টপিকঃ ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৯)

ঐতিহ্যের ভান্ডার ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহত্তম জেলা দিনাজপুর।শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশের জন্য অন্যতম একটি উদাহরণ হতে পারে।ঢাকা থেকে গেলে সেখানে গেলে মনে হবে এক জনমানবহীন লোকালয়ে এসে পোঁছেছি।

দিনাজপুরের ঐতিহ্যমন্ডিত স্থানগুলোর মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে কান্তজীউ মন্দির এর নাম।শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ঢেঁপা নদীর তীরে অবস্থিত এ বিখ্যাত মন্দিরটি। মন্দিরটি পুরোটাই নির্মিত হয়েছে টেরাকোটার কাজের মাধ্যমে।সামনের দিকে, পেছনের দিকে তিনটি করে পরাবৃত্তাকার দরজা। আর পুরোটা দেয়াল জুড়ে আয়তাকার খোপ খোপ। সূত্রমতে সেগুলো ১৫০০০ এরও বেশি।সেখানকার প্রত্যেকটি খোপে মাটি দিয়ে খোদাই করা হয়েছে রামায়ণ,মহাভারতে বর্ণিত বিভিন্ন চরিত্রসহ বিভিন্ন দেব দেবতা। পুরো মন্দির এলাকা ঘুরে দেখলাম।সেখানে আরেকটি মন্দিরের ভাঙা ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়ল।সেটিকে সংস্কার করে নতুন মন্দিরে রূপ দেবার কাজ চলছে। জানতে পারলাম এখনো মন্দিরে নিয়মিতই পূজার্চনা হয়।মন্দির প্রাঙ্গনে মন্দিরের একটি স্মৃতিফলক আছে। যেখানে বলা আছে এটিকে নবরত্ন মন্দির বলা হয় কারণ এর আছে নয়টি চূড়া।১৭০৪-১৭৫২ খ্রিস্টাব্দের ভেতর মহারাজা রামনাথ ও তার পুত্র প্রাণনাথ এর নির্মানকাজ সম্পন্ন করেন।
মন্দিরের সামনের দিক:
http://i72.fastpic.ru/big/2015/0901/00/fd2f185379c95008a2caf6ad8de6dd00.jpg
মন্দিরের পেছন দিক:
http://i67.fastpic.ru/big/2015/0901/6b/88ec9c5c9e4f65afe53477825790b26b.jpg
সাদা সাদা ছোট খোপগুলো যার প্রত্যেকটিতে নকশা খোদাই করে বিভিন্ন দেব দেবতাদের ছবি খোদাই করা আছে-
http://i72.fastpic.ru/big/2015/0901/03/3aa685592b2b7c1778489aec4beb5b03.jpg
স্মৃতিফলক:
http://i71.fastpic.ru/big/2015/0901/5a/e42d8cc77d8f59c5572a95429aa9905a.jpg

এর পর গন্তব্য ছিল রামসাগর জাতীয় উদ্যান। দেশের সাতটি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি একটি ও আয়তনের দিক থেকে তৃতীয়।স্মৃতিফলক থেকে জানা যায় এর নির্মাতাও ছিলেন রাজা রামনাথ।তার নামেই জায়গাটির নাম হয়েছে রামসাগর।যার নির্মাণকাল ১৭০৪-১৭৫২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে।কথিত আছে এটি বাংলাদেশে অবস্থিত মানবসৃষ্ট সবচেয়ে বড় দিঘি। যা তখনকার মানুষের দুর্ভিক্ষ নিরসনে নির্মাণ করা হয়েছিল। জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করার পর এখানে রাখা হয়েছে কিছু হরিণ, আছে একটি শিশু পার্ক, পিকনিক স্পটও আছে।গহীন বনাঞ্চল ঘেরা জায়গায় আছে বিশাল আমবাগান।প্রায় ৪০০০০০ স্কয়ার ফিটের এ এলাকাটি ঘুরার মাধ্যম হচ্ছে ভ্যানে করে অথবা সময় করে আসলে পায়ে হেঁটে ঘোরা যায়।
রামসাগর জাতীয় উদ্যানে হরিণ:
http://i67.fastpic.ru/big/2015/0901/dd/86dc0eb090398f88bf4359aa64cfa4dd.jpg
দিঘির পথে প্রবেশছাউনি:
http://i70.fastpic.ru/big/2015/0901/5d/7490ed0c3ea8e67a4426e5b2c6d58a5d.jpg
বিকেল বেলায় দিঘি:
http://i65.fastpic.ru/big/2015/0901/d3/4d0b6bcb52c1e1d86c84f59d4727acd3.jpg
উদ্যানে গাছের সারি:
http://i71.fastpic.ru/big/2015/0901/85/ef380344535aa42c71008542bf22bb85.jpg


এরপর গন্তব্য ছিল প্রাচীন সভ্যতার আরেকচিহ্ন দিনাজপুর রাজবাড়ি। এটিও নির্মিত হয়েছে আঠার শতাব্দীর সময়কালেই।নির্মান করেন রাজা দিনাজ।চারদিক থেকেই প্রাচীর ঘেরা রাজবাড়ির মাঝখানে মাঠ।সেখানে মশলাচাষীদের কাজ করতে দেখা গেল।পুরো এলাকাটা ঘুরে দেখা গেল দুটি লেক, টেনিস, ব্যাডমিন্টন কোর্ট।কিন্তু কাজের কাজটিই যে করা হয়নি।ভেতরে ঢুকে আরও কিছু ভাঙাবাড়ির ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়ল।কী বেহাল অবস্থা! তিন তলা আকাশ মহল, ভবানী মহলগুলোর একপাশ তো ধ্বংসই হয়ে গেছে অর্ধেকটাও টিকে নেই।কোথাও আবর্জনা ফেলে রাখা। দেয়ালগুলোতে ইতমধ্যে প্রাকৃতিকভাবে বড় বড় গাছ বেড়ে উঠৈছে এতটাই অবহেলিত। দেখে আফসোস লাগলো মনে!সেগুলোর চেহারা দেখে মনে হলো না আদৌ কোনো সংস্কার করা হয়েছে।প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাতেই নাকি নেই এ ঐতিহ্যমন্ডিত স্থানটির নাম।শুধু বাহির দিক থেকে লাগানো হয়েছে প্রবেশ তোরণ।
রাজবাড়ির মূল ভবন:
http://i71.fastpic.ru/big/2015/0901/df/e79afe80ef6dd5c91e434f2c8a869ddf.jpg
রাজবাড়ির উত্তর পার্শ্ব:
http://i65.fastpic.ru/big/2015/0901/c7/81cbee953d80a700ef34d27f06b2c1c7.jpg

রাজবাড়ি এলাকার ভেতরে আছে একটি কৃষ্ঞ মন্দির।রাজবাড়ি মন্দিরও যাকে বলা হয়।এটির নির্মানশৈলীও মুগ্ধ করে খুব। কান্তজীউ মন্দির এর মত টেরাকোটার কাজ নেই, তবে সাদা আর গোলাপী রংয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অদ্ভুত নান্দনিকতা। মন্দিরের ভেতরে প্রবেশের জন্য আবার আছে তিনটি প্রবেশতোরণ আর হাতের ডান দিকে তুলসীতলা।পুরো রাজবাড়ি এলাকাজুড়ে এ মন্দিরটিই একটু ভালভাবে টিকে আছে।
প্রবেশ তোরণ:
http://i66.fastpic.ru/big/2015/0901/ef/f8bfad32c945fd2c31b8a9bc78b7e2ef.jpg
রাজবাড়ি মন্দির:
http://i72.fastpic.ru/big/2015/0901/a9/63dc16e6330e7794c96098abf4bfd8a9.jpg

সবশেষে দেখে এলাম উত্তরবঙ্গের অন্যতম বিদ্যাপীঠ দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।৯০ একরের বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোটাকে মনে হবে একটি থিমচিত্র।এর প্রত্যেকটি হল,একাডেমিক ভবন,প্রবেশ ফটক একই শৈলীতে লাল আর সাদা রঙের মিশ্রণে তৈরি।
প্রবেশ ফটকের নির্মাণশৈলী:
http://i69.fastpic.ru/big/2015/0901/1c/abeabc5727d9d8beca04cf63628f4c1c.jpg
শহীদ মিনারটির নির্মাণশৈলীও খুব সুন্দর।তবে কিছু জায়গা এখনো ফাঁকা পড়ে আছে।নির্মাণ এখনো অস্ম্পূর্ণ। হয়তো সেখানে নতুন হল নির্মিত হবে।তবে নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গড়ে উঠছে অত্যাধুনিক সাজসজ্জা আর নির্মাণশৈলীতে।এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব বিদ্যুৎ সেবা দ্বারা  ২৪ ঘন্টাই নিরবিচ্ছিন্ন  বিদ্যুৎ প্রদান করা হয়।

পরিশেষে হয়ে আসে বিদায় বলার সময়। সময় পেরিয়ে স্মৃতি হয়ে যায় বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও নির্মল শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঘেরা দিনাজপুর জেলা।

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৯)

অনেক ভাল লাগা পোষ্টে । খুব সুন্দর
মন ভাল করা পোষ্ট ধন্যবাদ

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৯)

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

অনেক ভাল লাগা পোষ্টে । খুব সুন্দর
মন ভাল করা পোষ্ট ধন্যবাদ

মন ভালো করা পোষ্টের অনুভূতিই অন্যরকম। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য ও সম্মাননার জন্য।  smile

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন RubaiyaNasreen(Mily) (০১-০৯-২০১৫ ১৭:১৩)

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৯)

আমাদের দেশটা কিন্তু দারুন সুন্দর  smile

এক টুনিতে টুনটুনালো সাত রানির নাক কাঁটালো

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৯)

RubaiyaNasreen(Mily) লিখেছেন:

আমাদের দেশটা কিন্তু দারুন সুন্দর  smile

হ্যাঁ,আপি এই জন্য দেশটাকেই আগে ভালোমত জানার ইচ্ছা।ধন্যবাদ মন্তব্য আর সম্মাননার জন্য।  clap

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৯)

খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন।  thumbs_up

hard to hate but tough to love

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৯)

আসলেই মন সত্যি খুব খুব চমৎকার দৃশ্য।

মানুষ মরে গেলে পচে যায়,,,,
বেঁচে থাকলে কারনে-অকারণে বদলায় ।।

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৯)

ভালো লিখেছেন, ছবি সংযোজনও ভালো হয়েছে।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকি গুলিতে গিয়েছি অনেক অনেক বছর আগে। আবার একবার যেতে হবে আমার মেয়েদের নিয়ে।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Shoumik (০২-০৯-২০১৫ ১০:২২)

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৯)

মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:

ভালো লিখেছেন, ছবি সংযোজনও ভালো হয়েছে।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকি গুলিতে গিয়েছি অনেক অনেক বছর আগে। আবার একবার যেতে হবে আমার মেয়েদের নিয়ে।

ঐতিহ্যের নিদর্শন মূলত ওগুলোই।আমি গিয়েছি গত বছর। হুম।চাইলে ঘুরে আসতে পারেন,ভালোই লাগবে।সম্মাননার জন্য থ্যাংকু smile

উক্যনু মার্মা লিখেছেন:

আসলেই মন সত্যি খুব খুব চমৎকার দৃশ্য।

ধন্যবাদ।

Gypsy Saleh লিখেছেন:

খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন।  thumbs_up

ধন্যবাদ সুন্দর মূল্যায়নের জন্য।

১০

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৯)

আমার প্রিয় ভ্রমনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ভারতের কোলকাতার রাণী ভিক্টোরিয়া মহল। এটি দেখতে অনেকটা তাজমহলের মতো মনে হয়েছে। ওখানকার চারপাশের প্রাকৃিতিক দৃশ্যও অনেক চমৎকার।

১১

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৯)

ভালো লাগলো  ভাইয়া সুন্দর পোস্ট

আল্লাহ আমাকে কবূল করুন

১২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Jol Kona (০৩-০৯-২০১৫ ০০:০৩)

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৯)

thumbs_up ভাল লিখেছেন!

এটা ঠিক যত্নের অভাবে অনেক কিছু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে  একটা সময়  হয়তো আর এই গুলার অস্তিত থাকবে না!