টপিকঃ রাম গরুড়ের ছানা ঘোড়ার ডিম দেখেছিলো

ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হবার পর মিনু বাসায় বসে বোর হচ্ছিলো। তাই ওরা তিনবোন ঢাকা থেকে সিলেটে ওদের মামার বাসায় বেড়াতে এসেছে। মিনুর মামাতো ভাইবোনগুলো আবার গোপাল ভাঁড়ের যোগ্য উত্তরসুরী। এদিকে মিনুর মোটা বুদ্ধি আর নিজেকে বেশী জ্ঞানী ভাবার কারণে মামাতো ভাইবোনগুলোর করা উচ্চমাত্রার জোকস্ প্রায়ই ওর মাথার উপর দিয়ে যায়।

মিনুদের উপলক্ষে শিরিন আনকমন অনেক আইটেম রান্না করেছে। টেবিলে খাবার লাগিয়ে সে সবাইকে ডাকে। কিন্তু টেবিলে সাজানো নানা আইটেমের নজরকাড়া রূপ ছাপিয়ে ওর ভাই রাহুলের চোখ পড়ে টেবিলের এককোনায় থাকা একটা খালি হটবক্সে -এই বক্সে কি রে আপা?
-ঘোড়ার ডিম।
এতো আইটেম ছেড়ে ঐ খালি হটবক্স নিয়ে প্রশ্ন করায় কিঞ্চিত মেজাজ প্রকাশ করে শিরিন। ব্যাপার বুঝতে পেরে চুপ হয়ে যায় রাহুল। সবাই চুপচাপ খেতে বসে।

মিনু বিজ্ঞের মতো হটবক্সটার দিকে হাত বাড়ায়। শিরিনের বোন শারমিন বাধা দেয় মিনুকে – এই ওটা খালি। ঘোড়ার যেমন ডিম নাই ঐ বক্সেও কিছু নাই।
- তোকে কে বলেছে ঘোড়ার ডিম নাই? তুই তো দেখি কিছুই জানিস না।
- আছে নাকি ঘোড়ার ডিম? তুই দেখেছিস?
- জ্বী…….আমি নিজের চোখে দেখেছি। এই যে এতো বড় হয় ঘোড়ার ডিম।
মিনু হাতের ইশারায় একটা বড় ডিমের আকার বুঝাতে চেষ্টা করে। ও জোক করছে নাকি আসলেই সিরিয়াস ব্যাপারটা অনেকেই বুঝলো না।

শিরিন এগিয়ে এসে খুব গম্ভীর ভাবে জিজ্ঞেস করে, “আচ্ছা মিনু, তুই কোথায় দেখেছিস ঘোড়ার ডিম”
- কেন? চিড়িয়াখানায়। রাহুল ভাইয়াই তো আমাদের দেখিয়েছে। জিজ্ঞেস করো ওকে।

এবার বিষম খায় রাহুল। গত বছর ঢাকায় গিয়ে সে মিনুদের তিনবোনকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় গিয়েছিলো। সেখানে কোথাও কিছু ডিম আকৃতির বস্তু সম্পর্কে মিনু জানতে চায়। কিন্তু এটা সম্পর্কে রাহুল কিছুই জানেনা বা এটা কিসের ডিম তাও সে অনুমান করতে পারেনি। অগত্যা বলে দেয় ওটা ঘোড়ার ডিম। মিনু সেটাই বিশ্বাস করেছিলো।

ফিক করে হেসে মুখ চাপে শারমিন। শিরিন সবাইকে ধমক দেয় – এই কেউ হাসবা না। এটা হাসির কথা না, খুবই জ্ঞানের কথা।

আল্লাহ আমাকে কবূল করুন

Re: রাম গরুড়ের ছানা ঘোড়ার ডিম দেখেছিলো

এটা তো বিশাল এক গল্প tongue

Re: রাম গরুড়ের ছানা ঘোড়ার ডিম দেখেছিলো

হাজাম লিখেছেন:

এটা তো বিশাল এক গল্প tongue

বিশাল এক ধন্যবাদ, বিশাল একটা মন্তব্যের জন্য  wink

আল্লাহ আমাকে কবূল করুন