সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন হাজাম (০৭-০৯-২০১৪ ১৮:৪৬)

টপিকঃ ইবিতে অস্ত্র প্রশিক্ষকঃ প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষক!

এখন আর শুটারের প্রসিক্ষক বাহিরের থেকে আনার দরকার হবে না, এই সব নেতারাই প্রশিক্ষন নিতে পারবে, সাংবাদিকগন আর কোন সংবাদ পান না এই সব ভূয়া খবর নিয়ে আসে, ছাত্রলীগ কি করলো কি করলো না তাতে তাতের কি?

http://i61.tinypic.com/331n5ap.jpg

http://i57.tinypic.com/2nkmfl2.jpg

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক সজিবুল ইসলাম সজিব দিনে দিনে গড়ে তুলছেন আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। আর এ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে শিক্ষা নিচ্ছেন স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এ কাজে পিছিয়ে নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিসিএস ক্যাডারসহ বিভিন্ন শ্রেণির লোকজনও -

জানা গেছে, অতিসম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী নির্জন এলাকা থেকে ইবির গণিত বিভাগের সাবেক শিক্ষক  (বর্তমানে বিসিএস ক্যাডার ‘ইকোনোমিক্স’) আজিজুল হক মামুন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক মতিয়ার রহমানকে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ চালানোর প্রশিক্ষণ দিয়েছেন সজিব। এরা সজিবের কাছ থেকে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এমন দৃশ্য সম্বলিত চাঞ্চল্যকর স্টিলচিত্র ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

ইবির একটি সূত্র জানিয়েছে, অস্ত্র প্রশিক্ষক সজিবের পুরো নাম সজিবুল ইসলাম সজিব। কুষ্টিয়া শহরের আদর্শপাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে সজিব। তার মা মমতাজ বেগম। তিনি কুষ্টিয়া সোনালী ব্যাংক শাখার একজন কর্মচারী। ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে সজিব ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগে ভর্তি হন। তার শ্রেণি রোল নং- ০৬০৬০৩২।

বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সজিব ৯ বছর আগে আইন বিভাগে ভর্তি হলেও এখনো তিনি তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

সজিব ২০১৩ সালের ১৭ জানুয়ারিতে এক সংঘর্ষের সময় পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে ফিল্মিস্টাইলে ছাত্রদল কর্মীদের উপর গুলি ছুঁড়ে প্রথমে পত্রিকার শিরোনাম হন। ঘটনার একদিন পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ইবি কমিটি ভেঙে দেয়। পরে ১৯ জানুয়ারি নতুন কমিটিতে সজিব যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পান। এরপর থেকে ক্যাম্পাসে তার দৌরাত্ম আরো বেড়ে যায়।



একই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর আরেক সংঘর্ষের সময় সজিবকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের সামনে নাইন এমএম অস্ত্র হাতে গুলি ছুঁড়তে দেখা গেছে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে প্রতিটি সংঘর্ষে নতুন নতুন অত্যাধুনিক অস্ত্রের প্রদর্শনী করে বিভিন্ন মিডিয়ার শিরোনাম হয়েছেন তিনি। এতে দিনে দিনে অপ্রতিরোধ্য হতে থাকেন ছাত্র লীগের এ এই নেতা। এভাবে শুধুমাত্র প্রদর্শনী পর্যন্ত থেমে থাকেনি তার অস্ত্রের খেলা। ক্রমেই একজন দক্ষ অস্ত্র প্রশিক্ষকও বনে যান তিনি।



এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইবি শাখা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘সজিব বহু দিন ধরে অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি সব সময়ই ক্যাম্পাসে কমপক্ষে দুটি করে অস্ত্র এবং ৪০ রাউন্ড গুলি বহন করেন। যে কারণে দলের বহু কর্মী তার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলেন। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটির হস্তক্ষেপও কামনা করেন ইবি ছাত্রলীগের অনেক নেতা।

বর্তমানে ইবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের পদে থাকায় সজিব নির্ভয়ে অত্যাধুনিক সব অস্ত্রের ব্যবসা, নারী কেলেঙ্কারিসহ মাদক ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু এ সকল অবৈধ ব্যবস্যাই নয়, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা- থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, বিসিএস ক্যাডারসহ নানা শ্রেণির লোককে অস্ত্র প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন।

সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সংলগ্ন এলাকার নির্জন ঝোপঝাড়, বাগান, ক্ষেত ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাচীর সংলগ্ন মফিজ লেকের নির্জন এলাকায় নিয়মিত অস্ত্র প্রশিক্ষণ চলছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা সজিবুল ইসলাম সজিব। তার কাছে ঢাকা থেকে অস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ নিতে আসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক মতিয়ার রহমান। তার বাসা কুড়িগ্রাম জেলায়। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষক ও ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন।

অপরদিকে ৩২তম বিসিএস উত্তীর্ণ বিসিএস (ইকোনমি) ক্যাডার ইবির গণিত বিভাগের সাবেক শিক্ষক আজিজুল হক মামুন।

সম্প্রতি তোলা একটি স্টিলচিত্রে দেখা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি নির্জন স্থানে সজিবের কাছে থেকে নাইন এমএম অস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ওই বিসিএস ক্যাডার আজিজুল হক মামুন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক মতিয়ার রহমান। তাদের পাশে হাস্যোজ্জ্বল মুখে দাঁড়িয়ে আছেন ছাত্রলীগ নেতা সজিব ও  সজিবের সহযোগী অস্ত্রবাহক ইবির আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা সালাহউদ্দিন। বিসিএস ক্যাডার আজিজুল হক মামুন ও শিক্ষক মতিয়ার রহমান উভয়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, এই ছাত্রলীগ নেতা সজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু প্রভাবশালী শিক্ষকের আশীর্বাদপুষ্ট নেতা হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ভিসি ও প্রক্টর বিরোধী আন্দোলনে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীলকারী ছাত্রলীগের একাংশের নেতৃত্বও দেন সজিব।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক মতিয়ার রহমানের সঙ্গে ফোনে আলাপ করলে প্রথমে তিনি থমকে যান। পরে প্রতিবেদককে বলেন, সঙ্গে মামুন ও আর এক ফ্রেন্ড আছে তাই না? উত্তরের হ্যাঁ বললে তখন তিনি বলেন, ‘কোন ছবি, আমার তো এখন মনে পড়ছে না। তিনি জানতে চান ছবিতে তার সঙ্গে মামুন (বিসিএস ক্যাডার মামুন) আছে কিনা। পরে তিনি বলেন, এটাতো খেলনা পিস্তল ছিল।’

রোববার দুপুরে বিসিএস ক্যাডার আজিজুল হক মামুনের সঙ্গে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি ট্রেনিংয়ে থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অস্ত্র প্রশিক্ষণের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সজিবুল ইসলাম সজিব বলেন, ‘যেহেতু আপনাদের (সাংবাদিকদের) কাছে অস্ত্র প্রশিক্ষণের ছবি আছে তাই আমার কিছু বলার নেই।’

ইবি ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামীম হোসেন খান বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে সে (সজিব) অস্ত্রের ব্যবসা করে কিনা জানি না। ঘটনা সত্য হলে তার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

এ বিষয়ে প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘এরকম কোনো তথ্য আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। এরকম গর্হিতকাজে যেই জড়িত থাকুক না কেন তা প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ - See more at: http://www.sheershanews.com/2014/09/07/ … 8PQDV.dpuf