টপিকঃ প্রযুক্তির মুক্ত ডানা

অনেক শখ করে একটা কম্পিউটার কিনলেন। বর্তমান বাজারে পাওয়া সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন হার্ডডিস্কও এর সাথে যুক্ত। বাসায় নিয়ে আসলেন, কয়েকদিন চলল। বেশ ভালই সার্ভিস দিচ্ছে। হঠাৎ করে খবরের কাগজে দেখলেন বাজারে আপনার কেনা কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের চেয়েও বেশি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন হার্ডডিস্ক এসেছে। আপনি যে হারে সিনেমা দেখেন বা গেম খেলেন তাতে করে আপনার কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের ধারণক্ষমতাকে কম বলে মনে হয়। আপনি বাজারে গেলেন একটা হার্ডডিস্ক কিনে বাসায় আসলেন। এবার লাগানোর পালা।

আপনি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন, নেই, লাগানোর কোন ব্যবস্থাই নেই। আসলে লাগানোর তো দূরের কথা, কম্পিউটারের সিপিইউ বক্স খোলারই কোন সিস্টেম নেই। আপনি এর সাথে দেওয়া ম্যানুয়ালটি হাতে নিয়ে পড়লেন, এবার স্পষ্ট হল ব্যাপারটি। এটা উন্মুক্ত না অর্থাৎ এই কম্পিউটারে কোন পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংযোজন বা বিয়োজন করার অধিকার আপনাকে দেওয়া হয়নি।

এটা যে শুধু কম্পিউটারের বেলায় প্রযোজ্য তা কিন্তু না, এটা যে কোন প্রযুক্তি বিশেষ করে মোবাইল, ল্যাপটপ, টেলিভিশন, ক্যামেরা, এমনকি গাড়ির জন্যেও প্রযোজ্য হতে পারে। এবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন তো, আপনার শখের মোবাইলে কোন এপ্লিকেশন ইনস্টল করতে পারছেন না, কারণ অনুমতি নাই, আবার গাড়ির সামনে আরও দুইটা হেড লাইট লাগাবেন, পারছেন না, অনুমতি নাই বলে কিংবা ক্যামেরায় লেন্স লাগাতে পারছেন না, কেমন লাগবে তখন।

এই সমস্যার সমাধান নিয়ে এল উন্মুক্ত প্রযুক্তি অর্থাৎ এমন এক প্রযুক্তি যাতে আপনি আপনার ইচ্ছেমতো এতে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন কিংবা বিয়োজন করতে পারবেন। আমরা উন্মুক্ত প্রযুক্তির পণ্যকে যদি মাটির সাথে তুলনা করি তাহলে বলতে হয়, যে সব প্রযুক্তির পণ্য উন্মুক্ত তা কাঁদা মাটির মতো, কাঁদা মাটিকে যেমন একজন শিল্পী তার ইচ্ছেমতো রূপ দিতে পারে, তেমনই উন্মুক্ত পণ্যে ডেভলপার তার মনের মাধুরী মিশিয়ে আরও নতুন নতুন পণ্য তৈরী করতে পারবে।

প্রযুক্তির পণ্যগুলোকে আমরা দুইভাগে ভাগ করে আলোচনা করতে পারি, একটা হল হার্ডওয়ার, আরেকটা সফটওয়্যার। হার্ডওয়ার বলতে আমরা সাধারণত যে সব পণ্যগুলোকে চোখে দেখতে পাই তাকেই বুঝে থাকি। যেমন মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট ফোন ইত্যাদি। আমরা বাজারে যে সমস্ত  মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট ফোন দেখতে পাই তার কিছু উন্মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবার কিছু আছে যা আপনাকে এটা পরিবর্তনের কোন সুযোগ দেয়না। আপনি যদি একজন সাধারণ ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তবে কোন প্রযুক্তি উন্মুক্ত না হলেও আপনার তেমন কোন ক্ষতি হবে না, তবে যদি আপনি একজন ডেভলপার হয়ে থাকেন তবে আপনি অনেক কাজই এই সব পণ্য ব্যবহার করে করতে পারবেন না। ফলে তৈরী হবে না কোন নতুন পণ্য।

প্রযুক্তির আরেকটি পণ্য হল সফটওয়্যার, আমরা সচরাচর যে সমস্ত হার্ডওয়ার ব্যবহার করি তা পরিচালনার জন্য দরকার সফটওয়্যার। এই সফটওয়্যারও মুক্ত অথবা আবদ্ধ দুই প্রকার হতে পারে, অর্থাৎ কিছু সফটওয়্যার আছে যা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন, বিয়োজন করা যায়। এদেরকে বলা মুক্ত মুক্ত সফটওয়্যার। আবার কিছু সফটওয়্যার আছে যার কোন পরিবর্তন করা যায় না। নির্মাতা যেভাবে এটি প্রকাশ করে থাকে ব্যবহারকারীকে সেই মতোই ব্যবহার করতে হয়। সফটওয়্যার বলতে এখানে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম, বিভিন্ন সফটওয়্যার, মোবাইলের অপারেটিং সিস্টেম, বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন, এছাড়াও বিভিন্ন ডিভাইসের জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারকে বোঝানো হয়েছে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় আবদ্ধ সফটওয়্যার অর্থের বিনিময়ে কিনতে হয়, আর মুক্ত সফটওয়্যারগুলো বিনামূল্যে পাওয়া যায়। আর এর লাইসেন্স এমন থাকে যাতে ব্যবহারকারী একে নিজের মতো করে পরিবর্তন করে নিতে পারে। উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে গেলে আমরা বর্তমান সময়ের অ্যান্ড্রোয়েড অথবা মজিলা ফায়ারফক্স ওস এবং উইন্ডোজ ফোন অথবা আইফোনের কথা বলতে পারি। প্রথম দুইটিতে আপনি চাইলেই যে কোন অ্যাপ্লিকেশন সহজেই ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে পারবেন এবং তার বেশিরভাগই মুক্ত লাইসেন্সের। কিন্তু পরের দুইটির জন্য কোন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে চাইলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা অর্থের বিনিময়ে করতে হবে। আমাদের মতো দেশে বেশিরভাগ লোকের জন্যেই তা খুব একটা সুবিধার হবে না। আমরা আম আদমী হয়ত কিছু টাকা ব্যয় করে একটা ডিভাইস কিনতে পারব, কিন্তু অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কোন অ্যাপ্লিকেশন কেনার মতো সামর্থ্য আমাদের কয়জনের আছে?

মুক্ত প্রযুক্তির পণ্যে যেহেতু নতুন করে কিছু যুক্ত করা যায়, পরিবর্তন করা যায়, তাই আমাদের মতো দেশে যেখানে তথ্য প্রযুক্তি একটি উদীয়মান ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং অনেক লোকই এর জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়ার ও সফটওয়্যার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সেখানে খুব বড় একটি ভুমিকা রাখতে পারে।

#knowtheFirefoxOScontest

সবার জন্য বাংলায় লিনাক্স
শিক্ষার সকল স্তরে চাই আইসিটি
ঘুরে আসুন আমার ভুবনে http://mushfiqur-rahman.blogspot.com/

Re: প্রযুক্তির মুক্ত ডানা

সুন্দর আলোচনা ৷

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রেজওয়ানুর (২৮-১০-২০১৪ ২২:০৭)

Re: প্রযুক্তির মুক্ত ডানা

মধ্য নভেম্বরের মাঝে এমন আর্টিক্যাল হয়তো আরও কিছু দেখা যাবে, হাজার হোক পুরষ্কার GoFox F15 বলে কথা।


আমি কোন কিছুর বিরোধিতা না করে কিছু ব্যাপার জানতে চাচ্ছি। আশাকরি কেউ একজন উত্তরগুলো দিয়ে যাবেন, আর্টিক্যালের লেখক হলে সবচেয়ে ভালো হয়।

  • এমন কোন এ্যাপ আছে যেটা উইন্ডোজ বা এ্যাপস্টোরে টাকা দিয়ে কিনতে হয়ে কিন্তু সেই এ্যাপ এ্যান্ড্রোয়েডে বা ফায়ারফক্স ওএস এ ফ্রী? যদি থাকে, তবে এমন এ্যাপের সংখ্যা মোট এ্যাপের কত ভাগ হতে পারে?

  • ফ্রী এ্যাপের সংখ্যা কোন স্টোরে কত এবং মোট এ্যাপের (ঐ স্টোরের) কত ভাগ? 

  • জিপিএল অথবা অন্য যেকোনো মুক্ত লাইসেন্সধারী এ্যাপগুলো কিভাবে একজন "ব্যবহারকারী" কে ক্লোজড সোর্স এ্যাপ থেকে বেশি সুবিধা দিয়ে থাকে? দিলে কতটুকু?

  • জিপিএল অথবা অন্য যেকোনো মুক্ত লাইসেন্সধারী এ্যাপগুলোর "বিজনেস মডেল" কিভাবে  ক্লোজড সোর্স এ্যাপ থেকে আলাদা হয়?

  • জিপিএল অথবা অন্য যেকোনো মুক্ত লাইসেন্সধারী এ্যাপগুলো পরিবর্তনের/পরিবর্ধনের সুবিধা একজন ডেভেলপার/প্রোগ্রামার ছাড়া সাধারণ ব্যবহারকারী কিভাবে নিতে পারে?


অনুগ্রহ করে ত্যানা প্যাচাবেন না, এটা একটা রিকোয়েষ্ট।

Re: প্রযুক্তির মুক্ত ডানা

mshfqr.rahman লিখেছেন:

আপনি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন, নেই, লাগানোর কোন ব্যবস্থাই নেই। আসলে লাগানোর তো দূরের কথা, কম্পিউটারের সিপিইউ বক্স খোলারই কোন সিস্টেম নেই। আপনি এর সাথে দেওয়া ম্যানুয়ালটি হাতে নিয়ে পড়লেন, এবার স্পষ্ট হল ব্যাপারটি। এটা উন্মুক্ত না অর্থাৎ এই কম্পিউটারে কোন পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংযোজন বা বিয়োজন করার অধিকার আপনাকে দেওয়া হয়নি।

আহারে দাদা ! কোন কম্পুটারের বাক্স আপনি খুলতে পারেন নাই ? নাকি প্রসেসর রিপ্রোগ্রাম করা / সংযোজন বিয়োজন করবেন ?
উন্মুক্ত প্রযুক্তির কম্পুটারের মাদারবোর্ড এর দাম দেখবেন ? খালি বোর্ডের দাম মাত্র ৫৫০ ডলার। পুরা সস্তা !

রাসবেরি / আরডুইনো / পাইডুইনো এগুলার কথা বলবেন ? এগুলা কাজে ব্যবহার করার মত জিনিশ না , এগুলা কাজে সহায়তা / এক জাতীয় কাজের জন্য ভালো। আর এখন স্পেকের যে অবস্থা তাতে এগুলো এঞ্জিনিয়ারদের খেলনা হিসাবে কাজে দিচ্ছে।

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।