সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মেহেদী হাচান (০১-০৫-২০১৫ ০১:৩৬)

টপিকঃ কিজে শিরনাম দেই (চিন্তিত)

সিগারেট টা এখন অনেক ভাল লাগে ।
(একটু লম্বা, তাই পুরোটা পড়ার জন্য
অনুরোধ রইল)
_______________
-এই মেহেদী ওঠ
কয়টা বাজে খেয়াল আছে?
আজ রাতে না তো বাস?
বিকেল হয়ে গেছে।
-উঠতে ছি রে দোস্ত।
-তাড়াতাড়ি ওঠ
নাহলে তো বাস মিস করবি।
মেহেদীর বন্ধুর ডাকে মেহেদীর ঘুম
ভাঙ্গে।
যাকে বলে দুপুরে খাবারের পর ঘুম।
আজ ঈদেরছুটি কাটাতে ঢাকা
হোস্টেল থেকে
তার গ্রামের বাড়ী গোপালগঞ্জ
যাবে।
বাড়ীতে ওর বাবা মা আর ওর কলিজার
টুকরা বোনটা অপেক্ষা করছে।
যাই হোক সময় মত
সে বাসে উঠে পড়ল।
কত দিন পর গ্রামে যাবে সবাই দেখবে
খুশীতে যেন আর
ধরে না।
সারাটা রাত ঘুম হল না ওর।
সকালে গিয়ে পৌঁছালো
গোপালগঞ্জ। এবার বাড়ীতে যাবার
পালা।
টিং টং
"আম্মু ভিজি বিল্লি এসেছে" বলে
চিৎকার করে ছুটে এসে
দরজা খুলল ওর কলিজার টুকরা সেই বোন
প্রীয়াংকা।
মেহেদী কোলে তুলে জড়িয়ে ধরল।
প্রীয়াংকার মাত্র ৬ বছর বয়স।
মেহেদীর বছরে দু তিনবার
বাড়ী আসে কিন্তু মেহেদী
কলিংবেল চাপলেই
কীভাবে যেন বুঝে যায়
ভিজি বিল্লি মানে মেহেদী
এসেছে। মেহেদী বাবা মাকে
সালাম করলো।
আজ তাদের পরিবার পূর্ণ।
সবাই একসাথে ঈদ করবে।
মেহেদীর এই ভিজি বিল্লি নামের
পেছনেও কিছু কারন আছে।
একবার মেহেদী বাড়ীতে এসে 9xm
এ নামক এক গানের
চ্যানেলে গান দেখছিল
এইসময় প্রীয়াংকা এসে ঐ
চ্যানেলের কার্টুনটাকে
দেখে যার নাম
ভিগি বিল্লি কিন্তু
প্রীয়াংকা ভিজি বিল্লি বলে।
শত চেষ্টা করেও
বুঝাতে পারে নি মেহেদী
ঐ ভিজি বিল্লি নয় ভিগি বিল্লি।
তাই মেহেদীকে দুষ্টুমি করেই
ভিজি বিল্লি ডাকে প্রীয়াংকা।
তো বাড়ী এসে মেহেদির সিগারেট
খাওয়া হয় না তেমন।
তাই রাতের খাবারের পর
চুপচুপি ছাদে এসে সিগারেট ফুঁকছিল।
হঠাৎ একটা আওয়াজ শুনতে পায়
মেহেদী।
পেছন ফিরে দেখে প্রীয়াংকা।
প্রীয়াংকা বলছে-
-ভাইয়া মনি তুমি সিগারেট খাচ্ছ?
দাঁড়াও
এখুনি বলছি আম্মুকে।
-না, না আপুনি আমার
আম্মুকে বলিসনা।
তোকে অনেক
গুলা ক্যাটবেরী কিনে দেবো।
-কখন দিবা?
-ঘরে চলো।
-আচ্ছা।
তবে আর কখনো সিগারেট
খাবা না প্রমিজ করো।
-যা, প্রমিজ।
-চলো, আমার লক্ষ্মী ভাইয়া মনি। এই
বারের মত
ক্যাটবেরীর জন্য বেঁচে যায় মেহেদী।
সে সব সময় তার বোনের এই টাইপের
ব্ল্যাক
মেইলের জন্য পুরষ্কার রাখে।
তার সব চেয়ে প্রিয় ক্যাটবেরী।
একদিন রাতে মেহেদী আর
তার গ্রামের বন্ধুরা মিলে আড্ডা
দিচ্ছে।
এমন সময় ওর আম্মুর ফোন আসে।
তার ইচ্ছা মাকে মিথ্যা বলে আরো
কিছুক্ষণ আড্ডা দিবে এতদিন পর আসছে।
-হ্যালো আম্মু
-কয়টা বাজে?
-কত ৮:৩০ হবে।
-একটা মাইর দিবো এখন রাত ১০
টা বাজে তাড়াতাড়ি আয়।
আর আসার সময় প্রীয়াংকার
জন্য ঔষধ নিয়ে আসিস।
ওর জ্বর আসছে।
-আচ্ছা, আম্মু এখুনি আসছি। এখন আর তার
পক্ষের
এখানে আড্ডা দেয়া সম্ভব না। তার
কলিজাটার
জ্বর আসছে ঔষধ নিতে হবে।
চলে এল বাসায় মেহেদী।
মেয়েটা বিকেলেও দিব্যি খেলছিল
হঠাৎ যে কেন
জ্বর আসতে গেল?
মেয়েটা কিছু
খেতে চাচ্ছে না ওর আম্মুর কাছে।
তাই মেহেদী বুঝিয়ে শুনিয়ে
প্রীয়াংকাকে খাইয়েছে।
ঘুমিয়েছে মেয়েটা, মাথায় হাত
মেহেদির।
এদের ছেড়ে যে মেহেদী
কীভাবে যে হোস্টেলে থাকে তা
মেহেদী ই জানে।
ভাবতে ভাবতে মেহেদী ঘুমিয়ে
পড়ে।
কিছুদিন পর বহু কষ্টে প্রীয়াংকাকে
বুঝিয়ে সবার থেকে বিদায় নিয়ে
আবার ঢাকা ফিরে আসে।
আবার তার হোস্টেল,
ব্যস্ততা আর রাতে সিগারেট খাওয়া।
বেমালুম ভুলে যায় প্রমিজের কথা।
একদিন দুপুরে মেহেদী এর আম্মু
মেহেদীকে ফোন করেন-
-হ্যালো আম্মু। কেমন আছ?
-(কান্নাজড়িত কন্ঠে) হ্যালো।
-কি হইসে আম্মু?
তুমি কান্না করছ কেন?
সবাই ঠিক আছে তো?
-মেহেদী  তুই যত তাড়াতাড়ি পারিস
বাড়ীতে আয়
তোর আব্বু খুব অসুস্থ।
-কি হইসে আব্বুর?
এত প্রশ্ন না করে তাড়াতাড়ি বাড়ী
আয়।
মেহেদির মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে
ওর আব্বুর আগে একবার স্ট্রোক হইসে।
এখন কি আবার স্ট্রোক করল?
সে রাতেই বাসে উঠে পড়লো।
সারারত টেনশনে মেহেদির ঘুম আসলে
না।
সকাল বেলায় বাড়ী গিয়ে পৌঁছালো
মেহেদী।
কলিংবেল চাপলো।
ওর আম্মু এসে দরজা খুললো।
তাহলে আজ যে ভিজি বিল্লি
ডেকে কেউ আসল না?
হয়ত আব্বুর কাছে আছে।
আম্মুকে জিজ্ঞে করল-
-আব্বু কোথায়?
-বারান্দায়।
-বারান্দায়?
-হুম।
মেহেদী ছুটে যায় বারান্দায়।
ওর বাবার
চেহারায় চিন্তার ছাপ।
যেই মানুষটা সবসময় হাসি খুশি থাকে
আজ তার মুখের দিকে তাকানো
যাচ্ছে না।
অন্যমনষ্ক হয়ে বসেছিলেন উনি।
মেহেদী ডাক দিল-
-আব্বু
(মেহেদির আব্বু উঠে দাঁড়ালেন।
এবং কাছে এসে মেহেদীকে জড়িয়ে
ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করল।
মেহেদী তার আব্বুকে কোনদিন
এমনভাবে দেখেনি)
-কি হল আব্বু কাঁদছে কেন?
কিচ্ছু হবে না তোমার আমি এসে
গেছি।
-মেহেদীরে, প্রীয়াংকা
-আব্বু কি হইসে প্রিয়াংকার?
বলো কি হইসে?
-মেহেদীরে প্রিয়াংকা তো
আমাদের
ছেড়ে চলে যাবে রে।
(আরো জোরে কেঁদে উঠলেন)
-চলে যাবে মানে? কোথায় যাবে?
-মেহেদী ওর ঐ জ্বর জ্বর এর পর ডাক্তার
চেক আপ করে
শিওর করেন ওর ব্লাড ক্যান্সার
অর্থাৎ লিকোমিয়া ধরে পড়েছে।
যা এখন শেষ পর্যায়।
(মেহেদীর মাথায় আকাশটা ভেঙ্গে
পড়েছে।
এই নিষ্পাপ মেয়েটার এত বড়
রোগ কিভাবে হতে পারে?
ওর তো এত বড় রোগ হবার
বয়স ও হয় নাই)
মেহেদী ছুটে যায় প্রিয়াংকার ঘরে।
হায়!
আল্লাহ তার কলিজার টুকরাটার
একি অবস্থা?
কেমন হয়ে গেছে?
যার দুষ্টুমিতে ঘরে থাকা যেত না
সেই ছোট হাত পা গুলো নিথর
পরিশ্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে আছে।
মেহেদী কাছে গিয়ে প্রীয়াংকার
হাত ধরে।
শত কষ্ট হলেও প্রীয়াংকার চোখ মেলে
চায়।
শত হলেও ওর ভাইয়ামনি এসেছে।
-ভাইয়া মনি তুমি কাঁদছ কেন?
-কই কাঁদছি নাতো।
আমার কলিজাটা এভাবে শুয়ে আছে
তাই খারাপ লাগছে তুই সুস্থ হলে
আবার একসাথে মারামারি
করব রে আপুনি।
-শত চেষ্টা করেও আর কথা বলতে
পারে না প্রীয়াংকা।
রাতে প্রীয়াংকার অবস্থা খুব খারাপ
হয়ে যায়।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
শ্বাস নিতেও পারছে না মেয়েটা।
সে তার ভাইয়া মনির সাথে কথা
বলতে চায়
অক্সিজেন মাক্স মুখে নিয়েও।
মেহেদী শত কষ্ট নিয়েও
কান্না চাপা দিয়ে প্রিয়াংকার
কাছে যায়।
প্রীয়াংকা কথা বলতে পারছে না
তবুও অস্পষ্ট স্বরে বলছে।
-ভাইয়য়য়ামনিইইই আমার
একটা কথা রাখবা?
-বল আপুনি তুই যা বলবি তাই শুনবো।
-কান কাছে আনো কানে কানে
বলবো
(মেহেদীর চোখ ভিজে উঠছে অনেক
কষ্টে নিজের কান্না থামাচ্ছে)
-বল আপুনি
-আমি কিন্তু তোমার সিগারেট
খাবার কথা আম্মুকে বলিনি।
তুমি প্রমিজ কর কোনদিন
সিগারেট খাবা না।
(এইবার মেহেদীর চোখ থেকে
অঝরে পানি পড়তে থাকে)
-খাবো না আপুনি কোনদিন খাব না।
প্রমিজজজজজজ
তুই রেস্ট কর।
-তুমি কাঁদছ কেন??
আমার ভাইয়ামনি কাঁদছে সবাই
দেখলে কি বলবে?
তুমি কান্না করবা না।
-কই কাঁদছি না চোখে কি যেন পড়ছে।
তুই ঘুমানোর চেষ্টা কর।
সব ঠিক হয়ে যাবে।
-আমি জানি ভাইয়ামনি নাফিসা
আমাকে বলছে আমি আর
বাঁচবো না।
(এইবার সবাই হাউমাউ করে কেঁদে উঠে,
পালিয়ে যায় প্রীয়াংকা কেবিন
থেকে)
মেহেদী বসে থাকে।
হঠাৎ করেই প্রিয়াংকার অবস্থার
আরো খারাপ হতে থাকে।
এবং শেষ কিছু বলতে চেয়েছিল
কিন্তু চোখ ভিজিয়ে প্রিয়
ভাইয়ামনি
সবাইকে ছেড়ে চলে যায়
না ফেরার দেশে।
মেহেদী প্রীয়াংকার নিথর দেহটা
বুকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার দেয়
"প্রীয়াংকা.........
মেহেদী ভাবে সেই ছোট দুটি হাত
আর এসে গলা জড়িয়ে ধরবে না,
বলবে না ভিজি বিল্লি এসেছে।
মেহেদী চিৎকার করে বলতে থাকে,
"আপুনিরে আমি আর কোনদিন
সিগারেট খাব নারে।
আমি তোর প্রমিজ রাখতে পারিনি।
প্রমিজ ভুলে গিয়েও
সিগারেট খেয়েছিলাম।
এই ছোট্ট কাজের জন্য এভাবে চলে
গেলি...???

বিষ্টির দিনে লিখছি,

বেকুবে কয় কি?

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: কিজে শিরনাম দেই (চিন্তিত)

ক্যারেক্টার নাম পরিবর্তন করলেও সূত্র উল্লেখ করতে হয় ভায়া smile

ইমরান তুষার'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত