টপিকঃ হা! হা! হি! হি! - ৫১

**মহেশ-‘দ্য কাউ’ (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মহেশ’ অবলম্বনে)**

গ্রামের নাম কাশীপুর।
এক বিতর্ক অনুষ্ঠান শেষ করিয়া তর্করত্ন দ্বিপ্রহর বেলায় রোদে পুড়িয়া বাড়ি ফিরিতে ছিলেন। বৈশাখ শেষ হইয়া আসে তবুও

চারিপাশে ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’ অবস্থা। জলবায়ু পরিবর্তন আর বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে অনাবৃষ্টির আকাশ হইতে আগুন

ঝরিতেছে।
পথের ধারে গফুর মিয়ার বাড়ি। বাড়ি তো নয় যেন প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। পাশেরপিটালিগাছের ছায়ায় দাঁড়াইয়াতর্করত্ন

উচ্চকণ্ঠে ডাক দিলেন ‘ওরে, ও গফরা বলি বাড়ি আছিস?’
হাঁক শুনিয়া গফুর অন্দরমহল হইতেবাহির হইয়া আসে। ভাঙা প্রাচীরেরপাশে বাবলাগাছের তলে একটা ষাঁড় দেখাইয়া তর্করত্ন

কহিলেন, তুই তো বড় পাষণ্ড রে গফরা। একি হাল গরুটার। পাঁজরের হাড় স্পষ্ট গোনা যাচ্ছে। তুই ওকে ‘খরলিক্স’ দিতে পারিস

নে? এতে যে ঘাসের শক্তি বাড়ে রে গফরা, আমার গরুকে আমি রোজ খাওয়াই।
গফুর কী বলিবে খুঁজিয়া পায় না, শেষে গেঞ্জি খুলিয়া তাহার জিরো ফিগার দেখাইয়া বলিল, ‘মহেশের হাড় তো দেখিলেন

বাবাঠাকুর, এইবার আমারটাও একটু দেখুন। ২০৬ খানা হাড় স্পষ্ট গুনিতে পারিবেন। গুনিলে হয়তো দুতিন খানা কমও পাইতে

পারেন।’
এমন লিকলিকে শরীর দেখিয়া তর্করত্ন দুঃখিত হওয়ার বদলে খিকখিক করিয়া হাসিয়া কহিলেন ‘তোর তো আর এক্স-রে করা

লাগবে না রে গফরা, উদাম গায়ে ছবি তুলে দিলেই হবে। সে যাক, এমন ‘মিনিপ্যাক’ গরুর নাম রেখেছিস মহিষ। হেসে বাঁচি

নে।’
গফুর লজ্জিত হইয়া বলিল ‘মহিষ নাতো বাবাঠাকুর, মহেশ। ঐ যে মার্ডার সিনেমা আছে না? ওর পরিচালকের সঙ্গে মিলিয়ে

রাখলাম। আমার মহেশ ওসব সিনেমার খুব ভক্ত যে।’
তর্করত্ন বিষমের কাশি দিয়া প্রসঙ্গ পাল্টাইতে কহিলেন ‘তা তোর মেয়ে আমিনাকে দেখছি না যে।’ মাথা চুলকাইয়া গফুর বলিল,

‘সে তো মনে হয় জলসা দেখিতে ব্যস্ত।’ তর্করত্ন চোখ কপালে তুলিয়া বলিলেন, এ কী বলছিস গফরা। গ্রামে ‘জলসার আসর’

আর আমি কিছু জানিনে? গফুরও ভুল ভাঙাইয়া দেয় ‘ও তো টেলিভিশনের জলসা। ওই যে, দুষ্টুর নাটক হয় যেখানে।’

তর্করত্ন বলিলেন, শিষ্টের নাটক বাদ দিয়ে দুষ্টুর নাটক? এ কী হচ্ছে আমার কাশীপুরে? গফুর হাসিয়া কহিল ‘শুধু কাশীপুর না

বাবাঠাকুর, পুরোদেশটাই দুষ্টুর দখলে চলে যাচ্ছে।মা মরা মেয়ে আমার ওই নিয়েই পড়েথাকে।’
তর্করত্ন বুঝিলনে আর তর্কে গিয়ালাভ নাই। একটু নরম হইয়া কহিলেন, তাই তো বলি রে, তোর মহেশ ভাটের এই দশা কেন।

যত্নআত্তি করার তো কেউ নেই দেখছি। তা ওকে একটু ছেড়ে দে না। আপনি চড়াই করে আসুক। সবুজ ঘাস-টাস খাক। দুই ডজন

সবুজ ঘাসে ১০০ গ্রাম খড়লিক্সের পুষ্টি পাওয়া যায়, জানিস তো?’
গফুর এইবার লজ্জায় মাথা নিচু করিয়া বলিল ‘সে তো ছেড়ে দিই বাবাঠাকুর, কিন্তু মহেশও যে জলসা ছেড়ে উঠতে চায় না।

খাবার-দাবারে একদম মন নেই। বড় লাচারে পড়ে গেছি।’
তর্করত্ন খ্যাক করিয়া ওঠেন। ‘তা বটে, যেমন চাষি তার তেমন বলদ। বিটিভি মিলে না আর জলসা দেখা চাই’ এই বলিয়া

তর্করত্ন পাশ কাটাইয়াহন হন করিয়া চলিয়া গেলেন।
এমন অপমানে মহেশের কিঞ্চিত সাধ জাগিল তর্করত্নকের পশ্চাদে শিং দিয়া একখানা গুঁতা মারিবার। কিন্তু দুর্বল শরীরে সে আর

ঝুঁকি নিল না। কে জানে গুঁতা মারিতে গিয়া নিজেই যদি মাথা ঘুরাইয়া পড়িয়া যায়। এর চাইতে সুযোগ মতন একটা প্রতিশোধ

নিলেই চলবে।
গফুরের ঘরে টেলিভিশন নিয়া নিত্যকলহ বাঁধে। সেদিন গফুর আর মহেশ যখন টিভিতে ফুটবল ম্যাচ উপভোগে ব্যস্ত তখন

আমিনা আসিয়া বলিল ‘বাবা, ভাত খাবে এসো’। আমিনার মনে ক্ষীণ আশা, বাবা উঠিয়া গেলে সে দুষ্টুর নাটক দেখিতে বসিবে।

রিমোট দখলের ‘পাঁয়তারা’ বুঝিয়া গফুরও পাল্টা চাল দেয় ‘আমার গায়ে যে আবার শীত করে রে মা, জ্বরগায়ে এখন খাওয়া কি

ঠিক হবে? আমিনা বলে ‘খাবার ঠান্ডা হইয়া যাবে যে।’
ফুটবল ম্যাচ হইতে বাপ-মেয়ের রিমোট দখলের ম্যাচ বেশি জমিয়া যায়। মহেশও উত্তেজনা লইয়া রিমোট দখলের যুদ্ধ উপভোগ

করিতে থাকে। একপর্যায়ে গফুর তাহার ট্রাম্পকার্ড ছাড়িল ‘আমার মহেশ যে ফুটবল দেখিতে খুব ভালোবাসেরে মা। খেলা শেষ

হউক। এরপর খাই?’
গফুরের এমন চালে মহেশ বিস্মিত হইয়া পড়ে। সে তো ফুটবল ম্যাচ হইতে সিরিয়ালের প্যাঁচ অধিক পছন্দ করে। মত প্রকাশের

গণতান্ত্রিক অধিকার থাকিলে অবশ্যই সে আমিনার পক্ষে থাকিত। তবে সব বুঝিয়াও সে চুপচাপ থাকে। পিতা ও কন্যার মাঝে এই

যে একটুখানি ছলনার অভিনয় হইল, অবুঝ বলদ হইয়াও সে তা খুব ভালোভাবে টের পাইয়াছে।
সপ্তা খানেক পর গফুর মিয়া একদিন চিন্তিত মুখে দাওয়ায় বসিয়া আছে। গতকল্য হইতে মহেশ নিখোঁজ। শেষরাতে দুইজন

একসঙ্গে বসিয়া শাহরুখ খানের ডন ছবি উপভোগ করিয়াছিল। এরপর হইতে মহেশের আর খোঁজ মিলিতেছে না। আমিনা খবর

নিয়া আসিল, ঘটনা খারাপ। মহেশের ওপর অভিযোগ গুরুতর। গফুর বুঝিতে পারিল ডন ছবির প্রভাব মহেশের মস্তিষ্কে

পড়িয়াছে। গত সন্ধ্যায় সে তর্করত্নর কালো গরুকে শিং দিয়া গুঁতা দিয়েছে। গুঁতা মারিয়া পালাইয়া যাইবার কালে ‘মহেশ কো

পাকাড়না মুশকিল নেহি, না মুমকিন হ্যায়’ বলিতে বলিতে ছুটিতেছিল। কিন্তু পোড়া কপাল! পুলিশ তাহাকে ‘পাকাড়’

করিয়া শরীরের আকার বদলাইয়া দিয়াছে। সে এখন জেলহাজতে বন্দী।রাত্রির অন্ধকারে গফুর বংশির নিকট হইতে কঠিন শর্তে

ঋণ আনিয়া মহেশকে জামিনে মুক্তির ব্যবস্থা করিল।
পরদিন যথাস্থানে মহেশকে দেখা গেল। সেই বাবলাতলা, সেই দড়ি, সেই খুঁটা। এদিকে বংশীর ঋণের বোঝা মাথায় লইয়া গফুর

ভাবিল ‘দুষ্টু গরুর চাইতে শূন্য গোয়াল ভালো’। তাই সে বৈশাখী অফারের নামে বিশেষ মূল্যছাড়ে মহেশকে বিক্রি করিয়া

দেওয়ার সিদ্ধান্ত লইল। যাকে বলে লেজের দামে গরু। খবর পাইয়া এক চামড়া ব্যবসায়ী কিছুঅ্যাডভান্স দিয়া মহেশকে খরিদ

করিতে সম্মত হয়................

ঝামেলা'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: হা! হা! হি! হি! - ৫১

আমার কাছে ভালো লেগেছে thumbs_up

"We want Justice for Adnan Tasin"

Re: হা! হা! হি! হি! - ৫১

হো হো হো

জীবনের উদ্দেশ্য মইনাস প্রাপ্তি

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

Re: হা! হা! হি! হি! - ৫১

মজা পাইলাম lol lol lol

সব কিছু ত্যাগ করে একদিকে অগ্রসর হচ্ছি

লেখাটি CC by-nd 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত