সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Moonstruck (২৩-১২-২০১৪ ১১:৩৭)

টপিকঃ বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি : প্রাগৈতিহাসিক বিজ্ঞান

গত পর্বে আমরা জেনেছিলাম বিজ্ঞানের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আজ জানব প্রাগেতিহাসিক বিজ্ঞান নিয়ে।

কিভাবে মানুষের বিবর্তন বিজ্ঞানের জন্য আমাদের প্রস্তুত করেছে ?

মানব শিশুর সঙ্গে গবেষণায় দেখা গেছে মানুষের মধ্যে হার্ড-ওয়্যার্ড নিম্নলিখিত বিষয়গুলা আছে:
১।লজিক্যাল অপারেশন যেমন কোন ব্স্তুকে তার পরিচয় অনুযায়ী শ্রেণীবিভাগ করা।
২।সেট এবং আঙ্কিক অপারেশনের ধারণা
৩।স্থানের সীমাবদ্ধতার বোধ
৪।স্বজ্ঞাত গাণিতিক এবং জ্যামিতিক জ্ঞান এবং আরও বেশ কিছু বিষয়্।

বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং ফোর্সগুলো ছিল
● কৌতূহল, প্রতিভা, তদন্ত প্রক্রিয়া
● জীবনের জন্য প্রয়োজনীয়, যেমন টুল তৈরি যার সাথে খুব কৌতুহলী দৃষ্টিভঙ্গিও জড়িত ছিল।
● অভ্যন্তরীণ ড্রাইভ যা আমাদের জিন থেকে আসে
● একই সাথে থাকে বাইরের আর্থ-সামাজিক ড্রাইভ
● কার্যকর চকমকি পাথরের টুল

http://i.imgur.com/1vcvZIl.png

● উপাদানের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তাদের প্রসেসিং - কাঠ, হাড়, চামড়া
● শিকারের কৌশল, প্রাণীদের আচরণ সম্পর্কে জানা

http://i.imgur.com/TTfZOfB.png

● সেলাই, বাঁধুনির মত প্রযুক্তির ফলে পাওয়া গেল ভাল কাপড়, বাসস্থান, ক্যানো, পাত্র ইত্যাদি
● আগুনের উন্নত ব্যবহারে সম্ভব হল রান্না, কোন বস্তুর বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন করা, মৃত্শিল্প

কৃষি বিপ্লব ও নবোপলীয় সময়ে বিজ্ঞানের এগিয়ে চলা (৩০০০ খ্রীঃপূঃ থেকে ৫০০০ খ্রীঃপূঃ)

●প্রয়োজনীয় প্রাণীর কৃত্রিম নির্বাচন, উদ্ভিদ সম্পর্কে জ্ঞান, বিভিন্ন প্রাণীর বৈশিষ্ট্য, তাদের চাহিদা, প্রজনন অভ্যাসের ব্যাপারে জানা ইত্যাদি
● ঋতু, আবহাওয়া, মাটি এবং জল বিষয়ে প্রখর পর্যবেক্ষণ
● কৃষি যন্ত্রপাতির উন্নয়ন

http://i.imgur.com/ZEUUmRV.png

● খাদ্য সংরক্ষণ, মৃত্শিল্প পাত্র
● এই সবের ফলে মহাকাশবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, রেকর্ডিং পদ্ধতির (লেখা, সংখ্যা) মত গৌণ বিজ্ঞানের দুয়ার খুলে গেল। উন্নত কৃষি ব্যবস্থায় পাওয়া উদ্বৃত্ত খাদ্যভান্ডার মানুষকে নির্ভীক চিত্তে বিজ্ঞান ও তার সাথে জড়িত অন্যান্য কার্যক্রম নিয়ে এগোতে একধরণের মুক্তি দিল।

ধাতুর ব্যবহার

খ্রীঃপূঃ ৩০০০ এর আগে স্বর্ণ এবং তামা অলঙ্কার নির্মানের জন্য ব্যবহার করা হত। কিন্তু তার পরে তামার সাথে কাঠ কয়লা সহযোগে এক ধরণের আকরিক গলিয়ে তা দিয়ে অস্ত্র ও সরঞ্জাম তৈরী করা হত। এতে আরও কিছু টিন যোগ করে পাওয়া যেত ব্রোঞ্জ যা ছিল খুবই মজবুত। এর ফলে প্রাক ঐতিহাসিক প্রযুক্তিতে বহুমুখীতার সূচনা ঘটে্।

কতটা বিজ্ঞান ছিল সেই কর্মযজ্ঞে ?

এগুলো কতটা কারুশিল্প ছিল আর কতটা বিজ্ঞান ? তাদের মাথায় আদৌ কোন তাত্ত্বিক প্রশ্ন এসেছিল কি ? তারা তীর ছোঁড়ার সময় তার ডায়নামিকস নিয়ে ভেবেছে কি ?, কিংবা ধাতু বিগলনের নিউমেটিকস নিয়ে, অথবা সঙ্গীত তৈরীর সময় শব্দ কিভাবে পরিবাহিত হয় ? আমাদের এই সব প্রশ্নের উত্তর জানার মত রেকর্ডেড ইতিহাস নেই।

প্রাক ঐতিহাসিক গুহা চিত্রে পাওয়া শিকার কিংবা জাদুকর, শামানদের নিরাময় প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ছবির আড়ালেই হয়তো এসব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে। একটা পর্যায়ে এসব চর্চার সাথে আরো লজিক্যাল রিজনিং এবং আরো সংগঠিত চিন্তা যুক্ত হয়ে তা বিজ্ঞান হিসাবে গড়ে উঠার প্রয়াস পায়। এটা আরও চূড়ান্ত মাত্রা পায় যখন খ্রীঃপূঃ ৩০০০ এ লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার হয়।

এই সব বিষয়গুলোকে তাদের তাত্ত্বিক বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন এবং কাঠামোবদ্ধ অনুমান উত্থাপন করার সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

http://i.imgur.com/7Aa7LLc.png

http://s30.postimg.org/uxxvmmj8h/Picture5.png

http://s30.postimg.org/gq86xz6jl/Picture6.png

...ক্রমশ প্রকাশ্য...

Eat, drink and be happy

Re: বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি : প্রাগৈতিহাসিক বিজ্ঞান

টপিক গুলোতে কমেন্ট নেই!
উপরের গুহাচিত্রটা সম্ভবত প্রায় ২০ হাজার বছর আগের।
যাইহোক, চালিয়ে যান। এবং দয়া করে যথাযথ তথ্যসুত্র দিন।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Moonstruck (২৬-১২-২০১৪ ২২:৫৬)

Re: বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি : প্রাগৈতিহাসিক বিজ্ঞান

সদস্য_১ লিখেছেন:

উপরের গুহাচিত্রটা সম্ভবত প্রায় ২০ হাজার বছর আগের।


এগুলো লাস্কোর বিশ্ববিখ্যাত প্রাগৈতিহাসিক গুহাচিত্র। বেশিদিন আগের কথা নয়, মাত্র ১৯৪০ সালে আদিম মানুষদের এই চিত্রসম্পদ আবিস্কৃত হয়েছে। পাহাড় ও জঙ্গল এলাকা, চারটে ছেলে এখানে তাদের হারানো কুকুর খুঁজতে খুঁজতে লাস্কো'র গুহার মধ্যে ঢুকে পড়ে। সম্প্রতি ৫০০০০০ বছর বয়সী একটা শিল্পকর্ম পাওয়া গেছে

সদস্য_১ লিখেছেন:

যাইহোক, চালিয়ে যান। এবং দয়া করে যথাযথ তথ্যসুত্র দিন।

দেখি কতদিন পারি আর তথ্যসুত্র একদম শেষ টপিকে দিলে কি খুব অসুবিধা হবে ?

Eat, drink and be happy

Re: বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি : প্রাগৈতিহাসিক বিজ্ঞান

প্রাক ঐতিহাসিক গুহা চিত্রে পাওয়া শিকার কিংবা জাদুকর, শামানদের নিরাময় প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ছবির আড়ালেই হয়তো এসব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে।

শামানদের বলতে কি বুঝায়?


দেখি কতদিন পারি আর তথ্যসুত্র একদম শেষ টপিকে দিলে কি খুব অসুবিধা হবে ?

সিরিজ কন্টিনিউ করলে সূত্র পরে দিতেন, কেউ কাউ কাউ করত না! সূত্র দিলে আমরা নিজেরা গিয়ে  একটু ঘাটাঘাটি করে আসতাম! 
সিরিজ তো আর ৪-৫ যুগ আগাবে বলে মনে হয় না!  ghusi  মাঝে দিয়ে ১ বছর শেষ অলরেডি!
(অই আরকি ১ মাস! ২০১৪ থেকে ২০১৫ তে আসছে না! হইত তো একবছর! নাকি!  tongue_smile