সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন স্মার্ত (২০-০২-২০১৫ ২১:৫১)

টপিকঃ পড়তে চাইলে ফুড এন্ড নিউট্রিশন

ফুড এন্ড নিউট্রিশন সাবজেক্টটি এখন আর কারো কাছে শুধু রান্না-বান্না বিষয় এর মধ্যে আটকে নেই। বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিকর জীবন-যাপন এর চাহিদা অনুযায়ী নিত্য নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞানশক্তি কাজে লাগিয়ে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টিগুণ  বৃদ্ধি , পরিমিত উপায়ে খাদ্য গ্রহণ প্রভৃতি বিষয় এর উপর চলছে পর্যালোচনা। অনিয়মিত উপায়ে খাদ্য গ্রহণ করে স্থুলতা, মেদ বৃদ্ধি সহ নানা  জটিলতা তৈরি হচ্ছে। সুতরাং ডায়েটেশিয়ান এবং নিউট্রিশনিস্টদের কাছে সাক্ষাৎ ও বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশেও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে  কিংবা  নিজেকে  ফিট  রাখতে অনেকেই এখন শরণাপন্ন হচ্ছেন  ডায়েটেশিয়ান-এর।  প্রতিদিন এর খাদ্য তালিকায় স্বাস্থ্যকর উপায়ে খাদ্য বাছাই করাটাও জরুরী। তাই এই বিষয়  নিয়ে জানার আগ্রহও বাড়ছে। এ  লক্ষ্যে  বিশ্বের  বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুড এন্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স এর উপর পড়াশোনা করানো হচ্ছে।

কোথায় পড়বেন-
এই সাবজেক্টে চান্স পেয়েও এর ক্যারিয়ার সম্পর্কে অনেকেরই সুস্পষ্ট ধারনা থাকে না। আমাদের দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর অধীনে বেশ কয়েকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সাবজেক্টের কোর্স রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান নামে বিএসসি (সম্মান) কোর্স করানো হয়। তাছাড়াও বেসরকারি কিছু  বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুড এন্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্সে পড়ার সুযোগ রয়েছে। চার বছর মেয়াদী   বিএসসি (অনার্স) কোর্সের জন্য বিজ্ঞান শাখা হতে এইচ.এস.সি পাশ হতে হবে। বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে আরও উচ্চশিক্ষা গ্রহণেরও সুযোগ রয়েছে।

যে বিষয়গুলো পড়ানো হয়-
নিউট্রিশনাল সায়েন্স, হিউম্যান ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, ক্লিনিকাল নিউট্রিশন, ফুড কেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি প্রভৃতি মেজর সাবজেক্ট নিয়ে পড়তে হবে।

কাজের ক্ষেত্র-
বিএসসি এবং এমএসসি পাশের পর দেশে এবং দেশের বাইরে কাজ করার সুবিধা রয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, স্কুল-কলেজ এ নিউট্রিশনিস্টের পোষ্ট রয়েছে। এছাড়াও বড় বড় ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিগুলো, ন্যাশনাল-মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রি, পাবলিক হেলথ  ডিপার্টমেন্ট, ফিটনেস সেন্টার, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এনজিও, বড় বড় রেস্তোরাঁ, ক্যাটারিং সংস্থা প্রভৃতি ক্ষেত্রে কাজের জায়গা রয়েছে। সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার, মেডিক্যাল রিসার্চার, এক্সারসাইজ ফিজিওলজিস্ট, ফুড সায়েন্স রিসার্চার, হোম ইকনমিস্ট ইত্যাদি পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আয় রোজগার-
আমাদের দেশে এমনকি সারা বিশ্বেই নিউট্রিশনাল সায়েন্সে ডিগ্রিধারীদের চাহিদা রয়েছে। ডায়েটেশিয়ান এবং নিউট্রিশনিস্টদের  চাহিদা বর্তমান যুগে বেশ উঁচু। এছাড়াও বিদেশ হতে পি.এইচ.ডি গ্রহন করে চাকরী বাজারে বিভিন্ন পেশায় বেশ মোটা অঙ্কের সেলারী লাভের নিশ্চয়তা রয়েছে।

[বিভিন্ন সূত্র হতে সংগৃহীত]

Re: পড়তে চাইলে ফুড এন্ড নিউট্রিশন

আধুনিক যে কয়টা সাবজেক্ট আছে, তার মাঝে এইটা মনে হয় অন্যতম smile