্ধারকদের। আত্মহত্যার প্রবণতা আছে এমন মানুষের চিকিৎসাসেবার সুযোগও অপর্যাপ্ত।
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এম নিয়াজউদ্দিন সেবার অপ্রতুলতার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়। মানসিক রোগের চিকিৎসায় সরকার অনেক উদ্যোগ নিয়েছে, যদিও এখন পর্যাপ্ত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক এম এম আকাশ বলেন, বাংলাদেশের শ্রমবাজারে ২১-৩০ বছর বয়সী গোষ্ঠী সবচেয়ে সক্রিয় অংশ। এ বয়সীদের এই হারে আত্মহত্যার অর্থ হলো, দেশের অর্থনীতি সবচেয়ে কর্মক্ষম মানুষগুলোর সেবা থেকে বঞ্চিত হলো।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের শিক্ষকেরা বলছেন, একসময় উন্নত দেশের মাথাব্যথার কারণ হলেও, এখন মধ্যম আয় এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও আত্মহত্যার প্রবণতা ও সংখ্যা বাড়ছে।
শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, উন্নত বিশ্বে প্রধানত নিঃসঙ্গতা থেকে বৃদ্ধরা এবং বিশেষত পুরুষেরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। বাংলাদেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আত্মহত্যা করছেন ২১-৩০ বছর বয়সীরা। এর মধ্যে আবার নারীর সংখ্যা বেশি।
বাংলাদেশ পুলিশের হিসাবে, প্রতিবছর ফাঁসিতে ঝুলে ও বিষ খেয়ে গড়ে ১০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করছেন। এর বাইরে আছে ঘুমের ওষুধ খাওয়া, ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পড়া, রেললাইনে ঝাঁপ দেওয়া। তবে কীভাবে, কতজন আত্মহত্যা করেন, তার পরিসংখ্যান আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয় না।
এই হিসাবমতে, এর বাইরে দেশের বড় হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগে যত রোগী ভর্তি হয়, তার সর্বোচ্চ ২০ ভাগ আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়া লোকজন।
গত এক বছরে প্রথম আলোয় প্রকাশিত ২০টি আত্মহত্যার প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যৌতুকের কারণে নারী আত্মহত্যা করেছেন, স্বামী মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে সন্তানকে হত্যা করে মা আত্মঘাতী হয়েছেন। স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহত্যা করেছে। অন্তত দুজন রোগের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন। একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে, অন্যজন মতিঝিল এজিবি কলোনিতে শ্বাসকষ্ট সহ্য করতে না পেরে নিজের গলা কেটে ফেলেন। পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পাওয়ায় নীলফামারীতে এক কিশোর আত্মহত্যা করে। শুধু এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিনই আত্মহত্যার চেষ্টা করা কমপক্ষে ২৭ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। এঁদের মধ্যে মারাও যান একজন।
গত ১৯ আগস্ট প্রথম আলোয় ‘রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় সাত মাসে আত্মহত্যা ১২, চেষ্টা ৯৮ জনের’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এত দিন বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনের সূত্রে দেখা গেছে, কেবল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোয় আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। কিন্তু এই প্রতিবেদনটির মাধ্যমে নতুন আরেকটি এলাকার ভয়াবহতা প্রকাশ পেল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ ২০০৮-০৯ সালে ৯৭০টি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নারীদের ওপর শারীরিক, যৌন ও মানসিক নির্যাতন বেড়েছে, ইভ টিজিংয়ের মতো ঘটনা ঘটছে ব্যাপকভাবে। অনেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে আত্মহত্যা করছেন। অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য হওয়া, অথবা স্বেচ্ছায় যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পর গর্ভধারণের কারণে অনেকে আত্মহত্যা করেন। বেশির ভাগ নারী আত্মহত্যা করেছেন গলায় দড়ি দিয়ে, আর পুরুষেরা কীটনাশক খেয়ে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, যাঁরা আত্মহত্যা করেন তাঁদের ৯৫ ভাগই কোনো না-কোনো মানসিক রোগে ভোগেন।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের শিক্ষক হেলালউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, বেশির ভাগ সময় যাঁরা আত্মহত্যা করেন, তাঁরা ধারাবাহিকভাবে গুরুতর বিষণ্নতায় ভোগেন। ঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে এঁদের বাঁচানো সম্ভব। তবে বাংলাদেশে এ ধরনের চিকিৎসাসেবা অপ্রতুল।

সরকারি হিসাবে, সাড়ে ১৫ কোটি মানুষের বাংলাদেশে মানসিক রোগের চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ২০০। জেলা পর্যায়েই মানসিক রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। শুধু ২২টি মেডিকেল কলেজ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও পাবনার হাসপাতালে মানসিক রোগের চিকিৎসা হয়। পুরোনো আটটি মেডিকেল কলেজের একটিতেও এ বিষয়ের অধ্যাপক নেই।

http://www.prothom-alo.com/bangladesh/a … F%E0%A6%BE

আত্মহত্যা এমন এক সমস্যা যেটা বন্ধের আসলে কোনো উপায় নেই। বিভিন্ন কারনে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তখন আত্মহত্যা মহাপাপ একথার পাত্তা কেউ দেয় না। মাদ্রাসার ছাত্রও ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে আত্মহত্যা করেছে। সুতরাং এই সমস্যা এমন এক সমস্যা যেটা মানসিক ডাক্তারও সমাধান দিতে পারে না। দেখা গেলো, ঐ ডাক্তারও একসময় নানা কারনে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলো। মানুষের জীবনে কখন কি হয় কেউ জানে না।

Re: বাংলাদেশে প্রতিদিন ২৮জন আত্মহত্যা করছে

হয়ত পৃথিবীটাকে বড় নিসঠুর মনে হয়েছিল

সত্য কাজে কেউ নয় রাজি  সবি দেখি তানানা

Re: বাংলাদেশে প্রতিদিন ২৮জন আত্মহত্যা করছে

আমার কাছে মনে হয়, আত্মহত্যা করা মানুষের মানবিক অধিকার। বিশেষ করে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের ।

আত্মহত্যা বিষয়ে আমার প্রস্তাবনা হচ্ছেঃ
সরকার কে সুইসাইড সেন্টার খোলা উচিৎ। কেউ যদি আত্মহত্যা করতে চায় তবে সে সেখানে যাবে। প্রথমে তাকে এক সপ্তাহ মেডিকেশন দেওয়া হবে যাতে সে আত্মহত্যা না করে । তার পরেও যদি সে আত্মহত্যা করতে চায়। তখন তাকে অজ্ঞান করে তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ(যেগুলো অন্য মানুষের জীবন বাঁচাবে) গুলো একেএকে খুলে - পেইন লেইস আত্মহত্যা করার সুযোগ দেওয়া উচিৎ।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

Re: বাংলাদেশে প্রতিদিন ২৮জন আত্মহত্যা করছে

সংখ্যাটা এত বড়!!!!  thinking

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: বাংলাদেশে প্রতিদিন ২৮জন আত্মহত্যা করছে

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

আমার কাছে মনে হয়, আত্মহত্যা করা মানুষের মানবিক অধিকার। বিশেষ করে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের ।

আমি আপনার সাথে সহমত। ক্যান্সার রোগীদের ধুকে ধুকে মরার চাইতে একবারে মরা ভালো।

Re: বাংলাদেশে প্রতিদিন ২৮জন আত্মহত্যা করছে

ডেডু দা ঠিক। তবে কোনদিন এই লিস্টি তে পরে যাই ঠিক নাই  sad sad sad যে পরিমাণ হতাশায় আছি, ঐ পরিমাণ হতাশায় থাকার চেয়ে মরা ভালো রে ভাই  sad sad sad  crying

সব কিছু ত্যাগ করে একদিকে অগ্রসর হচ্ছি

লেখাটি CC by-nd 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (০৮-০৯-২০১৫ ২৩:২২)

Re: বাংলাদেশে প্রতিদিন ২৮জন আত্মহত্যা করছে

গত বছরের মতো এই বছরেও আত্মহত্যার হার প্রায় একি

দেশে ছয় বছরে ৫৯,৭৬০ আত্মহত্যা    >> দিনে ২৭/২৮ জন

আজকের রিপোর্টের লিংক http://www.prothom-alo.com/bangladesh/a … E%E2%80%99

Re: বাংলাদেশে প্রতিদিন ২৮জন আত্মহত্যা করছে

mizvibappa লিখেছেন:

ডেডু দা ঠিক। তবে কোনদিন এই লিস্টি তে পরে যাই ঠিক নাই  sad sad sad যে পরিমাণ হতাশায় আছি, ঐ পরিমাণ হতাশায় থাকার চেয়ে মরা ভালো রে ভাই  sad sad sad  crying



কিভাবে বুঝলেন মরা ভাল? মরে তো দেখেন নাই কখন ও ? আর মনে হয় না কোন মরা এসে কানে কানে বলে যে মরা অনেক ভাল ।

এক টুনিতে টুনটুনালো সাত রানির নাক কাঁটালো