সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Shoumik (১৩-০৮-২০১৫ ১০:২৯)

টপিকঃ ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৪)

ঘুরে এলাম খুলনা। ধুর কি যে বলছি! এটাকে ঘুরা বলে নাকি! বরং পরীক্ষা দিয়ে এলাম খুলনা বলাই শ্রেয়।সুন্দরবন ছাড়া খুলনা ভ্রমণটা ঠিক পূরণ হয়না। কি করবো?  ট্রিপে তো আর যাইনি। তাই ঘুরে এলাম দুদিনেই যা কিছু সুযোগ হয়েছে পথের মাঝে।
খুলনায় পরিচিত কেউ ছিলনা। পরীক্ষা দিতে গিয়েছি একজায়গায় তো থাকতে হবে। অবশেষে অনেক খুঁজে আব্বু বের করল এক পরিচিত ভদ্রলোকের নাম।  ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের থাকার জায়গায় আমার ব্যবস্থা করলেন উনি। এত্ত সুন্দর একটা জায়গা যেন মনে হল এক প্রাসাদে ঢুকে পড়েছি।এটা তাদের কোয়ার্টাস।এ রুমগুলো নাকি বেশির ভাগ সময় ফাঁকাই পড়ে থাকে। কিন্তু পরীক্ষা দিতে খালি রুমগুলোতে সবাই এসে উঠেছে।জানিনা,শহরে থেকে অভ্যাস হয়ে গেছে কি না। মাঝে মাঝে ঐ কথাটা মনে পড়লে অনুভব করি,খুলনায় জন্ম হলে মন্দ ছিলনা।পড়াশোনা বাসায় থেকে যা করেছিলাম তাই,আসার পর আর বই নিয়ে বসিনি। উদ্দেশ্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেয়া।সে উদ্দেশ্যে আমি সফল কিন্ত অন্য বিশ্ববিদ্যালয় অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক মনে হওয়ায় সেখানে পড়া হয়নি আর। কোয়াটার্সের পরিবেশটে এত্ত সুন্দর! পাখির ডাকে ঘুম থেকে জাগার সৌভাগ্য কয়টা রাতে হয়েছে?চোখের উপর সূর্যকিরণ ঠিকরে ঘুম ভেঙেছে কয়দিন!এ দুদিন খুব ভাল করে হলো।

খুলনার কিছুই দেখা হয়নি আগে। বিধাতাও বুঝি প্রসন্ন হলেন। পরীক্ষা শুরু হবার আধ ঘণ্টা আগে ক্যাম্পাসের গেট খুলে দেয়া হল। বিজ্ঞান অনুষদের আগে মানবিক অনুষদের পরীক্ষা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা হাজারে হাজারে পিঁপড়ার মত বেরোচ্ছে।আমার সিটটা অনেক দূরে পড়ল। প্রায় ১৫ মিনিট হেঁটে যাবার পর খুঁজে পেলাম কোথায় সিট পড়েছে।সিট খুঁজতে পুরোটাই দেখা হয়ে গেল।দেখলাম "অদম্য বাংলা" নামে দারুণ ভাস্কর্য আর শহীদ মিনার সহ পুরে এলাকাটা।খুব বেশি বড় না হলেও সাজানো গোছানো। ফ্যাকাল্টি বিল্ডিংগুলো নতুন নতুন। ঢাবি বা জাহাঙ্গীরনগরে অনেক পুরনো বিল্ডিং ও আছে।এখানে তেমনটা চোখে পড়ল না। মোটামুটি সব মিলে বেশ পরিচ্ছন্ন লাগলো।তবে আহামরি সৌন্দর্য বলবোনা।

বিশ্ববিদ্যালয় গেট:
http://i69.fastpic.ru/big/2015/0813/a3/14e8ab9fea5a959d6a7870ab33eed4a3.jpg

শহীদ মিনার:
http://i71.fastpic.ru/big/2015/0813/2d/c4a5b0470a1c6112d3c5f35e17d33c2d.jpg

পড়ার চাপে বের হবার সুযোগ হল একটু আধটু। খুলনার সবকিছুই যেন সাজানো গোছানো। খুলনার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়টাও খুব গোছালো। ক্যাম্পাসটা ও দারুন।সবচেয়ে সুন্দর গেটের নকশাটা।এরকম নান্দনিক নকশা আপনি খুব কমই দেখতে পাবেন।

http://i71.fastpic.ru/big/2015/0813/1a/70fca33246f6dc1c15a635b8b637cd1a.jpg

বিরিয়ানির প্রতি দুর্বলতা খুব বেশি।২ দিনের সফরে ৬ বেলা তো খাওয়া দাওয়া হলোই।চারবেলাই খেলাম বিরিয়ানি। খুলনার বিরিয়ানি আর মাংসের রেজালার যা স্বাদ আমি আশা করি একবার খেলে সারাজীবন মনে রাখবেন। মশলার ব্যবহার তারা খুব সুন্দরভাবে করে। খেয়েই বুঝলাম যে এ সাধারণ কোন বিরিয়ানি নয়, এতে নিশ্চয়ই ব্যতিক্রমী কোনো উপকরণের ব্যবহার আছে।মাংসের ঝোলটা টকটকে লাল। কোন জিনিসটি ব্যতিক্রম তা জিজ্ঞাসা করলেই বেরিয়ে এলো যে উপকরণটির নাম "চুঁই।" এটি নাকি এক ধরনের গাছের বাকল, গুড়ো করে দিলে ফ্লেভার আর সেই লালরংটা চলে আসে। ঝাল স্বাদের জন্য চুঁইঝাল ও বলা হয় একে।

http://i70.fastpic.ru/big/2015/0813/1e/c6b7b1ac64fcc1c3f144976bc2977c1e.jpg

মিষ্টিগুলোও খুব সুস্বাদু। ক্ষীরে ডোবানো একটা বিশেষ মিষ্টি পাওয়া যায়। সাইজেও অনেক বড়। নামটা ভুলে গেছি। সে মিষ্টির স্বাদও ভুলবোনা কখনও।

রূপসা ব্রিজ দেখার খুব ইচ্ছা ছিল। উপর দিয়ে হাঁটতে না পারলেও আসার পথে অবলোকন করেছি বাস থেকে। ট্যুরে আসলে মিস করতাম না।খুব সুন্দর ব্রিজটা। সন্ধ্যায় ল্যাম্পপোস্টগুলো জ্বেলে দিলে অদ্ভুত সুন্দর লাগে।

যেদিন রওনা হচ্ছি দেখি পুরো শহরটা লাইটিং করে সাজানো হয়েছে। রং বেরংয়ের লাইট। সাথে সাকিব, তামিম, মুশফিকদের ব্যানার। পরদিন শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ। রোড ডিভাইডার গুলো শুধু লাল আর সবুজ আর ভাস্কর্যগুলো ছড়াচ্ছিল বর্ণিল আলোকছটা। সাথে তো ফোয়ারা ছিলই।আমি যে বাংলাদেশে অবস্থান করছি,ভুলেই গিয়েছিলাম।মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো নিউইয়র্কের বর্ণিল রাস্তাগুলো।

বর্ণিল সাজে চিংড়ি ভাস্কর্য:

http://i70.fastpic.ru/big/2015/0813/fc/96a89f8b69a94dc02b9dc2ba18d429fc.jpg

গল্লামারী,শিববাড়ি মোড়ে অনুপম সাজে এক ভাস্কর্য:

http://i71.fastpic.ru/big/2015/0813/75/f3bb2d51549480e2ef51c8b488625275.jpg

খুলনা থেকে মাওয়া লঞ্চঘাট পথে চলে এলাম নিজের নীড়ে।
লঞ্চে ভিড় ছিল বটে, তবু ঠান্ডা বাতাসে নদীর উপর দিয়ে দারুণ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই ছোটরট সফরটি শেষ
http://i69.fastpic.ru/big/2015/0813/42/39ca4f9dbe28536c881d81456b435342.jpg

দখিনা সমীরণে বিদায় দিল খুলনা।বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল।আবারো অপেক্ষায় রইলাম কখনো দখিনা সমীরণ উপভোগ করার।

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৪)

খুলনায় তেমন একটা বেড়ানো হয়নি আমার। যাবো সময় করে হয়তো কখনো।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৪)

মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:

খুলনায় তেমন একটা বেড়ানো হয়নি আমার। যাবো সময় করে হয়তো কখনো।

আমারও না। সুন্দরবন ছাড়া তো খুলনার অর্ধেকই অসম্পূর্ণ রয়ে যায়।

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৪)

খুলনার ওয়েস্টার্ন ইন এর খাবার অসাধারন  big_smile

এক টুনিতে টুনটুনালো সাত রানির নাক কাঁটালো

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৪)

RubaiyaNasreen(Mily) লিখেছেন:

খুলনার ওয়েস্টার্ন ইন এর খাবার অসাধারন  big_smile

হ্যাঁ,ঠিক বলেছেন। নরমালিই একটা আলাদা স্বাদ আছে।
অনেক ধন্যবাদ সম্মাননার জন্য।

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৪)

আমি এখন ও খুলনা যাইনি...ভাবছি এই বার যাব...।
আপনার পুস্ট দেখে যাওয়ার ইচ্ছাটা আরু বেরে গেলো...
পোস্ট টি ভালো হয়েছে...।
(ধন্যবাদ) big_smile