সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (০২-০৭-২০১৪ ০১:৪৯)

টপিকঃ এক ফোঁটা পরিবেশ প্রকৌশল - ০৭ (কৃত্রিম জলাশয়ের পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া)

http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/e/e0/Taiwan_JungHua_Dam.JPG

পানি অমূল্য সম্পদ। যে কোনো অঞ্চলেই শুষ্ক মৌসুমে সাধারণত পানির অভাব হয়। পানযোগ্য পানির অভাব হলে পানীয় ও পরিচ্ছন্নতার অভাবে জীবন হানি ঘটবে; সেঁচের অভাবে ফসলের ক্ষতি হবে। আবার অন্য দিকে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানির কারণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়। এ্যাত পানি বর্ষায় যা সমূদ্রের লবণাক্ত পানিতে মিশে নষ্ট হচ্ছে, অথচ শীতে পানির অভাব। এই ধরণের সমস্যা সমাধাণের জন্য বর্ষার অতিরিক্ত পানি যদি কোনো একটা জলাধারে আটকিয়ে রেখে শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করা যায় তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়। এমন সমস্যা সমাধাণের প্রয়োজন থেকেই কৃত্রিম জলাধার উন্নয়নের ধারণাগুলো এসেছে।

সাধারণত নদীর উজানের দিকে পাহাড়ি অঞ্চলে দুই দিকে পাহাড় থাকার কারণে, শুধু একদিকে একটা বাঁধ দিলেই বিরাট জলাধার তৈরীর জন্য সুবিধাজনক। এছাড়া উজানের পানি অপেক্ষাকৃত বেশি বিশুদ্ধ থাকে। তাই বেশিরভাগ দেশেই পাহাড়ের মধ্যে বাঁধ দিয়ে কৃত্রিম জলাশয় তৈরী করে সেখানে পানি জমিয়ে রাখা হয় (যেমন: কাপ্তাই লেক)। এই পানি দিয়ে শহরের পানি সরবরাহ, কৃষিতে সেঁচ দেয়া ছাড়াও বিনোদন (নৌকাবাইচ, সাঁতার, লেকের পাড়ে ঘুরে বেড়ানো, মাছধরা), জলবিদ্যূৎ উৎপাদন, বর্ষায় অতিরিক্ত পানি আটকে ভাটির বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি উপকারে লাগে। ভাটি অঞ্চলেও অনেক সময় নদীতে বাঁধ দিয়ে পানির উচ্চতা বাড়িয়ে পানি সরবরাহ ও সেঁচ প্রকল্প চালানো হয় (যেমন: তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প)। এছাড়া সমূদ্রের কাছাকাছিও এরকম বাঁধ দিয়ে নদীর সুপেয় পানির সাথে লবণাক্ত পানি মিশে যাওয়া ঠেকানো হয় (যেমন: সিঙ্গাপুরে মেরিনা রিজার্ভার)।

তবে, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে যে কোন খবরদারীরই আরো কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যায় যা দীর্ঘমেয়াদে হয়তো লাভের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই ক্ষতিকর প্রভাবগুলো আগে থেকেই চিন্তাভাবনা করে যথাসম্ভব কমানোর জন্য ব্যবস্থা নিলে সেটা অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠতে পারে।

বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে জলাধার তৈরী করলে সেটার প্রভাবসমূহ (যেমন, কাপ্তাই, তিস্তা ব্যারেজ, টিপাইমুখ ...)
১। জমানো পানির গুনাগুন পরিবর্তন হয় (ঋতূভিত্তিক)
২। বাষ্পীভবনের ফলে পানি নষ্ট হয় (ঋতূভিত্তিক)
৩। বাঁধের ভাটিতে পানির প্রবাহ কমে যায় এবং নদীর মোহনাতে পানি সুষম ভাবে আসে, ফলে লবণাক্ততা প্রবেশের ধরণ এবং মোহনার মাছের প্রজাতি পরিবর্তন ঘটে। (টিপাইমুখ হলে তাহলে ইলিশের কী হবে?)
৪। স্থানীয় ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের উচ্চতা এবং গুণাগুন পরিবর্তীত হয় (- এই ব্যাপারটা অনেকসময়েই কাঙ্খিত পরিবর্তন)
৫। পানির চাপের কারণে জলাধারের মধ্যে ভূমিধ্বস এবং/অথবা ঐ এলাকার ভূমিকম্প প্রবণতা বেড়ে যায়
৬। ঐ এলাকার মাইক্রো-আবহাওয়ায় পরিবর্তন ঘটে - অতিরিক্ত বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, এবং/অথবা বৃষ্টিপাত
৭। খনিজ সম্পদ জলমগ্ন হয় / ডুবে যায়
৮। মাছের সংখ্যা এবং ধরণ পরিবর্তন ঘটে -- ঠান্ডা পানির মাছের বদলে উষ্ণ পানির মাছ
৯। পরিযায়ী মাছের বিচরণ ক্ষেত্র নষ্ট হয় -- (যেমন: কলম্বিয়া নদীতে স্যামন মাছ)
১০। টারবাইন এবং পাম্পের মধ্যে পরে মাছ নষ্ট হয় (টারবাইন বা পাম্পে পানি প্রবেশ পথে রক্ষাকারী জাল ব্যবহার করে এটা ঠেকানো যায়)
১১। জলাধারে নতুন ধরণের মাছ ফলনের সম্ভাবনা বাড়ে ( - এটা একটা ভাল ব্যাপার)
১২। মশা এবং সম্পর্কিত পোকামাকড়ের প্রজননক্ষেত্র বৃদ্ধি পায় - জনস্বাস্থে এর প্রভাব (ম্যালেরিয়া ইত্যাদি)
১৩। কচুরীপানা জাতীয় জলজ আগাছার বৃদ্ধি সূচনা করে
১৪। ডুবে যাওয়ার ফলে বণ্য প্রাণীর বিচরণক্ষেত্র নষ্ট, অর্থাৎ ঐ প্রাণীর জীবন ধারণ বাধাগ্রস্থ হয়
১৫। জলীয় আবাসস্থলের ধরণের পরিবর্তন: অগভীর, প্রবহমান আবাসস্থল থেকে গভীর জলাশয়ে পরিণত; পরিযায়ী পাখির উপর এর প্রভাব পড়বে (কারণ তাদের খাদ্য তথা মাছের ধরণ পাল্টিয়ে যাবে)
১৬। দূর্লভ, বিলুপ্তপ্রায় এবং অনন্য উদ্ভিদ ও প্রাণীগুলো প্রভাবিত হবে
১৭। নদীর ময়লা শোধন ক্ষমতা হ্রাস পায়
১৮। ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, প্রত্নতাত্বিক ও ধর্মীয় সম্পদ জলমগ্ন হতে পারে (রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই লেকে এমনই একটা ঘটনা আছে)
১৯। মানুষজন পূণর্বাসন এবং প্রতিস্থাপন (এবং জীবন যাপন পদ্ধতির সাম্ভাব্য পরিবর্তন)
২০। নির্মান শ্রমিকের আগমন ঘটে এবং তৎসংক্রান্ত সামাজিক, অবকাঠাম‌োগত এবং স্বাস্থ্যগত প্রভাব পড়ে
২১। জলাধারের আশেপাশে পর্যটন বৃদ্ধি পায়
২২। ভাটিতে প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থায় প্রভাব; বন্যা না হওয়ার কারণে ভাটির জমিতে উর্বরতা সরবরাহ হ্রাস পায়
২৩। জলাধারের জলসিঞ্চন উৎস-ভূমিতে (যে অঞ্চলে পতিত বৃষ্টির পানি এই জলাধারে নিষ্কাষিত হয়: বেসিন বা ক্যাচমেন্ট) রাস্তা ও অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে বৃষ্টির পানির সাথে অতিরিক্ত পলি ও পুষ্টিদ্রব্য জলাধারে এসে পড়ে
২৪। পলিমুক্ত পানি প্রবাহের ফলে ভাটির নদীর ভূমিক্ষয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়
২৫। সারা বছর সুষম পানি নিষ্কাশনের ফলে ভাটির জলাভূমি তথা হাওড়গুলোর স্বাভাবিক/ঋতূভিত্তিক পানি চক্র নির্ভর বাস্তুতন্ত্র বিলীন হয় (টিপাইমুখ চালু হলে আমাদের হাওড়গুলোর বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হতে পারে)

==  দ্রষ্টব্য ==
* ছবিটি উইকিপিডিয়া থেকে নেয়া: তাইওয়ানের JungHua বাঁধ এবং লেকের ছবি
* নিজেদের চিন্তাভাবনার সীমানা বৃদ্ধি করার জন্য লেখা

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: এক ফোঁটা পরিবেশ প্রকৌশল - ০৭ (কৃত্রিম জলাশয়ের পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া)

আচ্ছা গাধার মত একটা প্রশ্ন করি, আমাদের দেশে সমুদ্রের লবনাক্ত পানিকে desalination প্ল্যান্ট দ্বারা প্রক্রিয়াজাত করে(ক্যালফোর্নিয়াতে একটা আছে) ব্যাবহার করা হয় না কেন?

ইট-কাঠ পাথরের মুখোশের আড়ালে,
বাধা ছিল মন কিছু স্বার্থের মায়াজালে...

Re: এক ফোঁটা পরিবেশ প্রকৌশল - ০৭ (কৃত্রিম জলাশয়ের পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া)

ছায়ামানব লিখেছেন:

আচ্ছা গাধার মত একটা প্রশ্ন করি, আমাদের দেশে সমুদ্রের লবনাক্ত পানিকে desalination প্ল্যান্ট দ্বারা প্রক্রিয়াজাত করে(ক্যালফোর্নিয়াতে একটা আছে) ব্যাবহার করা হয় না কেন?

ট্যাকা নাই.... sad sad আর আমাগো পাব্লিকগো যোকোন কিছু খাওয়াইলেই খাই তাই খামোখা টাকা অপচয়ের কোন প্রয়োজন নাই।

টিপসই দিবার চাই....স্বাক্ষর দিতে পারিনা......

Re: এক ফোঁটা পরিবেশ প্রকৌশল - ০৭ (কৃত্রিম জলাশয়ের পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া)

শুষ্ক অঞ্চল গুলোতে বৃষ্টির পানি জমানোর জন্য কৃত্রিম জলাধার নির্মাণ জরুরি আর তিস্তা ব্যারেজ, টিপাইমুখ এগুলো নিরমান করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক নীতিমালা না মেনেই ,অভিন্ন প্রবাহে এভাবে বাধ দিয়ে পানি আটকানো মহা অন্যায় ।

এক টুনিতে টুনটুনালো সাত রানির নাক কাঁটালো

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (০১-০৭-২০১৪ ১৪:০৮)

Re: এক ফোঁটা পরিবেশ প্রকৌশল - ০৭ (কৃত্রিম জলাশয়ের পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া)

ছায়ামানব লিখেছেন:

আচ্ছা গাধার মত একটা প্রশ্ন করি, আমাদের দেশে সমুদ্রের লবনাক্ত পানিকে desalination প্ল্যান্ট দ্বারা প্রক্রিয়াজাত করে(ক্যালফোর্নিয়াতে একটা আছে) ব্যাবহার করা হয় না কেন?

লবণাক্ত পানিকে প্রক্রিয়াজাত করে লবণ উৎপাদন করাই বেশি লাভজনক --- তাই বাংলাদেশে লবণ বানায়।

আর ডিস্যালিনেশন হল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে খরচবহুল একটা পদ্ধতি --- সোজা কথায় পোষাবে না। এর চেয়ে বরং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে ব্যবহার করা সহজ।
ডিস্যালিনেশনের প্রাকৃতিক পদ্ধতিটাই সবচেয়ে ভাল  smile
http://www.balticuniv.uu.se/swm/Lektion03/Bild03a.jpg

চিন্তা করুন এই বর্ষাতে কত পানি আমরা সমূদ্রে চলে যেতে দিচ্ছি ... ..... । এগুলোকেই যদি আটকে রাখা যেত তাহলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা বা তিস্তার পানির দিকে তাকিয়ে থাকতে হত না।

ইতিমধ্যেই কিন্তু কিছু নদীতে বর্ষার শেষে রাবার ড্যাম দিয়ে পানি আটকিয়ে রাখা হচ্ছে।
http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/7/76/Rubber_dam.jpg

Re: এক ফোঁটা পরিবেশ প্রকৌশল - ০৭ (কৃত্রিম জলাশয়ের পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া)

চমৎকার টপিক। thumbs_up

যেকোন বড় কাজ, যদি ইকোসিস্টেমকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে... সেটা করার আগে প্রভাব নিয়ে যথাযত গবেষনা অবশ্যই দরকার আবার ফালতু অজুহাতে আসল অগ্রগতি আটকে রাখাটাও একরকম কুসংস্কারের সামিল। মিশরে নীল নদীতে বাধ... যার ফলশ্রুতিতে পুরু দেশটা জনশুন্য হওয়া থেকে বেচে গেছে... সেটা হওয়ার সময়ও প্রটেস্ট হয়েছিল  surprised surprised কারন প্রভাব #১৮ ! যত্ত্যসব! দেশই যদি না থাকে তাহলে প্রত্নতত্ত কার কাজে লাগবে!

যাই হোক। প্রভাবসমূহের লিস্টিটা লম্বা... তবে বেশির ভাগই আমার কাছে অস্থিসার মনে হচ্ছে...

৩,৫,১৪,১৬ অবশ্যই ভাল মত খতিয়ে দেখা উচিত।

#৩ পরিস্কার বুঝলামনা। আরকটু বুঝিয়ে বলেন।

#১৭ ও বুঝলামনা। যেহেতু বর্ষার পানি শীতে ছাড়া হয় তাই বাৎসরিক পানি প্রবাহ বাধের আগে পরে সমান থাকার কথা। তাই মোট ময়লা শোধন ক্ষমতা বদলানোর কথা নয়  thinking


মেহেদী হাসান লিখেছেন:
ছায়ামানব লিখেছেন:

আচ্ছা গাধার মত একটা প্রশ্ন করি, আমাদের দেশে সমুদ্রের লবনাক্ত পানিকে desalination প্ল্যান্ট দ্বারা প্রক্রিয়াজাত করে(ক্যালফোর্নিয়াতে একটা আছে) ব্যাবহার করা হয় না কেন?

ট্যাকা নাই.... sad sad আর আমাগো পাব্লিকগো যোকোন কিছু খাওয়াইলেই খাই তাই খামোখা টাকা অপচয়ের কোন প্রয়োজন নাই।

তারচেয়েও বড় কথা প্রয়োজন নাই। বাংলাদেশ নাভাডা মরুভুমি না! বাংলাদেশের আয়তন এবং মিঠা পানির অনুপাত করলে দুনিয়ার আনুপাতিক সর্বোচ্চ মিঠা পানির মজুদার দেশ হিসেবে গন্য করা যাবে বলে মনে হয়!

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (০২-০৭-২০১৪ ১৯:২২)

Re: এক ফোঁটা পরিবেশ প্রকৌশল - ০৭ (কৃত্রিম জলাশয়ের পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া)

সদস্য_১ লিখেছেন:

#৩ পরিস্কার বুঝলামনা। আরকটু বুঝিয়ে বলেন।

#১৭ ও বুঝলামনা। যেহেতু বর্ষার পানি শীতে ছাড়া হয় তাই বাৎসরিক পানি প্রবাহ বাধের আগে পরে সমান থাকার কথা। তাই মোট ময়লা শোধন ক্ষমতা বদলানোর কথা নয়  thinking

৩। বাঁধের ভাটিতে পানির প্রবাহ কমে যায় এবং নদীর মোহনাতে পানি সুষম ভাবে আসে, ফলে লবণাক্ততা প্রবেশের ধরণ এবং মোহনার মাছের প্রজাতি পরিবর্তন ঘটে। (টিপাইমুখ হলে তাহলে ইলিশের কী হবে?)

স্বাভাবিক সময়ে (বাঁধ ছাড়া) বর্ষা এবং শীত মৌসুমে নদীর পানির প্রবাহ অনেক কম বেশি হয়। ফলে নদীর অভ্যন্তরে স্যালাইনিটির অনুপ্রবেশও কম বেশি হয়। শীতকালে পানি প্রবাহ কম থাকে বলে নদীর বেশ ভেতর পর্যন্ত লবণাক্ত পানি চলে আসে, বর্ষাকালে বরং অতিরিক্ত সুপেয় পানির কারণে মোহনা ছাড়িয়ে সমূদ্রের মধ্যেও কিছুদুর লবণাক্ততা হ্রাস পায়। এই হ্রাস বৃদ্ধির সাথে পরিযায়ী মাছগুলোর আসা যাওয়ার সম্পর্ক আছে। কিন্তু বাঁধের উজানে পানি আটকালে, বর্ষায় মোহনায় প্রবাহ হ্রাস পাবে, আর শীতকালে বৃদ্ধি পাবে (অর্থাৎ সারা বছর সুষম প্রবাহ); ফলে স্যালাইনিটির প্রবেশও একই রকম থাকবে। এতে মাছের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ (লবণাক্ততা) আর না-ও থাকতে পারে।

১৭। নদীর ময়লা শোধন ক্ষমতা হ্রাস পায়

এটা মূলত পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের উপর নির্ভরশীল। জলাধার তৈরী হলে উজানে যে গভীর জলরাশি তৈরী হবে, এর উপরিভাগের পানি সূর্যের তাপে গরম হয়ে উপরের দিকে একটা গরম পানির স্তর তৈরী করবে (epilimnion)। একেতো গরম পানিতে গ্যাস তথা অক্সিজেনের দ্রাব্যতা কম, তার উপর গরম হওয়ার ফলে এই পানি হালকা হয়ে উপরের স্তরেই রয়ে যাবে (thermal stratification of lakes)। ফলে নিচের ঠান্ডা স্তরে (hypolimnion) অক্সিজেন সঞ্চালন কমে যাবে। অথচ, ময়লাগুলো এই নিচের স্তরেই জমা হবে। ব্যাকটেরিয়া ও ময়লা সংক্রান্ত বিষয়ে ডিটেইল এর আগের টপিকে লিখেছিলাম।

http://www.lernz.co.nz/images/other/lake-summer.gif

আশা করি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পেরেছি।  thinking

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (০৩-০৭-২০১৪ ০২:০৪)

Re: এক ফোঁটা পরিবেশ প্রকৌশল - ০৭ (কৃত্রিম জলাশয়ের পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া)

ধন্যবাদ। হুম। আগের টপিকটা পড়লেও গভীরতা এবং ব্যাকটেরিয়ার ব্যাপারটা মাথায় ছিল না। blushing কম গভীরতায় বড় এলাকা জুরে রিজার্ভর করা গেলে হয়তো সমস্যাটা সমাধান করা যেত। পাইপ দিয়ে গভীর এলাকায় স্পেশাল ব্যাকটেরীয়া সাপ্লিমেন্ট করলে কেমন হয়  confused ঠান্ডায় মরেটরে যা বেচে থাকে আর কি  big_smile

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (০৩-০৭-২০১৪ ১১:৪২)

Re: এক ফোঁটা পরিবেশ প্রকৌশল - ০৭ (কৃত্রিম জলাশয়ের পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া)

আসলে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি নিয়ে সমস্যা নাই। অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতেও ব্যাকটেরিয়া কাজ করতে পারে --- ঐ ব্যাকটেরিয়াগুলোকে অ্যানঅ্যারোবিক (anaerobic) ব্যাকটেরিয়া বলে। বায়োগ্যাস প্লান্ট, সেপটিক ট্যাংক, গভীর পানিতে ঐসব মহানন্দে ময়লা পঁচায়। তবে, এগুলোর ময়লা পঁচানোর হার অ্যারোবিক (aerobic, অর্থাৎ অক্সিজেনের উপস্থিতিতে যেগুলো কাজ করে), ব্যাকটেরিয়ার চেয়ে কম - তাছাড়া এরা বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে বেশি গ্যাস উৎপন্ন করে (যেমন মিথেন)। ধীরে (slow rateএ) কাজ করার ফলে নদীর (আসলে রিজার্ভারে) ময়লা পঁচানোর হার কমবে। সমস্যা হল, যতক্ষণ অক্সিজেন থাকবে ততক্ষণ অ্যারোবিক ব্যাকটেরিয়া ময়লা পঁচিয়ে সেই নিচের কম অক্সিজেন সম্পন্ন স্তরের অক্সিজেন শূন্য করে ওখানকার বাস্তুতন্ত্রের সম্পুর্ন বারোটা বাজিয়ে দিবে।

ঐ গভীর স্তরে বুদবুদ আকারে অক্সিজেন (বাতাস) সাপ্লাই দেয়া যেতে পারে।

১০

Re: এক ফোঁটা পরিবেশ প্রকৌশল - ০৭ (কৃত্রিম জলাশয়ের পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া)

চমৎকার টপিক!  clap

পরিবেশ প্রকৌশলী লিখেছেন:
ছায়ামানব লিখেছেন:

আচ্ছা গাধার মত একটা প্রশ্ন করি, আমাদের দেশে সমুদ্রের লবনাক্ত পানিকে desalination প্ল্যান্ট দ্বারা প্রক্রিয়াজাত করে(ক্যালফোর্নিয়াতে একটা আছে) ব্যাবহার করা হয় না কেন?

লবণাক্ত পানিকে প্রক্রিয়াজাত করে লবণ উৎপাদন করাই বেশি লাভজনক --- তাই বাংলাদেশে লবণ বানায়।

এ প্রসঙ্গে মনে পড়লো - আমার এক নিকটাত্মীয় একটি বড় কনজিউমার-ওরিয়েণ্টেড কোম্পানীর উঁচু পদে আছেন। বেশ কয়েক বছর আগে তারা সল্ট-ইণ্ডাস্টৃ স্থাপন করেছিলেন। ওই সময় তারা খাবার লবণ বিদেশে এক্সপোর্ট করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রায় সব উন্নত দেশই বাংলাদেশ থেকে লবণ নিতে প্রত্যাখ্যান করেছিলো। মূল কারণ - বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান। একদম ডাউনস্টৃমে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর ভীষণভাবে পলিউটেড, তিনটি দেশের ইণ্ডাস্টৃয়াল ও বায়োলজিকাল ওয়েস্ট ম্যাটেরিয়াল ডাম্পিং হয় এই সাগরে। এক্সপোর্ট উদ্যোগে সাড়া না পেয়ে তারা অগত্যা দেশের মার্কেটে মনোযোগ দিয়েছিলেন - এদের প্যাকেজড লবণ সম্ভবতঃ দেশের সবচেয়ে বিক্রিত ব্র্যাণ্ড।

লবণের নামে কি না কি ঢোকাচ্ছি শরীরে! donttell

সদস্য_১ লিখেছেন:

আগের টপিকটা পড়লেও গভীরতা এবং ব্যাকটেরিয়ার ব্যাপারটা মাথায় ছিল না। blushing কম গভীরতায় বড় এলাকা জুরে রিজার্ভর করা গেলে হয়তো সমস্যাটা সমাধান করা যেত। পাইপ দিয়ে গভীর এলাকায় স্পেশাল ব্যাকটেরীয়া সাপ্লিমেন্ট করলে কেমন হয়  confused ঠান্ডায় মরেটরে যা বেচে থাকে আর কি  big_smile

পৃথিবীর এমন কোনো স্থান নেই যেখানে ব্যাকটেরিয়া বসতি গড়ে নি। টৃলিয়ন টৃলিয়ন এ্যারোবিক আর এ্যানেরোবিক ব্যাকটিরিয়া আমাদের শরীরের মধ্যেই বসবাস করে। আর এক্সটৃমোফাইল-রা তো আছেই। ইনফ্যাক্ট, পৃথিবীর মাইক্রোবায়োটা-র মেজরিটি বসবাস করে সারফেসের নীচে। মহাসাগরের যে অঞ্চলগুলো "ডেড যোন" মনে করা হতো সেখানেও প্রচুর ভ্যারাইটির ব্যাকটেরিয়া। তেমনি মাটির নীচে গভীর, অন্ধকার গুহায় যেখানে সূর্যের আলোও পৌঁছায় না সেখানেও প্রচুর ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। তারা নিজেদের পরিবেশ থেকেই শক্তি আহরণ করার টেকনিক ডেভেলপ করে নিয়েছে। আউটার স্পেসে মারাত্বক ইউভি ও অন্যান্য কসমিক রেডিয়েশনেও ওরা টিকে থাকতে পারে।

Calm... like a bomb.

১১

Re: এক ফোঁটা পরিবেশ প্রকৌশল - ০৭ (কৃত্রিম জলাশয়ের পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া)

বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে আছে এসব থেকে।

১২

Re: এক ফোঁটা পরিবেশ প্রকৌশল - ০৭ (কৃত্রিম জলাশয়ের পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া)

সুন্দর টপিক  thumbs_up

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৩

Re: এক ফোঁটা পরিবেশ প্রকৌশল - ০৭ (কৃত্রিম জলাশয়ের পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া)

একটা বাধ কি বিচিত্র প্রভাব, বাধের দুইপাশ যে দুই মেরুতে বাস করে। +

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।